Posts

Showing posts from November, 2024

ছড়া/কবিতা : আমাদের ছোট নদী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Image
আমাদের ছোট নদী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে। পার হয়ে যায় গোরু, পার হয় গাড়ি, দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি। চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা, একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা। কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক, রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক। আর-পারে আমবন তালবন চলে, গাঁয়ের বামুন পাড়া তারি ছায়াতলে। তীরে তীরে ছেলে মেয়ে নাইবার কালে, গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে। সকালে বিকালে কভু নাওয়া হলে পরে, আঁচল ছাঁকিয়া তারা ছোটো মাছ ধরে। বালি দিয়ে মাজে থালা, ঘটিগুলি মাজে, বধূরা কাপড় কেচে যায় গৃহকাজে। আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভর ভর, মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর। মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে, ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে। দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া, বরষার উৎসব জেগে ওঠে পাড়া।

Download BlueStore - ব্লুস্টোর & Cockpit Retail for GP Recharge

Image
গ্রামীণফোন মোবাইলে রিচার্জ করে ব্যবসা করার জন্য আপনার মোবাইলে অবশ্যই BlueStore (ব্লুস্টোর) Mobile App টি install করতে হবে এবং এই BlueStore (ব্লুস্টোর) থেকেই install করতে হবে Cockpit Retail। এই Cockpit Retail থেকেই গ্রামীণফোনে মোবাইল রিচার্জ দিয়ে রিচার্জের ব্যবসা করতে পারবেন। সব চেয়ে মজার বিষয় হলো এই ব্লুস্টোর এ্যাপটি বা Cockpit Retail এ্যাপটি আপনি Google Play Store এ পাবেন না। শুধু মাত্র আমাদের ওয়েব সাইট থেকেই ডাউনলোড করতে পারবেন BlueStore (ব্লুস্টোর) এবং Cockpit Retail. Scan QR Code to directly download BlueStore 4.0 নিচে BlueStore (ব্লুস্টোর) কিভাবে ডাউনলোড করবেন এবং install করবেন তা ধারাবাহিক ভাবে দেওয়া হলো। Step # 1 : Download BlueStore 4.0 APK Download শুধু মাত্র এই ওয়েব সাইট থেকেই উপরের বাটনে ক্লিক করে BlueStore (ব্লুস্টোর) 4.0 ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। Download BlueStore Step # 2 (Optional) : যদি ফাইলটি Zip...

ছড়া/কবিতা : জীবনের হিসাব – সুকুমার রায়

Image
জীবনের হিসাব – সুকুমার রায় বিদ্যেবোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে মাঝিরে কন, “বলতে পারিস সূর্য কেন ওঠে? চাঁদটা কেন বাড়ে কমে? জোয়ার কেন আসে?” বৃদ্ধ মাঝি অবাক হয়ে ফেলফেলিয়ে হাসে, বাবু বলেন, “সারা জীবন মরলিরে তুই খাটি, জ্ঞান বিনা তোর জীবনটা যে চারি আনাই মাটি!” খানিক বাদে কহেন বাবু, “বলত দেখি ভেবে নদীর ধারা কেমনে আসে পাহাড় হতে নেবে? বলত কেন লবণপোরা সাগর ভরা পানি?” মাঝি সে কয়, “আরে মশাই অত কি আর জানি?” বাবু বলেন, “এই বয়সে জানিসনেও তা কি? জীবনটা তোর নেহাত খেলো, অষ্ট আনাই ফাঁকি!” আবার ভেবে কহেন বাবু, “বলত ওরে বুড়ো, কেন এমন নীল দেখা যায় আকাশের ঐ চূড়ো? বলত দেখি সূর্য চাঁদে গ্রহন লাগে কেন?” বৃদ্ধ বলেন, “আমায় কেন লজ্জা দিছেন হেন?” বাবু বলেন, “বলব কি আর বলব তোরে কি, তা,- দেখছি এখন জীবনটা তোর বারো আনাই বৃথা।” খানিক বাদে ঝড় উঠেছে ঢেউ উঠেছে ফুলে, বাবু দেখেন নৌকাখানি ডুবল বুঝি দুলে। মাঝিরে কন, “একি আপদ ওরে ও ভাই মাঝি, ডুবল নাকি নৌকো এবার? মরব নাকি আজি?” মাঝি শুধায়, “সাতার জানো?” মাথা নারেন বাবু, মূর্খ মাঝি বলে, “মশাই এখন কেন কাবু? বাঁচলে শেষে আমার কথা হিসেব করো পিছে, তোমার দেখি জীবন খানা ষো...

ছড়া/কবিতা : শিক্ষাগুরুর মর্যাদা – কাজী কাদের নেওয়াজ

Image
শিক্ষাগুরুর মর্যাদা – কাজী কাদের নেওয়াজ        বাদশাহ আলমগীর- কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।      একদা প্রভাতে গিয়া দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া      ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে      পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে, শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি। শিক্ষক মৌলভী ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি। দিল্লীপতির পুত্রের করে লইয়াছে পানি চরণের পরে, স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে! ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।      হঠাৎ কি ভাবি উঠি কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,      শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার      দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার, ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল, বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।      যায় যাবে প্রাণ তাহে, প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।      তার পরদিন প্রাতে বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লা...

ছড়া/কবিতা : প্রভাতী – কাজী নজরুল ইসলাম

Image
প্রভাতী – কাজী নজরুল ইসলাম ভোর হলো দোর খোলো খুকুমণি ওঠ রে! ঐ ডাকে যুঁই-শাখে ফুল-খুকি ছোটরে! রবি মামা দেয় হামা গায়ে রাঙা জামা ঐ, দারোয়ান গায় গান শোন ঐ, রামা হৈ!’ ত্যাজি নীড় করে ভিড় ওড়ে পাখি আকাশে এন্তার গান তার ভাসে ভোর বাতাসে। চুলবুল বুলবুল শিস দেয় পুষ্পে, এইবার এইবার খুকুমণি উঠবে! খুলি হাল তুলি পাল ঐ তরী চললো, এইবার এইবার খুকু চোখ খুললো। আলসে নয় সে ওঠে রোজ সকালে রোজ তাই চাঁদা ভাই টিপ দেয় কপালে। উঠলো ছুটলো ওই খোকা খুকি সব, “উঠেছে আগে কে” ঐ শোনো কলরব। নাই রাত মুখ হাত ধোও, খুকু জাগো রে! জয়গানে ভগবানে তুষি' বর মাগো রে। আমাদের স্কুলগুলোতে এই কবিতাটিকে ছোট করে নীল রং করা অংশটুকুই শুধু শিশুদের শিখানো হয়। এখানে সম্পূর্ণ কবিতাটি দেওয়া হলো।

ছড়া/কবিতা : আমার পণ – মদনমোহন তর্কালঙ্কার

Image
আমার পণ – মদনমোহন তর্কালঙ্কার সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি। আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে, আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে। ভাইবোন সকলেরে যেন ভালবাসি, এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি। ভাল ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা, পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা। সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে, মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে। সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি, কিছুতে কাহারে যেন নাহি দেই ফাঁকি। ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে, সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে।