Posts

Showing posts from April, 2019

নামজারি ও খারিজের আইন

বর্তমানে মিউটেশনের দায়িত্ব সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর উপর ন্যাস্ত। (পূর্বে উপজেলা রাজস্ব অফিসার বা সার্কেল অফিসার রাজস্ব এর উপর ন্যাস্ত ছিল।)  নামজারি দু’প্রকারের হয়ে থাকে ১। মূল খতিয়ানে নাম কর্তন করে ভূমি কিংবা নাম যোগ করে নাম জারি করে এবং  ২। কোন খতিয়ানের কোন অংশীদার বা নতুন মালিক খতিয়ান হতে বের হয়ে বা খারিজ হয়ে স্বতন্ত্র খতিয়ান খুলতে চাইলে জমা ভাগ করে স্বতন্ত্র খতিয়ান খুলে নামজারি করা হয়।  স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সী অ্যাক্টর ১১৬ ধারা মোতাবেক কোন মালিকের একই মৌজায় অবস্থিত তার বিভিন্ন খতিয়ানভুক্ত বিভিন্ন দাগের ভূমি রাজস্ব অফিসারের যজ্ঞ বিক্রয়ের একটি খতিয়ানে একত্রিত বা সমন্বিত করতে পারেন এবং উক্ত অ্যাক্টের (১১৭ ধারার ৯১) উপধারা (সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন একান্নভুক্ত খতিয়ানকে ভাগ করে স্বতন্ত্র খতিয়ান খুলতে পারেন এবং ভাগ করতে হলে রাজস্ব অফিসারের কাছে উক্ত খতিয়ানের এক বা একাধিক অংশীদারগণের আবেদন করতে হবে।  ধারা-১১৬ : যদি একই গ্রামে বিভিন্ন ভূমি খণ্ড একজন মালিকের স্বত্বাধীন হয় এবং ইহা বিভিন্ন খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত থাকলে এরূপ ভূমি খণ্ডসমূহ রাজস্ব কর্মকর...

নামজারি (Mutation)

মিউটেশন (Mutation) ইংরেজী শব্দের বাংলা শব্দ হল পরিবর্তন। এখানে খতিয়ানে নাম লেখনভুক্ত করা বা জমিজমার ভাগ বা পরিবর্তনকে বুঝায়। পূর্বেই বলা হয়েছে যে প্রতি মৌজা জরিপ বিভাগ কর্তৃক খতিয়ান প্রস্তুত করার পর নানা স্তরে ইহার পরীক্ষা নিরীক্ষার পর খতিয়ানগুলোকে সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করে থাকেন।  এ সকল খতিয়ানে উল্লেখিত মালিকের নাম, তাদের হিস্যা, স্বত্ব ভূমির পরিমাণ ইত্যাদি। বিক্রী, মর্গেজ উত্তরাধিকার সূত্রে এবং যাবতীয় আইন অনুযায়ী হস্তান্তরসহ সকল উদ্দেশ্যে আইন আদালতসহ সর্বক্ষেত্রে বিবেচিত বা বাহ্য হয়ে থাকে। এক জরীপ হতে আরেক নতুন জরীপ পর্যন্ত প্রায় বিশ (২০) বৎসর সময়ের ব্যবধান। এই সময়ের মধ্যে খতিয়ানে লেখনভুক্ত মালিকের মৃত্যু অথবা বিক্রী ও অন্যবিধ কারণে ভূমি হস্তান্তর হওয়ার দরুন ভূমি মালিকানা স্বত্ত্বের পরিবর্তন হয়ে থাকে এবং হতে থাকবে। এমতাবস্থায় এরূপ খতিয়ানের পরিবর্তন আবশ্যক। অন্যথায় বিক্রী, উত্তরাধিকার, মর্গেজ, খাজনা বা কর আদায় ইত্যাদি অসুবিধা হবে।

প্রবন্ধ রচনা : মহত্ত্ব

↬ মানবতা ও মহত্ত্ব ভূমিকা : “মহৎ যে হয় তার সাধু ব্যবহার” -এ-কথাটি কোনো একজন কবির। কবি এ-কথাটি দ্বারা একজন মহৎ মানুষের মূল্যায়ন করেছেন, অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন যে, সাধু ব্যবহারের দ্বারা একজন মানুষের মহত্ত্ব প্রকাশ পেয়ে থাকে। মহৎ মানুষের মধ্যে মহত্ত্বসহ তার অন্যান্য গুণ নিহিত থাকে। সুতরাং মহত্ত্বের ব্যাপ্তি বা পরিসর বিশাল। মানুষের মহত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করতে গেলে এককথাই বলতে হয় যে, মানুষের সকল মানবীয় গুণের সমন্বিত পরিশীলিত বহিঃপ্রকাশই হল মানুষের মহত্ত্ব।  পশুত্ব ও মনুষ্যত্ব : ইতর-প্রাণীদের মধ্যে শুধুমাত্র পশুত্বই বলশালী। তাদের মধ্যে জ্ঞানের উপস্থিতি একেবারে যে নেই তা নয়, তবে তার মাত্রা অতিশয় নগণ্য। পশুর মধ্যে বুদ্ধি ও বিবেক-বিবেচনার ক্ষমতা নেই। তাই ইতর-প্রাণীকুল পশুত্বের বা পাশবিক শক্তির বশবর্তী। মানুষ বুদ্ধিমান জীব। তাই সে বুদ্ধি ও বিবেক-বিবেচনার নির্দেশে পরিচালিত হয়। জীব হিসেবে মানুষের মধ্যে পশুত্বও থাকে; -পাশবিক শক্তিও তাকে প্রভাবিত করে। তবে মানুষের মধ্যে পশু-শক্তির পাশাপাশি তার মধ্যে বিবেচনা শক্তিও বিদ্যমান। তাই মানুষ বিবেকের পরিচালনায় পরিচালিত হয়ে তার মনের পশু-শক...

প্রবন্ধ রচনা : দয়া

↬ দয়ার গুরুত্ব ভূমিকা : ইংরেজ কবি Wordsworth লিখেছেন : That best portion of good man’s life  His little, nameless, unremembered acts  Of kindness and of love.  বাঙলা প্রবাদেও আছে, “হিংসার-অধিক পাপ নেই, দয়ার-অধিক ধর্ম নেই” । দয়া মানুষের একটি মহৎ গুণ। পরকে দয়া দেখানোর প্রবৃত্তি মানুষের অন্তরে এমন একটি গুণের জন্ম দেয় যার সাহায্যে মানুষ মনুষ্যত্ব বিকাশের পথে বহুদূর অগ্রগামী হতে পারে।  মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজের আবেষ্টনীতে প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বাস করে। সমাজে যেমন ধনী ও বিত্তশালী লোক বাস করে তেমনি বাস করে দরিদ্র ও অসহায় লোক। সমাজে বসবাসরত দরিদ্র ও অসহায় লোকের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করাকেই দয়া বলা হয়। দয়া প্রদর্শনে অভ্যস্ত হলে অন্তরের সুপ্ত সদ্গুণগুলো জাগ্রত হয়ে ওঠে এবং তার দ্বারা মানুষ আত্মত্যাগের আদর্শে দীক্ষালাভ করে। ধনী-দরিদ্রের মধ্যে সমাজে প্রম্প্রীতি গড়ে তোলার জন্যে দয়ার অনুশীলন অপরিহার্য।  সত্যিকারের দয়া কী? : দয়া প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণভাবে বুঝি যে, ভিখারিকে ভিক্ষা দেওয়া। আসলে দয়া প্রদর্শনের স্বরূপ কিন্...

খতিয়ান

খতিয়ানের অর্থ হল ‘হিসাব’ । সাধালণভাবে স্বত্ব সংরক্ষণ ও রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্য জরীপ বিভাগ কর্তৃক প্রত্যেক মৌজার ভূমির মালিক বা মালিকগণের নাম, পিতা অথবা স্বামীর নাম, ঠিকানা, হিস্যা (অংশ) এবং তাদের স্বত্বাধীন দাগসমূহের নম্বরসহ ভূমির পরিমাণ, শ্রেণী, এদের জন্য দেয় খাজনা ইত্যাদি বিবরণ সহ ক্রমিক সংখ্যা অনুসারে যে স্বত্ব তালিকা বা স্বত্বের রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় তাদের প্রত্যেকটিকে খতিয়ান বলা হয় এবং উক্ত রেকর্ডকে স্বত্ত্বের রেকর্ড বা রেকর্ড অব রাইটস (ROR) বলা হয়।  এক বা একাধিক দাগের সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিমাণ ভূমি নিয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তির নামে স্মরণীয় বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে ভূমি স্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে “খতিয়ান” বলে।  খতিয়ানগুলো ১, ২, ৩, ৪, ৫ ইত্যাদি ক্রমিক সংখ্যা দ্বারা সাজানো হয়ে থাকে। প্রত্যেক খতিয়ানে একটি সংখ্যা রয়েছে। ইহাদেরকে খতিয়ান নম্বর বলা হয়। প্রত্যেক মৌজার খতিয়ান ১ (এক) হতে শুরু হয়। কোন কোন মৌজার (একশত) ১০০ খতিয়ানের কম থাকতে পারে আবার কোন কোন মৌজার কয়েক হাজারের বেশি থাকতে পারে। কোন মৌজার কতটি খতিয়ান রয়েছে তা উক্ত স্বত্বের রেকর্ড (ROR) পাওয়া যাবে।  ...

জমি ও সম্পত্তি হস্তান্তর রেজিস্ট্রেশনের সংশোধিত আইন

ভূমি ও সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি ব্যাপক সহজতর করার লক্ষ্যে আমাদের দেশের শত বর্ষের আইনের ব্যাপক সংশোধন করা হয়েছে। এই সংশোধনের ফলে আমাদের দেশের জনগণের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন, প্রি-এমশনে পাওয়া আদালতের দলীল রেজিস্ট্রেশন, বায়নানামা রেজিস্ট্রেশন, বন্ধকী সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন করতে ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে। গত ১ জুলাই ২০০৫ থেকে উপরোক্ত কর্মকাণ্ডে সংশোধিত বিধি বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে।  দলিল লিখনের ক্ষেত্রে আগে ভেন্ডারগণ কোন বাধাধরা নিয়ম ছাড়াই তাদের ইচ্ছামত লিখতেন। এক্ষেত্রে অনেক সময় দলিলে অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য বাদ পড়তো এবং অনেক অপ্রয়োজনীয় বিষয় উপস্থাপিত হতো। নতুন এই নিয়মে এই সমস্যাটি আর হবে না। এখন ভেন্ডারদের থেকে স্ট্যাম্প ক্রয় করে তাতে তাদের দ্বারা সরকারীভাবে সরবরাহকৃত নির্দিষ্ট ফরমেটে বা ছকে লিখে বা টাইপ বা কম্পিউটার কম্পোজ করে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।  সরকার ১৮৮২ সালের ভূমির রেজিস্ট্রেশন আইন, ভূমি হস্তান্তর আইন, ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এবং ১৯০৮ সালের তামাদি আইন সংশোধন করেছেন। শত বছরের পুরাতন আইন কানুন সম্পূর্ণ বাদ না করে ভূমি ব্যবস্থা...

জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল ও রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম

ভূমি ও অন্যান্য সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য দলিলের ছক বা ফরমেট :  ভূমি হস্তান্তরের দলিল স্ট্যাম্পের উপর সরকার কর্তৃক প্রকাশিত নির্দিষ্ট ফরমেট বা ছক অনুযায়ী তৈরি করতে হবে। এই ছকে ক্রেতা-বিক্রেতার ছবি সংযোজনের নতুন বিধান রাখা হয়েছে। তামাদি হওয়ার সময় সীমা  তামাদি হওয়ার সময় সীমা তিন বছর থেকে এক বছর করা হয়েছে। দলিল তৈরী হওয়ার তিন মাসের মধ্যে তা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময়  দলিল তৈরী হওয়ার তিন মাসের মধ্যে তা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। মৌখিক দান বা হেবা দলিল রেজিস্ট্রেশন। মুসলিম পারিবারিক ধর্মীয় আইন অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি মৌখিক দান বা হেবা দলিলও এখন থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এই দলিল হবে ঘোষণামূলক। এর জন্য ফি হবে মাত্র ১০০/- (একশত) টাকা। হেবা বা দান কে কাকে করতে পারে-  হেবার ক্ষেত্রে শুধু রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয় তথা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে, পিতা-মাতা ও সন্তানের মধ্যে, ভাই-ভাই, বোন-বোন অথবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী থেকে নাতি-নাতনী থেকে নানা-নানী সম্পর্কের মধ্যে হেবা দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে এই নাম ম...

জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি প্রয়োজনীয় পরামর্শ

কথায় আছে “পয়সা দিয়ে জগড়া-ফ্যাসাদ কিনতে চায় কে?” তাই ভূমি ক্রয়ের সময় সম্ভাব্য সকল যুক্তিসঙ্গত সতর্কতা অবলম্বন ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। জমি ক্রয়ের পূর্বে ক্রেতাকে যে প্রধান বিষয়গুলোর প্রতি সতর্ক হতে হবে তা হলো : কেবল ভূমির মালিকই তার ভূমি যে কোন ভাবে হস্তান্তর করতে পারেন। তাই হস্তান্তরকারীর মালিকানা ও দখলীয় স্বত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বৈধ কাগজ পত্র স্বাপেক্ষে ভাল করে দেখার প্রয়োজন। ১। বিক্রিত ভূমির সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে বিক্রেতার নাম আছে কিনা? ২। ‍যদি বিক্রিতার নাম খতিয়ানে না থাকে তবে ভূমিতে বিক্রেতার স্বত্ব বৈধ কাগজপত্র দ্বারা প্রমাণ করতে হবে। ৩। বিক্রির ভূমি (১) কোন্ মৌজায় অবস্থিত, (২) কোন্ খতিয়ান ও (৩) কোন্ দাগভুক্ত (৪) এটার পরিমাণ এবং (৫) উক্ত খতিয়ানে ভূমিতে বিক্রেতার অংশ বা হিস্যা অনুযায়ী পরিমাণ ইত্যাদি ক্রয়ের পূর্বে কাগজ পত্র দ্বারা ভালভাবে যাচাই করে দেখতে হবে। ক্রয় দলিল দৃষ্টে ভূমি ক্রয় করতে হলে দেখতে হবে : (ক) দলিলে উল্লেখিত (১) দলিলদাতা বা দাতাদের নাম ও (২) ভূমির বিবরণ ও পরিমাণ সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে লেখনভুক্ত রয়েছে কিনা, যদি তার বা তাদের ...

জমিজমা ও ভূমি বিষয়ক আইন

সূচিপত্র জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সতর্কতা অবলম্বনের জন্য কয়েকটি প্রয়োজনীয় পরামর্শ জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল ও রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম ভূমি ও সম্পত্তি হস্তান্তর রেজিস্ট্রেশনের সংশোধিত আইন খতিয়ান নামজারি নামজারি ও খারিজের আইন জমি ক্রয়-বিক্রয় নদীতে ভেঙে যাওয়া ও জেগে উঠা ভূমি সংক্রান্ত আইন জরিপ ভূমি-স্বত্ব ও জমি জরিপের প্রয়োজনীয়তা জমি সংক্রান্ত কতগুলো বিশেষ শব্দ জরিপ কার্য রৈখিক মাপ ৬ চেনের মাপের সূত্র জরিপ বিষয়ক কতগুলো শব্দের অর্থ সম্পত্তি হস্তান্তরের নমুনা ফরম ব্যবহার সম্পর্কিত সরকারী গেজেট সম্পত্তি হস্তান্তর দলিলের নমুনা ফরম ভূমি বা জমি – ১৯৪ আনা গণ্ডার সূত্র কানি গণ্ডার সূত্র রেনু ধুনের সূত্র বিঘা, কাঠা ও ছটাকের হিসাব গণ্ডা জমির অগ্র-ক্রয়াধিকার ক্রয় আইন প্রি-এমশনে অধিকার পাবার যোগ্যতা যাদের পক্ষ করতে হবে অকৃষি ভূমির Pre-Emption (অগ্রক্রয়াধিকার) আইন অকৃষি ভূমি প্রি-এমশনের জন্য আবেদনের সময় সীমা অকৃষি ভূমির প্রি-এমশনের অধিকারী ব্যক্তি দরখাস্ত ও পণমূল্য জমা প্রদানের বিধান ভূমি বা জমির ক্ষেত্র বৃত্ত বৃত্তের ক্ষেত্রফল বের করার সূত্র ত্রিভূজ চতুর্ভূজ এ...

ভাবসম্প্রসারণ : শিক্ষার্থী শিক্ষকের মানস সন্তান

শিক্ষার্থী শিক্ষকের মানস সন্তান ভাব-সম্প্রসারণ : সভ্যতার শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে চলছে শিক্ষক বা শিক্ষাগুরু। শিক্ষার মধ্য দিয়ে এককালের আদিম মানুষ তার আদিমতা থেকে মুক্তি পেয়েছে। আজকালের দিনের সভ্যতায় সে পদার্পণ করতে পেরেছে। শিক্ষক মানুষের দ্বিতীয় জন্মদাতা। বাবা-মা সন্তানকে জন্ম দেন ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত মানুষ হিসেবে তার মানবিক দিক থেকে শুরু করে জীবন-গঠনের সকল বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলেন একজন শিক্ষক। ফলে শিক্ষার্থী হয়ে ওঠে শিক্ষকের মানস সন্তান। এজন্য শিক্ষককে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর।  মানুষ জন্ম মাত্রই মানুষ নয়। সেও অপরাপর জীবের মতো একটি প্রাণী মাত্র। শিক্ষকের যাদুর কাঠির প্রত্যাশিত স্পর্শে সে প্রাণী মানুষে পরিণত হয়। শিক্ষক এমন এক পরশ পাথর সদৃশ যার স্পর্শে জন্মসূত্রে মানবাকৃতির প্রাণীটি বুদ্ধিদীপ্ত মানুষে পরিণত হয়। কেননা, শিক্ষক মানুষকে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি মানুষ হিসেবে আমাদের করণীয় কাজগুলো কী হতে পারে তার পথ জানিয়ে দেন। তিনি শেখান- কি করে মানুষ হিসেবে নিজেকে গঠন করা যায়, কী করে জীবনকে সার্থক ও সুন্দরভাবে উপভোগ করতে হয়, কী করে মনে...

ভাবসম্প্রসারণ : বন থেকে জানোয়ার তুলে আনা যায়, কিন্তু জানোয়ারের মন থেকে বন তুলে ফেলা যায় না।

বন থেকে জানোয়ার তুলে আনা যায়, কিন্তু জানোয়ারের মন থেকে বন তুলে ফেলা যায় না।  ভাব-সম্প্রসারণ : মানুষ প্রাণী হলেও সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে তার মধ্যে মানবীয় গুণাবলি বিদ্যমান। প্রাণীর স্বভাব-বৈশিষ্ট্য গড়ে ওঠে পরিবেশ ও শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে। জন্তু ও মানুষের মধ্যে স্বভাব ও প্রকৃতিগত পার্থক্য বিদ্যমান। জন্তুর সকল স্বভাব মানুষের মধ্যে বিরাজমান- হিংসা, বিদ্বেষ, পাশবিকতা, হিংস্রতা, লোলুপতা ইত্যাদি মানুষের মধ্যেও রয়েছে। কিন্তু এসব অতিক্রম করে প্রীতি, মমত্ব, সুস্বভাব, সুচরিত্র অর্জন করাই মনুষ্যজীবনের সার্থকতা। এসব গুণাবলির জন্যে মানুষ জন্তু থেকে পৃথক। বন্যপ্রাণীকে বন্য জীবন থেকে সুসভ্য জগতে নিয়ে এলেও জন্তুর জান্তব আচরণের পরিবর্তন হয় না। কেননা তার মনোজগতের অধিবাস বনের মধ্যে। এর মূল কারণ হল মানুষের মধ্যে মানব-স্বভাবের যে উত্তরণ আছে জন্তুর মধ্যে তা নেই। তাই বন থেকে তুলে এনে তাকে যতই সুসভ্য করার চেষ্টা করা হোক না কেন তারা বন্য স্বভাবেরই থেকে যাবে। একইভাবে বৃহত্তর অর্থে মানুষের ক্ষেত্রেও একথা সত্যি। নীচ প্রকৃতি, প্রবৃত্তি বা স্বভাবের মানুষদের আমরা যতই ভালো করার চেষ্টা করি না কেন, তা ব্যর্...

ভাবসম্প্রসারণ : শুধাল পথিক, ‘সাগর হইতে কী অধিক ধনবান?’ / জ্ঞানী কহে, ‘বাছা, তুষ্ট হৃদয় তারো চেয়ে গরীয়ান।’

শুধাল পথিক, ‘সাগর হইতে কী অধিক ধনবান? ’   জ্ঞানী কহে, ‘বাছা, তুষ্ট হৃদয় তারো চেয়ে গরীয়ান।’  ভাব-সম্প্রসারণ : আত্মতুষ্টিই মানবজীবনের সবচেয়ে চরম ও পরম পাওয়া। কেননা সন্তুষ্টিতে যে সুখ রয়েছে তার কোনো তুলনা নেই। রত্নাকর সাগরের চেয়েও পরিতুষ্ট হৃদয় অধিক সুখসম্পদে সমৃদ্ধ।  পার্থিব এ-জীবনে চাওয়া পাওয়ার যেমন শেষ নেই, তেমনি তার অভাববোধও কোনোদিন শেষ হয় না। নতুন নতুন পাওয়া মানুষের মনে নতুন নতুন অভাববোধ জাগ্রত করে। এভাবে এক ধারাবাহিক অতৃপ্তি মানুষের মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে। সে আরও চায়। মহাসাগরের তলদেশে অসংখ্য রত্নরাজির অফুরন্ত ভাণ্ডার পর্যন্ত সেচে আনতে চায়। ফলে সে সম্পদের পাহাড় গড়লেও তাতে তার সন্তুষ্টি আসে না, সে তৃপ্তি পায় না। সুখ তার কাছে কেবলই পলায়নপর সোনার হরিণ হয়ে তাকে হাতছানি দেয়, কিন্তু ধরা দেয় না। ধনসম্পদের প্রতি মানুষের অতিরিক্ত লোলুপতা মানুষকে যান্ত্রিক করে তোলে। সারাক্ষণ তার চিন্তা পড়ে থাকে সম্পদের স্তূপের পাশে। এই সম্পদ আহরণ নিয়েই তার যত ব্যস্ততা। জীবনের যে অপরাপর উদ্দেশ্য আছে, কর্তব্য আছে, সে তা ভুলে যায়। এভাবে পার্থিব তুচ্ছ বস্তুগত ধন আহরণ করতে গিয়ে সে অন্যায়, অত্...

ভাবসম্প্রসারণ : হাতে কাজ করায় অগৌরব নেই, অগৌরব হল মিথ্যায়, মূর্খতায়।

হাতে কাজ করায় অগৌরব নেই, অগৌরব হল মিথ্যায়, মূর্খতায়। ভাব-সম্প্রসারণ : নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে রয়েছে আত্মতৃপ্তি, গৌরব; মিথ্যায় কিংবা মূর্খতায় কোনো গৌরব নেই। আমাদের সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা নিজের কাজ নিজে করাটাকে ছোট হওয়া মনে করে। নিজের কাজ নিজে করে জীবনে উন্নতি লাভ করার চেয়ে এসব মানুষ মিথ্যা আর মূর্খতায় নিজের গৌরব বৃদ্ধি করাতে চায়। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অবৈধ ও অন্যায়ভাবে টাকা উপার্জন করে জীবনের শ্রী-বৃদ্ধিটাকে এরা গৌরবজনক মনে করে। মূর্খতা এদের কাছে অভিশাপ মনে হয় না। অথচ নিজের কাজ নিজে করার মধ্যেই প্রকৃত গৌরব নিহিত। অন্যের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা চাওয়া, চুরি করা কিংবা অবৈধ কিছু করার চেয়ে খেটে খাওয়া অনেক ভাল। কাজ, তা যা-ই হোক, কাজ করার মধ্যে কোনো অসম্মান নেই। শ্রমজীবী মানুষই নতুন সভ্যতার কারিগর। তাদের ঘামে ও শ্রমেই প্রোথিত বিলাসী জীবনের ভীত। পৃথিবীতে যারা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েছে তাঁরা সবাই নিজের কাজ নিজেই করেছে। অন্যদিকে মিথ্যা মূর্খতায় অন্যায়ভাবে যারা নিজেদের জীবনের গৌরবকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে তাদের পতন হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সংকীর্ণমনারাই কাজের শ্রেণীবিন্যাস করে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ সৃ...

ভাবসম্প্রসারণ : দুঃখ যে পাপের ফল তাহা কে বলিল, পুণ্যের ফলও হইতে পারে, কত ধর্মাত্মা আজীবন দুঃখে কাটাইয়া গিয়াছেন।

দুঃখ যে পাপের ফল তাহা কে বলিল, পুণ্যের ফলও হইতে পারে, কত ধর্মাত্মা আজীবন দুঃখে কাটাইয়া গিয়াছেন। ভাব-সম্প্রসারণ : নিরবচ্ছিন্ন সুখ বা দুঃখ নিয়ে মানুষের জীবন নয়, সে জীবন সুখ ও দুঃখের আলোছায়ায় বৈচিত্র্যপূর্ণ ও উপভোগ্য। কিন্তু সাধারণ ভাবে মনে করা হয়, মানুষের জীবনে সুখ আসে পুন্যের ফলে, আর দুঃখ আসে পাপের ফলে। এ ধারণার কোনো যৌক্তিক সারবত্তা নেই। পাপ-পথে অসৎ উপায়ে এ জগতে অনেকেই অঢেল ধন-সম্পদের মালিক হয়ে বিলাসবহুল জীবনের সুখ উপভোগ করে। অন্যদিকে অনেক মহাপুরুষ নিজেকে পরিপূর্ণ মহৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সাধনায় আমৃত্যু দুঃখের আগুনে নিজেকে পোড়ান। সুখ তাঁদের চোখে মায়াবী মরীচিকা আর দুঃখ তাঁদের কাছে পাপের ফল নয় বরং পাপহর। বস্তুত সম্পদ লোভী ও পরিভোগ লিপ্সু মানুষই মূলত সুখের কাঙাল। তারা দুঃখকে ভয় পায়। পক্ষাপন্তরে মহৎ ব্যক্তিত্বের কাছে সুখ-দুঃখ বাস্তব জীবনসত্য হিসেবেই মান্য। সুখের মোহে তাঁরা যেমন বাঁধা পড়েন না, তেমনি দুঃখের যন্ত্রণাও তাঁদের ক্লিষ্ট করতে পারে না। ‍সুখের আশায় তাঁরা ন্যায় ও সত্যের পথ থেকে সরে দাঁড়ান না, আবার দুঃখের দাহনেও ত্যাগের মহিমা পরিত্যাগ করেন না। তাঁরাই মানুষকে দেন সুখ ও ...

ভাবসম্প্রসারণ : তাই আজ প্রকৃতির উপর আধিপত্য নয়, মানুষ গড়ে তুলতে চাইছে প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্বন্ধ।

তাই আজ প্রকৃতির উপর আধিপত্য নয়, মানুষ গড়ে তুলতে চাইছে প্রকৃতির সঙ্গে মৈত্রীর সম্বন্ধ। ভাব-সম্প্রসারণ : মানুষের অস্তিত্ব প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মানুষ যে নিজের ধ্বংস ডেকে আনছে। মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে যে, প্রকৃতির সঙ্গে শত্রুতা করে নয় তার সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে তুলেই মানব-অস্তিত্বকে রক্ষা করতে হবে। মানুষ প্রকৃতির সন্তান। একসময় প্রকৃতির কোলেই তার জন্ম। কিন্তু কাল পরিক্রমায় সংগ্রামশীল মানুষ একসময় প্রকৃতিকে নিয়ে এসেছে তার হাতের মুঠোয়। জয় করেছে সাগর, মাটি, আকাশ এমনকি মহাশূন্যও। প্রকৃতিকে ইচ্ছে মতো ব্যবহার ও পরিবর্তন করে সে গড়ে তুলেছে মানব সভ্যতা। এ জন্যে সে পাহাড়কে কেটে করেছে সমতল ভূমি, জলাভূমিকে করেছে ভরাট, বন উজাড় করে গড়েছে বসত, নদীর গতিপথকে নিয়ন্ত্রণ করেছে বাঁধ দিয়ে। কিন্তু জগতে সমস্ত ক্রিয়ারই এক ধরনের বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। প্রকৃতির সম্পদকে এভাবে যথেচ্ছা ব্যবহার করতে গিয়ে মানুষ নষ্ট করেছে প্রকৃতির ভারসাম্য, বিপন্ন করেছে জীবপরিবেশ। দূষিত হয়েছে বায়ু, মাটি, পানি। ফলত মানব সভ্যতার অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। সংকট আজ গোটা বিশ্বজুড়ে। স...

ভাবসম্প্রসারণ : যে ফুল না ফুটিতে ঝরেছে ধরণীতে, / যে নদী মরুপথে হারালো ধারা, / জানি হে জানি তাও হয় নি হারা।

যে ফুল না ফুটিতে ঝরেছে ধরণীতে, যে নদী মরুপথে হারালো ধারা, জানি হে জানি তাও হয় নি হারা। ভাব-সম্প্রসারণ : বিশ্বজগতে নিরন্তর চলেছে বাঙাগড়ার নিত্য ঘটনা। তাতে নিয়তই চোখে পড়ে অপূর্ণতা, ব্যর্থতা, ধ্বংস ও মৃত্যুর নানা টুকরো ছবি। এই দেখাই চূড়ান্ত সত্য নয়। সৃষ্টির রহস্যলোকের গভীর তলে অপূর্ণতা সদাই পূর্ণতা-অভিমুখী, ব্যর্থতা সাফল্যের। ধ্বংসের পেছনে কাজ করে সৃষ্টির প্রেরণা, মৃত্যুর আড়ালে মুখর হয় জীবনের ছবি। ব্যর্থতা ও অপূর্ণতা বিশাল বিশ্বসত্তার পূর্ণতার ইঙ্গিতবাহী। এই পৃথিবী জন্ম ও মৃত্যু, সৃষ্টি ও ধ্বংসের নিত্য লীলাভূমি। এই জন্ম ও মৃত্যু, সৃষ্টি ও ধ্বংস যদি যথাযোগ্য সময়ের ব্যবধানে হয় তবে তা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয় না। পক্ষান্তরে অকালমৃত্যু ও অকাল ধ্বংসে আমরা বিচলিত হই, হাহাকার করে উঠি। কিন্তু এ জগতে অকাল ঝরে যাওয়া ফুল ব্যর্থ নয়, তৃষিত মরুর বুকে নিঃশেষিত নদীস্রোতও ব্যর্থ নয়। এদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবদান বিশ্বলীলার ইঙ্গিত। ব্যর্থতা ও অপূর্ণতার মধ্য দিয়ে সাফল্য ও পূর্ণতার ইঙ্গিতবহী। বাস্তব জগতে মানুষের অনেক ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়, সাফল্যের মুখ দেখে না। মহত্তর কাব্য ...

ভাবসম্প্রসারণ : যা রাখি আমার তরে মিছে তারে রাখি, / আমিও রব না যবে সেও হবে ফাঁকি, / যা রাখি সবার তরে, সেই শুধু রবে / মোর সাথে ডোবে না সে. রাখে তারে সবে।

যা রাখি আমার তরে মিছে তারে রাখি, আমিও রব না যবে সেও হবে ফাঁকি, যা রাখি সবার তরে, সেই শুধু রবে মোর সাথে ডোবে না সে. রাখে তারে সবে। ভাব-সম্প্রসারণ : মানব জীবনে যেমন ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে, তেমনি রয়েছে সার্বজনীন স্বার্থ। ব্যক্তিগত স্বার্থের দিকটি ক্ষুদ্র ও সীমিত গণ্ডিবদ্ধ। তাই দেখা যায়, মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদ কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের গণ্ডিতে আবদ্ধ হলে ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তা গুরুত্ব হারায়। বিশ্বজনের কাজে না লাগলে সে সম্পদ কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। পক্ষান্তরে মানুষের সম্পদ যদি সার্বজনীন স্বার্থে নিয়োজিত হয় তবে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলেও সম্পদ সংরক্ষণ ও কাজে লাগানোর দায়িত্ব বৃহত্তর মানবসমাজের হাতে বর্তায়। এবং সম্পদের কার্যকর সদ্ব্যবহার ঘটে। এমনি ভাবে মানুষ যদি আত্মস্বার্থের গণ্ডিতে নিজেকে আবদ্ধ রাখে তবে তার জীবন হয়ে পড়ে নিষ্ফল। পক্ষান্তরে সবার স্বার্থে আত্মনিয়োগ করতে পারলে মানুষের জীবন হয় সার্থক ও সফল। এই জন্যেই কবি বলেন-                                        ‘ স্বার্থমগ্ন যেম...

প্রবন্ধ রচনা : ধর্মঘট ও হরতাল

↬ হরতাল ও বাংলাদেশ ভূমিকা :  ইংরেজি  ‘স্ট্রাইক’  শব্দের অর্থ বাংলায়  ‘ধর্মঘট’ । ধর্মঘট কথাটির ব্যবহার এসেছে ধর্ম রক্ষার উদ্দেশ্যে ঘট- এই অভিধা থেকে। বর্তমানে এর অর্থ দাঁড়িয়েছে কোনো ন্যায্য দাবি পূরণ বা আদায়ের জন্যে কর্মচারীগণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে দলবদ্ধভাবে কর্মবিরতিকরণ। অন্যদিকে  ‘হরতাল’  শব্দটি এসেছে গুজরাটি ভাষা থেকে। এর আভিধানিক অর্থ বন্‌ধ বা বন্ধ করে দেওয়া। শব্দটির গঠন এরকম : হর (প্রত্যেক) + তাল (তালা)। অর্থাৎ প্রতি দরজায় তালা। আজকাল এর অর্থ- বিক্ষোভ ও ধর্মঘট আজ আমাদের জাতীয়জীবনে যে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছে একথা কোনো মতেই অস্বীকার করা যায় না। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে।  ধর্মঘটের ইতিহাস :  ধর্মঘট কোথায় কখন প্রথম শুরু হয়েছিল তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি। তবে ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় গৃহনির্মাণ শ্রমিকরা কাজের সময় কমিয়ে সর্বাধিক দশ ঘণ্টা করার দাবিতে যে ধর্মঘট করেন তাই সংঘটিত প্রথম ধর্মঘট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কয়েক দশক পরে ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকায় শিকাগো শহরে মে দিবসে যে ব্...

প্রবন্ধ রচনা : চলচ্চিত্র ও তার ভূমিকা

↬ সমাজজীবনে চলচ্চিত্রের প্রভাব ↬ শিক্ষা-বিস্তারে চলচ্চিত্র ↬ চলচ্চিত্রের ভালোমন্দ ভূমিকা : মানবসভ্যতার এক বিস্ময়কর আবিষ্কার চলচ্চিত্র। তা আধুনিক কালের অত্যনতম সেরা শিল্পমাধ্যম ও গণমাধ্যম । আলোছায়ার খেলায়, ধ্বনিময় বর্ণিল কারুকার্যে জীবনের ভাব-ভাবনার চলমান অভিব্যক্তি প্রকাশের এই মাধ্যমটি প্রেক্ষাগৃহের রূপালি পর্দা থেকে শুরু করে টিভি ও কম্পিউটারের রূপালি পর্দায় এখন মানুষের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মাধ্যম। মানুষের ব্যক্তিমনে এবং সমাজজীবনে এ মাধ্যমটির প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা অসাধারণ এবং বর্তমানে তা সমাজজীবনে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম সেরা ধারক ও বাহক হিসেবে সমাদৃত। পৃথিবীর সব দেশের সব মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে এবং এটি গণযোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সর্বস্তরের মানুষের জীবনে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে এর অসামান্য ক্ষমতার ফলে আধুনিক কালে সমাজজীবনে চলচ্চিত্র পালন করছে ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা। সমাজ-সংগঠনে ও মানুষের জীবনবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রের ভূমিকা প্রসঙ্গে সংগত কারণেই রোজার মেনভেলের মন্তব্য : “The cinema is only one eleme...

প্রবন্ধ রচনা : মা, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি

ভূমিকা : মা, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি- এদের প্রতিটির সঙ্গে ওতঃপ্রোতভাবে জড়িত আমাদের জীবন ও আমাদের অস্তিত্ব। আমাদের প্রত্যেকের রক্ত, মাংস ও সত্তার পরতে পরতে মিশে আছে মা। আমাদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আকুলতা-ব্যাকুলতা প্রকাশের ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। আর জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি আমাদের পরম আশ্রয় আমাদের মাতৃভূমি। তাই মা, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির কথা ভাবলে আমাদের মন উথলে ওঠে, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মাথা নত হয়ে আসে। মা, মাতৃভাষা, মাতৃভূমির যে কোনো গৌরবে মন হয় আনন্দে উদ্ভাসিত। মমতাময়ী মা : সন্তানের কাছে মায়ের আসন অতুলনীয়। মায়ের কাছে সন্তানের ঋণও অপরিশোধ্য। মায়ের দেহসম্পদে ভাগ রসিয়ে মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠে মানব শিশু। পৃথিবীর মুখ দেখার পর থেকেই সে লালিত-পালিত হয় মায়ের কোলে, তাঁর স্নেহচ্ছায়ায়। সন্তানকে লালন-পালন করতে গিয়ে মা যে কত ত্যাগ স্বীকার করেন তা কে না জানে। সম্ভাব্য সব বিপদ থেকে তিনি সন্তানকে আগলে রাখেন। সন্তানের অমঙ্গলের আশঙ্কায় সদা-সর্বদা থাকেন উদ্বিগ্ন। তার সামান্যতম বিপদেও হন বিচলিত। কোনো কারণে সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় মায়ের ঘুম হারিয়ে যায়। সন্তানের শিয়রে বসে দিনরাত চলে ...