Posts

Showing posts with the label ভাবসম্প্রসারণ

ভাবসম্প্রসারণ : আপনার জাতীয় অতীত ইতিহাসে যাহার শ্রদ্ধা নাই, সে যেন স্বদেশ প্রিয়তার স্পর্ধা না করে

আপনার জাতীয় অতীত ইতিহাসে যাহার শ্রদ্ধা নাই, সে যেন স্বদেশ প্রিয়তার স্পর্ধা না করে মূলভাব : একটি দেশের প্রকৃত স্বরূপ ফুটে ওঠে সেই দেশের প্রকৃত ইতিহাসের মধ্যে। মানুষের ভিত্তি যেমন তার অস্তিমজ্জা ঠিক তেমনি একটি দেশের প্রধান ভিত্তি  ঐ দেশের সঠিক ইতিহাস। আর এই ইতিহাসকে সম্মান না করে কেউ দেশকে ভালোবাসার দাবি করতে পারে না। দেশকে ভালোবাসতে হলে অবশ্যই দেশের ইতিহাসের প্রতি অনুগত থাকতে হবে। সম্প্রসারিত ভাব : একজন মানুষের যেমন অনেকটা পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার অতীত ইতিহাসে। ঠিক তেমনি একটি দেশের সত্যিকারের পরিচয় বহন করে তার অতীত ইতিহাস। আমাদের দেশের সত্যিকারের পরিচয় বহন করে তার অতীত ইতিহাস। আমাদের দেশের প্রাচীন ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের মূল্যবোধ গড়ে উঠেছে। আমাদের দেশের রয়েছে সুমহান অতীত ইতিহাস। আমরা ৫২-এ ভাষার জন্য আন্দোলন করেছি। ৬৯-এ গণআন্দোলন করেছি এবং অবশেষে ৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজ আমাদের যত কৃষ্টি, যত সভ্যতা সবকিছুতেই আবর্তন করে আমাদের মহান আত্মত্যাগ। আমরা যদি অতীত ইতিহাস তথা আমাদের সেই গৌরবময় স্বার্ণালী ইতিহাসের অস্তিত্ব ভুলে গিয়ে মিথ্যা স্বদেশ প্রিয়তার...

ভাবসম্প্রসারণ : লাইব্রেরি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদণ্ড

লাইব্রেরি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদণ্ড মূলভাব : লাইব্রেরি থেকে জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা আহরণ করেই জাতির উন্নতি এবং সভ্যতার উৎকর্ষ সাধন করা যায়। আবার লাইব্রেরির মাধ্যমেই একটি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানের পরিচয় পাওয়া যায়। সম্প্রসারিত ভাব : লাইব্রেরি দেশ ও জাতির অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধন। কেননা এতে জাতির রুচির মান, জ্ঞানের গভীরতা ও সভ্যতার অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একটি জাতি বা দেশের সাহিত্য-শিল্পকলা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, খেলাধুলা-বিনোদন, আচার-অনুষ্ঠান-উৎসব, সুখ-দুঃখ, আন্দোলন-সংগ্রাম, জীবনযাপন ইত্যাদির বাস্তব রূপ ধারণ করে রাখে লাইব্রেরি। সত্য ও জ্ঞান অনুসন্ধানী মানুষ লাইব্রেরিতে এসে নিজেকে সমৃদ্ধ করে। পরবর্তীতে জাতির সভ্যতা লালন এবং এর উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের আকাঙ্ক্ষা। লাইব্রেরি কালের স্বাক্ষী এবং পরম বন্ধু। এখানে এসে বইপত্র-পত্রিকা পাঠ করে ক্লান্তি, মনের দুঃখ-বিষাদ এবং সমস্যাবলি দূর করা যায়। বইয়ের ভুবন একটা আকর্ষণীয় ভুবন। এজন্যই বলা হয়েছে, ‘লাইব্রেরি মনের হাসপাতাল।’ একটি জাতির লাইব্রেরি শুধু সব ধরনের তথ্যই সংরক্ষণ করে না, উন্নতিতেও স...

ভাবসম্প্রসারণ : শূন্য কলসি বাজে বেশি। / অসারে তর্জন গর্জন সার।

শূন্য কলসি বাজে বেশি। অথবা, অসারে তর্জন গর্জন সার। মূলভাব : যার কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই, সে এমন ভাব ধরে থাকে যে, সে-ই সবকিছু করেছে, সে-ই সবকিছুতে পটু। সম্প্রসারিত ভাব : ভাব-গাম্ভীর্যের আলাদা একটি মূল্য রয়েছে। চপলতা, চঞ্চলতা, কিংবা অধিকতর রম্য রসের মাধ্যমে সাময়িক আনন্দঘর পরিবেশের সৃষ্টি হলেও সে আনন্দের কোনো মূল্য থাকে না। অতিমাত্রায় কোনো জিনিসই মানুষের মাঝে আদরণীয় হতে পারে না। তাই যেসব পদার্থের উপরে অত্যধিক চাকচিক্যের লক্ষণ দেখা দেয় তাদের গর্ভাংশ প্রায়ই শূণ্য বা ফাঁকা থাকে। প্রকৃতপক্ষে বাচাল প্রকৃতির লোকের কথাগুলো প্রায়ই থাকে অর্থশূন্য। মুখে তারা অনেক কিছুই বলতে পারে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা কাজের কাজ কিছুই করতে পারে না। তাদের অবস্থা হয় শূন্য কলসির অধিক আওয়াজের মতো। বস্তুত যাদের মাথায় চিন্তা-চেতনা রয়েছে এবং যারা নিজেদের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাসী তারা ফাঁকা বুলি আওড়াতে ভালোবাসেন না। তাদের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় কাজের দক্ষতার উপর। এই কারণে মনীষীগণ বলেছেন, ‘পৃথিবীতে চিন্তাশীল ও বুদ্ধিমান লোকেরাই কথা কম বলে’ । ইংরেজিতেও একটি প্রবাদ আছে, Empty vessels sound much. মন্তব্য : যাদের বাইরের পরিপাট...

ভাবসম্প্রসারণ : চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ / প্রাণপণে পৃথিবীর সবার জঞ্জাল, / এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- / নব জাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণপণে পৃথিবীর সবার জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নব জাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। মূলভাব : অনাগত শিশুর ভবিষ্যতকে সমৃদ্ধ করতে, নতুন প্রজন্মের আবাসস্থলকে দূষণমুক্ত করতে বর্তমান প্রজন্মকেই এগিয়ে আসতে হবে। দেহের শেষ শক্তি দিয়ে হলেও নবজাতকের কল্যাণে রক্ত শপথে আজ অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে সবাইকে। সম্প্রসারিত ভাব : নশ্বর এ বিশ্ব। এখানে সব সময়েই চলে আসা-যাওয়ার নিত্য খেলা। সমাজের বুকে জন্মে, সমাজের মধ্যে বড়ো হয়ে, সমাজে কিছু কীর্তি রেখে একদিন সময় হলে সমাজের বুক থেকে আবার চলে যায় মানুষ। আবার আসে নবজাতক। একই অনুক্রমে চলে সমাজের পথ পরিক্রমা। প্রতিটি মানুষেরই সমাজের কাছে কিছু দায়বদ্ধতা থাকে। যে সমাজ তাকে এত দেয়, বিনিময়ে সেই সমাজকেও তার কিছু দেওয়া উচিত। সমাজের বুকে প্রতিনিয়ত কত অপরিচ্ছন্নতা, আবর্জনাতুল্য কত অনাচার-কদাচার তো আমরাই তৈরি করি। আর সে সমস্ত অনাচার-কদাচারের আবিল-পংকিল পরিবেশ যদি অগ্রজরা অপসারণ করতে না পারে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের নবজাতকরা মুক্ত পরিবেশে প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারবে না। যাতে তারা বড়ো হয়ে উঠে পরম্পরাগত ঐতিহ্যধ্বজা বহন ক...

ভাবসম্প্রসারণ : টিকি মুণ্ডে চড়ি উঠি কহে ডগা নাড়ি / হাত-পা প্রত্যেক কাজে ভুল করে ভারি। / হাত-পা কহিল হাসি ‘হে অভ্রান্ত চুল, / কাজ করি আমরা যে, তাই করি ভুল।

টিকি মুণ্ডে চড়ি উঠি কহে ডগা নাড়ি হাত-পা প্রত্যেক কাজে ভুল করে ভারি। হাত-পা কহিল হাসি ‘হে অভ্রান্ত চুল, কাজ করি আমরা যে, তাই করি ভুল। মূলভাব : যারা কর্মহীন, অলস তাদের কাজ কর্ম মানুষকে হেয় করা। কাজেই অলস ব্যক্তির সমালোচনাকে উপেক্ষা করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবনের কর্মপথে অগ্রসর হওয়া উচিত। সম্প্রসারিত ভাব : মাথার চুল কখনো কোনো কাজ করে না অথচ শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর মধ্যে হাত ও পা প্রায় সময়ই কিছু না কিছু কাজ করে থাকে। কাজ করতে গেলে ভুল করা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভুলের কারণে চুল তাদের নানা প্রকার ভর্ৎসনা করে। সমাজে এমন অকর্মণ্য লোক রয়েছে যারা নিজেরা কোনো কাজই করে না বরং অপরের কাজের ভুল ধরে বেড়ায়। এসব লোক সমাজের কোনো উপকারে আসে না। এদের চেয়ে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষের স্থান অনেক উপরে। কাজ করতে গেলে নানা প্রকার ভুল-ভ্রান্তি হবেই, কেননা ভুল করা মানুষের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। তাছাড়া ভুল না করলে শুদ্ধকে চেনা যায় না। যারা ভুল করতে জানে না তারা সঠিক কোনো কাজও করতে পারে না। কেননা ভুল হবে কি সঠিক হবে সেই চিন্তাতেই তারা কোনো কাজের সূচনা করতে পারে না। এসব লোক বাইরের পরিপাটি রূপ দিয়ে লোকের কাছে বুদ্ধি...

ভাবসম্প্রসারণ : উচ্চ শির যদি তুমি কুল মান ধনে / করিও না ঘৃণা তবু নীচ-শির জনে।

উচ্চ শির যদি তুমি কুল মান ধনে করিও না ঘৃণা তবু নীচ-শির জনে। মূলভাব : ধনী ও দরিদ্র উভয়েরই বাসযোগ্য ভূমি এই পৃথিবী। ধন-সম্পদে কিংবা বংশমর্যাদায় পার্থক্য থাকলেও মূলত মানুষের সঙ্গে মানুষের কোনো ভেদাভেদ নেই। সম্প্রসারিত ভাব : উচ্চ শ্রেণির লোকেরা প্রায়ই এ কথা অস্বীকার করে থাকে যে, ‘সব মানুষই সমান’। যার একটু বংশ গৌরব ও অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য দেখা দেয়, আত্মদম্ভে সে নিজেকে একেবারে বাদশা বানিয়ে ফেলে। সে ধরাকে সরা জ্ঞান করে কেবলই আত্ম অহংকার প্রকাশে উদ্যত থাকে। কিন্তু অর্থ-সম্পদ কারও চিরস্থায়ী নয়। আজ যে ধনী কাল সে পথের ফকিরে পরিণত হতে পারে। তাই ধন-সম্পত্তির বড়াই করা উচিত নয়। বড়ো হতে গেলে আগে মনটাকে বড়ো করতে হবে। নিচু জনকে ঘৃণা করে কেউ কখনো উঁচুতে অধিষ্ঠিত হতে পারেনি। একটু চিন্তা করে দেখলে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, উঁচু স্থানেই আঘাতের পরিমাণ সর্বদা বেশি হয়ে থাকে। উঁচু বৃক্ষ অধিকাংশ সময়ই ঝড়ে ভূপাতিত হয়। তাই এই নশ্বর পৃথিবীতে অহংকার করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। চোখের পলকেই সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে। বস্তুত মানুষের ধন-সম্পত্তি, নাম-যশ-খ্যাতি পার্থিব জগতের এক ক্ষণস্থায়ী অর্জন। মনুষ্যত্বের বিকাশ ব্যত...

ভাবসম্প্রসারণ : সাবাস বাংলাদেশ এ পৃথিবী / অবাক তাকিয়ে রয়; / জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার / তবু মাথা নোয়াবার নয়।

সাবাস বাংলাদেশ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়; জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়। মূলভাব : বাঙালি জাতি বীরের জাতি। তারা অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াবার নয়, বরং সকল প্রকার জুলুম-নির্যাতনের সমুচিত জবাব দিয়ে পৃথিবীর বুকে স্থাপন করেছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সম্প্রসারিত ভাব : বাঙালি জাতি চিরকালই শান্তি প্রিয় ও স্বাধীনচেতা জাতি। বাঙালির প্রাকৃতিক পরিবেশেই আছে তাদের প্রতিবাদের ভাষা। অপরের বশ্যতা সে কোনো কালেই মেনে নিতে পারেনি। বাংলার ধনধান্য পুষ্পের আকর্ষণে তুর্কি, আফগান, পাঠান, মোগলরা এদেশে আসে এবং দীর্ঘকালব্যাপী শাসন করে। এরপরই বাংলার শোষণ ও লুণ্ঠনের জন্য ইংরেজরা আসে। তারা এদেশের কৃষি সমাজের উপর নির্মম শাসন-শোষণ করে এদেশের ধন-সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। বাঙালির তীব্র প্রতিবাদে প্রায়ই দু’শ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর বাঙালি জাতির উপর চেপে বসে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর অমানবিক শাসন। তারা বাঙালি জাতির রাজনীতিক, অর্থনীতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার হরণ করে। তারা এদেশের মানুষের উপর ব্যাপক জুলুম-নির্যাতন করে। এদেশের গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সব জাগায় আগুন জ্বালিয়ে ছারখার করে ধ্বংস স্তুপে পরিণত করে। বাঙালি জ...

ভাবসম্প্রসারণ : নিন্দুক সে বেঁচে থাকুক বিশ্বহিতের তরে, / আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে।

নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো, যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আঁলো। অথবা, নিন্দুক সে বেঁচে থাকুক বিশ্বহিতের তরে, আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে। মূলভাব : নিন্দুকের কাজ হলো অপরের নিন্দা করা। তাই বলে নিন্দুককে ঘৃণা করা উচিত নয়। সে মানুষের পরম বন্ধু। নিন্দার ভয়ে মানুষ দূষণীয় কাজ থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করে এবং পরিপূর্ণতা অর্জন করে। সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ সামাজিক জীব। তাই সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় জীবনে সমালোচনাকারী বা পরনিন্দাকারী লোকের অভাব নেই। তবে সমালোচনা বা পরনিন্দা সবসময় সমাজের ক্ষতি করে না। বরং কিছু কিছু গঠনমূলক সমালোচনা সমাজ বা রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত হতে সহায়তা করে। একটি রাষ্ট্রের বিরোধী দল সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে। এতে সরকার নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে নিতে পারে। ফলে জনগণের কল্যাণ সাধিত হয়। নিন্দ না থাকলে পৃথিবীর গৌরব হ্রাস পেত। একটি ভালো কাজের যদি সমালোচনা না হয়, তাহলে সে ভালো কাজের কোনো মূল্যায়ন থাকে না। তই কোনো মহৎ কাজ করতে গেলে বার বার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সকল প্রকার প্রতিকূলতা অতিক্রম করে মহৎ কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে মহত্ত্বে...

ভাবসম্প্রসারণ : আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর / আপন করিতে কাদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর আপন করিতে কাদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। মূলভাব : মহানুভবতা ও সহনশীলতা মানবজাতির বিশেষ গুণ। এই গুণের প্রভাবে মানুষ অন্যের দেওয়া দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে, পরকে ভালোবেসে আপন করে পৃথিবীকে সুন্দর ও শান্তিময় করে গড়ে তোলে। সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মানুষের সবচেয়ে বড়ো বৈশিষ্ট্য হলো সে ভাবতে পারে, যেকোনো বিষয়ে চিন্তা করতে পারে। এই চিন্তা ও ভাবা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীদের বেশি কিছু ভাবতে হয় না। তাদের চিন্তাভাবনা, বাঁচা-মরা ও আহার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে হলে অনেক গুণের অধিকারী হতে হয়। কেননা মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে সবার সঙ্গে মিলেমিশে বাস করতে হয়। সমাজের বাইরে থেকে কেউ সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে না। তবে সমাজের সব মানুষই একই মানসিকতার থাকে না। তাদের কেউ বদমেজাজি হতে পারে, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে পারে, ব্যক্তি বা সমাজের বড়ো রকমের ক্ষতি সাধন করতে পারে। তখনই সহনশীলতা গুণটির বিশেষ প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কেননা ধৈর্য ও ক্ষমাই মানুষকে মহো...

ভাবসম্প্রসারণ : অন্য খরচের চেয়ে বাজে খরচেই মানুষকে চেনা যায়, কারণ মানুষ ব্যয় করে বাঁধা নিয়ম অনুসারে, অপব্যয় করে নিজের খেয়ালে।

অন্য খরচের চেয়ে বাজে খরচেই মানুষকে চেনা যায়, কারণ মানুষ ব্যয় করে বাঁধা নিয়ম অনুসারে, অপব্যয় করে নিজের খেয়ালে। মূলভাব : যে মানুষ নৈমিত্তিক প্রয়োজন অনুসারে খরচ করেন তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বোঝা দুরূহ। যেমন যিনি সাংসারিক কারণে প্রতিদিন বাজার করেন সেটা তার প্রাত্যহিক কর্তব্য। তার বৈশিষ্ট্য আলাদা করে বোঝার উপায় নেই। কিন্তু যিনি উল্লিখিত কাজগুলোর পাশাপাশি অপব্যয় করেন তার অপব্যয় হয় বইকেনা, ভ্রমণ বা ছবিসংগ্রহে। সম্প্রসারিত ভাব : প্রাত্যহিক জীবনের অত্যাবশ্যক চাহিদা পূরণে ব্যস্ত হিসেবি মন। জীবন পরিক্রমায় নিত্যদিনের হিসাব মেলাতে গিয়ে এ মন বাঁধা পড়ে ছকবাঁধা বাধ্যবাধকতার মধ্যে। এ মনের অধিকারী মানুষের জীবনে থাকে না স্বচ্ছন্দে বিচরণের স্বাধীনতা। এই বাধ্যবাধকতার গণ্ডিতে আবদ্ধ সকল মানুষ স্বভাব-বৈশিষ্ট্যে প্রায় একই রকম। তাদের না থাকে মনের স্বাধীনতা, না বোঝা যায় তাদের বিচিত্র মনের খেয়ালের স্বরূপ। হিসেবি মানুষের চেয়ে বেহিসেবি মানুষ স্বভাব-বৈশিষ্ট্যে একেবারে আলাদা। তাদের দৈনন্দিন খরচের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায় তাদের স্বভাব-বৈশিষ্ট্যকে। সংসারের ছক বাঁধা জীবন তাদের আকর্ষণ করে না। তাদের কে...

ভাবসম্প্রসারণ : কুসুমের সহকীট সুর শিরে যায়, সেই রূপ সাধু-সঙ্গ অধমে তরায়।

কুসুমের সহকীট সুর শিরে যায়, সেই রূপ সাধু-সঙ্গ অধমে তরায়। মূলভাব : ফুল অতি সুন্দর ও পবিত্র জিনিস হলেও তার মধ্যে লুকিয়ে থাকে কীট বা পতঙ্গ। কিন্তু তাতে ফুলের মাধুর্যের কোনো কমতি হয় না। বরং ফুলের অনন্য পরিবেশনে কীটপতঙ্গও সেই সৌন্দর্যের সাক্ষী হয়। একইভাবে কোনো অসম ব্যক্তি যদি সাধুর সান্নিধ্যে জাসে তাহলে তার ভেতরের যাবতীয় পঙ্কিলতা দূর হয় এবং আত্মা শুদ্ধ হয়। সম্প্রসারিত ভাব : বাগানের সৌন্দর্যকে অনন্য করে তোলে ফুল। ফুল ছাড়া একার্থে বাগানের অস্তিত্বও কল্পনা করা যায় না। ফুল সুবাস ছড়ায়, প্রশান্তি ছড়ায়, সুগন্ধ ছড়ায়। প্রতিটি অনুষ্ঠানের আভিজাত্য ও পবিত্রতাকে উচ্চসিত করে ফুল। মন্দিরে দেবতাকে ফুল যেমন সজ্জিত করে, তেমনি প্রেমের স্মারক হিসেবেও ফুল প্রদত্ত হয়। ফুলের মহিমা অফুরন্ত; তার গুণকীর্তন করে শেষ করা সম্ভব নয়। তবে সেই ফুলের অজ্ঞাতসারে বাস করে ক্ষুদ্রকীট। ফুলের রেণু ও মধু তার আহার্য হলেও তার মুখে স্বল্প হলেও বিষের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কিন্তু সেই বিষয় তীব্রতা না ফুলকে দগ্ধ করে, না তার রস আস্বাদনকারীকে। বরং সেই ক্ষুদ্রকীট ফুলের মধ্যে থেকেও ফুল নানা অনিন্দ্য সুষমার সমাবেশে নিজের ...

ভাবসম্প্রসারণ : রাজা ভাবে, নব নব আইনের ছলে ন্যায় সৃষ্টি করি আমি। ন্যায় ধর্ম বলে, আমি পুরাতন, মোরে জন্ম কেবা দেয় যা তব নতুন সৃষ্টি সে শুধু অন্যায়।

রাজা ভাবে, নব নব আইনের ছলে ন্যায় সৃষ্টি করি আমি। ন্যায় ধর্ম বলে, আমি পুরাতন, মোরে জন্ম কেবা দেয় যা তব নতুন সৃষ্টি সে শুধু অন্যায়। মূলভাব : সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠেছে মানুষের বিচার-বুদ্ধি, ন্যায়-অন্যায় বোধ। জীবনচর্যাই মানুষকে শিখিয়েছে ভালো এবং মন্দের পার্থক্য। মানুষ একা বাঁচে না; সমাজের মধ্যেই সে সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। সমাজ-সত্তার সঙ্গে ব্যক্তি-জীবনের সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়েই কালক্রমে মানুষের জীবনে ও মননে সৃষ্টি হয়েছে ন্যায় ও অন্যায়ের সুস্পষ্ট ধারণা। মানুষের এই বোধের জাগরণে শাসকদের প্রণীত আইনের কোনো ভূমিকা নেই। সম্প্রসারিত ভাব : ন্যায়-অন্যায়ের বোধ দেশকাল-নিরপেক্ষ। যুগের পরিবর্তনে, শাসকের পালাবদলে ন্যায় ও অন্যায় বোধের কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে না। তা চিরন্তন, অপরিবর্তনীয়। কিন্তু মানুষের অহমিকার শেষ নেই। ক্ষমতামত্ত, শক্তিমান শাসক সদরে ঘোষণা করেন নব নব আইনের বিধান। তিনি ভাবেন, অন্যায়কে দমিত করবার জন্যই নতুন ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করলেন। মানুষের কল্যাণ বুদ্ধি তার জাগ্রত চেতনায় অবস্থিত। নব নব ন্যায়-অন্যায়ের বিধান তার শাশ্বত ন্যায়বোধকে বিভ্রান্ত করলেও পরাভূত ক...

ভাবসম্প্রসারণ : সে লড়াই ঈশ্বরের বিরুদ্ধে লড়াই; যে যুদ্ধে ভাইকে মারে ভাই।

সে লড়াই ঈশ্বরের বিরুদ্ধে লড়াই; যে যুদ্ধে ভাইকে মারে ভাই। মূলভাব : গোটা পৃথিবীর মানুষ একে অপরের ভাই ভাই। কাজেই এক মানুষ অপর মানুষকে মারার অর্থ ঈশ্বরকে নিজ হাতে হত্যা করা। সম্প্রসারিত ভাব : যুদ্ধ সংঘটিত হয় শত্রুর সঙ্গে মিত্রের সঙ্গে নয়। যখন মিত্রের সঙ্গে কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তখন সে আর মিত্র থাকে না-সে শত্রুরূপে পরিগণিত হয়। সর্বাপেক্ষা আপনজন নিজের ভাই। সে হত্যার অর্থ আত্মহত্যা—ঈশ্বরকে হত্যা। মানুষ মাত্রেই বিশ্বজননীর সন্তান। সেদিন থেকে মানুষ মাত্রই আমার আপনজন-আপন ভাই। সুদূর অতীত থেকে মানুষ মানুষের সাহচর্যে বাস করছে, তার সঙ্গে সংঘবদ্ধ হয়ে শ্বাপদ সংকুল আদিম পৃথিবীতে হিংস্র জীবজন্তুর সঙ্গে লড়াই করে এতদিন নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় সমর্থ হয়েছে। মানুষ এ পৃথিবীতে আজও যে বেঁচে আছে, তার মূলেও আছে, তার সংঘ শক্তি। কবি তাই মানুষের বেদনায় হৃদয় কম্পিত আবেগে গেয়ে উঠলেন  “শুনহ মানুষ ভাই সবার ওপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।” মানুষের হৃদয়ের মধ্যে আমরা খুঁজি ঈশ্বরকে, মানুষের অন্তরলোকেই আমরা খুঁজে পাই আমাদের অভীষ্ট ঈশ্বরকে। তাই পৃথিবীতে মানুষের জন্যই মানুষের হৃদয় কাঁদে, মানুষের ভালোবাসার জন্য...

ভাবসম্প্রসারণ : শুধু পড়াশোনাতে কিছু হয় না; বাজনার বোল লোকে, বেশ মুখস্ত বলতে পারে; হাতে আনা বড় শক্ত।

শুধু পড়াশোনাতে কিছু হয় না; বাজনার বোল লোকে, বেশ মুখস্ত বলতে পারে; হাতে আনা বড় শক্ত। মূলভাব : কেবল মুখে মুখে সঙ্গীত রচনা করা সহজ হলেও হাতে-কলমে তার উপস্থাপনা বড়ই কঠিন। তেমনি কেবল পুঁথিগত বিদ্যা জাতির জন্য কোনো সুফল বয়ে আনে না যদি না তার কোনো ব্যবহারিক প্রয়োগ থাকে। সম্প্রসারিত ভাব :  বাস্তব পৃথিবী ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কহীন পুঁথিগত বিদ্যা জীবনে সর্বতোভাবে ব্যর্থ। কাজেই দেশের শিক্ষা ব্যকথা হওয়া উচিৎ কর্মমুখী, বাস্তবভিত্তিক ও সৃজনশীল। শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় জীবনে চলছে এক ভয়াবহ মহামণ্ডূক। বিজাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় না ঘটে আমাদের আত্মার উদ্বোধন না ঘটে আমাদের প্রাণ ধারণের রুজি রোজগারের সম্মান। ইংরেজ সম্প্রদায় তার সম্রাজ্যবাদ ও বাণিজ্যিক স্বার্থে এদেশের সনাতন শিক্ষাব্যবস্থার ধ্বংস সাধন করে তার ওপর যে পাশ্চাত্য শিক্ষার ইমারত তৈরি করে, তা হলো প্রকৃতপক্ষে কেরানী গড়ার কারখানা। এ শিক্ষায় নেই আত্মিক জ্ঞানের উদ্বোধন, নেই অন্ন বস্ত্রের সংস্থান নেই নতুন সৃষ্টির সম্ভবনা। তাই এ যেন এক দুর্বহ বিজাতীয় বোঝা। এই বিজাতীয় বোঝা যেন জাতির বুকের ওপর চেপে বসে থাকা এক জগদ্দল পাষাণভার। আমাদ...

ভাবসম্প্রসারণ : মূর্খ বন্ধুর চেয়ে জ্ঞানী শত্রু ভালো।

মূর্খ বন্ধুর চেয়ে জ্ঞানী শত্রু ভালো। জ্ঞানহীন ব্যক্তি অন্ধের সমান। অপরদিকে জ্ঞান মানুষের মধ্যকার ঘুমন্ত শক্তির বিকাশ ঘটিয়ে মানুষের মনুষ্যত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। মূর্খ ব্যক্তি অন্ধের মতই জীবনের পথে চলতে গিয়ে অজ্ঞতা আর কুসংস্কারের নানা খানাখন্দে হোঁচট খেয়ে পড়ে। তার কাছে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য তেমন স্পষ্ট নয়। সে যুক্তি ও বুদ্ধি দিয়ে কোনো কিছু বিচার করতে পারে না। অপর দিকে জ্ঞানী ব্যক্তির অন্তর জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত। যুক্তি-বুদ্ধি ও বিবেচনা দিয়ে তিনি সবকিছু যাচাই করতে পারেন। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়া, প্রয়োজনীয় যুক্তি উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান জ্ঞানী ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব হয়। তাই সমাজে জ্ঞানী ব্যক্তির গুরুত্ব ও মর্যাদা সব সময়ই বেশি। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে সম্পর্কের ভিত্তিতে কেউ আমাদের বন্ধু, কেউ আমাদের শত্রু বলে গণ্য হয়। বন্ধুর সাহচর্য আমাদের কাছে সব সময়ই আনন্দদায়ক। অপরদিকে শত্রুর প্রতি আমরা পোষণ করি অবজ্ঞা বা ঈর্ষার ভাব। কিন্তু বন্ধু যদি মূর্খ হয়, তবে সে বন্ধুর কারণে আমাদের নানাভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। মূর্খ বন্ধুর অজ্ঞতা, অবিবেচনা আমাদ...

ভাবসম্প্রসারণ : বুঝেছি সত্য ক্রীতদাসত্ব কত যন্ত্রণাময়; / মানুষের হাতে, হায় রে মানুষ কত লাঞ্চনা সয়।

বুঝেছি সত্য ক্রীতদাসত্ব কত যন্ত্রণাময়; মানুষের হাতে, হায় রে মানুষ কত লাঞ্চনা সয়। সংসার মানুষের সংগ্রাম ক্ষেত্র। এখানে জীবিকার জন্য তাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। এ সংগ্রাম পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে, বিপর্যয়ের সঙ্গে। এখানে পরাজয়ের গ্লানিও তার নিত্য সাথী। প্রকৃতির বিরূপতার জন্য দুঃখ-কষ্টে ভোগে মানুষ। তার উপর যদি আসে মানুষের উৎপীড়ন, লাঞ্চণা, গঞ্জণা, তবে জীবন হয় সত্যিই দুর্বিষহ। মানুষ চায় মানুষের কাছে সহানুভূতি, সহৃদয়তা। তার পরিবর্তে যদি সে তার কাছ থেকে পায় লাঞ্ছণা-গঞ্জণা তবে তা সত্যই পীড়াদায়ক ও হৃদয় বিদারক। জগতে ধনী ব্যক্তিরা দরিদ্রের প্রতি যে নির্মম ব্যবহার করে এবং যেভাবে তাদের শোষণ করে তার প্রমাণ বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে জানতে পারি। তাই পণ্ডিত লোকমান দুঃখ করে বলেছেন, “মানুষের হাতে হায়রে মানুষ কত লাঞ্চনা সয়।"

ভাবসম্প্রসারণ : শক্তি মরে ভীতির কবলে পাছে লোকে কিছু বলে।

শক্তি মরে ভীতির কবলে পাছে লোকে কিছু বলে। মানুষের উদ্দেশ্য সাধনের পথে অন্তরায়ের অভাব নেই। তবে জীবনের পথও সুগম নয়। কৃতকার্য হওয়ার পথে বাধাবিপত্তি যতটা অসুবিধার সৃষ্টি করে, লোকভয় তা চেয়ে কিছু কম অসুবিধাজনক নহে। বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করার জন্য শক্তি ও সাহস প্রয়োজন। অথচ সেই শক্তি বা সাহস তুচ্ছ লোকভয়ের কাছে অনেক সময় হার স্বীকার করে। প্রকৃতপক্ষে ঐ লোকভয়ের কোনো কারণ নেই- সামান্য সৎ সাহসের অভাবের জন্য শক্তি-সামর্থ্য সবই পরাজয় স্বীকার করে। মানব জীবনে লোকভয় তুচ্ছ হলেও তার প্রভাব কম নয়। অন্যে কি বলবে, কি ভাববে, এই অলীক চিন্তায় মানুষ আসল শক্তি-সামর্থ হারিয়ে ফেলে এবং আকাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভে বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে মানুষকে পদে পদে লাঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। সামান্য লোকভয়ের এক অদ্ভুত কাহিনী এখানে বলছি, এক ব্যক্তি বাড়ির কূপ হতে জল তুলছিলেন। এমন সময় একদল লোক কোন কারণে তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। ভদ্রলোক ভাবলেন, নিজের হাতে জল তুলছি একথা আগম্ভূকগণ জানলে বড়ই লজ্জার ব্যাপার হবে। তাই তিনি পাত্রটি কূপের ভেতর ফেলে দিয়ে আগন্তুকদের সঙ্গে দেখা করলেন। নিছক লোকভয়েই তাকে এই ক্ষতির স্বীকার করতে হলো।

ভাবসম্প্রসারণ : বিপদে মোরে রক্ষা কর, এ নহে মোর প্রার্থনা / বিপদে আমি না যেন করি ভয়! / দুঃখতাপে ব্যথিত চিত্তে নাইবা দিলে সান্ত্বনা / দুঃখ যেন করিতে পারি জয়।

বিপদে মোরে রক্ষা কর, এ নহে মোর প্রার্থনা বিপদে আমি না যেন করি ভয়!  দুঃখতাপে ব্যথিত চিত্তে নাইবা দিলে সান্ত্বনা দুঃখ যেন করিতে পারি জয়। মূলভাব : মানুষের জীবনে দুঃখ, জরা, দৈন্য, বিপদ থাকবেই তার জন্য ভয় পেলে চলবে না। বিপদকে দৃঢ় মনোবল নিয়ে জয় করতে হবে। কবির প্রার্থনা এ জন্য যেন তার মধ্যে দৃঢ় মনোবল থাকে। সম্প্রসারিত ভাব : সংসারে দুঃখ আছে, দৈন্য আছে, জীবনে চলার পথে অজস্র বিপদের ঝুঁকি আছে। প্রতি পদক্ষেপে মানুষকে বিপদ অতিক্রম করতে হয়। আল্লাহ অনুগ্রহ করে আমাদের বিপদ থেকে রক্ষা করবেন ও দুঃখ-যন্ত্রণায় সান্ত্বনা দিবেন তা আমরা প্রার্থনা করি না। আমরা প্রার্থনা করি যে, আমাদের দেহে ও মনে এতখানি শক্তি জেগে উঠুক যে আমরা যেন বিপদকে নির্ভয়ে অতিক্রম করতে পারি এবং আপনার শৌর্যের দ্বারা দুঃখকে জয় করে তুলতে পারি। জীবন সংগ্রামে মানুষ যদি নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পলায়নমুখী হয়, তাহলে মানবজীবনের কোনো অর্থই হয় না। বিপদ থেকে দূরে থেকে নির্বিঘ্নে নিরাপদে জীবন কাটানোর মধ্যে কোনো গৌরব নেই; বরং দুঃখকে মোকাবিলা করে, সমস্ত দুঃখকে মাথা পেতে গ্রহণ করে সুখের জন্য যারা জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় তার...

ভাবসম্প্রসারণ : সন্ধ্যা যদি নামে পথে, চন্দ্র যদি পূর্বাচল কোণে / না হয় উদয় / তারকার পুঞ্জ যদি নিভে যায় প্রলয় জলদে / না করিব ভয় / হিংস্র ঊর্মি ফণা তুলি বিভীষিকা মূর্তি ধরে যদি / গ্রাসিবারে আসে / সে মৃত্যু লংঘিয়া যাব সিন্ধুপারে, নবজীবনের / নবীন আশ্বাসে ৷

সন্ধ্যা যদি নামে পথে, চন্দ্র যদি পূর্বাচল কোণে না হয় উদয়  তারকার পুঞ্জ যদি নিভে যায় প্রলয় জলদে না করিব ভয়  হিংস্র ঊর্মি ফণা তুলি বিভীষিকা মূর্তি ধরে যদি  গ্রাসিবারে আসে  সে মৃত্যু লংঘিয়া যাব সিন্ধুপারে, নবজীবনের  নবীন আশ্বাসে ৷ ভাব-সম্প্রসারণ : জীবনযুদ্ধে বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেই লক্ষ্যস্থলে পৌছাতে হয়। জীবন চলার পথ কঠিন এবং সংগ্রামমুখর। উন্নতির পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। নিতান্ত বন্ধুর ও কণ্টকাকীর্ণ। জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে হলে জীবনের সমস্ত ঝড়, বাধাবিঘ্নকে উপেক্ষা করে সম্মুখের দিকে অগ্রসর হতে হবে। নবীন আশ্বাসে তরুণদেরকে জয়যাত্রা শুরু করতেই হবে। কিন্তু এ পথ বিপদংকুল। সব রকমের বাধাবিপত্তি, ভয় বিভীষিকা তুচ্ছ করে অদম্য মনোবল নিয়ে দেশ ও দশের মঙ্গলের জন্য, দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য, সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সংকল্প তাদেরকে গ্রহণ করতে হবে। বিপদ দেখে ভয় পেয়ে যদি আমরা দমে যাই, তাহলে চলবে না। ঝড়, বৃষ্টি, ঝঞ্ঝা জীবনে অনেক আসবে। মাঝ পথে যদি হতাশার অন্ধকার শত গ্লানি নিয়েও আসে তবুও আমাদের সেগুলোকে মোকাবিলা করতে হবে আলোর আশায়; অর্থাৎ নবজীবনের নবীন আশায়। বিপদের হ...

ভাবসম্প্রসারণ : বিশ্বজোড়া পাঠশালা মাের সবার আমি ছাত্র, / নানাভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র। / এই পৃথিবীর বিরাট খাতায় পাঠ্য যে সব পাতায় পাতায় / শিখছি সে সব কৌতুহলে - সন্দেহ নাই মাত্র।

বিশ্বজোড়া পাঠশালা মাের সবার আমি ছাত্র, নানাভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র। এই পৃথিবীর বিরাট খাতায় পাঠ্য যে সব পাতায় পাতায়  শিখছি সে সব কৌতুহলে - সন্দেহ নাই মাত্র। ভাব-সম্প্রসারণ : পৃথিবীটাই একটা শিক্ষাক্ষেত্র। কেবল বইপুস্তক এবং স্কুল-কলেজে শিক্ষা গ্রহণ সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতির ব্যাপক পটভূমি থেকে নানা বিষয় থেকে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। মানুষের শেখার অন্ত নেই। পৃথিবীটা প্রকৃতপক্ষে বিরাট এক পাঠশালা। এখানে প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে অনেক কিছু জানার আছে। একটু গভীরভাবে প্রকৃতির দিকে তাকালে, সেখান থেকে মানুষ অনেক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। বাতাস অনবরত প্রবাহিত হচ্ছে। নিরন্তর বহমান বাতাসের কাছ থেকে কর্মী হওয়ার শিক্ষা লাভ করা যায়। মাথার উপর আকাশের দিকে তাকালে দেখা যায় কী বিরাট, কী উদার আকাশ। সুতরাং আকাশের কাছ থেকে উদার হওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়। ফলভারে নত বৃক্ষের দিকে তাকালে দেখা যায় সম্পদে ও সমৃদ্ধিতে সে কত বিনয়ী, কত নত; কত নিরহংকার তার হৃদয়। নদীর দিকে তাকালে দেখা যায় সে দুকূলের মানুষকে জল বিতরণ করে নিঃস্বার্থভাবে সময়ের স্রোতের সঙ্গে তাল রেখে বয়ে যায়। সবুজ মিল্ক তরুলতা, ব...