Posts

Showing posts from December, 2019

প্রবন্ধ রচনা : ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক

ভূমিকা : ছাত্ররা জ্ঞানার্জনের যে সাধনায় নিয়োজিত হয়, তাতে শিক্ষকগণ উদার সহযোগিতা প্রদান করেন। শিক্ষকগণের সুচিন্তিত নির্দেশনায় ছাত্ররা শিক্ষার অভীষ্ট লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষকের কল্যাণধর্মী স্নেহচ্ছায়ায় শিক্ষার্থীর জীবন বিকশিত হয়। শিক্ষক ছাত্রদের সামনে জ্ঞানের আলো তুলে ধরেন। শিক্ষকের প্রদর্শিত জ্ঞানসম্পদে ছাত্ররা নতুন জীবন লাভ করে। এ জীবনই তার বিকাশের, যোগ্যতা প্রদর্শনের আর গুণাবলি চর্চার। এ সবই শিক্ষকের অকৃত্রিম আশীর্বাদপুষ্ট হলেই সম্ভব হয়ে ওঠে। এই পটভূমিকায় ছাত্র-শিক্ষকের পরম পবিত্র সম্পর্ক গড়ে ওঠে, মহত্ত্বের এক অনাবিল সৌন্দর্যের বিকাশ ঘটায়।  সম্পর্কের স্বরূপ : বাবা-মায়ের পর শিক্ষকই যে ছাত্রের কাছে দ্বিতীয় পিতা বা মাতার মর্যাদায় আসীন হন তার মূলে রয়েছে ছাত্রের জীবনে শিক্ষকের বিশেষ ভূমিকা। তাই ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকাই বিশেষ কার্যকর হলেও ছাত্র-শিক্ষক উভয়ের ভূমিকা ও অবস্থানের ওপর ঐ সম্পর্কের প্রকৃতি নির্ভর করে। এবং সম্পর্কটি মধুর ও পবিত্র হলে তার ভিত্তিতেই ছাত্রের ভবিষ্যৎ জীবন সার্থক ও মহিমান্বিত হয়ে ওঠে।  ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কের মধ্য...

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের প্রাচীন স্থাপত্য : মসজিদ ও মন্দির

মসজিদ ভূমিকা : পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মতো মুসলমানদের একটি নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ প্রার্থনাগার রয়েছে। পবিত্র কোরআন শরীফে বলা হয়েছে, “হে আমার বান্দাগণ, নামাজ কায়েম কর এবং যাকাত দান কর।” এই নামাজ একটি ব্যক্তিগত প্রয়াস এবং মুসলমানগণের বিশেষ দিন; যেমন- ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা এবং জুম্মার দিন ছাড়া এককভাবে নামাজ আদায় করে থাকেন। মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার পর রাসূলে কমীম হযরত মুহম্মদ (স) তাঁর সাহাবীদের সাথে একত্রে নামাজ আদায় করতেন এবং এভাবেই মসজিদের উৎপত্তি হয়। মসজিদ কথাটির উৎপত্তি হয়েছে মূল শব্দ ‘সাজাদা’ থেকে। ‘সাজাদা’ অর্থ সিজদার স্থান; অর্থাৎ সাধারণ অর্থে যেখানে সিজদা দেয়া হয় সেই জায়গাকে মসজিদ বলা হয়।  প্রথম নির্মিত মসজিদ : সর্বপ্রথম মসজিদ নির্মিত হয় মদীনায় ৬২২ খ্রিস্টাব্দে। মহানবী হযরত মুহম্মদ (স) একটি জমি ক্রয় করে সাহাবীদের উক্ত জমিতে ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। এই মসজিদের আয়তন, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ১০০ হাত এবং চারদিকে ৭ হাত পরিমাণ একটি উঁচু প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। মদীনা-মসজিদের বিশেষত্ব হচ্ছে যে, এর পূর্ব-প্রাচীরের দক্ষিণপ্রান্তে নবীজীর স্ত্রী...

প্রবন্ধ রচনা : গ্রীষ্মের দুপুর

↬ গ্রীষ্মের একটি নির্জন দুপুর ↬ নির্জন দুপুরের অভিজ্ঞতা ভূমিকা :  ‘জলশূন্য পল্লীপথে ধূলি উড়ে যায়  মধ্যাহ্ন বাতাসে; স্নিগ্ধ অশথের ছায়  ক্লান্ত বৃদ্ধা ভিকারিনী জীর্ণ বস্ত্র পাতি  ঝাঁ ঝাঁ করে চারিদিকে নিস্তব্ধ নিঝুম।’  গ্রীষ্মের আগমনে বাংলার প্রকৃতি রুক্ষ, বিবর্ণ ও বিশুষ্ক হয়ে ওঠে। গ্রীষ্ম যখন আপন ভাবমূর্তি নিয়ে প্রকৃতিতে ধরা দেয়, তখন বাংলার প্রকৃতি হারাতে বসে বসন্তের পত্র-পল্লবের সমারোহ, অশোক, পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুন নিভে যায়। কোকিলের ডাক শোনা যায় না। ভ্রমরের গুঞ্জরণ, প্রজাপতির ব্যস্ততা সব যেন হারিয়ে যায় কোথায়। হারিয়ে যায় অপরূপ শ্যামল প্রকৃতির সবুজ শোভা। আর এই রূক্ষতা ও বিবর্ণতার যথার্থ বিমূর্ত রূপ ফুটে ওঠে গ্রীষ্মের দুপুরে। এ এক অনন্য রূপ। গ্রীষ্ম ছাড়া অন্য কোনো ঋতুতে ঠিক দুপুরে সেই ঋতুর চরিত্র এমন সুন্দরভাবে ধরা দেয় না।  গ্রীষ্মের রূপ : বঙ্গ-প্রকৃতির ঋতুরঙ্গশালায় প্রথম ঋতু-নায়ক গ্রীষ্ম। বর্ষচক্রের প্রথম দৃশ্যেই ক্রুদ্ধ দু’চোখে প্রখর বহ্নিজ্বালা নিয়ে আবির্ভাব ঘটে এই মহাতাপসের। নির্দয় নিদাঘ-সূর্য কঠিন হাতে ছুঁড়ে মারে তার নিদ...

প্রবন্ধ রচনা : শরতে-হেমন্তে বাংলাদেশ

ভূমিকা : ঋতু-রঙ্গমঞ্চে যখন অগ্নিক্ষরা গ্রীষ্মের আতঙ্ক-পাণ্ডুর বিবর্ণতা মুছে গেছে, যখন বর্ষার বিষণ্ণ-বিধুর নিঃসঙ্গতা আর নেই, তখনই নিঃশব্দ চরণ ফেলে শরতের আবির্ভাব। মুখে তার প্রসন্ন হাসি। অঙ্গে তার স্বর্ণবরণ মোহন কান্তি। তার স্নিগ্ধ রূপ-মাধুর্য সহজেই আমাদের মনকে নাড়া দেয়। শরৎ যে পূর্ণতার ঋতু! শরৎ আসে হালকা চপলা চপলা ছন্দে। এসেই মেঘ আর রৌদ্রের লুকোচুরি খেলায় মাতে। শরৎ শুভ্রতার প্রতীক। গাছের পাতায় ঝকঝকে রোদের ঝিলিক, ভরা নদীর পূর্ণতা, নদীতীরে ফুটে থাকা অজস্র কাশফুল, শিউলি আর সারা আকাশ জুড়ে তুলোর মতো শুভ্র মেঘ- এসবই জানিয়ে দেয় শরৎ এসে গেছে।  শরতের অনুপম রূপরাশি : হালকা কুয়াশা আর বিন্দু বিন্দু জমে ওঠা শিশির, শারদ প্রভাতের প্রথম সলজ্জ উপহার। এর ওপর যখন সূর্যের আলো পড়ে তখন মনে হয় চারদিকে ছড়িয়ে আছে অজস্র মুক্তোদানা। যথার্থই শরতের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের তুলনা নেই। আকাশে এখন গাঢ় নীলিমার অবারিত বিস্তার। ক্ষান্ত-বর্ষণ সুনীল আকাশের পটভূমিকায় জলহারা লঘুভার মেঘপুঞ্জ। ধীর মন্থর ছন্দে তার কেবলই সৌন্দর্যের নিরুদ্দেশ যাত্রা। দিকে দিকে তার প্রসন্ন হাসির নম্র আভা। নদী-সরসীর বুকে কুমুদ-কলমের নয়ন-মুদ্...

প্রবন্ধ রচনা : বিজ্ঞান মেলা

↬ বিজ্ঞান প্রদর্শনী ভূমিকা :  ‘আজিকার এ বিজ্ঞান মেলা  শুভ প্রভাতের করেছে সূচনা,  বিজ্ঞানের পূর্ণ বিকাশ  বিজ্ঞানের জয়যাত্রা  বিজ্ঞানের বিশাল মাত্রা  বিজ্ঞান মেলা তব ঝলক মাত্র।’  একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতির লালনভূমি হিসেবে বাংলাদেশ অতি প্রাচীনকাল থেকেই সুপরিচিত। মৌসুমি জলবায়ু আর উর্বর রদ্বীপীয় পাললিক ভূমিসমৃদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের এ অঞ্চলে বিজ্ঞান ও ললিতকলার বিকাশ ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্রমে আমাদের দেশে বিজ্ঞানের ক্রম উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বলা বাহুল্য যে, আজকের বিশ্ব বিজ্ঞানের দানে সমৃদ্ধ। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। সমগ্র পৃথিবীতে মানুষ আলোর গতিতে চলছে। অবিশ্বাস্য রূপে জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। মানচিত্রে ঘটেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সুতরাং মানবজীবনে বিজ্ঞান চর্চা, বিজ্ঞান পঠন-পাঠন ও এর একটি বিশেষ অর্ন্তভুক্তি বিজ্ঞান প্রদর্শনী বা বিজ্ঞান মেলা আজকের দিনে শিক্ষার একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  বিজ্ঞান মেলা কী? : আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী বা মেলার আয়োজন করা হয়। একুশে বই মেলা, বাণিজ্য মেলা,...

প্রবন্ধ রচনা : বিশ্ব পরিবেশ দিবস : ৫ জুন

ভূমিকা : পরিবেশ মানবসভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সভ্যতার ক্রমবিকাশ থেকেই মানুষ ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে তার পরিবেশ। মানুষের রচিত পরিবেশ তারই সভ্যতা-বিবর্তনের ফসল। পরিবেশই প্রাণের ধারক, জীবনীশক্তির যোগানদার। যুগে যুগে পরিবেশ বা পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে প্রাণীর মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার ওপরেই তার অস্তিত্ব নির্ভরশীল। পরিবেশ প্রতিকূল হলে জীবের ধ্বংস ও সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী। পরিবেশের বিরুদ্ধতা বেঁচে থাকার পথকে অবলীলাক্রমে রুদ্ধ করে। পরিবেশের ওপর সম্পৃক্ত হয়ে মানুষ, অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণী-জীবনের বিকাশ ঘটে। তাই পরিবেশ ও মানুষের মধ্যে রয়েছে এক নিবিড় যোগসূত্র। কিন্তু নানা কারণে পরিবেশ দূষণ সমস্যা প্রকট হওয়ায় মানবসভ্যতা আজ চরম হুমকির সম্মুখীন। এ থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। এ ব্যাপারে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘ ৫ জুনকে ঘোষণা করেছে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে। পরিবেশ দূষণের কারণ : পরিবেশ দূষণের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তন্মধ্যে প্রধান কয়েকটি কারণ নিম্নরূপ : ১। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ২। অপরিকল্পিত নগরায়ন ৩। বনভূমির অপরিকল্পিত ব্যবহার ৪। প্রা...

প্রবন্ধ রচনা : বিশ্ব শিশু দিবস

↬ আন্তর্জাতিক শিশু দিবস ভূমিকা : ‘আককের শিশু / পৃথিবীর আলোয় এসেছে  আমরা তার তবে একটি সাজানো বাগান চাই।’  প্রবীণ শিল্পীদের দরদভরা কণ্ঠে গান হয়ে একটা বিষয়েই আর্তি জানায়- শিশুর অধিকার কী? শিশুর অধিকার যেন আজ সবার মাঝে সোচ্চার কণ্ঠে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। আজকে যে শিশুটি জন্ম নিল একদিন সেই তো বড় হয়ে নামকরা সাহিত্যিক, স্বনামধন্য ডাক্তার, খ্যাতিমান শিল্পী বা বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী হবে। কিন্তু কী দেখছি আমরা? তৃতীয় বিশ্বের শিশুদের দিকে তাকালে তাদের নানা করুণচিত্র আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তারা ক্ষুধায় পায় না অন্ন, চিকিৎসার জন্য পায় না ওষুধ। শুধু তাই নয়- বাসস্থান ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারগুলো থেকেও তারা বঞ্চিত। এসব শিশুর কতজন কলে–কারখানায়, ক্ষেতে-খামারে শ্রমিকের কাজ করে , কতজন টোকাই, কতজন ক্ষুধা-অপুষ্টি আর রোগের কবলে পড়ে অকালে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, কে রাখে তাদের খবর?  বিশ্ব শিশু দিবস কী? : জাতিসংঘ ১৯৫৪ সালে এ দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার ‘বিশ্ব শিশু দিবস’ পালন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহম...

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের খাদ্য সমস্যা ও তার প্রতিকার

↬ খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য সমস্যা ভূমিকা : মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রথম উপকরণ হচ্ছে খাদ্য। আর বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য হল ভাত। এদেশের শতকরা ৮০ ভাগ লোক কৃষিকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকলেও বর্তমানে খাদ্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। ফলে প্রতিবছর বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে খাদ্য সমস্যা এখন একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। দেশের কিছু কিছু এলাকায় এটি ‘মঙ্গা’য় রূপ নিয়েছে। সেসব অঞ্চলে চলে প্রকট খাদ্যভাব। যা ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।  খাদ্য সমস্যা কী? : অবাধ খাদ্য সরবরাহ এবং সারা বছর খাদ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতাকে বলা হয় খাদ্য নিরাপত্তা। খাদ্য নিরাপত্তা দুরকমের- গৃহগত বা পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা। পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিটি পরিবারের পর্যাপ্ত খাদ্য সংগ্রহের সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল, যাতে পরিবারের প্রতিটি লোক সর্বদা স্বাস্থ্যবান ও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য খেতে পারে। একইভাবে, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা সারা দেশের জনগণের জন্য যথেষ্ট খাদ্য সংগ্রহের সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। খাদ্য ন...

প্রবন্ধ রচনা : সমবায়

↬ সমবায় আন্দোলন ↬ সমবায় আন্দোলনের গুরুত্ব ভূমিকা : অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে কতিপয় লোকের সংঘবদ্ধ হওয়ার পদ্ধতিকে ‘সমবায়’ ব্যবস্থা বলে অভিহিত করা হয়। মানবজীবনে সম্মিলিত প্রয়াস আনে সুবিপুল সম্ভাবনা। সাধারণত যেখানে একক প্রচেষ্টায় কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভবপর হয় না, সেক্ষেত্রে সমবেত প্রচেষ্টার প্রয়োজন পড়ে। সকলে সম্মিলিতভাবে যে কজটি যত সহজে সম্পাদন করতে পারে, পৃথক পৃথকভাবে তা বাস্তবায়িত করা তত সহজ নয়। সকলে মিলে কাজ করতে পারলে তাতে সাফল্য অনিবার্য হয়ে ওঠে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ কালভার্টের মতে,  ‘কিছু সংখ্যক লোক যখন কোনো অর্থনৈতিক স্বার্থসাধনের জন্যে স্বেচ্ছায় সম্মিলিত হয় তখন তাকে ‘সমবায়’ বলা হয়।’  এর ওপর ভিত্তি করেই সমবায় আন্দোলনের উদ্ভব ও বিকাশ সাধিত হয়েছে।  সমবায় আন্দোলনের ইতিহাস : জার্মানি হচ্ছে সমবায় আন্দোলনের জন্মভূমি। অর্থনীতিবিদ রাইফিজেন নামক এক মহান-হৃদয়বান জার্মান সমাজ-সংস্কারক মহাজনদের নির্মম শোষণ থেকে কৃষককূলকে রক্ষার জন্যে সমবায় আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। আমাদের এই উপমহাদেশে উইলিয়াম নিকলসন সমবায়ের নীতি গ্রহণ করেন এবং এক...

ভাবসম্প্রসারণ : করিতে পারি না কাজ, সদা ভয়, সদা লাজ / সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে।

করিতে পারি না কাজ, সদা ভয়, সদা লাজ সংশয়ে সংকল্প সদা টলে, পাছে লোকে কিছু বলে। সমাজে কিছু দুর্বল মনের মানুষ থাকে। ভয় ও সংকোচ তাদের প্রতিদিনের সঙ্গী। কথা বলতে তারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে। কোনো কাজ করতে গেলেও তাদের মনে সংশয় থাকে। ফলে মনের কথাটা প্রয়োজন মতো বলা হয় না। আবার শুভ কাজটাও সঠিক সময়ে সঠিকভাবে করা হয় না।  সমাজে কিছু দুর্বল মনের মানুষ থাকে, যাদের মনে সব সময়ই সন্দেহ জাগে, কে কী মনে করবে, কে কী বলবে, কে কী সমালোচনা করবে। অর্থাৎ লোকে কী ভাববে, এ বিষয়টা নিয়েই তার যত পিছুটান। অথচ সে যা ভাবছে, যা চিন্তা করছে যা করতে যাচ্ছে তা সমাজের জন্য কল্যাণকর। মানুষ তা থেকে উপকৃত হবে। কেননা প্রতিটি মুহূর্তে শুভ চিন্তা, কল্যাণ ভাবনা, পরোপকারী কাজ তাকে তাড়া করে। সে সমাজের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে চায়। শক্তি-সামর্থ্য, অর্থ-বিত্ত তার আছে। কিন্তু উদ্যোগ নিতে গিয়েই দ্বিধা দ্বন্দ্ব, সমালোচনা-নিন্দার ভয় তাকে পিছু টানে। ফলে শুভ ও কল্যাণকর কাজটা করতে গিয়ে পন্ডশ্রম হয়। সুন্দর কথা ও সুন্দর কাজ মনের মধ্যেই থেকে যায় তা কোনো সুফল বয়ে আনতে পারে না।  প্রকৃতপক্ষে যেকোনো সুন্দর বা গঠনমূলক কথা...

ভাবসম্প্রসারণ : বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।

বাংলার ইতিহাস এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। তদানীন্তন পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই পূর্ব বাংলা ও বাংলার মানুষের সঙ্গে বৈরী আচরণ ও ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। তারা ২৩ বছর ধরে শোষণ-বঞ্চনা, অত্যাচার-নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এদেশের মানুষের সবরকম অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তাই যথার্থভাবেই বাংলার মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাসের কথা দৃঢ়কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ক্ষমতসীন গোষ্ঠী গোড়া থেকেই বাংলাকে উপনিবেশ করার ষড়যন্ত্রে তৎপর হয়ে ওঠে। প্রথমে তারা ৫৬ ভাগ মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এদেশের মাতৃভাষা বাংলাপ্রেমী ছাত্র-জনতা ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে সারা দেশকে ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত করে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি সারা দেশে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে হরতাল আহ্বান করা হয়। তদানীন্তন সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল-মিটিং বন্ধ ...