Posts

Showing posts with the label my-sky

গভীর রাতের আর্তনাদ

রাত গভীর হতেই গ্রীণ সিটির দক্ষিণ দিক থেকে একটা রক্ত হীম করা চিৎকার ভেসে আসে। ব্যস... তারপরই আবার সব সুনসান নীরব। ভোরে যখন শহরের বুড়ো হ্যানসন জগিংয়ে বের হয় দূর থেকে দেখতে পায় কে যেন রাস্তায় পড়ে আছে! প্রথমে ভেবে ছিলো হবে হয়তো কোনো মাতাল। কাছে আসতেই সে থমকে দাঁড়ায় মুখ থেকে বেরিয়ে আসে চিৎকার। মুহুর্তের মধ্যে মানুষ জড়ো হয়। লাশ!!! হ্যাঁ, নিশ্চিত একটা লাশ। কিছুক্ষণ পর পুলিশ আসে, ছবি তোলে, পরিচয় খোঁজে কিন্তু কিছু পায় না। শেরিফ সবাইকে বলে, “এটার আগেও দুটো খুন হয়েছে। কিন্তু কেসের সুরাহা করতে পারিনি। তাই কাউকে জানতে দেই নি। এবার বাধ্য হয়ে জানাচ্ছি।”  এবার জনতার কানাকানি বেড়ে যায়। সেই কানাকানি ছাপিয়ে একটা মুখ বলে ওঠে, “আমি এই কেসের সুরাহা করে দিতে পারি।” গলাবদ্ধ কোট, পায়ে বুট জুতা, মুখে পাইপ আর চোখে কালো চশমা পড়া লোকটাকে কেউ কোনদিন এই শহরে দেখে নি।  শেরিফ নাক কুঁচকে বলে, কোনো লাভ নেই। তবে আপনি চাইলে পুলিশের সাহায্য পাবেন। কিন্তু আপনার নামটা............. আমি রবিনসন্স, বললো লোকটা। মর্গে গিয়ে রবিনসন্স লাশটার দিকে তাকালো। গায়ে একফোঁটাও রক্ত নেই, গলায় ...

লাল সবুজের পতাকা

স্বাধীনতা পেয়ে আমরা করছি কত গর্ব কারা করল দেশটা স্বাধীন কখন প্রথম পর্ব। জাতির পিতার একটি ডাকে যুদ্ধ হলো শুরু ইয়াহিয়ার ষড়যন্ত্র ভুট্টো নাটের-গুরু। বীর বাঙালি যুদ্ধ চালায় দীর্ঘ ন’মাস ধরে জীবন বাজি রেখে তাঁরা দেশটা স্বাধীন করে। লাল -সবুজের এই পতাকা পেলাম যুদ্ধ শেষে বীর বাঙালি ফিরে এলো স্বাধীন বাংলাদেশে। রহমাতুল্লাহ আল আরাবী রাজশাহী SSC পরীক্ষার্থী - ২০২২ প্রকাশ :  ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২,  আমার আকাশ

বাঙালি বিজ্ঞানীর কথা

"ভালো করে বাঁচবার আছে যত দিক বিজ্ঞান অবদানে হল মৌলিক সভ্যতা বিকাশের ধারাগুলো জোড়া আগাগোড়া বিজ্ঞান দিয়ে তা মোড়া।" বিজ্ঞান নিয়ে এমনই এক বাস্তব কবিতা রচনা করেছিলেন সাহিত্যিক আলী ইমাম। আমি তারই কয়েক পঙক্তিই উল্লেখ করলাম। যুগে যুগে সভ্যতার বিকাশে ও মানুষের জীবনকে সুন্দর ও আনন্দময় করতে বিজ্ঞান যে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে চলেছে তা কমবয়সী বালকমাত্রও জানে। কিন্তু যারা বিজ্ঞানের এ সকল আবিষ্কার সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছে তারা হলেন বিজ্ঞানীরা। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোন ভূখণ্ড নয় বরং সারা বিশ্বে তারা প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের আবিষ্কারের দ্বারা। সমাদৃত হয়েছেন সর্বমহলে। 'বিজ্ঞানী’ কথাটি উচ্চারিত হলেই আমাদের চোখ চলে যায় নিউটন, আইনস্টাইন কিংবা মাদাম কুরি ও রাদারফোর্ডের মতো বিজ্ঞানীদের দিকে। কিন্তু আমরা কি কখনো আমাদের গর্বের প্রতীক বাঙালি বিজ্ঞানীদের কথা ভেবেছি একবার? কখনও জেনেছি তাদের আবিষ্কারের কথা। যে আবিষ্কারগুলো বদলে দিয়েছিল পৃথিবীকে। এ সপ্তাহেই রয়েছে আমাদের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। তাই এ লেখাটি লেখা হয়েছে আমাদের সেই সব মহান বাঙালি বিজ্ঞানীদের নিয়ে। তাহলে চল শুরু করা যাক। ...

বিজয় মামার বিজয়গাঁথা

বিজয় মামার কথা উঠলেই মা ঝর ঝর করে চোখের পানি ফেলতে থাকেন। মাকে আমি কখনও কাঁদতে দেখিনি। কিন্তু বিজয় মামার কথা উঠলেই তিনি যেন চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না। মায়ের এই কান্না আমি দেখে আসছি আমার জন্মের পর থেকেই। এছাড়াও খালামণিদের কাছ থেকে শুনেছি যে তিনি ১৯৭২ সালের পর থেকেই এভাবে কাঁদেন। পাশাপাশি স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের দিনেও তাকে রোজা রাখতে ও নফল নামাজ পড়তে দেখেছি। কিন্তু আমার মা আরেক দিনে খুব বেশি ইবাদত করতেন। আর সেই দিনটা হলো ৯ ডিসেম্বর। সেদিনটার তাৎপর্য আমি কখনোই বুঝতে পারি নি। একবার মা যখন আমার মাথার চুল আঁচড়ে দিচ্ছিল তখন আমি তাকে এ বিষয়টা জিজ্ঞেস করি। কিন্তু মা তখন আর কাঁদে নি। আমাকে আদর করে পাশে বসিয়ে বলতে লাগলেন বিজয় মামার কথা। নয় ডিসেম্বর দিনটি ছিলো আমাদের পরিবারের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। এ দিনে বিজয় মামার মৃত্যুর সংবাদ আমরা পাই। বিজয় মামা বাঘারপাড়া হাইস্কুলে পড়তো। মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন তার এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। দম ফেলার ফুরসত নেই যেন। খেলার খুব পাগল ছিল যে কিন্তু সেই খেলাও বন্ধ হয়ে গেলো তার। কিন্তু হঠাৎ করে তার মধ্যে কিছু পরিবর্তন দেখতে পাই আমরা। ঘন ঘন বাইরে যেতে ল...

সমুদ্রে প্লাস্টিক : একি!

মানুষের জীবনের সাথে সমুদ্র যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। পৃথিবীর প্রায় ৭১% হলো সমুদ্র যা বিভিন্ন প্রাণীর জন্য একমাত্র বাসস্থান। ন্যাশনাল জিওগ্রাফির এক তথ্যমতে, সমুদ্র প্রায় ৭০% অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, আমাদের এই সমুদ্র প্রতিনিয়ত কোন না কোনভাবে দূষিত হচ্ছে। আর প্লাস্টিক দূষণ হলো তার মধ্যে অন্যতম যার ফলে জীববৈচিত্র্য এখন চরম হুমকির মুখে। পৃথিবীতে প্রতি মুহুর্তে কোন না কোন স্থানে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট আর স্ট্র এর শেষ ঠিকানা হচ্ছে সমুদ্র। ২০১৫ সাল নাগাদ পৃথিবীতে ৬.৩ বিলিয়ন প্লাস্টিক পণ্য তৈরি করা হয়েছে। ভয়ংকর হলেও সত্য যে, এর মাত্র ৯ শতাংশকে পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে। ১২ শতাংশ পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে আর বাকি ৭৯ শতাংশই পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশে জমা আছে। এই জমা থাকা প্লাস্টিক কোন না কোনভাবে সমুদ্রে এসে পড়ছে। অপচনশীল এই প্লাস্টিক বছরের-পর-বছর সমুদ্রে ভাসতে থাকে আর ঢেউ এর মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। যার ফলে সমুদ্রের উপর একটা আচ্ছাদন তৈরি করে। সামুদ্রিক প্রাণীর একটা বড় অংশে সাধারণত খাদ্যের জন্য সমুদ্রে ভাসমান ক্ষুদ্র প্রাণী...

বাংলার অলরাউন্ডার

মায়ের  কয়েকবার ডাকাডাকি করার পর সবুজ ঘুম থেকে উঠলো। উঠেই সে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। ফ্রেশ হবার পর সে ডাইনিং টেবিলে এসে বসলো। সবুজদের বাড়িতে তারা চারজন। মা, বাবা, তার বোন নাফিসা এবং সে। ডাইনিং টেবিলটা যে খুব বড় তা বলা যাবে না। কিন্তু টেবিলটা খুব্ দামী। সবুজের বাবা এটা গত দুদিন আগেই নিয়ে এসেছিলেন। তার বাবা এখন সোফায় বসে টিভি দেখছেন। টেস্ট ম্যাচ শুরু হয়ে গেছে তা সবুজ গতকাল পত্রিকায় পড়েছিল। পত্রিকা পড়তে তার খুব একটা ভালো লাগে না। কিন্তু তার বাবা তার সামনে চোখ পাকিয়ে বলেছিলেন, ‘শুধুমাত্র পড়াশুনা করলেই হবে না। একজন ভালো ছাত্রকে সকল দিকেই পারদর্শী হতে হবে। তার দরকার প্রচুর জ্ঞান। আর এই জ্ঞান শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব না। তাই পত্রিকা- বই ,পুস্তক পড়তে হবে।” বলা যায় তার বাবার আদেশ মানতেই পত্রিকায় ঢু মেরেছিল সে। সবুজ দু তিন ওভার দেখলো। বাংলাদেশ দলের টেস্টের দৈন্যদশা যেন সচক্ষে দেখতে পেল সে। এতদিন শুধু শুনেই আসছিল। ৩ ওভারেই ৩ উইকেট নাই! পরে মা এসে খাবারের জন্য তাগাদা দেয়ায় আর দেখতে পারলো না। ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েই চলে গেলো স্কুলে। স্কুলে যাবার পথে সবুজের এক বন্ধু আসিফের সাথে তার দেখা...

টাউ টাউ বলি তারে

Image
সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। নতুন বছর মানেই আনন্দ আর খুশির ফোয়ারা। এত সব খুশি আর প্রাপ্তির মধ্যে গণিতশাস্ত্রও পিছিয়ে নেই উৎসব আর দিবসের আয়োজনে। পাই সম্বন্ধে তোমরা আশাকরি মোটামুটি সবাই জানো। বিশেষত: মাধ্যমিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের তো ভালোই বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়েছে এর সাথে! তাই না? আচ্ছা তোমরা বলতে পারবে, পাই কি? হ্যা বলছি শোনো। বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাতকেই পাই বলা হয়। π একটি ধ্রুব সংখ্যা। অর্থাৎ যেকোন একটি বৃত্তের পরিধি এবং একই বৃত্তের ব্যাসের অনুপাতের মান সর্বদাই একই হবে। এর মান 3.141592.....। পাই এ মান 3.14 অনুযায়ী বছরের তৃতীয় মাস মার্চের ১৪ তারিখে পাই দিবস পালন করা হয়। টাউ এর কথাটা এখান থেকেই চলে আসে। কিভাবে? শোন তাহলে- পাই আর টাউ হচ্ছে দু বন্ধু। পাইয়ের মান যখন হল 3.14। তখন টাউ হিংসা করে বলে উঠলো আমি তার চেয়ে ডাবল মান নিবো। তখন টাউ মান নিল 6.28। আবার দু জনের অনুপাতেরও একটি বিরাট ইতিহাস আছে। পাইয়ের 3.14 অর্থাৎ 3 টাকে যদি আমরা মাসের ক্রম ও 14 সংখ্যাটিকে যদি তারিখ ধরি তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, পাই দিবস পালিত হয় প্রতি বছরের 14 মার্চ। তাহলে টাউয়ের মান তো 6.28। তাহলে এটি কোন সময় পালিত হবে? হু...