Posts

Showing posts with the label ঈশপের গল্প

কাক আর হাঁস : ঈশপের গল্প

Image
বড় একটা পুকুরের টলমলে পানিতে কয়েকটা সাদা হাঁস সারাদিন মনের আনন্দে সাঁতার কাটত। পুকুরের পাড়ে ছাতিম গাছের ডালে ছিল একটা কাকের বাসা। কাকের গায়ের রং কালো ছিল বলে তার মনে খুব দুঃখ ছিল। সে সাদা হাঁসগুলো অবাক হয়ে দেখে আর ভাবে- হাঁসেরা সারাদিন পানিতে থাকে বলেই তাদের কালো রং ধুয়ে সাদা হয়ে গেছে। আমিও যদি কয়েকদিন পানিতে হাঁসেদের মতো সাঁতার কাটে তাহলে সাদা হয়ে যাব। তখন আর কেউ আমাকে কালো বলতে পারবে না। যথারীতি পরদিন সকালে কাকটা পুকুরের পানিতে নামল। কিছু সময় পরেই তার সব পালক ভিজে গেল। তার শরীর এমন ভারী হলো সে যে আর পাখা মেলে উড়তে পারল না। হাঁস ও কাক বিকালে সে কোনো রকমে পুকুর থেকে পাড়ে উঠে এলো। সে পরদিন আবার গেল। এভাবে কয়েক মাস পানিতে সাঁতার কেটেও কাকটা সাদা হতে পারল না। নীতিকথা : বিধাতা যাকে যেভাবে সৃষ্টি করেছে তার তাতেই সুখী থাকা উচিত।

শিয়াল ও সারস পাখি : ঈশপের গল্প

Image
একটি দুষ্ট শিয়াল ছিল। সুযোগ পেলেই সে অন্যদের ক্ষতি করত। একদিন তার পরিচিত এক সারস পাখিকে ডেকে সে বলল, ভাই, আমার বাড়িতে কাল দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ। সামান্য আয়োজন করেছি, অবশ্যই আসবে কিন্তু। সারস বলল, সে তো খুব ভাল কথা ভাই। আমি যাব তাহলে। পরদিন ঠিক সময়েই সারস শিয়ালের বাড়িতে হাজির হল। শিয়াল মজা করার জন্য সব ব্যবস্থাই করে রেখেছিল। তাই সারসকে আদর করে ডেকে বসাল। তারপর একটি বড় থালায় ঝোল ঢেলে নিয়ে সারসকে বলল, এসো ভাই, খেতে বসা যাক। সারস এগিয়ে এল বটে, তার ঝোল খাওয়া আর হল না। তার যে সরু লম্বা ঠোঁট, সেই ঠোঁট দিয়ে থালা থেকে ঝোল তুলে খাওয়া হল না। পেটে খিদে নিয়ে সে কেবল ঠোঁট দিয়ে থালার ঝোল নাড়াতে লাগল। এদিকে শিয়াল থালার পাশে বসে দিব্যি জ্বিব দিয়ে চেটেপুটে ঝোল খেয়ে নিল। আর সারসের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসতে লাগল। অনেকটা ঝোল খাওয়া হয়ে গেল শিয়ালের। এবার সে মুখ তুলে বলল, সেকি ভাই সারস, তুমি যে কিছুই খেলে না, রান্না বুঝি ভাল হয় নি! শিয়ালের মতলব বুঝতে আর বাকি রইল না সারসের। তাকে বোকা বানানোই শিয়ালের উদ্দেশ্য ছিল। সে তখন বলল, না ভাই, রান্না খুবই ভাল হয়েছে। তবে ভাল জিনিস কমই খেতে হয়। তুমি খাও ভাই। খাওয়া-দাওয়া ...

পিঁপড়ে আর ঘুঘু : ঈশপের গল্প

Image
একদিন খুব পিপাসাকাতর একটি পিঁপড়ে নদীতে পানি খেতে গিয়েছিল। এমন সময় একটা বড় ঢেউ এসে পিঁপড়াটিকে নদীর পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। পিঁপড়াটি অথৈই পানিতে হাবুডুবু খেতে লাগল। ঐ নদীর পাড়ে গাছের ডালে বাসা ছিল একটি ঘুঘু পাখির। ঘুঘু পাখি দেখল পিঁপড়াটি খুব বিপদে পড়েছে। ঘুঘুর মনে দয়া হলো, সে ভাবতে লাগল পিঁপড়েকে বাঁচানোর উপায় কী? তখন সে বুদ্ধি করে একটা শুকনো পাতা ছিঁড়ে পিঁপডেটার সামনে ফেলে দিল। পিঁপড়েটা পাতাটি আঁকড়ে ধরে তাতে চড়ে বসল। ঢেউয়ে ঢেউয়ে সে আবার নদীর তীরে গিয়ে ঠেকলো। এভাবে সে প্রাণে বেঁচে গেল। পিঁপড়াটি ঘুঘু পাখিটিকে ধন্যবাদ জানালো এবং তারা বন্ধু হয়ে গেল। ঘুঘু পিঁড়াকে একটি পাতা দিয়ে সাহায্য করছে একদিন সেখানে এলো এক পাখি শিকারি। তার হাতে ছিল তীর-ধনুক। শিকারি ঘুঘুকে দেখতে পেয়ে তাকে মারবে বলে ঠিক করল। সে ঘুঘুর দিকে তীর-ধনুক তাক করল। পিঁপড়ে বুঝতে পারল- ঘুঘুর মহা বিপদ! তখন শিকারি যেই-না তীরটা ছুড়তে যাবে, অমনি পিঁপড়ে কামড় দিল শিকারির পায়ে। শিকারির হাত গেল কেঁপে, তীরটা গেল ফসকে। ঘুঘুটিও তাই বেঁচে গেল এবং উড়ে অন্য দিকে চলে গেল। নীতিকথা : সত্যিকারে বন্ধু কখনো তার উপকারের কথা ভুলে যায় না, ঠিক মনে রাখে।

বাঘ ও সারস পাখি : ঈশপের গল্প

Image
একদিন একটি বাঘ আহার করতেগিয়ে তার গলায় হাড় আটকেছিল। বাঘ কিছুতেই হাড়টি বের করতে পারল না। ব্যথার জ্বালায় চরদিকে দৌড়াতে লাগল। বনের সকল পশুকে বলল, যে আমার গলার হাড়টি বের করে দিতে পারবে, তাকে উপহার দেব। তবুও কোন পশু তার বিপদ থেকে রক্ষা করতে এল না। অবশেষে এক সারস পাখি উপহারের লোভে রাজি হল বাঘের মুখের হাড় বের করতে। সারস বাঘের মুখে তার নিজের লম্বা ঠোঁট প্রবেশ করিয়ে, সেই হাড় বের করে আনল। বাঘ ও সারস পাখি এবার সারস তার উপহারের কথা বলা মাত্র বাঘ দাঁত কড়মড় ও চক্ষু রক্তবর্ণ করে বলল, ওরে নির্বোধ! তুই বাঘের মুখে ঠোঁট প্রবেশ করে দিলি। তুই যে তোর ঠোঁট বের করে নিলি, তাই ভাগ্য বলে না মেনে আবার উপহার চাস। যদি বাঁচার সাধ থাকে, আমার সামনে থেকে পালা। নতুবা এখনই তোকে গিলে খাব। সারস বাঘের কথা শুনে অবাক হয়ে তখনই উড়ে গেল। নীতিকথা : অসৎ চরিত্রের সাথে সৎ ব্যবহার করা উচিত নয়।

শেয়াল ও সিংহ : ঈশপের গল্প

Image
পশুদের রাজা সিংহ। যেমনি বিরাট তার চেহারা তেমনি তার গর্জন। তাকে দেখলে তা বটেই, দূর থেকে তার গর্জন শুনলেই বনের পশুরা ভিরমি খেতো, প্রায় আধমরা হয়ে যেতো। এক শেয়াল আরেক বনে বাস করতো যেখানে কোনো সিংহ ছিল না। একদিন ক্ষিধের জ্বালায় অস্থির হয়ে শেয়াল ঘুরতে ঘুরতে এমন এক বনে এসে পড়লো, যে বনে পশুরাজ সিংহ বাস করতো। শেয়াল তখন খাবারের খোঁজে ঐ বনে ঘুরছিল। এমন সময় একটু দূরে সিংহ ডেকে উঠলো। সেই ডাক শোনামাত্র শেয়াল ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে বসে পড়লো। একটু পরে সিংহ যখন তার সামনে হাজির তখন শেয়াল তার ভয়ংকর চেহারা দেখে ভয়ে অজ্ঞানই হয়ে গেল। সিংহ ও শেয়াল এরপর শেয়াল আরেকদিন সেই বনে এসে আবার সিংহের দেখা পেল। এবার ভয় যে তার না করলো তা নয়, তবে আগের বারের মতো অজ্ঞান আর হলো না। বরং কিছুক্ষণ তার দিকে চেয়ে রইল, হ্যাঁ, বিরাট চেহারাই বটে, তবে আমারই মতো পশু ছাড়া এ আর কিছুই তো নয়। আমায় তো সেদিন খেয়ে ফেলেনি এই ভেবে শেয়াল তাকে দেখে আর পালালো না। এর পরের বারবনে এসে সিংহের সঙ্গে যখন তার দেখা হলো, তখন তাকে দেখে ভয় যে তার একেবারেই করলো না তা নয়, তবু বাইরে ভয়ের কিছু না দেখিয়ে তার সামনে দিয়ে স্বচ্ছন্দে চলে গেল। এরপর অবশেষে এমন একদিন...

বৃদ্ধ ও তার ছেলেরা : ঈশপের গল্প

Image
এক বৃদ্ধের চার ছেলে। ছেলেদের নিয়ে বৃদ্ধের মনে শান্তি ছিল না। তারা প্রায়ই নানা কারণে ঝগড়া-বিবাদ করত। একদিকে বৃদ্ধের দিনও ফুরিয়ে আসছিল। সে সব ছেলেকে নিজের ঘরে ডেকে আনল। সকলে হাজির হলো। বৃদ্ধ কিছু নল দিয়ে একটা আঁটি বাঁধল। সে এক ছেলেকে আঁটিটা দিয়ে বলল, তোমরা দেখ, আঁটিটা ভাঙ্গতে পারকিনা। ছেলো একে একে সকলেই আঁটিটা ভাঙ্গতে চাইল কিন্তু আঁটিটা কোন ছেলেই ভাঙ্গতে পারল না। তখন বৃদ্ধ তার বড় ছেলেকে বলল, তুমি এবার আঁটিটা খুলো। আর একটি একটি করে নলগুলো বার করে ভেঙ্গে ফেল। পটাপট সবকটি নলই ভেঙ্গে ফেলল। ছেলেরা বাবার উদ্দেশ্য কিছুই বুঝতে পারল না। এবার বড় ছেলে জানতে চাইলে, নলগুলো এমন করে ভাঙ্গালে কেন? বৃদ্ধের ছেলেরা লাঠি ভাঙ্গছে বৃদ্ধ হেসে বলল, আমি নলগুলো দিয়ে তোমাদের বুঝাতে চেয়েছি, এক সঙ্গে আঁটিবাঁধা নলগুলো তোমরা ভাঙ্গতে পারলে না। তোমরা প্রত্যেক ভাই মিলেমিশে থাকবে। একতা রেখে চলবে, তাহলে তোমাদের কেউ কোন ক্ষতি করতে পারবে না। শত্রুরা ভয়ে দূরে সরে থাকবে। বৃদ্ধর ছেলেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সেই দিনই শপথ করল, বাবার উপদেশ মতোই চলব। নীতিকথা : মিলেমিসে কাজ করলে অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।