Posts

Showing posts from July, 2021

প্রবন্ধ রচনা : একুশ শতকে পল্লী উন্নয়ন ও বাংলাদেশ

ভূমিকা : সবুজ শ্যামলে ভরা আমাদের এ দেশের বেশিরভাগ স্থান জুড়ে রয়েছে গ্রাম। আমাদের গ্রামগুলো যেন সবুজের লীলাভূমি। গ্রামের সবুজ প্রকৃতি যেকোনো মানুষের মনকে প্রশান্তি দেয়। পল্লীকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠেছে আমাদের দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতি। পল্লী এদেশের প্রাণ। কিন্তু পল্লীর সেই শোভা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের অবহেলার কারণে। অভাব ও দারিদ্র্যর কারণে পল্লীর মানুষ আজ জর্জরিত। একটু ভালোভাবে বাঁচার জন্য গ্রামের মানুষ এখন শহরমুখী হচ্ছে। ফলে জনশূন্য হতে চলেছে গ্রামের পর গ্রাম। পল্লীর প্রতি মুগ্ধতায় কবি বন্দে আলী মিয়ার কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছে- ‘আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান  আলো দিয়ে,বায়ু দিয়ে বাঁচায়ছে প্রাণ।’ পল্লী উন্নয়ন কী : পল্লী উন্নয়ন বলতে পল্লীর মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মমুখি করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সম্পদের সুষম বণ্টন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে বোঝায়।গ্রামীণ পরিসরে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নই হলো পল্লী উন্নয়ন।  প্রাচীনকালে পল্লী : প্রাচীন কালে পল্লীর রূপ ছিল কেমন ছিল তা রবীন্দ্রনাথের ভাষায় জানা যাক। তিনি ...

ভাবসম্প্রসারণ : ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না

ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না মূলভাব : যেকোনো কাজ করার আগে আমাদের ভাবে কাজটা করতে হবে। তাছাড়া যে পরিণতি ভালো নাও হতে পারে।  সম্প্রসারিত ভাব :  যেকোনও সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিচলিত হওয়া যাবে না। বিষয়টির ভালো ও খারাপ দিক বিবেচনা করে মানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করছেন, সেটার পূর্ণ বিবরণ লিখে তার ভালো ও খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে ভেবে এক এক করে লিখে ফেলতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভালো ও খারাপ দিকের বিবেচনায় প্রায়োরিটিকে স্থান দিতে হবে সবার আগে। এভাবে তালিকা তৈরিতে চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে, সিদ্ধান্তের পক্ষে যাওয়া ঠিক হবে কিনা। যখন কোনও একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ঠিক তার আগে নিজেকে পর্যাপ্ত সময় দিন। ভাবুন, ভালো-মন্দ নিজে থেকে বিচার করুন। মনে রাখতে হবে, সময় সবকিছুর হিসাব পাল্টে দেয়। তাই এখন আপনার কাছে যেটা সঠিক মনে হচ্ছে সময়ের ব্যবধানে সেটা ভুলও মনে হতে পারে। অতএব সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সময় নিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  সিদ্ধান্ত : সুতরাং যে কোন কাজ করার আগে আমাদেরকে ভেবে কাজ করতে হবে। তাই বলা যায় যে, ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিওনা।

প্রবন্ধ রচনা : একবিংশ শতাব্দীর নারী সমাজ

“বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।” -কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্বের মােট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। পুরুষের পাশাপাশি নারী কল্যাণকর অনেক কাজ করলেও ইতিহাসে তার প্রমাণ খুব কমই দেখা যায়। তবে বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে নারী সমাজের প্রভূত উন্নতি ও অগ্রগতি চোখে পড়ার মতাে। তারপরেও কিছু সমস্যা থেকেই যায়। বিশ্বে এখনও এমন বহু নারী আছে, যারা ধরেই নেয় তাদের জন্ম হয়েছে পরের সেবা করার জন্য। নারী কন্যা-জায়া-জননীরূপে সৃষ্টির প্রথম লগ্ন থেকেই পুরুষের সেবা করছে। নারীকে বার বার বঞ্চিত করেছে সমাজ, রাষ্ট্র, এমনকি পরিবার। একবিংশ শতকে এসেও দেখা যায় নারীর পরাধীনতা। নারী স্বাধীনতার জোয়ার উঠলেও তা কেবলমাত্র কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলাের সাথে তাল মিলিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও নারীবাদী সংস্থা নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দলিল প্রকাশ করেছে। ইউরােপ-আমেরিকার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মতাে দেশও নারীর অধিকার বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় নারী অগ্রগতির জন্য প্রশংসিতও হয়েছে তারা। মানুষ এখন বুঝতে শিখেছে, কিছু পশ্চাৎপ...

প্রবন্ধ রচনা : বৃষ্টি ভেজা দিন

নৈমিত্তিক জীবনের প্রথাবদ্ধতার মধ্যে এমন কিছু খণ্ডমুহূর্ত আসে, যেগুলাে স্বাতন্ত্র্য ও বৈচিত্র্যময়তার স্মৃতির পাতায় চিহ্নিত হয়ে থাকে। এক বর্ষণমুখর দিনকে ঘিরে সেরকম রেখাঙ্কিত স্মৃতি আমার জীবনে মহার্ঘ্য সম্পদ হয়ে আছে। কতভাবেই তাে বর্ষণ হয়, কালে-অকালে, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষায়, তবু একটি বর্ষণ-রােমাঞ্চিত দিন স্মৃতির ফলকে শ্বেতপাথরে অঙ্কিত হয় কী করে? আসলে বাদল দিনের সে মধুময় দৃশ্যপুঞ্জ কেবল বহিদৃষ্টি দিয়ে নয়, অন্তর-বাইরের মহামূল্য অনুভব নিয়ে স্মৃতিতে ঐশ্বর্যময় হয়ে অনন্যতার অধিকারী হয়ে আছে। জ্যৈষ্ঠের শেষে চলছে প্রাক-মৌসুমি পর্ব। এরই মাঝে পত্র-পত্রিকায় সাড়ম্বরে ঘােষিত হলাে মৌসুমি বায়ু আসছে দিগ্বিজয়ী বীরের মতাে। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বর্ষা এলাে– তবে দ্বিগ্বিজয়ী বীরের বেশে নয়, রাজকীয় মহিমায় আপন বৈশিষ্ট্যের ঢামাঢােল পিটিয়ে। গ্রীষ্মের দাবদাহে ছিল তার আগমনের প্রস্তুতি। বাঙালির অন্তর জুড়ে তার উপস্থিতির প্রার্থনা। আর এজন্যেই বােধ করি সেদিন প্রত্যুষে আকাশ জুড়ে কালাে মেঘের গালিচা বিছিয়ে চলছিল আসরের প্রস্তুতি। কিছুক্ষণ পরই দূর গগনের বজুঘােষণে হারিয়ে গেল মুয়াজজিনের উচ্চকিত অমিয় আজানধ্বনি...

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের কবিতা

↬ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের কবিতা ↬ বাংলাদেশের কাব্য সাহিত্য ↬ আধুনিক বাংলা কবিতা Poetry is the spontaneous overflow of powerful feelings. -Wordsworth ভূমিকা : বাংলাদেশ কবিতার দেশ। এদেশের কবিতার ইতিহাস হাজার বছরের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ। ইতিহাসকে আবার তিন ভাবে ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগ। প্রাচীন যুগের বাংলা কবিতার একমাত্র নির্ভরযােগ্য নিদর্শন চর্যাপদ। নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চর্যাপদের পুঁথি আবিষ্কার করেছেন স্বর্গীয় মহামহােপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। এরপর মধ্যযুগের বৈষ্ণব কবিতা, মঙ্গলকাব্য, জীবনী কাব্য, রােমান্টিক প্রণয় কাব্য, মর্সিয়া সাহিত্য, কবিগান, বাউল গান ইত্যাদি অতিক্রম করে শুরু হয়েছে আধুনিক যুগ। মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মধ্যে সন্ধি সৃষ্টি করেছেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম সার্থক আধুনিক কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক বাংলা কবিতাকে বিশ্বসাহিত্যের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেন। কবিতার সংজ্ঞা : কবির বেদনাবিদ্ধ হৃদয়ই কবিতার জন্মভূমি। কারও কারও মতে, যিনি জগতের একখানি যথাযথ স্বাভাবিক চিত্রপট এঁকে...

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের উপন্যাস

↬ বাংলা উপন্যাস সাহিত্য উপন্যাস সাহিত্য ↬ বাংলা উপন্যাসে বাস্তবতা ও শিল্পরূপ ↬ সাম্প্রতিক বাংলা উপন্যাস নতুন ধরনের গদ্যকাহিনী উপন্যাস নামে গড়ে উঠল-যার মূল উপাদান হলাে মানুষের বাস্তব জীবন, তার নানা সমস্যা, সংশয়, নানা ভাব, কল্পনা, আদর্শের বিচিত্র সমারােহ।                                              –ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ভূমিকা : বর্তমান যুগে উপন্যাস সাহিত্যের জনপ্রিয়তাই সবচেয়ে বেশি। এর সাহায্যে সমাজের সর্বস্তরের লােকের মনােরঞ্জন করা যেমন সুসাধ্য, তেমনি আর কোনােপ্রকার সাহিত্য শিল্পের দ্বারা হয় না বললেই চলে। বাংলাদেশের উপন্যাস হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের পরিধিতে যেসব গ্রন্থ রচিত হয়েছে তা বাংলা উপন্যাসের ঐতিহ্যেরই অনুসারী। বাংলা উপন্যাসের আদিযুগে মুসলমান ঔপন্যাসিকদের অবদান ছিল না। মুসলমানরা যখন উপন্যাস রচনায় সক্রিয় হয়ে উঠেন তখন বাংলা উপন্যাসের ধারা সমৃদ্ধির পথে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের উপন্যাস যথেষ্ট সমৃদ...

Paragraph : How I spent my time during Lockdown

How I spent my time during Lockdown The deadly corona virus disease has spread around the world. Because there is no drug or vaccine for the disease, lockdown was the only option in many countries. This lockdown, was my first such experience where I had to stay at home for a long period. The moment when I heard about lockdown, I felt very happy because I wouldn’t have to go to school then. On the first day, I played some outdoor games with 2 of my neighbourhood friends. After few days, when I realized the number of corona patients is increasing, I stopped playing outdoors. As days passed, everyone, including me, started taking more precautions to remain safe from the disease. I started watching Television and playing indoor games like Carom and Ludo. Mother prepared delicious recipes at home, we all enjoyed it. Sometimes, I helped my mother in the kitchen. I also read some books to pass my time. I played computer games too. As days passed, staying at home started giving me bored...

HSC 2021 : ইসলাম শিক্ষা : অ্যাসাইনমেন্ট

দ্বিতীয় অ্যাসাইনমেন্ট ইসলাম শিক্ষা ( ২য় পত্র) ২য় সপ্তাহ সূরা আল বাকারার ৮-১০ আয়াতের অর্থ, শিক্ষা ও মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ। নির্দেশনা : নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে লিখতে হবে : সূরা আল বাকারার- ৮-১০ আয়াতের অর্থ ৮-১০ আয়াতের শানেনুযুল ৮-৯ আয়াতের শিক্ষা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে মুনাফিকী পরিহার করার উপায়। নমুনা সমাধান (ক)  সূরা আল বাকারার ৮-১০ আয়াতের অর্থ : ৮. আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান এনেছি ; কিন্তু তারা মুমিন নয় । ৯. তারা আল্লাহ ও মুমিনদেরকে ধোকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোকা  দেয় না ; কিন্তু তারা বুঝতে পারে না। ১০. তাদের অন্তঃকরণ ব্যাধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুত তাদের মিথ্যাচারের দরুন তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি। (খ) সূরা আল বাকারার ৮-১০ আয়াতের শানেনুযুল : ৮ নং আয়াতের শানেনুযুল :  এক শ্রেণির মানুষ এমন আছে, যারা প্রকাশ্যভাবে নিজেদেরকে আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতে বিশ্বাসী বলে ঘোষণা দেয়। কিন্তু অন্তরে অন্তরে ঘোর অবিশ্বাস ও ...

HSC 2021 : ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি : অ্যাসাইনমেন্ট

দ্বিতীয় অ্যাসাইনমেন্ট ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ( ২য় পত্র) ২য় সপ্তাহ ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার সময় পরিক্রমা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ একটি পোস্টার পেপার তৈরি করো। নির্দেশনা : (ক) মুহম্মদ বিন কাসিমের অভিযানের কারণ বর্ণনা। (খ) সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের উদ্দেশ্য ও ফলাফল বিশ্লেষণ। (গ) মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরীর অভিযান পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক অবস্থার বিবরণ। (ঘ) উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি সম্বলিত পোস্টার তৈরিকরণ। নমুনা সমাধান ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার সময় পরিক্রমা অনুযায়ী উল্লেখযােগ্য ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ একটি পােস্টার পেপার তৈরি করা হল : (ক) মুহাম্মদ বিন কাসিমের অভিযানের কারণ : তৎকালীন ভারতের সিন্ধু ও মুলতানের রাজা ছিলেন দাহির। আরব সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ ইরাক প্রদেশের গভর্ণর ছিলেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। সিন্ধু ও মুলতানের সাথে আরব শাসনের সাধারণ সীমান্ত ছিল। নানা কারণে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও রাজা দাহিরের মধ্যে মতপার্থক্য হয়। এ কারণে হাজ্জাজ ভারতের সিন্ধু জয় করার জন্য তার জামাতা ও ভাতুস্পুত্র মুহম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে ৭১২ খ্রিস্টাব্দে এক বিজয় অভিযান প্রেরণ কর...