Posts

Showing posts from June, 2018

ভাবসম্প্রসারণ : তেলা মাথায় তেল দেয়া মনুষ্য জাতির রোগ

তেলা মাথায় তেল দেয়া মনুষ্য জাতির রোগ মূলভাব : প্রকৃতির রাজ্যে মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ না থাকলেও মানবসমাজে বিরাজ করছে অর্থনৈতিক ভেদাভেদ ও বৈষম্য। একদিকে ভূমি ও সম্পদের মালিক শাসক, শোষক ধনিক শ্ৰেণী, অন্যদিকে ভূমিহীন, সম্পদহীন শাসিত, শোষিত সর্বহারা। একদিকে ভোগ সুখ ও বিলাস বৈভবের প্রাচুর্য, অন্যদিকে রিক্ত নিঃস্ব মানুষের চরম দারিদ্র্য। এ বৈষম্য ও ব্যবধানের রন্ধ্রপথেই সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ধনিক, তোষণ নীতির জয় জয় কার। সম্প্রসারিত-ভাব : মানুষ তার বিপুল শ্রম ও বিস্ময়কর মেধার সাহায্যে প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন করে চলেছে বিপুল সম্পদ। সমাজের শ্রমজীবী মানুষের শ্রমে এ সম্পদ উৎপাদিত হলেও সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে শাসন ও শোষণের মাধ্যমে মুষ্টিমেয় এক শ্রেণীর মানুষ সে বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়েছে। তারা বিলাসব্যসনে গা ভাসিয়ে যখন আনন্দে মাতোয়ারা তখন উৎপাদিত সম্পদের উচ্ছিষ্ট অবশেষ নিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী দিন কাটায় নিদারুণ দুঃখ কষ্টে। এ দুঃখ, পীড়িত, দরিদ্র, ভাগ্যহত মানুষ মানবসমাজে সহানুভূতি ও সেবার পাত্র হলেও তাদের দিকে তাকাবার লোকের খুব অভাব। বরং এক শ্রেণীর লোক বিত্তবান ও ক্ষমতাধ...

ভাবসম্প্রসারণ : তরুলতা সহজেই তরুলতা, পশুপাখি সহজেই পশুপাখি, কিন্তু মানুষ প্রাণপণ চেষ্টায় তবে মানুষ

তরুলতা সহজেই তরুলতা, পশুপাখি সহজেই পশুপাখি, কিন্তু মানুষ প্রাণপণ চেষ্টায় তবে মানুষ মূলভাব : মানুষের জীবন সার্থকতা পায় মনুষ্যত্ব অর্জনের সাধনায় সফলতা অর্জনের মাধ্যমে। মানবিক গুণাবলি মানুষের সহজাত অর্জন নয়। শিক্ষা ও সাধনার মাধ্যমে বিবেক, বুদ্ধি ও মনন শক্তি অর্জন করে মানুষ প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠে। সম্প্রসারিত-ভাব : পৃথিবীতে তরুলতা ও পশুপাখির মত মানুষও প্রকৃতির সৃষ্টি। কিন্তু প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টির চেয়ে বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে মানুষ একেবারে আলাদা। জন্মসূত্রে তরুলতা ও পশুপাখি সহজাত স্বভাব বৈশিষ্ট্য পায়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাদের জন্মগত স্বভাব, প্রকৃতি প্রদত্ত গুণাবলি ও প্রকৃতি নির্ভর বৈশিষ্ট্য অব্যাহত থাকে। কিন্তু জন্মগত সহজাত বৈশিষ্ট্যে মানুষের পরিচয় সীমিত নয়। অসহায় অবস্থায় জন্ম নিয়েও মানুষ সচেষ্ট সাধনায় শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে হয়ে উঠে পরিপূর্ণ মানুষ। এজন্য সামাজিক মানুষ হিসেবে মানুষকে সমাজ জীবন থেকেও শিক্ষা নিতে হয়। তরুলতা বা পশুপাখি তার সহজাত গুণের বাইরে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি বা তা আয়ত্ত করার ক্ষমতা রাখে না। কিন্তু মানুষ তার সহজাত ক্ষমতার উপর ভিত্তি করেই সহজাত ...

ভাবসম্প্রসারণ : জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব

জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব মূলভাব : জ্ঞান না থাকলে বুদ্ধি আসে না আর বুদ্ধি ছাড়া মুক্তি আসতে পারে না। সম্প্রসারিত-ভাব : মানুষের জ্ঞান তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। মানুষের এ সম্পদের কোন বিনাশ নেই। এ সম্পদ মানুষকে বুদ্ধির গভীরে প্রবেশের পথ খুলে দেয় এবং তখন মানুষ অতি সহজেই তার মুক্তির পথ খুঁজে নিতে পারে। বলা হয় , জ্ঞানহীন মানুষ পশুর সমান । পশুর সাথে মানুষের পার্থক্য হল মানুষের বুদ্ধি ও বিবেক আছে আর পশুর বুদ্ধি ও বিবেক নেই। জ্ঞানহীন মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিগুলো সঠিকভাবে বিকশিত হয় না। আর হয় না বলেই সে আপনার ভালোমন্দ, ন্যায় অন্যায় সম্পর্কে সঠিক ধারণা লাভ করতে পারে না। জ্ঞান আর বুদ্ধির এ সীমাবদ্ধতাহেতু তাকে প্রতিনিয়ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, জ্ঞানবান ব্যক্তি তার যুক্তির নিরিখে অনেক কঠিন বিষয়কেও নিজের জন্য এবং অপরের জন্য সহজতর করে ধরে তুলতে পারেন। এ কথাটি ব্যক্তির জীবনে যেমন সত্য, তেমনি জাতির জীবনেও সত্য। কোন জাতির লোকেরা যদি জ্ঞানের চর্চা না করে তাহলে সে জাতি কোন দিন উন্নতি করতে পারে না। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জ...

ভাবসম্প্রসারণ : জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা

জীবনের ধন কিছুই যাবে না ফেলা মূলভাব : মানুষের জীবনে অভিজ্ঞতা মূল্যবান। জীবন থেকে নেওয়া তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ জীবনের পাথেয়। মানুষ তার দীর্ঘ জীবনে নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করে। কোন অভিজ্ঞতাই ফেলনা নয়। এ অভিজ্ঞতাগুলো কোনটি সুখের, কোনটি দুঃখের, কোনটি বিব্রতকর কিন্তু এগুলোর কোনটিই মূল্যহীন নয়। সম্প্রসারিত-ভাব : মানুষের এ অভিজ্ঞতাসমূহ তার পরবর্তী পথকে সঠিকভাবে নির্দেশ করে। যে অভিজ্ঞতা সুখের সেটাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ সুখী হতে পারে আর দুঃখের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সে তার পরবর্তী জীবনের লক্ষ্যঅর্জনের জন্য সঠিক পথ অনুসরণ করতে পারে। যতই অকিঞ্চিৎকর হোক না কেন জীবনে কোন কিছুই মূল্যহীন নয়। প্রয়োজনের সময়ে দেখা যায় এসব অকিঞ্চিৎকর অভিজ্ঞতা বা ক্ষুদ্র জিনিসগুলো বড় বড় সমস্যার সমাধান করছে। সমাজজীবন থেকে বা সংসার জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতাই মানুষের পুঞ্জিভূত ধন। মানব সভ্যতার ঊষাকালে ছোট ছোট অভিজ্ঞতাসমূহ সভ্যতা নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মানুষ অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছিল যে বনে দাবানলের সময় হিংস্র প্রাণীরা বন ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ তুচ্ছ অভিজ্ঞতা তাদের শিখিয়েছিল আত্মরক্ষায় আগুনের ব্যবহার। ...

ভাবসম্প্রসারণ : জাতীয় জীবনে সন্তোষ এবং আকাঙক্ষা / দুয়ের মাত্রা বেড়ে গেলে বিকাশের কারণ ঘটে

জাতীয় জীবনে সন্তোষ এবং আকাঙক্ষা দুয়ের মাত্রা বেড়ে গেলে বিকাশের কারণ ঘটে  মূলভাব : উৎকর্ষ সাধন ও বিকাশের নেপথ্যে চাহিদার উন্মেষ হলেই তা সম্ভব হয়। এ জন্য দরকার হয় দেশের বাস্তবিক কিছু কারণ। তার মলে সমস্যা, সম্ভাবনা, চাহিদ, আকাঙ্ক্ষা থাকলেই বিকাশের ধারা উন্মোচন হয়ে থাকে।  সম্প্রসারিত-ভাব : জাতীয় জীবনে সন্তোষ ও আকঙক্ষা দুটি অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু এ দুয়ের মাত্রা যদি অধিক হয় তাহলে বিকাশের পথ হয় উন্মুক্ত। জাতীয় জীবনে যখন কোন কাজের বাস্তবরূপের চিন্তা-ভাবনা করা হয় তার আগে সমস্যা নানান সমস্যা এসে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তখন প্রশাসনিকভাবে বোধোদয় হয় প্রয়োজনীয়তা। তারপর সুচিন্তার প্রেক্ষিতে মানসিকভাবে জাগ্রত হয় ইচ্ছা ও আকাঙক্ষা। কিভাবে কাজটি করতে হবে- এভাবে বিকাশ সাধনের বাস্তবানুগ রীতি বিষয়টি পরিদৃশ্য হয়। শুধু জাতীয় জীবনে নয়, সকল কাজের নেপথ্যে এ ব্যাপারটি লক্ষণীয়।  সন্তোষ ও আকাঙক্ষা দুয়ের মিলনে বিকাশ সাধিত হয়। সন্তুষ্টির জন্য আকাঙক্ষা আর আকাঙক্ষার প্রেক্ষিতে উৎকর্ষ সাধন- এটিই বাস্তবতা ও গতানুগতিক সভ্যতার ধারা বহন করে। যেহেতু পরিকল্পিত কিছুর রুপ বাস্তবক্ষেত্রে দান করতে হলে তার...

ভাবসম্প্রসারণ : জোটে যদি মোটে একটি পয়সা / খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি / জোটে যদি দুটি, তাই দিয়ে / ফুল কিনে নিও হে অনুরাগী

জোটে যদি মোটে একটি পয়সা খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি জোটে যদি দুটি, তাই দিয়ে ফুল কিনে নিও হে অনুরাগী মূলভাব : প্রয়োজন মিটলে তবেই প্রয়োজনাতিরিক্ত। মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে আগে ক্ষুধার অন্ন সংস্থার করতে হবে। জীবনসাকে পণ্ডিতেরা পঞ্চকোষে বিভক্ত করেছেন, তার মধ্যে অন্নময় এবং প্রাণময় কোষের সাথে জৈব প্রয়োজনের যোগাযোগ। এ প্রয়োজন, দেহরক্ষার তাগিদ তাই প্রাথমিক এবং তা পূরণ হলেই কল্পনা, সৌন্দর্যপ্রীতি মানুষের মনকে আকর্ষণ করে। সম্প্রসারিত-ভাব : পণ্ডিতেরা এ কারণে মনোময়, বিজ্ঞানময় এবং আনন্দময় কোষের তৃপ্তির কথা বলেছেন, বলেছেন অন্নময় ও প্রাণময় কোষের প্রায়োজন বাস্তব এবং পুরোভাগে। এরপরই জীবসত্তার মনোময়, বিজ্ঞানময় এবং আনন্দময় দিকগুলোর তৃপ্তি সাধন প্রয়োজন। মানুষ তো কেবল তার জৈবিক সত্তাতেই সম্পূর্ণ নয়- 'Man can not live by bread alone' , রুটির অতিরিক্ত তার আরও কিছু প্রয়োজন। এ আরও-র তালিকা দীর্ঘ। শিল্প সাহিত্য-সৌন্দর্য আমাদের সেই আরও-র সন্ধান দেয়, চিত্তে প্রশান্তি আনে, অন্তরজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘সৌন্দর্য জাত মানিয়া চলে না, সে সকলের সঙ্গেই মিশিয়া আছে। সে আমাদ...

ভাবসম্প্রসারণ : জ্ঞান মানুষের মধ্যে সকলের চেয়ে বড় ঐক্য

জ্ঞান মানুষের মধ্যে সকলের চেয়ে বড় ঐক্য মূলভাব : জ্ঞানের উপযোগিতা ও গুরুত্বের কোন তুলনা নেই। জ্ঞানই শক্তি বলে বিবেচনা করা হয়। মানবজীবনে জ্ঞানের সীমাহীন প্রয়োগে সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে। জ্ঞানের পথ ধরেই মানুষ। আদিম জীবন থেকে বর্তমানের উন্নত জীবনে এসে পৌঁছেছে। সম্প্রসারিত-ভাব : বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যে জ্ঞান বাহন হিসেবে কাজ করছে। জ্ঞানের গুরুত্ব মানবজীবনে অপরিসীম। সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়ানো মানুষ নানা জাতি, ধর্ম ও বর্ণে বিভক্ত। মানুষের আচার আচরণ সর্বত্র এক নয়। আকারে প্রকারে, ধর্মে বর্ণে মানুষের এ পার্থক্য বিশ্বের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বলে বিবেচনার যোগ্য। মানুষে মানুষে এ পার্থক্য বর্তমান থাকলেও একটি ক্ষেত্রে মানুষের ঐক্য রয়েছে এবং তা হল জ্ঞানের বিষয়ে। জ্ঞান মানুষকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে, এক মহামিলনের তীর্থে মানুষকে মিলিত করেছে। মানুষ দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণে যতই পৃথক হোক না কেন জ্ঞান সাধনার পথে মানুষের কোন ব্যবধান নেই। সবাই একই পথের পথিক, কারণ জ্ঞানের ব্যাপারে মানুষের ভিন্নতা নেই। জ্ঞান সকলের মনকে সমানভাবে উচ্চকিত করে। জ্ঞানের তাৎপর্য একজনের কাছে একরকম, অন্যজনের কাছে ভিন্ন রকম...

ভাবসম্প্রসারণ : জীবনের জন্য মৃত্যু, মৃত্যুর জন্য জীবন নয়

জীবনের জন্য মৃত্যু, মৃত্যুর জন্য জীবন নয় মূলভাব : জীবন মহাপরাক্রমশালীর দান। জীবনের পরিসর ও পরিণতি আছে। জীবন দিয়ে যেমন সময় বেঁধে দেওয়া আছে, তা যবনিকাপাতের জন্য রয়েছে মৃত্যু। কিন্তু মৃত্যু তো মাত্র পরিণতির নাম, মৃত্যুর জন্য জীবন নয়। সম্প্রসারিত-ভাব : জীবন একটি গতির নাম। এ গতির মৌলিক ধারা রয়েছে। যে ধারা মানুষ। তথা প্রত্যেক জীবের মাঝে কাজ করে। জীবন হলো সজীব শক্তি। কিন্তু মৃত্যু তো মাত্র যবনিকা বা শেষ পরিণতি। জীবন হল মূল্যবান ও অপার শক্তি। যার ধারাবাহিকতার পরিসীমা রয়েছে। যেদিন এ পরিসীমা শেষ হবে তখন মৃত্যু নামের শৃঙ্খলার মাধ্যমে এ জগৎ ত্যাগ করাই হবে জীবনের সঙ্গত গতানুগতিক কাজ। জীবন আছে বলেই মৃত্যু অনিবার্য। অর্থাৎ, জীবনের জন্যই মৃত্যু। কিন্তু মৃত্যুর জন্য জীবন নয়। মৃত্যু বললেই জীবন শেষ হয়ে যায় না। মৃত্যুর কোন পরিসীমা বা শৃঙ্খলা নেই। যার ফলে জীবনের জন্য মৃত্যু হলেও মৃত্যুর জন্য জীবন হতে পারে না। এটিই বাস্তবতা, এটিই অবনীর ধ্রুব সত্যতার ধারা। এখানে লক্ষণীয় ব্যাপার হল জীবন ও মৃত্যু উভয়ই আল্লাহর দেওয়া। তবে জীবন সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দুনিয়া থেকে সাময়িক বিদায়ের জন্য মৃত্যু নামের শ...

ভাবসম্প্রসারণ : জনগণ নন্দিত একজন সাহসী নেতার কণ্ঠস্বর / সহস্র বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী

জনগণ নন্দিত একজন সাহসী নেতার কণ্ঠস্বর সহস্র বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী মূলভাব: জননন্দিত একজন নেতা বদলে দিতে পারে দেশকে। তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয় জাতি। তার ব্যক্তিত্বে প্রভাবিত হয়ে মানুষ রুখে দাঁড়াতে পারে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে। সম্প্রসারিত-ভাব : নেতৃত্ব একটি মহৎ গুণ। একটি দেশ যখন হতাশার তিমিরে হাবুডুবু খায়, মানুষ যখন খোঁজে মুক্তির অন্বেষণ তখন তাদের প্রয়োজন পড়ে একজন বলিষ্ঠ নেতার। কেননা, আমাদের সমাজে কর্মীর অভাব না থাকলেও রয়েছে সঠিক নেতৃত্বের অভাব। জনগণ এমন একজন নেতা খোঁজে যে হবে তাদেরই একজন। তাদের সুখ দুঃখ উপলদ্ধি করবে সে। একজন নেতার থাকতে হবে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গুণ, অসীম সাহস ও বীরত্ব। তাকে হতে হবে জনগণের আস্থাভাজন, অটল, অবিচল। কোন প্রকার লোভ, অত্যাচার, মোহ তাকে সংকল্প থেকে বিচ্যুৎ করতে পারবে না। জাতির জীবনে এই প্রাণ সঞ্চার করেন। এ ধরনের নেতাদের কর্ম ও অনুপ্রেরণায় সাধারণ মানুষ আপন অন্তরে অনুভব করেন অমিত শক্তি ও বল। তারা যে কোন ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পিছপা হন না। এদের কথায় জনগণ জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দিতে কুণ্ঠিত হন না। একজন জননন্দিত নেতার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের আহ্বানে ...

ভাবসম্প্রসারণ : জ্ঞানই শক্তি

জ্ঞানই শক্তি মূলভাব : জ্ঞান যে অনেক বড় শক্তি তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে জ্ঞানের সাহায্যে। জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে মানুষ জীবনের সকল বাধা দূর করেছে। সম্প্রসারিত-ভাব : সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে জ্ঞানের সাহায্যে। মানুষের অর্থবিত্ত ও জনবল শাক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। কিন্তু জ্ঞানের সাথে তার তুলনা হতে পারে না। জ্ঞানের বিনাশ নেই। অথচ ধন সম্পদ সবই একদিন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। মানুষ জ্ঞানের অধিকারী হয়েছে বলেই সে মানুষ। মানুষ তার জীবন বিকাশের জন্য জ্ঞানের সাহায্য নেয়। জীবনকে সুখকর ও সুন্দর করে তোলে জ্ঞানের সাহায্যে। তাই জ্ঞান শুধু শক্তিই নয়, শ্রেষ্ঠ শক্তি। মানুষ পৃথিবীর জীবনকে তার অনুকূলে এনেছে নিজের জ্ঞানবুদ্ধির জোরে। মানুষের জীবনে যা কিছু সুখের উপকরণ তা এসেছে জ্ঞানের ব্যবহারের ফলে। যা কিছু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার তা যত বিস্ময়কর হোক সবই মানুষের জ্ঞান সাধনার ফল। যেসব জাতি আজ উন্নতির শিখরে উঠেছে তারা জ্ঞান থেকেই শক্তি পেয়েছে। ধনসম্পদ, গোলাবারুদ দিয়ে যা করা যায় না তা করা যায় জ্ঞানের প্রয়োগের মাধ্যমে। জ্ঞানের প্রভাব সর্বব্যাপী। জ্ঞান মানুষের মনের উপর প্রভাব ...

ভাবসম্প্রসারণ : জীবনে সভ্যতার সাজ খোলাই কঠিন, পরা সহজ

জীবনে সভ্যতার সাজ খোলাই কঠিন, পরা সহজ মূলভাব : মানুষ অভ্যাসের দাস। অভ্যাস সামাজিক মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটায়। অভ্যাসের মাধ্যমে যে রুচিবোধের সৃষ্টি হয় তা গ্রহণ করা যত সহজ ত্যাগ করা তত সহজ নয়। সম্প্রসারিত-ভাব : মানুষ অভ্যাসের দাস। সামাজিক বোধের উন্মেষই তার স্বনির্বাচিত দাসত্ব সূচিত করে। সামাজিক সত্তা পরামর্শ দিল আদিমতাকে আবৃত করতে, পারস্পরিকতাকে প্রসারণ দিতে। অস্তিত্বের প্রয়োজনে মেনে নেওয়া পরামর্শই জন্ম দিল এক আদর্শ জীবন-যাপন পদ্ধতি, যার নাম সভ্যতা বা মানবিকতা। আত্মরক্ষা ও আত্মবিকাশের অভিঘাত সভ্যতার বৃত্তের ক্রমবৃদ্ধি ঘটিয়ে মানুষের মনে সঞ্চারিত হল নৈসর্গিকতা থেকে সুদূর চলে যাওয়ার প্রবণতা। নগ্নতা পেল আবরণ, নিঃসঙ্গতায় এল সমাজ, নিগৃহতা আশ্রিত হল। অগ্রবর্তী মানসিকতা জীবনের প্রতিটি প্রসঙ্গ নিয়ে এল বৈচিত্র্য, আর রূপান্তর ঘটিয়ে চলল। আজকের মানুষের কাছে সভ্যতা নতুন উদ্ভাবিত আদর্শ নয়, উত্তরলব্দ সম্পদ। অভিজ্ঞতার অনুশীলনে সভ্যতা হয়ে উঠেছে অভিযোজন সামর্থ্যের শক্তি, গতিশীল আচরণ। সভ্যতাই মানুষের অভ্যাসে এনেছে কর্মসম্পাদনের সমতা ও ক্ষিপ্রতা, স্বতঃশ্চলতা ও যথাযথ; আয়াস ও প্রতিরোধ শক্তি। নিরাপত্তা ও...

ভাবসম্প্রসারণ : চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী, তদপেক্ষা শতগুণে দোষী

চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী, তদপেক্ষা শতগুণে দোষী মূলভাব : না বলে অন্যের জিনিস নিলে চুরি করা হয়। যারা এ কাজ করে তারা নিঃসন্দেহে চোর এবং দোষী। কিন্তু মানুষ কেন এ ধরনের কাজে প্রবৃত্ত হয় তা আমাদের অনুসন্ধান করে দেখা উচিত। জগতে বেঁচে থাকতে হলে প্রথমে আমাদের প্রয়োজন ক্ষুধার জ্বালা মিটানোর জন্য দু'মুঠো খাবার এবং লজ্জা নিবারণের জন্য পোশাক। এর পরই দরকার মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই। কিন্তু আমাদের সমাজের বৃহত্তর অংশই অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয় বঞ্চিত। তার প্রধান কারণ সামাজিক বিধিব্যবস্থা। আমাদের সমাজে যে বিধি ব্যবস্থা প্রচলিত তার সুফল ভোগ করে এক শ্রেণীর মানুষ, বঞ্চিত হয় বেশির ভাগ । কেউ প্রচুর ধন ঐশ্বর্যে স্ফীত হয়ে বাবুয়ানা করে দিন কাটায় আর অনেকেই অসহনীয় দারিদ্রের মধ্যে দিনতিপাত করে। দারিদ্র্যের অসহ্য পীড়নে, ক্ষুধার তীব্র জ্বালায় অধৈর্য হয়ে কেউ বিধিব্যবস্থা লঙ্ঘন করে, চুরির দায়ে তখন সে দোষী , অভিযুক্ত। বিজ্ঞজনের মতে, কিন্তু ‘তুমি কি দেখতে পাওনা যে, ধনীর দোষেই দরিদ্রে চোর হয়? পাঁচ শত দরিদ্রকে বঞ্চিত করিয়া একজনে পাচশত লোকের আহার্য সংগ্রহ করিবে কেন? যদি করিল, তবে সে খাইয়া তাহার যাহা বাহিয...

ভাবসম্প্রসারণ : জীবনের কাছ থেকে পালানো সহজ, তার সঙ্গে লড়ে জয়ী হওয়াই কঠিন

জীবনের কাছ থেকে পালানো সহজ, তার সঙ্গে লড়ে জয়ী হওয়াই কঠিন মূলভাব : সংগ্রামই জীবন। আর বেঁচে থাকার নামই সংগ্রাম। এ সংগ্রামমুখর জীবন থেকে পলায়নের নামই জীবন থেকে সরে যাওয়া। অর্থাৎ, ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে জড়বৎ হয়ে মৃত্যুর জন্য প্রহর গোনা। এতে জীবনের কোন সার্থকতা নেই। এতে মানবজীবনের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। সম্প্রসারিত-ভাব : জন্মলাভের সাথে সাথে মানুষের জীবন শুরু হয়ে যায়। মানুষ আস্তে আস্তে বড় হয়। তারপর এক সময় তাকে জীবনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু জীবনের পথ সংগ্রামমুখর , কুসুমাস্তীর্ণ নয়। জীবনের চারদিকেই থাকে প্রতিকূলতা আর প্রতিকূলতা। জীবনে চলার পথে থাকে বাধা আর বিপত্তি। এ বাধা অতিক্রম করেই জীবনে সাফল্যের মুখ দেখতে হয়। জীবন সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার মধ্যে জীবনের কোন সার্থকতা নেই। এ পলায়ন জীবনে পরাজয় আনে। একথা ঠিক যে জীবন সব সময় সুখের নয়। দুঃখের ব্যথাদীর্ণ রূপ দেখতে মানুষ এক সময়। ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তার মধ্যে বিপুল হতাশার জন্ম হয়। হতাশায় জর্জরিত হয়ে মানুষ মৃত্যুকেই শ্রেয়। মনে করে। অনেক মানুষকে দেখা যায়, সংসারের জ্বালা যন্ত্রণা সইতে না পেরে সে ফ...

ভাবসম্প্রসারণ : বেঁচেও মরে যদি মানুষ দোষে / মরেও বাঁচে যদি মানুষ ঘোষে

বেঁচেও মরে যদি মানুষ দোষে মরেও বাঁচে যদি মানুষ ঘোষে কর্মের দ্বারাই নির্ণীত হয় মানুষের অবদান ও অমরত্ব। অসৎ কর্মের মাধ্যমে মানুষ জীবিত অবস্থায় নিন্দিত হয়। আর মহৎ কর্মের জন্য মৃত্যুর পরও মানুষ অমরত্ব লাভ করে। সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ সীমাবদ্ধ জীবনের অধিকারী। জন্মের পর থেকে মানবজীবন বিকাশের যে ধারা সূচিত হয় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটে। এ জীবন-মৃত্যুর ধারা যুগ-যুগান্তর ধরে প্রবহমান রয়েছে। সে ধারায় কত মানুষ যে পৃথিবীতে আসছে এবং পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। মৃত্যুর মধ্যদিয়ে মহাকালের গর্ভে মানুষের শারীরিক অস্তিত্ব বিলীন হলেও সব মানুষ চিরতরে হারিয়ে যায় না। কল্যাণকর ও সৃষ্টিশীল মহৎ অবদানের মাধ্যমে অনেক মানুষই আমাদের কাছে প্রতিপন্ন হয় মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষরূপে। সক্রেটিস, শেক্সপিয়ার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এমনি ধরনের মানুষ যারা আমাদের কাছে চির অমর হয়ে আছেন। পক্ষান্তরে, পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষই জন্মে, যারা শুধু নিজের বেঁচে থাকাকেই সর্বোত্তম ভাবনা হিসেবে নেয়। নির্গুণ, দুশ্চরিত্র ও মানবতাবিরোধী এ সব মানুষ জীবিত অবস্থায় মানুষের চোখে মর্যাদা পায় না। বরং নিন্দার অধিকারী হয়...

ভাবসম্প্রসারণ : চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন / ব্যথিত বেদন বুঝিতে কি পারে? / কি যাতনা বিষেবুঝিবে সে কিসে / কভু আশীবিশে দংশেনি যারে?

চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে কি পারে? কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে কভু আশীবিশে দংশেনি যারে? মূলভাব : যারা সবসময় সুখে শান্তিতে থাকে, দুঃখ কষ্ট তাদের নাগালের বাইরে তারা কি করে অন্যের ব্যথা বুঝবে। সম্প্রসারিত-ভাব : ঐশ্বর্য ও বিলাসব্যসনে যে মানুষ কালাতিপাত করে সে কখনও আর্তমানবের দুঃখযন্ত্রণা অনুভব করে না। দুঃখের অভিজ্ঞতা দিয়ে দুঃখ বুঝতে হয়। যে মানুষকে কখনও সাপে কাটে নি, সে মানুষ সর্পবিষে তীব্রতা একেবারেই উপলব্ধি করতে পারে না। বস্তুত জীবনে যে কোন দিন দঃখের জ্বালা অনুভব করেন তার পক্ষে ব্যাথতের বেদনা উপলব্ধি করা সহজ নয়। কি নিদারুণ মর্মজ্বালা যে একটি বুভুক্ষু ভিখারী নিজের অন্তরের মধ্যে অনুভব করছে, বিলাস জীবনে লালিত ধনীর দুলাল তা উপলব্ধি করতে পারে না এবং তা পারে না বলেই একমুষ্টি অন্নপ্রার্থী ভিখারীর দলকে সকরুণ নয়নে তার সুন্দর গৃহদ্বার থেকে লাঞ্ছিত হয়ে ফিরে যেতে হয়। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই। এটাই নিয়ম। একজন যুবকের পক্ষে বৃদ্ধের অসহায়ত্ব বুঝা দুষ্কর। উল্লসিত মানুষের কাছে শোকের কথা তাৎপর্যহীন। এ জাতীয় লোকের কাছে থেকে সমবেদনা আশা করারও বাতু...

ভাবসম্প্রসারণ : গাহি সাম্যের গান- মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।

গাহি সাম্যের গান- মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান। মূলভাব : সৃষ্টি জগতে সবার উর্ধ্বে মানুষের ঠাঁই। ধর্মীয় গোঁড়ামি কিংবা সাম্প্রদায়িতকার বিষবাষ্প দ্বারা আক্রান্ত হয়ে কাউকে খাটো করে দেখার মধ্যে কোন যৌক্তিকতা নেই। সকল মানুষকে সমান চোখে দেখতে হবে। কারণ মানুষের পরিচয় সে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সম্প্রসারিত-ভাব : মানুষই সভ্যতার জনক। এক সময় মানুষ ছিল প্রকৃতির দাস। আজ সে মানুষই নিয়ন্ত্রণ করছে প্রকৃতিকে। মেধা ও প্রজ্ঞার অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে মানুষ আজ জয় করছে পৃথিবীকে। মানুষের আছে অপরিসীম ইচ্ছাশক্তি। আর সে ইচ্ছাশক্তিকে পাতেয় করে মানুষ জল, স্থল, অন্তরীক্ষে উড়িয়েছে তার বিজয় নিশান। মানুষের শক্তি, জ্ঞান ও কাজের সীমা অফুরন্ত। এ যে আধুনিক সভ্যতা, এত মানুষেরই সৃষ্টি। বিজ্ঞানের এ যে নব নব আবিষ্কার তা মানুষেরই আবিষ্কার। মানুষ অসম্ভবকে করেছে সম্ভব। দূরকে করেছে নিকট। মহাশূন্যের রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আজ মানুষ সর্বদা ব্যাপৃত। সহজ থেকে আরও সহজতর জীবন প্রণালী খুঁজে নেয়ার জন্য সে সর্বদা তৎপর। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, মানুষ নিজেকে জাহির করার জন্য যতটা তৎপর, পরকে আপন করার জন...

ভাবসম্প্রসারণ : ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা / সব শিশুদের অন্তরে।

ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে। মূলভাব : শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ এবং তাদের মধ্যেই নিহিত রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। সম্প্রসারিত-ভাব : “চাইল্ড ইজ দি ফাদার অব দি ম্যান” [Child is the father of the men] অর্থাৎ শিশুরাই হচ্ছে মানুষ তথা জাতির পিতা। শিশুরা সমাজ এবং জাতির ভবিষ্যৎ এবং দেশের স্বপ্ন ও আশা। সকলেরই এ প্রত্যাশা যে, আজকের শিশুরাই একদিন আদর্শ নাগরিক হিসেবে বিকশিত হয়ে সমাজ এবং দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং দেশ ও জাতির সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। সে জন্য শিশুদের যথাযথ শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এদেশে উপযুক্ত পরিবেশ এবং শিক্ষার অভাবে বহু শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায়। তাই সকলকে এ সম্বন্ধে সজাগ থাকতে হবে এবং শিশুদের উপযুক্ত বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে দেশ ও জাতির উন্নতি হবে। শিশুদের মধ্যে সম্ভাবনার আলো নিহিত আছে। তাকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যেই দেশ ও জাতির সম্ভাবনা বিদ্যমান। এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো আজকের শিশুরা একদিন বড় হয়ে জীবনের বৃহত্তর দায়িত্ব পালন করবে। তাই বর্তমানে শিশুর জীবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সে গ...

ভাবসম্প্রসারণ : গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন

গাইতে গাইতে গায়েন, বাজাতে বাজাতে বায়েন মূলভাব : মানুষ একদিনেই কোন কাজে দক্ষ হয়ে উঠে না। তার দক্ষতা লাভের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভ্যাস ও অনুশীলন। অধ্যবসায় মানুষকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়। কোন কাজে সাফল্য লাভের জন্য বারবার চেষ্টা করার মহৎ প্রবৃত্তি থাকা প্রয়োজন। এ প্রবৃত্তির বলে মানুষ অসাধ্যকে সাধন করতে পারে। অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। অধ্যাবসায় সহকারে ধীরে ধীরে অগ্রসর হলে মানুষ একদিন না একদিন সফল হবেই। পরিশ্রম ও উদ্যম ছাড়া কোন কাজে সফলতা লাভ করা যায় না। বিজ্ঞানী নিউটন বলতেন, “আমার আবিষ্কারের কারণ প্রতিভা নয়, বহু বছরের নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ও পরিশ্রম।” সবকাজেই আমাদেরকে ধৈর্য ও অধ্যবসায় সহকারে বার বার চেষ্টা করতে হবে। দুচার দিনের চেষ্টায় মানুষ গাইতেও পারে না বাজাতেও পারে না, কিন্তু গাইতে গাইতে এক দিন সফল গায়ক হওয়া যায়। অধ্যবসায়ই সফলতার চাবিকাঠি। পরিশ্রম, পর্যবেক্ষণ ও সহিষ্ণু সাধনার কাছে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। একথা সহজেই বলা যায়, অনুশীলন ও অধ্যবসায়ই মানুষকে তার ইস্পিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো মানুষের নিকট কোনো কিছু...

ভাবসম্প্রসারণ : কাঁটা বনের গোলাপই সত্যিকারের গোলাপ

কাঁটা বনের গোলাপই সত্যিকারের গোলাপ মূলভাব : বিনা কষ্টে প্রাপ্ত কোনো জিনিজের চেয়ে কষ্টলব্ধ জিনিসের মূল্য অনেক বেশি। যে বন্ধুর পথ পাড়ি দিযে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে উঠতে পারে সেই পায় প্রকৃত জীবনের আস্বাদ। সম্প্রসারিত-ভাব : কাঁটার আঘাতে রক্ত ঝরিয়ে কাঁটাবন থেকে গোলাপ ফুল সংগ্রহ করে যে আনন্দ, তার তুলনা নেই। কিন্তু যে হাতের নাগালের কাছেই ফুটে থাকে, যাকে যখন তখন হাত বাড়ালেই ছেঁড়া যায় তা অতটা আবেদন সৃষ্টি করতে পারে না। তেমনি খুব সহজেই যা লাভ করা যায় তা পেয়ে আনন্দ নেই। কিন্তু প্রচুর পরিশ্রমের মাধ্যমে যা অর্জন করা যায় তা পেয়ে মানুষ দারুণ আনন্দ উপভোগ করে। আমাদের এ জীবন সংগ্রামে ভরপুর। সাহসী যোদ্ধার মতো জীবন সংগ্রামে যারা অবতীর্ণ হয় তারাই সফলতা অর্জন করতে পারে। তাদের গলায় শোভা পায় বিজয়ের মালা। তারাই হাসতে পারে সাফল্যের হাসি। আর যারা সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যারা উত্তরাধিকার সূত্রেই প্রচুর সম্পদের অধিকারী, যারা না চাইতেই অনেক কিছু পায় তারা জীবনের আসল অর্থ বুঝতে পারে না। সুখ ও দুঃখের মিশ্রণে যে জীবন, সে জীবনের স্বাদ থেকে তারা পুরোপুরি বঞ্চিত। প্রাচুর্যের দম্ভে যারা চারদিকে কেবল সুখের...

ভাবসম্প্রসারণ : কাজের বেলায় কাজী কাজ ফুরালে পাজী

কাজের বেলায় কাজী কাজ ফুরালে পাজী মূলভাব : মানবজীবন গতিময়। আর এ গতিময় জীবনে একে অন্যের বিপদে এগিয়ে আসবে এবং প্রতিদানে উপকার গ্রহণকারী ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু আমরা অনেক সময় এ নিয়মের ব্যতিক্রম দেখতে পাই। সম্প্রসারিত-ভাব : মানব জাতি সমাজবদ্ধ জীব। তাই সে একাকী বাস করতে পারে না। মানব সভ্যতার প্রাক্কালে মানুষ যখন বনে জঙ্গলে বাস করত তখন তারা দলবদ্ধভাবে বাস করত। মানব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তারা সমাজবদ্ধ হয়ে একত্রে বসবাস করে আসছে এবং দুর্দিনে একে অন্যের কাছে সাহায্যের জন্য ছুটে গেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো এ উপকারী বন্ধুর কথা মানুষ অনেক সময় ভুলে যায়। মূলত স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সমাজে একশ্রেণীর লোক আছে যারা সঙ্গতিসম্পন্ন লোকের সাথে বন্ধুর মত আচরণ করে এবং তাকে অনেক উঁচু আসনে সমাসীন করে কিন্তু, স্বার্থ উদ্ধার হয়ে গেলেই সে তার ছায়া পর্যন্ত মাড়ায় না। উপকারী ব্যক্তি যেন তখন তার কাছে অপছন্দের ব্যক্তিতে পরিণত হয়। তার আচরণ দেখে মনে হয় যেন সে উপকারকারী ঐ ব্যক্তিকে চেনেই না। এ ধরনের আচরণ মানবীয় সুপ্রবৃত্তির পরিপন্থী। মানুষ মানুষের উপকার করে...

ভাবসম্প্রসারণ : কে লইবে মোর কার্য, কহে সন্ধ্যা রবি। / শুনিয়া জগৎ রহে নিরুত্তর ছবি। / মাটির প্রদীপ ছিল, সে কহিল, স্বামী। / আমার যেটুকু সাধ্য তা করিব আমি।

কে লইবে মোর কার্য, কহে সন্ধ্যা রবি। শুনিয়া জগৎ রহে নিরুত্তর ছবি। মাটির প্রদীপ ছিল, সে কহিল, স্বামী। আমার যেটুকু সাধ্য তা করিব আমি। মূলভাব : পৃথিবীতে ছোট হোক অথবা বড় হোক যে কোন কর্তব্যই নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে সম্পাদন করা প্রয়োজন। সম্প্রসারিত-ভাব : পৃথিবী হতে বিদায় নেয়ার প্রাক্কালে অস্তগামী সূর্য পৃথিবীতে আলো দান করার কার্যভার গ্রহণে আহ্বান জানায়। কিন্তু জগতের অন্ধকার দূর করার গুরু দায়িত্ব গ্রহণ করার সাহস কারো নেই বলে সকলেই নিশ্চুপ থাকে। কিন্তু ক্ষীণ শিখা বিশিষ্ট মাটির প্রদীপ তার সাধ্যমত চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতিতে অগ্রসর হয়। পৃথিবীতে সকল মানুষের ক্ষমতা সমান নয়। কারো বেশি, আবার কারো মাটির প্রদীপের মতই সামান্য। কিন্তু কর্মের আহ্বানে আসলে ছোট-বড় সবাই লাভ-ক্ষতির চিন্তা করে। অর্থাৎ নিষ্ঠার সাথে কর্তব্য পালন করে না। কিন্তু প্রয়োজন কালে সকলেই যদি নিজ নিজ সাধ্য অনুসারে কর্তব্য কাজে অগ্রসর হয়, তা হলে পৃথিবীর কল্যাণ সাধিত হতে পারে। মাটির প্রদীপের মত স্বল্প ক্ষমতা নিয়েও যে ব্যক্তি নিজের ক্ষমতা অনুসারে পরোপকার করে, তার জীবনই সার্থক। ক্ষীণ আলোর শিখা হাতে নিয়ে যে ব্যক্তি পরোপকারে এ...

ভাবসম্প্রসারণ : কার্পণ্য ও মিতব্যয়িতা এক কথা নয় / এই দুইকে এক মনে করা নিতান্তই ভ্রম

কার্পণ্য ও মিতব্যয়িতা এক কথা নয়। এই দুইকে এক মনে করা নিতান্তই ভ্রম মূলভাব : মানব চরিত্রে বৈশিষ্ট্য বৈচিত্র্যধর্মী। অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে মানুষের সঞ্চয়ী মনোবৃত্তি দুভাবে প্রকাশ পায়। একটি কার্পণ্য এবং অপরটি মিতব্যায়িতা। আপাতদৃষ্টিতে উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয়ের ব্যাপারে কুণ্ঠা প্রকাশ পেলেও তাদের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। কার্পণ্যের মধ্যে আছে সংকীর্ণতা আর মিতব্যয়িতার মধ্যে আছে সংযম আর বিবেচনাশীলতা। সম্প্রসারিত-ভাব : মানুষ অর্থ সম্পদ ব্যয় করার বিষয়ে বিশেষ সচেতনতার পরিচয় দেয়। সম্পদ অর্জন করা কঠিন বলে তা ব্যয়ের ব্যাপারেও মানুষ নানাদিক বিবেচনা করে। অনেকে অর্থ ব্যয় করতে মোটেই ইচ্ছুক থাকে না। কিভাবে অর্থ ব্যয় না করে চলা যায় সেদিকেই দৃষ্টি থাকে। এ লোকেরা কৃপণ বলে অভিহিত হয়। অর্থ ব্যয়ে অনিচ্ছাই কার্পণ্য। অপরদিকে, এক শ্রেণীর লোক অর্থ ব্যয় করার সময় খুব বিবেচনা করে ব্যয় করে। প্রয়োজনীয়তা, উপযোগিতা ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে অর্থ ব্যয় করা হলে তা মিতব্যয়িতা বলে আখ্যা দেওয়া যায়। পরিমিত ব্যয়ের মধ্যে অর্থের সদ্ব্যবহার হয়ে থাকে। কার্পণ্য ও মিতব্যয়িতা অর্থব্যয় সংক্রান্ত হলেও তা এক পর্যায়ভুক্ত হয় না। উভয়ে...

ভাবসম্প্রসারণ : কাক কোকিলের একই বর্ণ / স্বরে কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন

কাক কোকিলের একই বর্ণ স্বরে কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন মূলভাব : জগৎ সংসারে আমরা যারা বাস করি, তাদের সবারই কিন্তু স্রষ্টা একজন। সকলেরই শরীরের গঠন, রক্তের বর্ণ এক হওয়া সত্ত্বেও আবার আচরণ ও ব্যবহারে আমাদের মাঝে অনেক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এ পার্থক্যের দ্বারাই অনুধাবন করা যায় কে কোন্ ধরনের ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সম্প্রসারিত-ভাব : কোন জিনিসের বর্ণের সাথে বা আকারের সাথে আরেকটা জিনিসের বর্ণের, আকারের মিল হতে পারে, তাই বলে তা এক নয়। কাক ও কোকিলের বর্ণ, ধরন একই হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে এক বলা যায় না। তাদের কথাই জানিয়ে দেয় কে কাক, কে কোকিল। যেখানে কোকিলের সুরেলা কণ্ঠে মানুষের মন জুড়ায়, সেখানে কাকের কর্কশ শব্দে মানুষের বিরক্তি আসে। এ যে কণ্ঠের পার্থক্য তাদের জাত চিনতে সাহায্য করে, তেমনি আমরা আমাদের সমাজে একইরকম অনেক মানুষরূপী কাক কোকিলকে একসাথে চলতে দেখি। কিন্তু তাদের মাঝে মিলে যে প্রাচুর্য তাতে তাদের মধ্যে প্রভেদ বের করাই যেন দুষ্কর। সে ক্ষেত্রে তাদের চরিত্রের যে মূল বৈশিষ্ট্য তা বিশ্লেষণ করলে সহজেই বুঝা যায় কে মানুষরূপী কোকিল, আর কে মানুষরূপী কাক। কাক আর কোকিলের মধ্যে যে অন্তর্দ্বন্দ্ব তা বুঝতে হল...

ভাবসম্প্রসারণ : কালো আর ধালো বাহিরে কেবল / ভিতরে সবার সমান রাঙ্গা

কালো আর ধালো বাহিরে কেবল ভিতরে সবার সমান রাঙ্গা মূলভাব : পৃথিবীর শুরু থেকে মানুষের মধ্যে জাতি-ধর্ম এবং বর্ণ-গোত্রের পার্থক্য বিদ্যমান। এ পার্থক্যকে কেন্দ্র করেই বিরাজ করছে মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ। কিন্তু এটা ঠিক নয়। কারণ, বাইরে বর্ণের পার্থক্য থাকলেও সবার শরীরেই একই লাল রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। সম্প্রসারিত-ভাব : সমগ্র পৃথিবীর মানুষ এক মানব জাতির সদস্য। তাদের প্রত্যেকের ধমনিতেই বইছে একই লাল রক্ত। কিন্তু মানুষ এ সত্যটি উপেক্ষা করে হিংসা-বিদ্বেষে লিপ্ত। সারা পৃথিবী জুড়ে আজ চলছে অস্থিরতা। জাতিতে-জাতিতে বিদ্বেষ, ধর্মে-ধর্মে সংঘাত। বর্ণ-গোত্রের বাছ-বিচার এখনো পরস্পরকে দূরে সরিয়ে রাখছে। সৃষ্টির শেষ্ঠ জীব মানুষ নিজের অস্তিত্ব ভুলে লিপ্ত হচ্ছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত আর যুদ্ধ-বিগ্রহে। আমরা সবাই এক আদমের সন্তান। অথচ আমাদের মাঝে আজ কতইনা বিভক্তি। সাদা চামড়াওয়ালারা ঘৃণা করছে কালো আদমীদের। ধনী এবং অভিজাত শ্রেণীর মানুষেরা ঘৃণা বর্ষণ করছে বিত্তহীন মানুষদের প্রতি। ধর্মীয় উন্মাদনায় আক্রান্ত হয়ে এক মানুষ অবলীলায় কেড়ে নিচ্ছে আরেক মানুষের প্রাণ। সাম্রাজ্যবাদী রাজশক্তি নিজের ক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করছে আ...

ভাবসম্প্রসারণ : কঠোরতার সঙ্গে কোমলতার সমাবেশ ব্যতীত মনুষ্যচরিত্র সম্পূর্ণতা পায় না

কঠোরতার সঙ্গে কোমলতার সমাবেশ ব্যতীত মনুষ্যচরিত্র সম্পূর্ণতা পায় না মূলভাব : কঠোরতা ও কোমলতা দু’টি সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয়, বিপরীত গুণ, বিপরীত ধর্ম। একই বস্তুর মধ্যে তাদের সমাবেশ আমরা সাধারণত দেখতে পাই না। যে বস্তু কঠোর, তা কখনও কোমল হতে পারে না। আবার যা কোমল, তার মধ্যে কঠোরতার লক্ষণ অন্বেষণ বিড়ম্বনা মাত্র। সম্প্রসারিত-ভাব : এ পৃথিবীতে যারা লোকোত্তর পুরষ, কেবল তারাই এ নিয়মের ব্যতিক্রম। সকল মহামানবের চরিত্র বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই যে, তাতে কঠোরতা ও কোমলতা একই সাথে আশ্চর্যরূপে মিশে আছে। তারা যদি শুধু কঠোর হতেন, তবে তাদের সেই অপরুপ দৃঢ়তায় আমরা বিস্মিত হতাম, সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্তর থেকে তাদেরকে ভালোবাসতে পারতাম না। আবার তারা যদি কেবলই কোমল হতেন, তবে স্থলবিশেষে দঢ়তার অভাবে আমরা তাদের বিরূপ সমালোচনা করতাম। চরিত্রের সম্যক বিকাশের জন্য এ দুই গুণের প্রয়োজন। কারণ, মানষকে স্থলবিশেষে যেমন দৃঢ় হতে হয়, তেমনি স্থলবিশেষে আবার নমনীয়ও হতে হয়। মহামানব হযরত মুহাম্মদ (স:) কে আমরা নিশ্চয়েই সম্পূর্ণচরিত্র মানুষ বলবো। তার চরিত্র বিশ্লেষণ করলেও দেখতে পাই যে, তিনি একাধারে কঠোর ও কোমল ছিলেন। অ...

ভাবসম্প্রসারণ : কুকুরের কাজ কুকুরে করেছে কামড় দিয়েছে পায়। / তা বলে কুকুরে কামড়ানো কি মানুষের শোভা পায়।

কুকুরের কাজ কুকুরে করেছে কামড় দিয়েছে পায়। তা বলে কুকুরে কামড়ানো কি মানুষের শোভা পায়। মূলভাব : কুকুর নিম্নশ্রেণীর জীব। তার কাজ শত্ৰুবোধে প্রাণী নির্বিশেষে কামড়ানো। হিংসার বশে, প্রতিহিংসা চরিতার্থে কুকুর তেড়ে গিয়ে যেমন কামড়াকামড়ি করতে পারে বিবেকসম্পন্ন মানুষ তা পারে না। প্রকৃতিগত পার্থক্যেই শুধু নয় বিবেকের পার্থক্যেই নিম্নশ্রেণীর প্রাণী কুকুরের চেয়ে মানুষ শ্রেষ্ঠ, আবার স্বার্থপর মানুষের থেকে বিবেকসম্পন্ন স্বার্থশূন্য মানুষ শ্রেষ্ঠ। সম্প্রসারিত-ভাব : এ পৃথিবীতে কুকুরের মত নিম্নশ্রেণীর এক ধরনের মানুষ আছে। যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না। আপন স্বার্থ সবসময় আগলিয়ে রাখে। এমনকি আঘাত আসার আশঙ্কায় সর্বদাই অন্যকে আঘাত হেনে চলে। এরা প্রবৃত্তিতে নিম্ন, মনুষ্যত্বে খাট। প্রতিহিংসা এবং অন্যায়ের পথ ধরে চলে বলেই এদের পরিণাম ভয়াবহ। সাধককে যারা সাধনার পথ থেকে সরাতে উদ্যত, জ্ঞানী ও গুণীজনদের যারা অপমান করে তাদের বংশ গৌরব যতই থাকুক মনুষ্যত্ব নিশ্চয়ই থাকে না। পক্ষান্তরে, এ জগতে আর এক শ্রেণীর মানুষ আছেন যারা জ্ঞানী ও গুণীজনদের প্রাপ্য মর্যাদাটুকু দেন, আপন সম্পদ দেশ ও দশের কল্যাণে ...

ভাবসম্প্রসারণ : কাক কালো, পিক কালো, / মিথ্যা ভেদ খোঁজা- / বসন্ত যেমনি আসে / ভেদ যায় বোঝা

কাক কালো, পিক কালো, মিথ্যা ভেদ খোঁজা- বসন্ত যেমনি আসে ভেদ যায় বোঝা মূলভাব : বাইরের থেকে কাউকে দেখে তার মূল্যায়ন করা অসম্ভব। কাক এবং কোকিল প্রায় একই রকম দেখতে। দুজনেরই গায়ের রঙ কালো। বাইরের রূপে তাদের পার্থক্য সামান্য হলেও অন্তরের প্রকৃতরূপে তাদের পার্থক্য পর্বত প্রমাণ। বসন্ত সমাগমে কোকিল মিষ্টি সুরে ডেকে আমাদের মনপ্রাণ ভরিয়ে দেয় আর কাক স্বভাবগত কর্কশ স্বরে ডেকে তখন আমাদের বিরক্তি উৎপাদন করে। সম্প্রসারিত-ভাব : রবীন্দ্রনাথ এক জায়গায় লিখেছেন, “উপস্থিত যাহাই প্রতীতি হয় তাহাকেই সত্য বলিয়াই ধরিয়া লইলে বিজ্ঞানে বাধে, তেমনি উপস্থিত যাহাই আমাদিগকে মুগ্ধ করে তাহাকেই সুন্দর বলিয়া ধরিয়া লইলে আনন্দের বিঘ্ন ঘটে। আমাদের প্রতীতিকে নানা দিক দিয়ে সর্বত্র যাচাই করিয়া লইলে তবেই তাহার সত্যতা স্থির হবো.....” । বাস্তবিক জগতে বাইরের রূপ দেখে কাউকে চেনা অসম্ভব। বাহ্যিক সমতা আমাদের প্রায়ই বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। কে কি রকম প্রকৃতির, কার কি বৈশিষ্ট্য তার জন্য আমাদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নজর রাখতে হবে। তাই বোধ হয় একটি প্রবাদে আমাদের সতর্ক করা হয়েছে, ‘চকচক করলেই তা সেনা হয় না’ । আমাদের স...

ভাবসম্প্রসারণ : কেবল পরের হিতে প্রেম লাভ যার / মানুষ তারেই বলি মানুষ কে আর?

কেবল পরের হিতে প্রেম লাভ যার মানুষ তারেই বলি মানুষ কে আর? মূলভাব : প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের মধ্যেই স্নেহ, মায়া, প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা আছে। তবে এদের মাত্রা এবং রূপগত বৈচিত্র্য নিশ্চয়ই আছে। তাই দেখি এদের বহিঃপ্রকাশে বিভিন্নতা। আর তা থেকেই তাদের মূল্যায়ন হয়। সম্প্রসারিত-ভাব : ভালোবাসার দ্বৈতরূপ সকাম ও নিষ্কাম। আমি মানুষই সকাম প্রেমে বিশ্বাসী এবং নিষ্কাম প্রেম খুব কম সংখ্যক মানুষের হৃদয়ে বিরাজ করে। ফলে অধিকাংশ মানুষই, যারা সকাম প্রেমের পূজারী, তারা চরিত্রগুণেই বিনিময় আশা করে। বোধের এ সঙ্কীর্ণতাই মানুষের হৃদয়ে পার্থিব ভোগ, সুখ, কামনা সর্বক্ষণ উদ্দীপ্ত করে, শান্তি দিতে পারে না। প্রাপ্তির আশায় ভারী বলে সকাম প্রেম পরিচিত স্বজনের কাছেই ঘুরঘুর করে। তাদের মনে ক্লেদ জমে, যার বহিঃপ্রকাশ হয় অহঙ্কারে। তাই এ ভালোবাসার দৌলতে হাততালি মিললেও মহৎ রূপে পরিগণিত হওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, যে ভালোবাসার টানে শত্রুমিত্র নির্বিশেষে অন্তরাত্মা কাঁদে সে নিষ্কাম ভালোবাসাই মহত্বের লক্ষণ। এক্ষেত্রে ভালোবাসার পরিবর্তে কি পেলাম তা বিবেচনার অপেক্ষা রাখে না। বস্তুত নিষ্কাম ভালোবাসাই হল মানবপ্রেম। স্বামিজী এ প...

ভাবসম্প্রসারণ : কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ / উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?

কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ? মূলভাব : দীর্ঘ পথ দেখে পথিক যদি পথ চলা বন্ধ করে দেয় তাহলে তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা আর পূরণ হয় না। উপযুক্ত উদ্যম ও পরিশ্রম ছাড়া জীবনের বাঞ্ছিত লক্ষ্যে পৌঁছানোও সম্ভব নয়। সেজন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর জন্য চাই দৃঢ় সংকল্প ও গভীর মনোবল।। সম্প্রসারিত-ভাব : জীবনের চলার পথে মানুষ অনবরত বাধার সম্মুখীন হয়। সেসব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করতে পারলে মানুষের জীবন হয় সফল ও মহিমান্বিত। তাই উৎসাহ উদ্দীপনা বা উদ্যম ছাড়া মানুষ তার জীবনে সাফল্যের মুখ দেখতে সক্ষম হয় না। যারা আত্মবিশ্বাসী ও কর্মোদ্যোগী তারাই শুধুমাত্র জীবনের বাঞ্ছিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। প্রবাদ আছে, ‘বীরভোগ্যা বসুন্ধরা অর্থাৎ, কর্মদ্যোগী ও সফল মানুষদের জীবন সত্যিকার অর্থে সার্থক হয়ে উঠে। সেজন্য জীবনের সব বাধা-বিপত্তিকে অতিক্রম করেই জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। বৃহত্তর অর্থে জাতীয় জীবনেও এ উদ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রবল উদ্যমের জোরে একটি জাতি বড় হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু উদ্যম ছাড়া তার ব্যর্থতা পদে পদে। সেখানে ফুটে উঠে কা...

ভাবসম্প্রসারণ : কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? / মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতে সুরাসুর

কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক মানুষেতে সুরাসুর মূলভাব : স্বর্গ এবং নরক মানুষের মনের মধ্যেই বিদ্যমান। পৃথিবীর শুরু থেকে স্বর্গ-নরকের কল্পিত অস্তিত্ব নিয়ে আমাদের কৌতূহলের শেষ নেই। কিন্তু আমাদের এ চলমান জীবনেই আমরা স্বর্গ-নরকের অবস্থিতি অনুভব করি। সম্প্রসারিত ভাব : অপার্থিক জগতে স্বর্গ ও নরক দুইই বিপরীতধর্মী স্থান। যুগ-যুগান্তরের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী মানুষ মনে করে-পৃথিবীর বহু ওপরে অনন্ত জ্যোতিপুঞ্জের মাঝে স্বর্গের অবস্থান আর এক ভয়ঙ্কর অন্ধকার স্থানে নরক বিরাজিত। এ জীবন সাঙ্গ হলেই কেবল সেসব দেখবার সৌভাগ্য অথবা দুর্ভাগ্য তার হবে। হয়ত এসবের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘ সময়, পাড়ি দিতে হবে যোজন যোজন পথ। সকল ধর্মেই স্বর্গকে এক অপূর্ব সুষমামণ্ডিত স্থানরূপে গণ্য করা হয়েছে। কেবলমাত্র পুণ্যাত্মাগণই এখানে প্রবেশের অধিকার পাবেন। আর যারা দুরাত্মা, যারা পাপাচারী তারা নিক্ষিপ্ত হবে নরকের ভয়ঙ্কর অগ্নিকুণ্ডলির মাঝে। মানুষের এ প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি কবি অনুরক্ত নন। কবি মনে করেন স্বর্গ এবং নরক পারলৌকিক কোনো বস্তু নয়। এ পৃথিবীতেই স্বর্গ এবং নরক ...

ভাবসম্প্রসারণ : কেরোসিন শিখা বলে মাটির প্রদীপে, / ‘ভাই বলে ডাক যদি দেব গলা টিপে। / হেনকালে গগনেতে উঠিলেন চাঁদা, / কেরোসিন শিখা বলে, ‘এস মোর দাদা।’

কেরোসিন শিখা বলে মাটির প্রদীপে, ‘ভাই বলে ডাক যদি দেব গলা টিপে। হেনকালে গগনেতে উঠিলেন চাঁদা, কেরোসিন শিখা বলে, ‘এস মোর দাদা।’ মূলভাব : কেরোসিন শিখা ও মাটির প্রদীপ উভয়ের দামে তারতম্য থাকলেও কাজ ও গুণ প্রায় এক। কারণ উভয়েই আপন সাধ্য অনুসারে আলো দান করে থাকে। সম্প্রসারিত-ভাব : কেরোসিন শিখাও মাটির প্রদীপ দ’জনের কাজ কিন্তু একই, তবুও কেরোসিন শিখা উজ্জ্বল, পক্ষান্তরে মাটির প্রদীপের আলো ম্লান। তাই কেরোসিন শিখা নিজের উজ্জ্বল আলোকের গর্বে মাটির প্রদীপকে নিজের সগোত্র বলে স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করে। অথচ স্নিগ্ধ মধুর আলোকে দশদিক উজ্জ্বল করে আকাশে যখন চন্দ্র উদিত হয়, তখন তার সাথে আত্মিয়তার সম্পর্ক খুঁজে বের করতে কেরসিনের শিখা তৎপর হয়ে উঠে। তার এ ব্যবহার নীচতা ও হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। মানব সংসারেও এমন লোকের অভাব নেই যারা অনুন্নত দরিদ্র ও ক্ষমতাহীনস্বজনের সাথে সমপর্ক স্বীকার করতে লজ্জাবোধ করে। এরা আবার সমাজের মান্যগণ্য ও ক্ষমতাসীন লোকদের সাথে নিজেদের সম্পর্কের কথা প্রচার করে লোক সমক্ষে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদনের প্রয়াস পায়। এরা ঐশ্বর্য ও শক্তির তোষণকারী। প্রকৃত গুণী ব্যক্তি কদ...

ভাবসম্প্রসারণ : এমন মানব জমিন রইল পতিত / আবাদ করলে ফলতত সোনা।

এমন মানব জমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতত সোনা মূলভাব : মানব জীনব অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন। তার যথার্থ চর্চা এবং সদ্ব্যবহার। সঠিক ও যথার্থ ব্যবহারের অভাবে সর্ব সম্ভাবনাই বিনষ্ট হয়ে যায়, সেখান থেকে কোন কিছু পাওয়ার আশা করা যায় না। কারণ সেখানে কোন শ্রম সাধনা বিনিয়োগ করা হয় নি। সম্প্রসারিত-ভাব : মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। জীবনকে কাজে লাগাতে না পারলে সে মূল্যবান জীবন ব্যর্থ হয়ে যায়। বিধাতা মানুষকে শক্তি সামর্থ্য সবই দিয়েছেন জীবনকে সফল করে তোলার জন্য। কিন্তু সে শক্তিকে, মূল্যবান সামর্থ্যকে যদি কাজে লাগানো না হয়, তাহলে সেটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এটাই নিয়ম। একথা ব্যক্তি জীবনে যেমন সত্য, জাতীয় জীবনেও তেমনি সত্য। কোন জাতি যদি তার সম্পদকে কাজে লাগায় , যথার্থ ব্যবহার করে তাহলে সে সম্পদ থেকে অবশ্যই ফল লাভ করতে পারে। কিন্তু সে সম্পদ যদি অনাদরে, অযত্নে, অবহেলায় ফেলে রাখা হয়। তবে তা থেকে কিছু পাওয়াদো দূরের কথা, সেটা বরং সমাজের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রত্যেকটা সম্পদকে যথার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজ, জাতি এমনকি ব্যক্তি জীবনেও কাজে লাগাতে...

ভাবসম্প্রসারণ : এমন অনেক দুঃখ আছে যাকে ভোলার মত দুঃখ আর নেই

এমন অনেক দুঃখ আছে যাকে ভোলার মত দুঃখ আর নেই মূলভাব : নিঃসন্দেহে দুঃখ বেদনার। আমরা মানুষমাত্রই তাই দুঃখকে জীবনপট থেকে মুছে ফেলতে চাই। চাই শুধু আনন্দ, সুখ, ভোগে নিজেকে পরিপূর্ণ রাখতে। সুখের স্মৃতি তিল তিল করে স্মৃতির মন্দিরে জমা রেখে দুঃখের কন্টকিত দিনগুলোকে ভুলে যেতে চাই। দুঃখের মত দুঃখের স্মৃতিচারণও আপাতচক্ষে বড় কষ্টের, বড় যন্ত্রণার ভেবে পাশ কাটিয়ে যেতে চাই। সম্প্রসারিত-ভাব : কিন্তু মহত্তম মানুষ জানেন, সুখ-দুঃখের সংমিশ্রণেই মানুষের জীবন পূর্ণ। হাসিতে অশ্রুতে এত বর্ণময় বলেই কোনও মানুষের জীবনই ছকে বাঁধা নয়। দুঃখের, বেদনার স্মৃতি জীবনপট থেকে মুছে মানুষ যদি কেবল সুখ স্মৃতিটুকু বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়াসী হয়, তবে তার জীবনে পূর্ণচ্ছেদ নেমে আসে। ছায়া যেমন মানুষকে কখনও পরিত্যাগ করে না, সে রকম দুঃখের স্মৃতিও সুখের সময় মানুষকে কখনও পরিত্যাগ করে না। সুখ-দুঃখের স্বরপ নির্ণয় করা মানুষের পক্ষে যতটা কঠিন, ততোধিক কঠিন দুঃখকে, দুঃখের স্মৃতিকে চিরতরে বিসর্জন দেওয়া। দুঃখের মাঝেই যেন লুকিয়ে রয়েছে কিছুটা সুখের ইঙ্গিত, কিছুটা সুখের ঐশ্বর্য। আগুনের পরশমণির ছোঁয়ায়, অন্তরের তীব্র জ্বালায় এ জ...

ভাবসম্প্রসারণ : এই খেয়া চিরদিন চলে নদী স্রোতে / কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে

এই খেয়া চিরদিন চলে নদী স্রোতে কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে। মূলভাব : নদীর বুকে ভাসমান খেয়ার কাজ যাত্রী পারাপার করা। কেউ এপারে আসে কেউ যায় ওপারে। প্রত্যেকেরই লক্ষ্য ঘরে ফিরে আসা। খেয়া নদীর পারে পৌঁছলে অন্তিম ক্ষণটি উপস্থিত হয়। বিদায়ী যাত্রীরা বিদায় নেয় নতুন যাত্রীদের আগামী যাত্রায় স্থান করে দিতে। যেসব যাত্রীরা পারে নামে শেষ মুহূর্তটি অবশ্যম্ভাবী কারণে তাদের কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে উঠে, হয়ে উঠে যাত্রীদের কাছে অসীম মমতায় রক্তিম। সম্প্রসারিত-ভাব : যে কোন অভ্যাসের পরিবর্তনই বেদনাদায়ক। যে প্রথার সাথে দীর্ঘকাল দেহমন অভ্যস্ত হয়ে পড়ে তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্যই দুঃখজনক। অথচ আমাদের চারপাশে সর্বদাই চলছে পুরাতনের বিসর্জন, নতুনের আহবান। বিদ্যালয় ত্যাগের শেষের সেই দিনটি কিংবা স্বজন হারানোর মুহুর্তটির স্মৃতি তাই কেউ কোনদিন ভুলতে পারে না। সেদিনটিতে সকলে দ্বন্দু ভলে যায়। কতদিনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার বেদনা মধুর সম্বল করে তখন মিশে যেতে হয় বর্জিতের দলে পরত্যক্তদের ভিড়ে। শূন্যতা দিয়ে হৃদয় তখন উপলদ্ধি করে, সময় হয়েছে নিকট এখন বাঁধন ছিঁড়িতে হবে। কবির ভাষায় সেদিনের অনুভূতি, ‘...

ভাবসম্প্রসারণ : এ জগতে মানুষ আপনার ঘর আপনি রচনা করে

এ জগতে মানুষ আপনার ঘর আপনি রচনা করে মূলভাব : ব্যক্তিই আপন ভাগ্য নিয়ন্তা। আমরা সাহিত্যে কিংবা ইতিহাসে যেসব মহাপুরুষ বা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের কথা পড়ি তারা সকলেই বড় হয়েছেন পরিশ্রমের দ্বারা। পরিশ্রমকে অবজ্ঞা করে ‘সৌভাগ্যের জয়টিকা’ করায়ত্ত হয় নি। সম্প্রসারিত-ভাব : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্রাসাগর ‘বিদ্যাসাগর’ হয়েছিলেন তথা সমাজের উন্নত শিখরে সমাহীন হয়েছিলেন পরিশ্রমের দ্বারাই। জীবনের অমৃতবাণী প্রচারের উদ্দেশ্যে বিবেকানন্দকে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে ঘুরতে হয়েছে।। যথেষ্ট শ্রম স্বীকার করার জন্যই তিনি বিশ্বজয়ী বিবেকানন্দ। একথা সমান সত্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ, মহাত্মা গান্ধী, নেপোলিয়ন, গোর্কি সকলের ক্ষেত্রেই। আত্মবিশ্বাস ও সাবলম্বন সাফল্যের মূলমন্ত্র। সংগ্রাম মুখর জীবন ভাগ্য মানে না, দৈবকে ভয় পায় না। কারণ কর্ম ও প্রচেষ্টা তার নিত্য সহচর রূপে সাহস জোগায়, পৌরুষই তার আসল শক্তি। আর এ শক্তি বলে মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করে, অজেয়কে জয় করে দুর্লভকে সুলভ করে। ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, ‘Man is the architect of his own fortune.’ -মানুষ নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি ...

ভাবসম্প্রসারণ : উপকার যেন মধুর পাত্র / হজম করতে জ্বলে যে গাত্র

উপকার যেন মধুর পাত্র হজম করতে জ্বলে যে গাত্র মূলভাব : উপকার বা সাহায্য মানুষ যত সহজে পেতে পারে তেমনি তার প্রতিদান দিতে গেলে তা এত সহজে পারে না। উপকার নেওয়া সহজ হলেও তার প্রতিদান দেওয়া অনেক কঠিন। সম্প্রসারিত-ভাব : সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। অন্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহায্য ছাড়া এক পাও চলা সম্ভব হয় না। তবে তা উপকার যেমন আমাদের অসুবিধা দূর করে, কষ্ট লাঘব করে তেমনি তার প্রতিদান আমাদেরকে কষ্ট দেয়, ঝামেলায় ফেলে। বিশেষ করে যারা হৃদয়বান, সম্মানী, বিবেকবান, কৃতজ্ঞ তারাই উপকার নেওয়ার পর ঝামেলায় পতিত হয়। কারণ তাদের মাঝে সর্বদা উপকারীর উপকার স্বীকার করতে বা প্রতিদান দিতে বিবেক বোধ তাড়না দেয়। সর্বদা তা মানসিক এক জ্বালায় পরিণত হয়। তারা ভালোভাবেই জানে যে, কোনকিছু নেওয়ার চেয়ে দেওয়াই উত্তম, অন্যকে উপকার করার মাধ্যমে তা গ্রহণের নিগৃহ বা হীনতা হতে মুক্তি পেতে চায়। চায় সে সম্মান মর্যাদায় তাদের আসন পাকাপোক্ত করতে। আরেক দিকে উপকারী যখন উপকারের প্রতিদান কামনা করে এবং গ্রহীতা যদি তা দিতে অপারগ হয়, তাহলে তার মাঝে চরম হীনমন্যতা কাজ করে। বারবার বিবেকবোধ দংশন করতে থাকে। আর যদি উপ...

ভাবসম্প্রসারণ : উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই ওরে ভয় নাই নিঃশেষে / প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।

উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ভয় নাই ওরে ভয় নাই নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই। মূলভাব : বর্তমান সভ্যতা সৃষ্টির পেছনে অনেক জ্ঞানী, গুণী মনীষীর অবদান রয়েছে। তাঁরা নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে মানব কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। এসব লোকেরা নিজের কর্মের সাহায্যে পৃথিবীতে অমরত্ব লাভ করেন। সম্প্রসারিত-ভাব : বর্তমান এ বিশ্বমানবতার ও নবজাগরণের যুগে, প্রতি মুহূর্তে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন কাল-পুরুষ। পৃথিবী আজ তাঁর পিয়াসী ও তৃষ্ণার্ত নয়নে অবলোকন করতে চায় নতুনকে। এ পথের যারা অনুসারী তারা মহামানব ও নবজাগরণের মন্ত্রদ্রষ্টা। কিন্তু পৃথিবীর এ নবজাগরণের সংগ্রাম খুবই কণ্টকাকীর্ণ ও সর্পিল। প্রতি পদে আছে পিছুটান ও জরাজীর্ণের সাথে সুকঠোর সংগ্রাম, আছে স্বজনহারার আর্তনাদ। এমনকি স্বীয় প্রাণও সময় সময় এতে বিসার্জিত হয়। কিন্তু এ প্রাণ ইতিহাসের অভিধানে অমর অক্ষয়। তবুও নবজাগরণের সৈনিকেরা দুর্জয় ও নির্ভয়। নবজাগরণের স্মরণে তারা সরণের ভয় করে না। অন্যদিকে আমরা যদি ইতিহাসের এ্যালবামে চোখ বুলাই তবে দেখতে পাব যে, যখনই অন্ধকারের যবনিকা চারদিকে উন্মোচিত হয়েছে, তখনই জাগরণের ও মুক্তির প্রদীপ হাতে করে আ...

ভাবসম্প্রসারণ : ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় মূলভাব : প্রতিটি কাজের পেছনেই তীব্র ইচ্ছা থাকা দরকার। ইচ্ছাশক্তি প্রবল হলে কার্যে সফলতা সুনিশ্চিত। ইচ্ছাশক্তির বলেই যে কোন অসাধ্য সাধন করা যায়। সম্প্রসারিত-ভাব : ইচ্ছা একটি শক্তি। এ শক্তির দ্বারা চিত্তের একাগ্রতা, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের সৃষ্টি হয়। যা মানুষকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে ধাবিত করে। ইচ্ছাই মানবজীবনের সফলতার চাবিকাঠি। কোন কাজ করার জন্য ইচ্ছাই যথেষ্ট। মানবজীবন সংগ্রাম মুখর। এ পৃথিবীতে মানুষকে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। এখানে সহজলভ্য বলতে কিছু নেই। বহু বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে মানুষকে এগিয়ে যেতে হয়। কিন্তু তাই বলে কোন কাজ মানুষের অসাধ্য নয়। আগ্রহ, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে কাজে সফলতা অবশ্যই আসবে। আর একেই বলি আমরা ইচ্ছা। ইচ্ছার বলেই মানবসভ্যতার এত অগ্রগতি ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ইচ্ছার বলে একমাত্র জীবনদান ছাড়া পৃথিবীতে সবকিছুই সম্ভব হয়েছে। ইচ্ছার বলে মানুষ পাতাল থেকে মহাশূন্য বিজয় করেছে, বিজ্ঞানের এত উন্নতি হয়েছে। ইচ্ছা থাকলে মানুষ যে কোন অবস্থায় সফলতা পেতে পারে। ইচ্ছার বলেই আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ইউরোপ জয় করতে সমর্থ...