Posts

Showing posts with the label প্রবন্ধ

প্রবন্ধ রচনা : যানজট ও ঢাকা শহরের জীবন

Image
ভূমিকা: ঢাকা, বাংলাদেশের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর, ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ এবং সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। তবে, গত কয়েক দশকে অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে এই শহর এক ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে— যানজট। এই যানজট শুধু সময়ের অপচয় নয়, এটি ঢাকা শহরের মানুষের জীবনযাত্রার মান, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের উপর গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই রচনায় ঢাকা শহরের যানজটের কারণ, এর ভয়াবহতা, মানুষের জীবনের উপর এর প্রভাব এবং এই সমস্যা সমাধানের কিছু সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। ঢাকা শহরের যানজটের কারণ: অপরিকল্পিত নগরায়ন: ঢাকা শহরের দ্রুত এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন যানজটের প্রধান কারণ। অপর্যাপ্ত রাস্তাঘাট, সরু গলি এবং যেখানে সেখানে ভবন নির্মাণের ফলে যানবাহন চলাচলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। জনসংখ্যার ঘনত্ব: ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর। বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাস এবং প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের আগমন শহরের উপর চরম চাপ সৃষ্টি করে, যা যানজটকে আরও প্রকট করে। ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য: গণপরিবহনের দুর্বলতা এবং ব্যক্তিগত গা...

প্রবন্ধ রচনা : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

Image
ভূমিকা: বিগত কয়েক দশকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়নের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence - AI) উত্থান। মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে কম্পিউটারের মাধ্যমে অনুকরণ করার এই প্রযুক্তি বর্তমানে আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, শিল্প, ব্যবসা—এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে AI তার পদচিহ্ন রাখেনি। এই রচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণা, প্রকারভেদ, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং সমাজের উপর এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। ১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণা ও প্রকারভেদ: ১.১ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে এমন সব সিস্টেম তৈরি করার চেষ্টা করা হয় যা মানুষের বুদ্ধিমত্তার মতো কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শেখা, সমস্যা সমাধান করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া, ভাষা বোঝা এবং সৃষ্টিশীলতা। AI সিস্টেম ডেটা বিশ্লেষণ করে, সেই ডেটা থেকে শেখে এবং সেই শেখা জ্ঞানের ভিত্তিতে নতুন কাজ সম্পাদন করে। ১.২ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকারভেদ: কার্যকারিতার ভিত্...

প্রবন্ধ রচনা : সুশাসন ও আগামীর বাংলাদেশ

Image
একাক্তরের পর আরও এক গণজোয়ার দেখল বাংলাদেশ। এ জোয়ারের মূল উদ্দেশ্য স্বাদীন দেশটির সংস্কার। দেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের রাষ্ট্র মেরামতের আগ্রহ ও দেশপ্রেমের আকুতি চোখে পড়ার মতো। এদেশের ছাত্ররা অন্যায়ের প্রশ্নে যেমন আপসহীন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা রক্ষায়ও তেমনি অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের অনেক প্রাপ্তির ভেতর একটা বড় অপ্রাপ্তি হচ্ছে সুশাসন। সুশাসন সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ Good Governance গ্রিক শব্দ kubernan থেকে ইংরেজি Governance শব্দের উৎপত্তি। দার্শনিক প্লেটো Kubernao শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। সু অর্থ হলো ভালো, উত্তম, উৎকৃষ্ট, সুন্দর, মধুর, শুভ ইত্যাদি। অতএব সুশাসন হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে সুষ্ঠুভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবন করে বিশ্বব্যাংক। সুশাসন হলো এক ধরনের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতার সুষ্ঠু চর্চা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়। এ শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে। বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির ম...

প্রবন্ধ রচনা : মে দিবসের তাৎপর্য

↬ আন্তর্জাতিক মে দিবস ↬ মে দিবসের ইতিহাস ভূমিকা : ‘এমন সময় আসবে যখন কবরের অভ্যন্তরে শায়িত আমাদের নিশ্চুপতা জ্বালাময়ী বক্তৃতার চেয়ে বাঙ্ময় হবে এবং তার শ্রমিকশ্রেণীর বিজয়লাভের শেষ সংগ্রাম পর্যন্ত লড়াইয়ে প্রেরণা যোগাবে এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’   -আগস্ট স্পাইজ ১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা কথাগুলো বলেছিলেন। তাঁর সেদিনের সেই ভবিষ্যদ্ববাণী আজ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে। ব্যর্থ হয় নি তাঁদের এই আত্মদান। শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে তা এক স্মরণীয় অধ্যায়। ‘মে দিবস’ পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক দিবসে। মে দিবস আজ তাই হাজার হাজার শ্রমিকের পায়ে চলা মিছিলের কথা। ‘একটি মাত্র সৈন্যবাহিনী’ হিসেবে একই পতাকা তলে দাঁড়িয়ে আপসহীন সংগ্রামের কথা। মে দিবস দুনিয়ার শ্রমিকের এক হওয়ার ব্রত। আন্তর্জাতিক সংগ্রাম আর সৌভ্রাতৃত্বের দিন। মে দিবসের অর্থ শ্রমজীবী মানুষের উৎসবের দিন, জাগরণের গান, সংগ্রামে ঐক্য ও গভীর প্রেরণা। মে দিবস শোষণমুক্তির অঙ্গীকার, ধনকুবেরের ত্রাস, সমাজতন্ত্র গড়ার শপথ। মে-রানীর রূপকথা : অথচ এই মে দিব...

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা : সমস্যা ও সম্ভাবনা

Image
ভূমিকা : গণতন্ত্র তথা সংসদীয় রীতি-পদ্ধতির জন্য বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও আন্দোলন দীর্ঘদিনের। ১৯৭১ সালে স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের পর বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাশিত সংসদীয় গণতন্ত্রের পথেই প্রথম যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১০ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের সমাপ্তি ঘটে।পরবর্তীকালে ১৯৭৭ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু হলেও ১৯৮২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে দেশে আবার গণতন্ত্রের যাত্রা রুদ্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে পঞ্চম জাতীয় সংসদে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চার সমস্যা : গণতন্ত্র বলতে যদি আইনের শাসন, প্রতিনিধিত্বশীল সরকার, নিয়মিত নির্বাচন, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, শক্তিশালী দল ব্যবস্থা, সহিষ্ণু মানসিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি বোঝায় তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চার সমস্যাগুলোকে প্রধানত দু ভাবে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। যথা : প্রথমত, আচরণগত বা সাংস্কৃতিক সমস্যা এবং দ্বিতীয়ত, আদর্শিক বা সাংবিধানিক...

প্রবন্ধ রচনা : স্মার্ট বাংলাদেশ : রূপকল্প ২০৪১ [ ১৫ পয়েন্ট ] - PDF

Image
ভূমিকা : সাশ্রয়ী, টেকসই ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশে মেধা ও পরিশ্রমের জয়গান প্রতিষ্ঠা হবে। তখন শোষণ ও বৈষম্যের জায়গা দখল করবে সাম্য ও স্বাধীনতা। নাগরিক জীবনে এসব প্রত্যাশা পূরণ করবে আগামীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। যা সহজ করবে মানুষের জীবনযাত্রা, হাতের মুঠোয় থাকবে সবকিছু। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর ঘোষণা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর ২০২২ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (BICC) ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২২ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অথিথির ভাষণে সর্বপ্রথম ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’’ গড়ার প্রত্যয়ন ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব এবং বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ।’ তখন থেকেই দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ একটি প্রত্যয়, একটি স্বপ্নে পরিণত হয়। Smart Bangladesh স্মার্ট বাংলাদেশ কি? : স্মার্ট বাংলাদেশ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি ও স্লোগান যা ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ থ...

প্রবন্ধ রচনা : সরস্বতী পূজা [ ছোটদের জন্য ]

Image
ভূমিকা : বিদ্যার দেবী সরস্বতী, ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং বাড়িতে এই পূজা করে। দেবীর রং শুভ্র ও বসন শুভ্র। দেবীর বাহন শ্বেত সংস এবং আসন পদ্ম। দেবীর এক হাতে বীনা, অপর হাতে বই। দেবী সারদা, ভারতী, বীণাপানি, বাগ্দেবী প্রভৃতি নামে পরিচিত। পূজার বিবরণ : মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে দেবীর পূজা হয়। পূজার দিন ছাত্র-ছাত্রীরা খুব ভোরে উঠে স্নান করে ফুল তুলে নিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির হয়। দেবীর সামনে বই, খাতা, দোয়াত, কলম রাখে। পূজা শেষে ছাত্র-ছাত্রীরা অঞ্জলি দেয়। এর জন্য তারা উপোস করে থাকে। এরপর সন্ধ্যাবেলা আবার পূজা হয়। পূজার আনন্দ : এটি একদিনের পূজা হলেও পূজার কয়েকদিন আগে থেকেই আনন্দের সাড়া পড়ে যায়। পূজা মণ্ডপ তৈরি, মণ্ডপ সাজানো, প্রতিমা আনা এসব চলতে থাকে। পূজার দিন সন্ধ্যায় গান-বাজনা, আবৃত্তি, নাটক ও অভিনয়ের ব্যবস্থা থাকে। তাতে ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। স্কুল, কলেজ, পাঠাগার বা বাড়ির পূজায় শুধু ছাত্র-ছাত্রীরা নয়, সকলেই অংশ নেয় ও আনন্দ ও অভিনয়ের ব্যবস্থা থাকে। তাতে ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। স্কুল, কলেজ, পাঠাগার বা বাড়ির পূজায় শুধু ছাত্র-ছাত্রীরা নয়, সকলেই অংশ নেয় ও আনন্দ উপভোগ...

প্রবন্ধ রচনা : ইন্টারনেট আসক্তি ও প্রতিকার

বর্তমান যুগ ইন্টারনেট ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। কিছুদিন আগেও শুধু কম্পিউটারে ইন্টারনেট সুবিধা থাকায় এর ব্যবহারকারী ছিল সীমিত। পরে মুঠোফোনে ইন্টারনেট সুবিধা যোগ হওয়ায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে অনেক। বিআরটিএ’র সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে রয়েছে ৬ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। সংবাদ, তথ্য, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, বিনোদন ইত্যাদির জন্য মানুষ এখন ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এর উপকারিতার পাশাপাশি আছে অনেক অপকারিতাও। বিশেষ করে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে এতে আসক্তি তৈরি হয়, যা সিগারেট বা মাদকের মতোই মারাত্মক। ইন্টারনেট আসক্তির কারণ : কৌতূহল ও উৎসাহ : ইন্টারনেট নতুন ব্যবহারকারীদের অনেকেই ব্যাপক উৎসাহের সাথে প্রায় সব লিংকে ক্লিক করে দেখে সেখানে কী আছে। সাইট থেকে ঘুরে ঘুরে নিত্য নতুন তথ্য-বিনোদনের আবিষ্কারে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে অনলাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেয়। তথ্য নিয়ে হিমশিম খাওয়া : ইন্টারনেট এখন সব বয়স ও পেশার লোকের জন্য এক বিশাল তথ্য ভাণ্ডার। পেশার কারণেই হোক বা শখের কারণেই হোক নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহের নেশা একজন মানুষকে এমনভাবে পেয়ে...

প্রবন্ধ রচনা : বয়স্ক শিক্ষা

Image
ভূমিকা : শিক্ষা সর্বজনীন ও মৌলিক অধিকার। জাতির উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই শিক্ষাই জাতির উন্নতির চাবিকাঠি। একটি জাতিকে বা একটা দেশকে উন্নত করতে হলে প্রথমেই চলে আসে সে দেশের বা সে জাতির শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া ব্যক্তি তথা জাতির অন্তনিহিত শক্তির কোনো বিকাশ সাধন হতে পারে না। বয়স্ক শিক্ষা শিক্ষার বিবরণ : শিক্ষা বলতে অনেকেই কোনোকিছু সম্বন্ধে জানা বা বিষয়টিকে অধিগত করা বুঝি। কিন্তু শিক্ষার অর্থ এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা বলতে মানুষের সমগ্র দেহ ও মনের সুপ্ত কোষগুলোর বিকাশ সাধন করা বোঝায়। শিক্ষা একটি নিরবচ্ছিন্ন ধারা যার মাধ্যমে মানুষ আধাশক্তি বিকাশের ক্ষেতে এগিয়ে যায়। শিক্ষা মানুষের জীবন পথের পাথেয়। আমাদের দেশের শিক্ষার হার : আমাদের দেশের শিক্ষিতের হারের দিকে তাকালে অবাক হতে হয়। আধুনিক বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষারহার ১ শতভাগ। আমাদের দেশে মাত্র ৩০/৩১ ভাগ। তাই তো আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, ধ্যান-ধারণা বদলানো দরকার। তবে গোটা সমাজের জীবন ব্যবস্থা বদলাতে হলে আমাদের আসতে হবে শিক্ষার উন্নয়নের দিকে। আমাদের দেশের লোককে শিক্ষিত করে না তোলা পর্যন্ত কোনো উ...

প্রবন্ধ রচনা : কবি জীবনানন্দ দাশ

Image
ভূমিকা : আমবাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি যাঁর কাব্যে রূপময় হয়ে উঠেছে এবং একই সঙ্গে আধুনিক নাগরিক জীবনের হতাশা, নিঃসঙ্গতা, বিষাদ ও সংশয়ের চিত্র যাঁর কবিতায় দীপ্যমান তিনি রূপসি বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ। স্বচ্ছ, সুন্দর, শাস্ত্র ও স্নিগ্ধ রোমান্টিক কবিতার স্রষ্টা হিসেবে তিনি স্মরণীয় ও বরণীয়। নিসর্গ সচেতন স্বদেশপ্রেমী কবি জীবনানন্দ দাশ আধুনিক বাংলা কাব্য গগনে উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। কবি জীবনানন্দ দাশ জন্ম ও শিক্ষা : কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ এবং মাতা কুসুমকুমারী দাশ। জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিক এবং ব্রজমোহন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আই.এ পাশ করেন। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে বিএ অনার্স ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। নতুন বোধের উন্মেষ : বিংশ শতাব্দী ব্যাপী রবীন্দ্র প্রতিভার প্রবল মাধ্যাকর্ষণ থেকে বেরিয়ে ত্রিশের দশকের বাঙালি কবি সাহিত্যিকরা এক নতুন বলয় নির্মাণ করতে চাইলেন। সেই নতুন বলয়ের বলীয়ান ব্যক্তিত্ব নিঃসন্দেহে জীব...

প্রবন্ধ রচনা : সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ

Image
ভূমিকা : বাংলাদেশ আমাদের দেশ। এই দেশে আমাদের জন্ম। এ দেশের আলোহাওয়ায় আমরা বেঁচে থাকি। এদেশকে নিয়ে আমরা উজ্জ্বল আগামীর স্বপ্ন দেখি। ধনে মানে গৌরবে এদেশ একদিন পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। একটি উন্নত দেশ হিসেবে পৃথিবীতে পরিচিতি লাভ করবে। এমন সম্ভাবনাকে বুকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন দিক থেকে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এই সম্ভাবনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও আমরা লাভ করেছি। সম্প্রতি জাতিসংঘ বাংলাদেশকে অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা বাংলাদেশের এক বড়ো অর্জন। ব্যবসায়-বাণিজ্য, তথ্য প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ, জনশক্তি, পর্যটন শিল্পসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। ত্রিশ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে এই সম্ভাবনাকে আমাদের বাস্তবে রূপ দিতে হবে। সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ সম্ভাবনার নানা দিগন্ত : অনেক দিক দিয়েই বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশ। প্রাকৃতিক সম্পদের প্রচুর সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে খনিজ সম্পদ ও সমুদ্র সম্পদই প্রধান। খনিজ সম্পাদের মধ্যে গ্যাসই প্রধান। নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্...

প্রবন্ধ রচনা : বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ

Image
ভূমিকা : বন্য পরিবেশে বন্যপ্রাণীদের সৌন্দর্য বিকাশের যেমন যথার্থ ক্ষেত্র, বন্যপ্রাণী ছাড়া বনের সৌন্দর্যের পূর্ণতা তেমনই অসম্ভব। অথচ কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষ সংকীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে যথেচ্ছ অরণ্যনিধনে মত্ত হয়েছে। অরণ্যের বিস্তার যত কমছে বন্যপ্রাণীরা ততই হারাচ্ছে তাদের স্বচ্ছন্দ বিচরণের স্থান অরণ্যের অধিকার। ফলে বণ্যপ্রাণীরা যেমন বসবাসের স্থান হারাচ্ছে, সেই সঙ্গে নির্বিচারে নিধনে বন্যপ্রাণী অবলুপ্ত হতে চলেছে। অথচ, মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ জরুরি। Save Animal বন ও বন্যপ্রাণীর সম্পর্ক : যে প্রাণী সাধারণত গৃহে পালন করা হয় না, কিন্তু অরণ্যে বা বনে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে তাদের বন্যপ্রাণী বলে। বন ও বন্যপ্রাণীর সম্পর্ক অচ্ছেদ্য। একটির আলোচনা করতে গেলে স্বাভাবিকভাবে অপরটি এসে পড়ে। বন ছাড়া বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়। আবার বন্যপ্রাণী ছাড়াও বনের সৌন্দর্যের পূর্ণতা সম্ভব নয়। তাই বন ও বন্যপ্রাণী উভয়ের অস্তিত্ব রক্ষা জরুরি। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী : বাংলাদেশের প্রকৃতির কোলে যে প্রাণীরা স্বাধীনভাবে বিচরণ করে তাদের এদেশের বন্যপ্রাণী বলা যায়। তারা অরণ্য...

প্রবন্ধ রচনা : বিদ্যালয় আঙিনায় বাগান

ভূমিকা : আমাদের বিদ্যালয়ের নাম উজান গোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অত্যন্ত রুচিশীল মানুষ। তাঁর উৎসাহে আমরা বিদ্যালয়ের আঙিনায় একটি বাগান করেছি। নানা ফুলগাছে বাগানটি সুন্দর হয়ে উঠেছে। বর্ণনা : আঙিনাটি বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। আস্তিনার দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে বেশ খানিকটা জায়গাজুড়ে আমরা একটি বাগান করেছি। বাগানে বিভিন্ন জাতের ফুলগাছ লাগানো হয়েছে দুবছর আগে। সব গাছেই ফুল ধরেছে। গোলাপ আমাদের সবারই প্রিয় ফুল বলে বেশি বেশি গোলাপ লাগানো হয়েছে। আমাদের প্রধান শিক্ষকের পছন্দের বেলি ফুলের গাছও লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া জুই, জবা, গাঁদা, হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা ইত্যাদি ফুলে গাছগুলো ভরে থাকে। গুরুত্ব : ফুলের সৌরভ আমাদের আনন্দ দেয়। বাগানটি দক্ষিণ দিকে হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে বসেই আমরা সুগন্ধ পাই। দক্ষিণের বাতাস ফুলের সৌরভ নিয়ে আসে। একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বাংলা নববর্ষ ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য অনেকেই ফুল নিতে আসে। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্যও অনেকে আসে। তাদের ফুল দিয়ে আমাদের খুব আনন্দ হয়। আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাজগোজের...

প্রবন্ধ রচনা : চন্দ্রাভিযান

ভূমিকা : অজানা কে জানা এবং দুর্জয় কে জয় করার আকাঙ্ক্ষা মানুষের স্বভাবজাত। চাঁদের বুকে পদচিহ্ন এঁকে দিয়ে মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। এর সাথে সাথে সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। চাঁদে অভিযান : মানুষ মহাশূন্যের রহস্য উদ্ঘাটনের সূচনালগ্নেই চাঁদে যান চালাতে শুরু করে। মহাকাশ গবেষণার সর্বোৎকৃষ্ট কেন্দ্র চাঁদ তাই ১৯৫৯, ১৯৬১, ১৯৬২ সালে প্রবল আকাঙ্ক্ষা ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে একের পর এক অভিযান। অবশেষে ১৯৬৯ সালের ২০শে জুলাই চন্দ্রাভিযান সফল হয়। মহাশূন্যে প্রথম অভিযাত্রী : ১৯৫৭ সালে রাশিয়া মহাশূন্যে প্রায় আধা টন ওজনের যে স্পুটনিকটি পাঠাতে সক্ষম হয়, তা ছিল তাদের প্রেরিত দ্বিতীয় স্পুটনিক। এতে লাইকা নামক একটি কুকুরকে সওয়ারি করা হয়েছিল। জীবদেহের ওপর মহাশূন্যের কী প্রতিক্রিয়া হয়, তা জানাই ছিল এর উদ্দেশ্য। তারপর রাশিয়ার দুঃসাহসী তরুণ ইউরি গ্যাগারিন সমগ্র বিশ্বের মানবকুলকে বিস্মিত করে মহাশূন্যে পাড়ি জমান। ইউরি গ্যাগারিনই ছিলেন মহাশূন্য পরিভ্রমণকারী প্রথম মানুষ। পরবর্তীকালে আমেরিকা ও রাশিয়ার আরও কয়েকজন বৈজ্ঞানিক মহাশূন্য পরিভ্রমণ করেন এবং বেশ কয়েক দিন ধরে মহাশূন্যে...

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের প্রাণিজগৎ

ভূমিকা : দুনিয়াজুড়ে রয়েছে বিচিত্র প্রাণীর বাস। এদের কেউ বাস করে পানিতে, কেউ বাস করে ডাঙায়। বাংলাদেশেও রয়েছে অনেক রকমের প্রাণী। গৃহপালিত পশু বা প্রাণী : আমরা যেসব পশু বা প্রাণীকে গৃহে লালন পালন করে বড় করে তুলি, সেগুলোকে বলে গৃহপালিত প্রাণী। বাংলাদেশের গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির বর্ণনা নিচে উপস্থাপন করা হলো— গরু : আমাদের দেশে গৃহপালিত পশুদের মধ্যে গরুই শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করে আছে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গরু দেখতে পাওয়া যায়। গরুর সবকিছুই মানুষের কাজে লাগে। গরুর দুধ খুব পুষ্টিকর খাদ্য।  ভেড়া : ভেড়া আমাদের দেশে অতিপরিচিত গৃহপালিত প্রাণী। এটি লোমশ প্রাণী। ভেড়ার লোম দিয়ে কম্বল, কার্পেট ইত্যাদি তৈরি হয়। এর মাংস খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছাগল : গৃহপালিত প্রাণীগুলোর মধ্যে ছাগল সবচেয়ে পরিচিত প্রাণী। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতে ছাগল দেখা যায়। ছাগল সাধারণত কালো, সাদা, ধূসর, মিশ্র রঙের হয়ে থাকে। কুকুর ও বিড়াল : কুকুর ও বিড়াল এ দেশের দুটি জনপ্রিয় প্রাণী। এ দেশের মানুষ এগুলোকে শখ করে...