Posts

Showing posts from September, 2018

প্রবন্ধ রচনা : মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা দান

↬ সর্বস্তরে মাতৃভাষার ব্যবহার ↬ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষা ↬ জাতি গঠনে মাতৃভাষার গুরুত্ব ভূমিকা :  ‘হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;-  তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, / পর-পর-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ  পরদেশে ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি। / মাতৃভাষা-রূপ খানি, পূর্ণ মণিজালে।’  - এই অনুশোচনা, এই আত্মবিলাপ ও আত্মসমালোচনার বাণী মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের। এ থেকে অনুধাবন করতে পারি, মানবজীবনে মাতৃভাষার কোনো বিকল্প নেই। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা সহজ ও পূর্ণাঙ্গ হয়ে থাকে। এ বিষয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছে, ‘শিক্ষায় মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ স্বরূপ।’ মাতৃদুগ্ধ শিশুর পক্ষে যেমন পুষ্টিকর, বিদ্যাশিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষা তেমন সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম। মাতৃভাষা প্রাণ-মনকে দেয় তৃপ্তি আর চিন্তাচেতনাকে দেয় দীপ্তি। যেকোনো ব্যক্তিই যদি তার মাতৃভাষাকে কঠিন ও অবহেলাযোগ্য মনে করে, তো তাকে মূর্খ ও পাষণ্ড না-বলে উপায় নেই।  বিদেশি ভাষার অসুবিধা :  ‘ নানান দেশের নানান ভাষা  বিনা স্বদেশী ভাষা মিটে কি আশা? ’  মাতৃভাষায় কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করা যত সহজ,...

প্রবন্ধ রচনা : সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ

ভূমিকা : সন্ত্রাস বর্তমানে আমাদের দেশের একটি ভয়াবহ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেই চলছে। সম্প্রতি সন্ত্রাস কোনো সীমাবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে আটকে নেই, সারা দেশ জুড়ে এর সহিংস বিস্তার ঘটেছে। সরকারি অফিস, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাঙ্গন, ব্যক্তিজীবন কিছুই আজ সন্ত্রাসী থাবা থেকে মুক্ত নয়। সন্ত্রাসীদের নির্বিচার অস্ত্রের আঘাত থেকে নিরীহ শিশু, মেধাবী ছাত্র, সাধারণ ব্যবসায়ী, বিত্তবান শিল্পপতি, কৃতি অধ্যাপক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ, পথচারী এমনকি বিদেশি রাষ্ট্রদূতের মতো লোকও সন্ত্রাসীদের থাবার শিকার। বোমাবাজির মতো ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মুহূর্তের মধ্যে ছিনিয়ে নিচ্ছে শত শত মানুষের অমূল্য জীবন, ভেঙে দিচ্ছে তাদের সাজানো সংসার। চারদিকে সন্ত্রাসী তৎপরতা এমনভাবে অক্টোপাসের মতো আকড়ে ধরেছে যে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা কারোর নেই। মানুষ আজ সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসের নগ্ন ছোবল থেকে আজ আর কেউই নিরাপদ নয়। এ কারণে আজ সর্বমহল থেকে দাবি উঠেছে, ‘সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ চাই’ । ...

প্রবন্ধ রচনা : অর্থনৈতিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা

↬ বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভূমিকা : দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একটি দক্ষ পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদনের উপকরণের সুষম বণ্টন, উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ, দেশব্যাপী দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দ্রুত শিল্পায়নের জন্য একটি সুসমন্বিত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি অত্যাবশ্যকীয় ভৌত অবকাঠামো হিসেবে কাজ করে। সর্বোপরি, বর্তমান বিশ্বায়ন ও বাজার অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পরিবহন ও যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপন একান্ত জরুরি। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া আধুনিক বিশ্বের সাথে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের ফলেই বিশ্বের দেশগুলো আজ খুব কাছাকাছি এসে গেছে। সড়ক যোগাযোগ : সড়ক যোগাযোগ বাংলাদেশের জনপরিবহনের প্রধান মাধ্যম। দেশের প্রতিটি জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। যমুনা সেতু, রূপসা সেতু, মেঘনা সেতু, বুড়িগঙ্গা সেতু, ধরলা সেতু প্রভৃতির কল্যাণে বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ২০০৫ সালের জরিপ অনুযায়ী পাকা ও কাঁচা মিলিয়ে বাংলাদেশে মোট ২ লাখ ৪১ হ...

প্রবন্ধ রচনা : গ্রীন জব / Green Job

↬ বাংলাদেশে গ্রীন জব / Green Jobs in Bangladesh ভূমিকা : টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় অধিকাংশ দেশই জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ক্রমশ সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। আর এ কারণে ‘গ্রীন জব’ ধারণাটি বিশ্বে অপরিহার্য হিসেবে দেখা দিয়েছে। গ্রীন জব : গ্রীন জব বা পরিবেশবান্ধব শ্রম বলতে এমন কর্মসংস্থানকে বুঝায় যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পরিবেশগত বিপর্যয় কমিয়ে সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসে এবং পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করে। এছাড়া গ্রীন জব জ্বালানি ও কাঁচামালের সাশ্রয়ী ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি সৃষ্টি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, ইকোসিস্টেমকে পুনরুদ্ধার, শিল্পবর্জ্য হ্রাস, পানি ও বায়ুদূষণ রোধ করতে পারে। গ্রীন জবের প্রথম ধারণা : গ্রীন জব ধারণাটি একেবারেই নতুন। গত এপ্রিল মাসে জাপানে নিগাতা শহরে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আয়োজিত এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সম্মেলনে গ্রীন জব ধারণাটি প্রথম গৃহীত হয়। বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গ্রীন জব সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টিসহ প্র...

প্রবন্ধ রচনা : নগরজীবন

ভূমিকা : কর্মকোলাহলে মুখরিত নগর জীবন বড়ই বেরশিক। যন্ত্র সভ্যতার এ জীবন একান্ত যান্ত্রিক। জীবনের স্বাদ এখানে অনেকটাই উপেক্ষিত, অবহেলিত। রূঢ় বাস্তবতার এ জীবনে ব্যস্ততা আছে, মমতা নেই। এখানে জীবনের কোলাহল আছে, স্নেহ-প্রেম যেন নির্বাসিত। তবুও নগরজীবনই মানুষের কাম্য। আর এখানেই নগরজীবনের সার্থকতা। মানুষ গ্রামকে দিনে দিনে পেছনে ফেলে নগরমুখী হয়ে পড়ছে, সকলেই চায় একবার হলেও নাগরিক জীবনের স্বাদকে অভিজ্ঞতায় নিয়ে আসতে। নগরজীবনের পরিচয় : মায়া-মমতাহীন নগরজীবন পল্লিজীবনের বিপরীত জীবন। নগরজীবনে মানুষ আর মানুষ। মানুষের পর্যাপ্ততা এখানকার সাধারণ দৃশ্য। ইট-পাথরের বাড়িঘর, সুউচ্চ ইমারত, দিকে দিকে নগরের পরিচিত চিত্র। অফিস, আদালত, কলকারখানা, ছোটবড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকরখানা সব মিলিয়ে নগর যেন দালানকোঠার অরণ্য। এখানে গ্রামের মেঠো পথ নেই, পথে চলে না গরুর গাড়ি। এখানে আছে পিচঢালা পথ, পথে ছুটে চলে মানুষ। ছুটে চলে শত সহস্র মোটর গাড়ি, গাড়ির শব্দে আর মানুষের কোলাহলে কান বন্ধ হয়ে আসে- যেন শব্দ উৎপাদন করাই নাগরিকের কাজ। নগরে পাখির কিচিরমিচির নেই, আছে খাদ্য সন্ধানী কাকের কলরব। অবিশ্রাম খাটুনি নগরের মানুষের প্রত...

প্রবন্ধ রচনা : আদর্শ মহাপুরুষ

↬ মহানবী হজরত মুহম্মদ (স) – এর জীবন ও জীবনাদর্শ ↬ মানুষ মুহম্মদ (স) ↬ শ্রেষ্ঠ মানুষ : হযরত মুহম্মদ (স) ভূমিকা : সমাজ জীবনে যখন বিশৃঙ্খলা উত্তঙ্গ, কুসংস্কার ও বিচ্ছিন্নতার অশুভ প্রেতনৃত্যে যখন চতুর্দিক আচ্ছন্ন, পরিবেশ যেখানে বিষাক্ত ও কলুষিত, জীবনের সর্বক্ষেত্রেই যখন অবক্ষয়ের লক্ষণ সুস্পষ্ট, অজ্ঞানতার তামসিকতায় মানুষ যখন সুপ্তিমগ্ন, দিশেহারা; তখনই আদর্শভ্রষ্ট মানুষকে তার হতাশা থেকে, রুদ্ধশ্বাস অসহায় অবস্থা থেকে মুক্ত করার জন্যে ধরাধামে আবির্ভাব ঘটে জ্যোতির্ময় মহাপুরুষের। সত্যের জ্যোতিতে বিশ্বলোক হয় উদ্ভাসিত। তাঁদের আদর্শ ও সত্য-দৃষ্টি বিভ্রান্ত মানুষকে মুক্তিমন্ত্রে উজ্জীবিত করে। করে নিত্য-নতুন কল্যাণবোধে উদ্দীপ্ত। এমনি করেই যুগে যুগে কত মহাপুরুষের পুণ্য আবির্ভাবে, অসহায়-পঙ্গু-দুর্বল মানুষ খুঁজে পেয়েছে অন্ধকারে আলো, হতাশায় আশ্বাস, দুঃখে সান্ত্বনা। মধ্যযুগের আরব জাতির জীবনও ছিল এরকমই হতাশা, কুপ্রথা, মূর্তি পূজা, কুসংস্কারের পঙ্কিলতায় আচ্ছন্ন। জড়তাগ্রস্ত, হতাশাচ্ছন্ন ও অন্ধ-তামসিকতামগ্ন আরবজাতিকে মুক্তি দিতে এলেন আল্লাহ-প্রেরিত মহাপুরুষ, মানব মুক্তির দূত হজরত মুহম্মদ (স)। প...

প্রবন্ধ রচনা : কর্তব্যনিষ্ঠা

↬ কর্তব্যপরায়ণতা ভূমিকা : প্রত্যেক মানুষকেই নিজ নিজ ভূমিকা রাখতে হয়। সম্পাদন করতে হয় আপন আপন করণীয়। এক্ষেত্রে আন্তরিক নিষ্ঠা প্রয়োজন। তা না হলে সেসব কাজ সমাজের জন্য মঙ্গলজনক হয় না এবং তা ক্ষতির কারণও হতে পারে। সমাজের অগ্রযাত্রার লক্ষ্যে কর্তব্যনিষ্ঠার গুরুত্ব ব্যাপক। বর্তমান প্রতিযোগিতার যুগে কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মীর উপযুক্ত মূল্যায়ন হয়ে থাকে। কর্তব্যের স্বরূপ : মানুষের জীবন নিয়তই কর্মময়। অর্থাৎ মানুষকে পারিবারিক, পেশাগত, সামাজিক প্রভৃতি দায়ত্ব পালন করতে হয়। মানুষ তার কর্মক্ষমতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী এসব দায়িত্ব পালন করে থাকে। পারিবারিক জীবনে পরিবার পরিচালনায় সহায়তা করা মৌলিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সমাজের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজও তাকে সম্পাদন করতে হয়। পেশাগত জীবনে কর্তব্য সম্পান নিজের তাগিদেই বর্তায়। আর কর্তব্যনিষ্ঠায় এসব দায়িত্ব সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক হয়। ছাত্রজীবনে কর্তব্যনিষ্ঠা : ছাত্রজীবন হলো পরবর্তী জীবনে সফলতা অর্জনের প্রস্তুতিপর্ব। এর উপর নির্ভর করে পরবর্তী জীবনের সাফল্য ও ব্যর্থতা। নির্ভর করে তার ভবিষ্যৎ উন্নতি। এ সময়ই হলো তার কর্তব্যনিষ্ঠা শিক্ষা যথার্থ ...

প্রবন্ধ রচনা : শরীর চর্চা

সূচনা : আমাদের দেহের অঙ্গপ্রতঙ্গ সমূহকে নড়া চড়া করার নামাই শরীর চর্চা। শরীর চর্চা ছাড়া কোনো মানুষ ভালো স্বাস্থ্য উপভোগ করতে পারেনা। এটি আমাদের ভালো স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এটি আমাদের দেহের কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং দেহকে মজবুত রাখে। দেহ সুঠাম ও মজবুত রাখতে শরীরচর্চা খুব প্রয়োজন। এটি আমাদের দেহকে রোগমুক্ত রাখে। স্বাস্থই সম্পদ : একটি প্রবাদ রয়েছে যে স্বাস্থ্যই হচ্ছে সম্পদ। সত্যিকার অর্থে স্বাস্থ্যই হচ্ছে মানুষের মৌলিক সম্পদ। রোগমুক্ত স্বাস্থ্য মানুষের সফলতা ও সুখের প্রধান উৎসরূপে বিবেচিত। প্রকারভেদ : অনেক প্রকারের শরীর চর্চা রয়েছে। হাঁটা, দৌঁড়ানো, সাঁতার কাটা, লাপ-ঝাঁপ দেয়া, দৌঁড় খেলা, খেলাধুলা, ব্যায়াম করা এবং যোগ ব্যায়াম হচ্ছে সাধারণ ধরনের শরীর চর্চা। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, টেবিল-টেনিস, লং টেনিস, ব্যাডমিন্টন এবং কাবাড়ি হচ্ছে উন্নতমানের শরীর চর্চা। উপযুক্ততা : সকলের জন্য সকল প্রকার শরীর চর্চা উপযুক্ত নহে। হাঁটা এবং দৌঁড়ানো বৃদ্ধ মানুষও ডায়বেটিক রোগীর বেশ উপকারি। যুব শ্রেণীর জন্য সাঁতার, ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল এবং কাবাডি অত্যন্ত উপযোগী। উপযুক্ত সময় : শরীর চর্চা ও ব্যায়া...

প্রবন্ধ রচনা : আমার পরিচিত একজন মুক্তিযোদ্ধার জীবনচরিত

(অত্র জীবনীটি একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর হোসেন ভূঁঞার সাক্ষাৎকার থেকে প্রণীত হয়েছে। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছেন সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন ছাত্র।) সূচনা : আমার নাম সোহাগ। আমি সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ি। আমি ১০ম শ্রেণির একজন ছাত্র। আমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নাম মীর সোহেন ভূঁঞা। তিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন গেরিলা মান্ডার ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন কমান্ডার আর এখন স্বাধীনদেশের একজন বিদ্যানুরাগী প্রধান শিক্ষক রূপে আমি তাঁকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। তিনি সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং ফেনীর উত্তর পূর্বাঞ্চলে নারী শিক্ষা বান্ধব ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। নাম ও বংশ পরিচয় : আমার সাথে যে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পরিচয় রয়েছে তিনি হচ্ছেন মীর হোসেন ভূঁঞা, পিতা মৃত কালা মিয়া ভূঁঞা মাতা বেগম আছিয়া খাতুন। তিনি ১৯৪৮ইং সনে ফেনী সদর উপজেলাধীন কাজিরবাগ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত, মুসলিম, তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাড়ির নাম আসক ভূঁঞা বাড়ি। তিঁনি তাঁর বাড়ির সবচেয়ে উচ...

প্রবন্ধ রচনা : একটি ট্রেন ভ্রমণ

সূচনা : একটি ভ্রমণ সবসময় সকলের জন্য আনন্দদায়ক। আমি একজন চাত্র। আমিও একজন ভ্রমণ প্রিয় বালক। ট্রেন ভ্রমণ আমার কাছে খুবই উপভোগ্য। যাদের সাথে ভ্রমণ : আমার নাম সমু। আমার একজন অন্তরঙ্গ বন্ধ আছে। সেও আমাদের স্কুলে পড়ে। বার্ষিক পরীক্ষার পর দুই পরিবারের লোকজন ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সিলেট ভ্রমণ করি। আমরা সিলেট গিয়েছিলাম ট্রেন যোগে। এটি ছিল আমাদের জন্য আনন্দঘণ ট্রেন ভ্রমণ। ভ্রমণ যাত্রার প্রাক্কালে : ফেনী থেকে সিলেট একটি দূর পাল্লার ট্রেন ভ্রমণ। আমরা ছিলাম ছাত্র। আমরা একাকী সিলেট যেতে পারি না। আমরা আমাদের মা-বাবার তত্ত্বাবধানে সিলেট ভ্রমণ করি। আমাদের দুই পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল আটজন। এজন্য ভ্রমণ যাত্রার তিনদিন পূর্বে আমরা আটটি ট্রেনের টিকেট সংগ্রহ করি। ভ্রমণ যাত্রার কারণ : বাংলাদেশের সিলেট শহরটি দুইজন দরবেশের পূণ্য স্মৃতি বিজড়িত হওয়ার কারণে অত্যন্ত মহান ও পবিত্র স্থান। একজন হযরত শাহাজালাল এবং অপরজন হযরত শাহপরান। আমাদের মাতা-পিতা এ দুই জন দরবেশের মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেট গমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এজন্য আমাদের মা-বাবা আটটি টিকেট সংগ্রহ করে ট্রেন যোগে সিলেট গমনের আয়োজন...

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ

“শ্রম বিনা শ্রী হয় না” – উপনিষদ সভ্যতার আদিতে যখন প্রতিকূল পরিবেশ ও বিরুদ্ধ প্রকৃতি মানুষের অস্তিত্বকে করে তুলেছিল বিভিষীকাময়, সেদিন মানুষ তার আপন শ্রম দ্বারা বিশ্বের সকল শক্তিকে পরাভূত করে আশরাফুল মাখলুকাতরূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন, মানবজীবনে শ্রমের গুরুত্ব সর্বাধিক। বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী। কঠোর শ্রমের বিনিময়ে এদেশের বেশিরভাগ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, এদেশে রয়েছে নানা পেশার মানুষ। কোনো কোনো পেশার মানুষ কায়িক শ্রম বা দৈহিক পরিশ্রম করে নানা কাজ করেন, তাদের শ্রমজীবী মানুষ বলা হয়। বাঁচার জন্য আমাদের সবাইকে কম-বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এদিক থেকে আমরা সবাই শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু সমাজে সবরকম মানুষ একরকম কাজ করেন না। শিক্ষা-দীক্ষা ও পরিবেশগত নানা করণে মানুষ নানা পেশার সঙ্গে জড়িত। সেজন্য পেশা ও শ্রমের ওপর ভিত্তি করে শ্রমকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন : (১) শারীরিক শ্রম বা কায়িক শ্রম এবং (২) মানসিক শ্রম। এই উভয় প্রকার শ্রমের গুরুত্বই অপরিসীম। শিক্ষক, বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, সমাজতত্ত্ববিদ ও শিল্পীর পরিশ্রম মূলত মান...

প্রবন্ধ রচনা : জাদুঘর

জাদুঘর হলো একটি দেশের ঐতিহ্যের ধারক ও ভাণ্ডারস্বরূপ। জাদুঘর একটি দেশের ঐতিহ্যের ধারক বা ভাণ্ডার স্বরূপ। জাদুঘর একটি দেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিলস্বরূপ। পৃথিবীর সব দেশেই তাদের আবহমান সংস্কৃতি ও জীবনসংগ্রামের ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ জাদুঘরে সংগৃহীত থাকে। একটি দেশের সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক সামাজিক ঐতিহ্য-এর সবকিছুই জাদুঘরের বিদ্যমান থাকে। পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত জাদুঘরের নাম হলো ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়াম। এটি ১২০০ সালে নির্মিত হয়। এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হতে সময় লাগে প্রায় ২০০ বছর। এতে গ্রিক, মিশরীয়-রোমান ও প্রাচ্যদেশিয় অসংখ্য শিল্পনির্দশন রয়েছে। এর পাশাপাশি সংরক্ষিত আছে মধ্যযুগ, রেনেসাঁস ও আধুনিককালেরও বহু বিখ্যাত শিল্পী ও ভাস্করের শিল্প ও ভাস্কর্য কর্ম। লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির ‘মোনালিসা’ ল্যুভর মিউজিয়ামেই সংরক্ষিত আছে। এ মিউজিয়াম সম্পর্কে এরকম একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে, যিনি ল্যুভর পরিদর্শন করেছেন, ধরে নিতে হবে তিনি মাত্র অল্প ক’দিনের মধ্যে সারা বিশ্ব পরিদর্শন করেছেন। বাংলায় জাদুঘরের ধারণা এসেছে ব্রিটিশদের মাধ্যমে। কেবল বাংলা নয় সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে জাদুঘরের ইত...