Posts

Showing posts with the label খুদে গল্প

খুদে গল্প : সাঁওতালের সংসার

‘সাঁওতালের সংসার’ বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : সাঁওতালের সংসার লিটু সাঁওতাল চব্বিশ ঘণ্টা নেশা করে থাকা এক মাতাল মানুষ। গ্রামের সকলে তাই তাকে ‘মাতাল লিটু’ নামে চেনে ও ডাকে। সাঁওতাল পাড়াকে আরও অপমান করে সকলে ‘বুনোপাড়া’ বলে ডাকে। এই বুনোপাড়ায় আনুমানিক ৫০-৬০ ঘর বুনো বা সাঁওতালদের আবাস। বুনোপাড়ার প্রত্যেকের আলাদা নাম থাকা সত্ত্বেও ভদ্রসমাজ সবাইকে ‘বুনো’ বলেই ডাকে। শ্রেণিশোষণের এ এক চাক্ষুস রূপ। লিটু বুনো পারিবারিক জীবনে দুসন্তানের জনক। তার স্ত্রী বনশ্রীই হলো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। বুনোপাড়ার সকল নারী পুরুষের পাশাপাশি সবরকম কায়িক পরিশ্রমে সিদ্ধহস্ত। মাটিকাটা মাথায় করে মাটিভর্তি ডালি বহন, সবরকম কৃষিকাজে ঘরকন্নার খুঁটিনাটিসহ গৃহস্থালি যেকোনো কাজে সাঁওতাল নারীরা নিয়মিত কামলা হিসেবে কাজ করে থাকে। বনশ্রীও আর দশজন সাঁওতাল বধূর মতো কামলা খেটে পরিবারের আহার জোগায়। তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া বাঁধে। বনশ্রী প্রতিদিন সকালে স্বামী-সন্তানের জন্য রান্না করে রেখে তবেই কাজের উদ্দেশ্যে বাইরে যায়। তবু সাঁঝবেলায় ফিরে এসে স্বামীর বেপরোয়া মাতলামি স্বাভাবিকভাব...

খুদে গল্প : জনপ্রতিনিধি

'জনপ্রতিনিধি' শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখো : জনপ্রতিনিধি মানুষের সেবা করার মধ্য দিয়ে নিজেকে অমর করার স্বপ্ন কামালের অনেক দিনের। সামান্য একজন গৃহস্থের বড় সন্তান কামাল। দুই ভাই আর তিন বোনের সংসার পরিচালনার ভার একা বাবার পক্ষে চালানো দুঃসাধ্য বলে কামালকেও ধরতে হয় সংসারের হাল। পাঁচ ভাইবোনের লেখাপড়া-খাওয়া-পরাসহ অন্যান্য চাহিদা মেটাতে শুধু বিঘা চারেক জমির চাষাবাদের ওপরই নির্ভর করলে চলে না। তাই কামালকে বাড়তি আয়-রোজগারের জন্য কলেজের লেখাপড়া ছেড়ে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষের ব্যবসা শুরু করতে হয়। ভাড়ায় চালিত জমিচাষের ওই ট্রাক্টর তখন গোটা গ্রামের একমাত্র ভরসা হওয়ায় বসে থাকা লাগত না একটি দিনও। দিনকে দিন চাহিদা ও কর্মপরিধি বাড়ার কারণে একজন সহযোগী অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে কামালের। কামাল বাল্যবন্ধু অলিকে তার ট্রাক্টরের সহযোগী হিসেবে নিল। দুবন্ধু মিলেমিশে সারাদিনে কান্তার বিলে বিঘের পর বিঘে জমি ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে। সৎ ও নির্লোভ হওয়ার ফলস্বরূপ অর্থনৈতিকভাবেও কামাল স্বাবলম্বী ও সচ্ছল হয়ে ওঠে। দুভাইকে শহরে রেখে ল...

খুদে গল্প : একজন সর্বংসহা মা

‘একজন সর্বংসহা মা' শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা করো। একজন সর্বংসহা মা কথায় আছে— 'অভাব যখন দুয়ারে এসে দাঁড়ায়, ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়। কিন্তু উল্লিখিত প্রবাদ শুধু নারী-পুরুষের অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রেম ও পরিণতির ক্ষেত্রেই হয়তো সত্য, অনন্য ভালোবাসার ক্ষেত্রে উক্ত প্রবাদ ক্রিয়াশীল নয়। দুপুত্র আর স্বামী নিয়ে জরিনা বেগমের ছোট্ট সংসার। বড় ছেলে গফুর উচ্চ মাধ্যমিক পড়ছে নাটোরের সিরাজদ্দৌলা সরকারি কলেজে। আর ছোট ছেলে সালাম গ্রামেরই হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে। স্বামীর বেকারত্ব ও কুঁড়েমির কারণে দুসন্তানের লেখাপড়া ও সংসারের বিপুল বোঝা প্রায় এক কাঁধেই বহন করতে হয় জরিনা বেগমকে। বড় ছেলেকে হোস্টেলে রেখে লেখাপড়া করাতে প্রতি মাসে নির্ধারিত দেড় হাজার টাকা দিতে জরিনা বেগমকে কী পরিশ্রমটাই না করতে হয়! হাঁস-গুরু-ছাগল পালনের পাশাপাশি নিজের বাড়িতেই জায়গা করে ছোট্ট একটা পোল্ট্রি খামার করেছেন তিনি। প্রতিমাসে দুশর মতো ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা কিনে নিরলস সেবাযত্নের পর মাসশেষে সেসব ওজন অনুপাতে বিক্রি করে কিছু টাকা আয় হয় তাঁর। আর দুটি গাইগরুর দুধ ‘মাস-কা...

খুদে গল্প : ঘুড়ি

‘ঘুড়ি’ বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : ঘুড়ি তখন কেবল সন্ধ্যা নেমেছে, রাত আসেনি। বারান্দায় পড়তে পড়তে আকাশ-বাতাস এক করে কীসের একটা গঁগঁ আওয়াজ। ভয়ে অবাকে-নাকি আনন্দে জানি না, মাকে ডাক দিলাম। — কিরে! হলো কী! খানিকখুন হয়নি পইড়তে বসিচু। একোনি এরোম ম্যা ম্যা করতিচু ক্যা? — মা, এটি আইসি দ্যাকো কিরোমগা একটা গঁগঁ আওয়াজ হইচ্চে। শুইনতে পাচ্চো?  আমার হেবি ভয় লাগতিচে মা। – হারামজাদা পড়াচোর কোতিকার! মুনে হুইচ্ছে গঁগঁ শব্দ কোতি থাইকি আসতিচে তা য়ুই জানে না! মিস্তিরিবাড়ির বারিক চ্যাংরাডা কদমতলাত যায় কোয়ারি উড়াচ্চে। অইডি কোয়ারির শব্দ বাপ। ভয় নাই। ভালো কইরি পইড়ি যা। আমি কুটিডা লাগায় আসতিচি ৷ সেই প্রথম কোয়ারির নাম শুনলাম মার মুখে। তখন আমি হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে। কোয়ারির সঙ্গে সঙ্গে সে রাতের মতো পড়াশোনা আমার আকাশে উঠল। সাথে ঘুমও। সারারাত চিন্তা করলাম কতদিক কতপথ কতকিছুর! সেই গঁগঁ আওয়াজ দুচোখ বন্ধ করে শিশুতোষ পথে হেঁটে বেড়ালে আজও বোধহয় শুনতে পাব সেই আওয়াজ। সে রাতের পরেরদিন আরবি বাদ। সকালে ঘুম থেকে উঠেই আরবি পড়ার নাম করে সোজা ছুট মিস্ত্...

খুদে গল্প : স্মৃতিকাতরতা

'স্মৃতিকাতরতা' বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : স্মৃতিকাতরতা সবারই কোনো না কোনো শৈশব স্মৃতি থাকে, যা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় সারা জীবন। আমি রাসেল আর আমার আছে এক ব্যতিক্রমী স্মৃতি যা কখনো ভুলতে পারি না। ঘুরে ফিরে মনের মধ্যে জেগে ওঠে সেই অবিনাশী স্মৃতি। তখন আমার বয়স বেশি নয়। সাত কি আট বছর। দেশে চলছিল মুক্তিযুদ্ধ। রাত সাড়ে দশটার সময় হঠাৎ দরজায় কারা যেন কড়া নাড়ল। ঘরের সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। আমার বাবা সবাইকে চুপচাপ থাকতে বললেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আরও জোরে দরজায় লাথির আওয়াজ শোনা গেল। বাবা তখন মা, ছোট ভাই ও আমাকে অন্য রুমে পাঠিয়ে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন। মা দোয়া দরুদ পড়ে সবার গায়ে ফুঁ দিলেন। আর আল্লাহকে ডাকতে লাগলেন। আমি দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতে লাগলাম কী হয়। বাবা কম্পিত হস্তে দরজাটা খুলতেই চার-পাঁচজন মিলিটারি ঘরে প্রবেশ করল। মিলিটারির সাথেই ছিল গ্রামের এক রাজাকার আনসার আলী। আনসার আলী বাবাকে দেখিয়ে বলল— ইয়ে মুক্তি হ্যায়। মিলিটারি তখন বাবার দিকে অস্ত্র তাক করে একযোগে গুলি করা শুরু করল। বাবার বুক মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁঝরা হয়ে গে...

খুদে গল্প : হারানো সম্পর্ক

‘হারানো সম্পর্ক' বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : হারানো সম্পর্ক ট্রেনের কামরায় হঠাৎ পা ছুঁয়ে সালাম করলেন এক গরিব বৃদ্ধ। ভড়কে গেলেন মাসুদ সাহেব। লোকটিকে কোথায় যেন দেখেছেন বলে মনে হলো। এলোমেলো দাড়ি গোফ আর ময়লা কাপড়ে ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না। কিছুক্ষণ যেতেই মাসুদ সাহেবের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে কোন এক রাতের কথা। যে রাতে কাল বৈশাখীর ঝড় লণ্ডভণ্ড করেছিল পুরো পাঁচদোনা গ্রাম। গ্রামের সকল কাঁচাবাড়ি উপড়ে ফেলেছিল সেই ঝড়। ঘুমন্ত মানুষগুলো অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাতাসের তাণ্ডবের কাছে। কারো ঘরের উপর বড় গাছ উপড়ে পড়েছিল। গাছের চাপায় পিষ্ট হয়ে মরেছে কতো যে মানুষ! শুধু কয়েকটি পাকা বাড়ি ছাড়া অধিকাংশ বাড়িঘর কালবৈশাখীর নিষ্ঠুর শিকার হয়। মাসুদ সাহেবের ঘরটি একতলা পাকা বিল্ডিং ছিল। সেই সুবাদে ঝড়ের ধ্বংসলীলা থেকে তিনি ও তার পরিবার রক্ষা পায়। তার বয়স তখন পনের বছর। কিন্তু এখনো তিনি সেই দুঃসহ স্মৃতি ভোলেননি। সে রাত কেটে সকাল হয়। বাইরে বের হয়ে যা দেখলেন তা রীতিমতো লোমহর্ষক ও হৃদয় বিদারক। পাশের বাড়ির বিধবা সকিনা বেগম একটি ব...

খুদে গল্প : প্রথা

'প্রথা' বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : প্রথা বিয়ের ছয় মাস পরই লাশ হয়ে বাবার বাড়ি ফিরতে হলো তানিয়াকে। সে ছিল তার বাবার একমাত্র মেয়ে। বাবা একজন কৃষক। অন্যের জমিতে চাষ করে কোনো রকম সংসার চালাতেন তিনি। মেয়ে তানিয়ার বয়স সতেরো পূর্ণ হলো। গরিব ঘরের মেয়ে হলেও তার রূপ লাবণ্যের এতটুকুও ঘাটতি নেই। মেয়ের রূপের বদৌলতে তানিয়ার বাবা পাড়ার যুবক ছেলেদের ভালোই সম্মান পান। চায়ের দোকানে বসলে অন্যজন দাম মেটায়। হাঁটতে চলতে সালামেরও অভাব হয় না। তানিয়া সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। এরপর অর্থসংকটে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। এখন সে মায়ের সাথে ঘরের কাজে সাহায্য করে। বাবা-মায়ের আশা ভালো ঘর দেখে তাকে বিয়ে দেবে। ইতোমধ্যে তেমন একটি প্রস্তাব এসে গেল। হাওলাদার বাড়ির মেঝ মিয়ার বড় ছেলের প্রস্তাব গ্রামের প্রভাব প্রতিপত্তি ও অর্থসম্পদে এ পরিবার অনন্য। ছেলেটির নাম আজমত। সাত বছর কুয়েতে ছিল। ভালো টাকা পয়সা রোজগার করে দেশে ফিরেছে। লেখাপড়া তেমন করেনি। দেখতে মোটাসোটা, গায়ের রং কৃষ্ণবর্ণ এবং খাটো। বয়সে তানিয়ার চেয়ে একুশ বছরের বড়। যাহোক, অর্থকড়ি আর...

খুদে গল্প : ভালোবাসা

'ভালোবাসা' বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : ভালোবাসা মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েও মায়ের সেবা করার জন্য ভর্তি হয়নি শিলা। তার কাছে মা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাইতো, এত বড় সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও সেটি হাতছাড়া করতে এতটুকু কুণ্ঠাবোধ সে করেনি। ছোটবেলা থেকেই শিলার স্বপ্ন ছিল সে ডাক্তার হবে। সে মেধাও ছিল তার। ক্লাসের প্রতিটি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়ে সে প্রথম হতো। শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল একদিন এই মেয়ে বড় কিছু একটা হবে। এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ ফাইভ এবং এইচএসসিতেও অনুরূপ ফলাফল করায় সে প্রত্যাশা পূরণের সম্ভাবনা আরো দৃঢ় হতে থাকে। স্বপ্ন পূরণে মেডিকেল ভর্তি কোচিংয়ে ভর্তি হয়। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে সে কৃতিত্ব অর্জন করে। মেডিকেল ভর্তি যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, ঠিক এমন সময় ঘটে এক ঘটনা। শিলার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। বড় ভাই আনোয়ার পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কিছুদিন আগেই বড় ভাইকে বিয়ে করিয়ে নতুন ভাবি ঘরে আনে। ভাবি উচ্চ-বিলাসী ও খিটখিটে স্বভাবের। শিলার মাকে কোনোভাবে সহ্য করে না সে। ...

খুদে গল্প : কালের সাক্ষী

'কালের সাক্ষী' বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : কালের সাক্ষী স্টেশনের প্লাটফর্মে ছেলেটিকে ঘুমাতে দেখে চমকে উঠল জিনিয়া। সে ভাবল ছেলেটি এখানে কেন। গায়ে কোনো জামা নেই ছেলেটির। পরনে পুরনো ছেড়া একটি লুঙ্গি। রোগা শরীর। না খেয়ে খেয়ে পেট পিঠের সাথে লেগে যাওয়ার উপক্রম। মাথায় হাত দিয়ে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে জিনিয়া। চোখগুলো যেন মেলতে পারছিল না। কথা বলার শক্তিটাও মনে হয় নেই। হাত ধরে টেনে বসায় ছেলেটিকে। জিনিয়ার গ্রামের স্কুলের কেরানি ছিলেন রকিব মিয়া। তার তিন ছেলে। বড় ছেলে পানিতে পড়ে মারা যায়। মেঝ ছেলে রিক্শা চালাতো। কিছুদিন না যেতেই একটি দুর্ঘটনায় সেও মারা যায়। ছোট ছেলেটি বাবার সাথেই স্কুলের টেবিল চেয়ার মোছার কাজ করতো। জিনিয়াদের বাড়িতে প্রায়ই সে আসতো। ঘরের টুকটাক কাজ করে দিত। খুব আদর আহ্লাদ পেত সবার কাছে। কিছুদিন আগে স্কুলের কেরানির চাকুরিটি চলে যায়। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির এক নিকট আত্মীয়কে সে পদে নিযুক্ত করে। রকিব মিয়াকে ছাটাই করা হয়। চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন তিনি। স্ত্রী তার আগেই মারা গেছে। ছোট ছেলেটি আর তিনি কি করে চ...

খুদে গল্প : যন্ত্রণা

'যন্ত্রণা' বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : যন্ত্রণা বাবাকে সেবা করতে না পারার যন্ত্রণায় প্রতিদিন দগ্ধ হয় তামিম। সে তার বাবার একমাত্র ছেলে ছিল। অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছে তার বাবা। সে এখন ঢাকায় ছোট একটি চাকরি করে। বাবাও একটি বেসরকারী সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। ছয় মাস আগে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গলা দিয়ে কাশির সাথে রক্ত পড়ে। পেটের পীড়াটাও বেশ। যত বড় বড় ডাক্তার আছে সবাইকেই দেখানো হয়েছে। কিন্তু কোনো উন্নতি নেই। প্রতিনিয়ত ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে তার শরীর। তামিমের ব্যাংক ব্যালেন্স তেমন ছিল না। চাকরিতে সবেমাত্র যোগদান করেছে। সামান্য বেতনে পরিবারের খরচই মেটে না। তার ওপর বাবার চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। কী করবে ভেবে পায় না তামিম। এক বন্ধুর পরামর্শে বিভিন্ন জায়গায় সাহায্যের আবেদন করে। কিছু টাকা সাহায্যও পায়। বাবার কয়েকটি মেডিকেল টেস্ট করতে বেশ কিছু টাকা ব্যয় হয়। বাড়ির যেটুকু সম্পদ ছিল তা বিক্রি করতে বাধ্য হয়। কিন্তু তারপরও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ হয় না। তার এক কাছের বন্ধু পঞ্চাশ হাজার ...

খুদে গল্প : হঠাৎ দুর্ঘটনা

‘হঠাৎ দুর্ঘটনা' বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : হঠাৎ দুর্ঘটনা হঠাৎ রিক্শার ডান চাকাটি খুলে দৌড়াতে লাগল। আমি ও শফিক হতভম্ব হয়ে যে যার মতো লাফিয়ে পড়লাম। সঙ্গে সঙ্গে একটি দ্রুতগামী বাস শফিককে ধাক্কা দিয়ে চলে গেল। শফিকের দেহটি জড়িয়ে ধরে উদভ্রান্তের মতো বসে পড়লাম। আরও অনেকে ছুটে এলো। বাসটিকে আটকাবার জন্য সবাই ধর ধর করে চিৎকার করে উঠল। কিন্তু বাসটি মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল। শফিকের দুর্বল দেহটি পড়ে আছে। সে আমার দিকে অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছে। আমি কী করব ভেবে পাচ্ছি না। ঠিক এমন সময় একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনলাম— রাফিন কী হয়েছে? আমি পাশ ফিরতেই দেখলাম আমাদের বাংলা শিক্ষক ইব্রাহিম কবীর স্যারকে। আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলাম। তিনি আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, বিপদে শান্ত থাকতে হয়, তোমার বন্ধুর এ অবস্থায় তোমাকে ভেঙে পড়লে চলবে না। শফিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। স্যার শফিককে রক্ত দিলেন এবং আমাকে কিছু খাবার কিনে দিলেন। খবর পেয়ে আমার অন্যান্য বন্ধুরাও হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছে। শফিকের পরিবারকে খবর দেওয়া হলো। তারা সন্ধ্যা নাগাদ হাসপাতালে...

খুদে গল্প : নতুন ঠিকানা

‘নতুন ঠিকানা’ বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : নতুন ঠিকানা বাড়িটা যখন খুঁজে পেলাম, দিনের আলো তখন ফুরিয়ে এসেছে। তবু শেষ পর্যন্ত বাড়িটা যে খুঁজে পেয়েছি তাতেই স্বস্তি। বাস থেকে নামার পর বেশ অনেকটা পথ হেঁটে গ্রামে আসতে হয়েছে। বাসস্ট্যান্ডে কেউ আমাকে এগিয়ে নিতে আসেনি দেখে অবাক হয়েছি। এ গ্রামের রেলস্টেশনের নতুন স্টেশন মাস্টার হয়ে এসেছি। কিছুই চিনি না। এতটুকু সৌজন্যতা পেতেই পারতাম। তবু ভালো, চিঠিতে নতুন বাড়ির ঠিকানাটা ছিল বলে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে চলে আসা গেছে। সরকারি কোয়ার্টারে সংস্কার কাজ চলছে বিধায় রেল কর্তৃপক্ষের আদেশে স্থানীয় প্রশাসন বাড়িটির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। নতুন বাড়িতে তালা ঝুলছে। আমি বারান্দায় রাখা চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছি। এমন সময় হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো রেলওয়ের এক কর্মচারী। এসেই লম্বা সালাম দিয়ে বলল, স্যার, আমি শাহাদৎ। বাসস্ট্যান্ডে আপনার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। আপনি কোনদিক দিয়ে চলে এলেন দেখতে পাইনি।' তার কথা শুনে মনের ক্ষোভ অনেকটা কমে গেল। বললাম, 'ঠিক আছে, সমস্যা নেই।' লোকটা তালা খুলে বি...

খুদে গল্প : বন্ধুত্ব

'বন্ধুত্ব' বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : বন্ধুত্ব হোস্টেলের বিছানায় একা কাতরাতে থাকে সজীব। দুপুর থেকেই শরীরটা খারাপ লাগছিল। সন্ধ্যার পর জ্বর যেন একেবারে জেঁকে বসেছে। সমস্ত শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, আর জ্বরে যেন গা পুড়ে যাচ্ছে। এদিকে পরীক্ষা শেষ বলে সবাই যে যার বাড়িতে চলে গেছে। কিন্তু বাসে, ট্রেনে কোথাও তাৎক্ষণিক টিকিট পায়নি বলে বাধ্য হয়ে সজীবকে শনিবার পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। এর মধ্যে হঠাৎ জ্বরটা যেন মহাবিপত্তি ঘটাল এই জনমানবহীন হোস্টেলে। জ্বরের প্রভাবে এক সময় প্রায় অচেতন হয়ে পড়ে সজীব। হঠাৎ তার চৈতন্য ফিরে আসে বন্ধু রাকিবের ডাকাডাকিতে। রাকিব এদিকে এসেছিল কী একটা কাজে। সজীবের সাথে গল্প করতে এসে দেখে বিছানায় পড়ে আছে সে। বন্ধুর গায়ে হাত দিয়ে উত্তাপের আধিক্যে অবাক হয়ে যায় রাকিব। উৎকণ্ঠিত গলায় বলে, 'একি অবস্থা তোর! জ্বরে তো শরীর পুড়ে যাচ্ছে।' রাকিব আর কালবিলম্ব না করে বন্ধুর মাথায় পানি ঢালার ব্যবস্থা করে। সেবা শুশ্ৰূষা করে একটু সুস্থ হবার পর তাকে নিয়ে যায় ডাক্তারের কাছে। এরপর সারারাত আর ঘুমায়নি ...

খুদে গল্প : খোলাবাড়িয়ার সম্মুখযুদ্ধ

‘খোলাবাড়িয়ার সম্মুখযুদ্ধ' শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা করো : খোলাবাড়িয়ার সম্মুখযুদ্ধ খোলাবাড়িয়া গ্রামে উপযুক্ত পশ্চাদৃভূমি এবং নদী থাকায় গ্রামটিকে নিরাপদ আশ্রয় ভেবে মুক্তিযোদ্ধারা নভেম্বরের ৪ তারিখেই এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং নিজেদের সহযোগিতার জন্য গ্রামের অনেককেই গেরিলা প্রশিক্ষণ প্রদান করতেন। গেরিলা কমান্ডার চিত্তরঞ্জন রায়ের নেতৃত্বে আব্দুস সাত্তার, আফাজ উদ্দিন, আবুল হোসেন, আব্দুস সামাদ দেওয়ান, দিলীপ কুমার সরকার, বেরাসত আলী, আজমল হোসেন প্রমুখ গেরিলা যোদ্ধারা এই প্রাথমিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতেন। কাউসার আলীসহ গ্রামের অন্যরা চিত্তরঞ্জন রায়ের এসব সহযোদ্ধাদের কাছে যুদ্ধের কলাকৌশল শিখে নিয়ে যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুতি নিতে থাকেন। খোলাবাড়িয়া গ্রামের সর্বসাধারণের সহযোগিতা নিয়ে নভেম্বর মাসেই মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সহযোদ্ধারা 'ভি', 'ইউ' ও 'এল্' আকৃতির ৯টি বাংকারে খুঁড়ে যুদ্ধের জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে থাকেন। বাংকারে তৈরির পর গ্রামের কাউকে এলাকার বাইরে যেতে দেননি মুক্তিযোদ্ধারা, অর্ধবৃত্তাকারে যাতে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা ফা...

খুদে গল্প : বৃষ্টিভেজা বিকেল

‘বৃষ্টিভেজা বিকেল’ বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : বৃষ্টিভেজা বিকেল মার্জিয়া আজ সারাদিন ঘরে, সকাল থেকে ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আজ আর বের হতে পারেনি সে। মার্জিয়া ২৭ বছরের একজন সাধারণ মেয়ে, টিউশনি আর গানের স্কুলে গান শেখায়। বাবা-মা থাকে গ্রামে। ঢাকা শহরে সে একটি কর্মজীবী মেয়েদের হোস্টেলে থাকে। ছাত্রছাত্রী আর কাজের জায়গাতে পরিচিত কয়েকজন ছাড়া মার্জিয়ার বেশি ভালো করে কথা বলার মতো তেমন কেউ নেই। আজ সকাল থেকে মার্জিয়ার মন ভালো নেই। ঘুম থেকে খুব সকালে উঠে অন্যদিনের মতো সে বের হতে পারেনি। মার্জিয়া তার ঘরের ছোট্ট জানালার সামনে বসে বৃষ্টির ফোঁটা দেখছে। জানালার পাশের রাস্তাটি একদম ফাঁকা। অন্যদিনের মতো ছোটো বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে না। পাশের বাসার কাজের মেয়েগুলো কাঁচা বাজার নিয়ে বাসায় ফিরছে না। ভ্যানের ওপর আজ কোনো দোকানি পসরা সাজিয়ে বসেনি৷ মার্জিয়া বৃষ্টির ফোঁটাগুলো দেখতে দেখতে তার ছোটবেলার কথা ভাবছিল। সে যখন কিশোরী ছিল এমন বৃষ্টির দিনে সে ঘরে বসে থাকত না। তার মায়ের শত বারণ সত্ত্বেও বৃষ্টির সময় উঠানে নেমে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজত অথবা কোনো কোন...

খুদে গল্প : বুলেট

'বুলেট' শিরোনামে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি খুদে গল্প রচনা করো : বুলেট সে দিন রাত থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই পাশের বাড়ির চাচা বাবাকে ডাক দিলেন। দূর থেকে যত টুকু বুঝতে পারলাম ওনারা বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন এবং বাবাকে খুব তাড়াতাড়ি চলে যেতে বললেন। বাবা তার কথায় সে রকমের কোনো ইচ্ছা দেখালেন না। এমনিতেই আমাদের সবার মধ্যে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছিল। কারণ গতকাল পাশের গ্রাম থেকে তিনজনকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। বাড়ি থেকে শোনা যাচ্ছিল থেমে থেমে কোথাও না কোথাও গুলি হচ্ছেই। দুপুরের দিকে বাইরে কারো পায়ের আওয়াজ শুনে বাবা দেখার জন্য বাইরে গেলেন, তারপর আর ফিরে এলেন না। মিলিটারি বাহিনী এসে বাবাকে কিছু কথা জিজ্ঞাসা করার জন্য তুলে নিয়ে যায়। সে সময় বাধা দিতে এলে আমার ছোট চাচা এবং আমার দাদাকেও ধরে নিয়ে যায়। পরের দিন চাচা এবং দাদাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাবাকে আর ছাড়া হয়নি। এক সাথে তিন বন্ধু ছিলেন ওরা। পরের দিন তিনজনকে মাঠের মধ্যে নিয়ে ছেড়ে দিয়ে বলা হয় চলে যাও তোমাদেরকে মুক্তি দেওয়া হলো কিন্তু তারা ক...

খুদে গল্প : ঝরাপাতার গান

‘ঝরাপাতার গান’ বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : ঝরাপাতার গান শীত প্রায় শুরু হয়ে গেছে। সকালে সূর্য একটু দেরি করে উঠেছে। আবার সন্ধে হবার আগেই ঘাসের ডগায় জমে যাচ্ছে কুয়াশার বিন্দু। আর রাতে প্রায় ঘরের কাছেই শোনা যাচ্ছে শেয়াল মামার হুক্কা হুয়া ডাক। এসব কিছু পরিষ্কার বলে দিচ্ছে শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই। আগে এসব কিছু দেখবার মতো সময়ই ছিল না আমার। কখন বর্ষা এলো আর কখন বসন্ত গেল মাঝে শীত এসেছিল কি না। তবে এখন এসব কিছুই আমার সম্বল। এখন প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব আমার কাছে থাকে। কারণ আমার যে সময় অনেক।এক সময় কি ছিল না আমার! বাড়ি, গাড়ি, স্ত্রী, সন্তান, সম্মান সবই ছিল। আমি ছুটছিলাম বাতাসের আগে আর সবাই আমার পিছে। আর আজ, এখন, এই মুহূর্তে আমি একা। আমার স্ত্রী মারা গেছেন বছর কয়েক হলো। সন্তানরা সবাই দেশের বাইরে— যে যার কাজে ব্যস্ত। এখন আমার সঙ্গী এই ইজি চেয়ার। আর বন্ধু জানালার ঠিক ওপাশের জলপাই গাছটা। আমার দিন শুরু হয় সঙ্গীর পিঠে বসে, বন্ধুর সাথে কথা বলতে বলতে। তবে আজকাল নিজেকে আরও বেশি একা মনে হয়। আমার তো অনেক টাকাপয়সা। এদেশের অনেকেই আমাকে এক নামে চেনে। ত...

খুদে গল্প : জানালার ওপাশে

‘জানালার ওপাশে’ শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা করো : জানালার ওপাশে সবাই যখন ক্লাসে নিজের রোল নম্বরটা কীভাবে এক হবে তা-ই নিয়ে ব্যস্ত তখন সাগর সিরিয়ালে সবার শেষে। আমি কখনোই তাকে বা তার পরিবারকে এ নিয়ে মাথা ঘামাতে দেখিনি। হ্যাংলা-পাতলা আবার খুব বেশি লম্বাও নয় সাগর। বেখেয়ালি মনের এই ছেলেটিকেই বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম ক্লাসের প্রথম দিন থেকেই। পোশাক পরিচ্ছদের ব্যাপারে তার উদাসীনতা এতই বেশি যে, ময়লা জামার জন্য প্রায় দিনই স্কুলের পিটিতে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো ওকে। হেডস্যার তো একদিন সবার কাছে মজা করে বলেই দিলেন স্কুলের একমাত্র ছেলে সাগর যাকে কানে ধরতে না দেখলে তার দিনটাই বিফলে যায়। তাই কোনো কোনো দিন পরিষ্কার জামা-কাপড় পরে আসার পরও ওকে কান ধরে দাঁড়াতে হতো। স্কুলে ওর একমাত্র বন্ধু হিসেবে প্রায়ই একটা কথা আমাকে শুনতে হয় সাগর আসলে করে কী? ও ঠিকমতো লেখাপড়া করে না, খেলাধুলা করে না, কখনো আমরা ওকে কোথাও আড্ডাও দিতে দেখিনি। তবে ও করেটা কী? আমি কিছুই বলিনি, বলছে বাংলাদেশের মিডিয়া জগৎ। টানাটানি শুরু হয়ে গেছ...

খুদে গল্প : নিয়তি

‘নিয়তি’ বিষয়ে একটি খুদে গল্প রচনা করো : নিয়তি পশ্চিম আকাশে সূর্য হেলেছে অনেকখানি। আর কিছুক্ষণ পরেই নেমে আসবে অন্ধকার। ঘোর অন্ধকার। সবাই চলে যাবে নিজের ঘরে তার খুব একান্ত কিছু সময়ের জন্য। কেউ মনে রাখবে না আজিজ নামে কেউ ছিল। না অফিস, না বাড়ি কোথাও কেউ ডাকবে না আজিজ সাহেব বা অন্য কিছু বলে। এই মুহূর্তে এসে আজিজ সাহেবের মনে হয় মানুষ খুবই স্বার্থপর। সময়ের সাথে তারাও তাদের রূপ পাল্টায়। প্রথমে পরিবারের কথাই বলি, ছোট ছোট শিশু রেখে যখন তাদের মা মারা গেলেন আজিজ সাহেব তখন আর বিয়ে করেননি। তিনিই সন্তানদের একই সাথে বাবা এবং মায়ের আদর দিয়ে বড় করেছেন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, সন্তান যত বড় হয়েছে, তারা ক্রমেই দূরে চলে গেছে তার কাছ থেকে। এখন সন্তানরা সপ্তাহে বা মাসে এসে খোজ নিয়ে যায় শুধু। আর অফিস সে তো অনেক দূরের কেউ। কাজের বিনিময়ে পয়সা দেয় প্রতি মাসে। কিন্তু এখানেও একটা কথা আছে। একজন মানুষ তার জীবনের ত্রিশ বছর কাটিয়েছিল যেখানে, সেখানে যতই মজুরি দিক তাই বলে কি চাকরির মেয়াদ শেষ হলেই শেষ! পরবর্তীতে একটিবার খোঁজও নেবে না যে লোকটা কেমন আছে? আজ এই...

খুদে গল্প : গাছের বন্ধুত্ব

‘গাছের বন্ধুত্ব’ শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা করো : গাছের বন্ধুত্ব এটা কেমন কথা, গাছ নাকি আবার মানুষের বন্ধু! আচ্ছা আমার একটা প্রশ্ন আছে, গাছ কি কখনো মানুষের বন্ধু হতে পারে? গাছ তো গাছই। সারাদিন এক জায়গাতে দাঁড়িয়ে থাকবে, পশু পাখি এসে ওর ফল, লতা-পাতা খেয়ে যাবে। মুখ থেকে প্রতিবাদ পর্যন্ত বের হয় না। এখন প্রশ্ন হলো, যে কথা বলতে পারে না, চলতে পারে না, সে আমাদের মতো কথা বলা, চলাফেরা করা মানুষের বন্ধু হয় কীভাবে? একটানা এমন করেই দাদুর কাছে কথাগুলো বলে চলেছে ডাবলু। আর দাদু খুব গুরুত্ব দিয়ে শুনছেন ডাবলুর কথা। কিছুক্ষণ বলার পর দাদু ডাবলুকে কাছে ডেকে নিলেন। কাছে ডেকে নিয়ে ডাবলুর নাকটা চেপে ধরলেন দাদু। নিঃশ্বাস নিতে না পেরে ডাবলু চিৎকার করে উঠল। এবার দাদু বলতে শুরু করলেন শোনো ডাবলু, এই তোমার নাকটা আমি চেপে ধরেছিলাম কিছু সময়ের জন্য। আর এই সময়টাতে তোমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল অক্সিজেনের অভাবে। ডাবলুর মুখে কোনো কথা নেই শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে শুনছে। দাদু বলতে থাকেন, তাহলে সারা পৃথিবী থেকে যদি অক্সিজেন চলে যায় তবে কী হবে ডাবলু! ডাবলু বলল, তবে তো সবাই মরে যাব...