Posts

Showing posts from May, 2019

প্রবন্ধ রচনা : মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু - PDF

Image
ভূমিকা : হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালির শ্রেষ্ঠতম অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আর এ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে যার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । সংগ্রাম ও অবদানে নিজ নিজ জাতির মুক্তিদাতা হিসেবে মানুষদের মধ্যে আছেন আমোরিকার জর্জ ওয়াশিংটন, তরস্কের কামাল আতাতুর্ক, ভারতের মহাত্মা গান্ধী, দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন মেন্ডেলা, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো প্রমুখ নেতা। আর আছে বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা। দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি ইতিহাসের বরপুত্র হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছেন। তার জীবনাদর্শে আমরা সংগ্রামী চেতনা ও কর্মনিষ্ঠার পরিচয় পাই।  জন্ম : স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বর্তমান গোপালগঞ্জ (তৎকালীন ফরিদপুর) জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শেখ লুৎফর রহমান, মাতা সায়রা খাতুন। দুই ভাই, চার বোনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পিতা-মাতার তৃতীয় সন্তান।  শৈশবকাল : পারিবারিক আনন্দঘন পরিবেশে বঙ্গবন্ধুর শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো কাটে গোপ...

প্রবন্ধ রচনা : জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা

বর্তমান বিশ্বে একটি আলোটিত বিষয় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ। সারা বিশ্ব আজ কেঁপে উঠেছে জঙ্গিবাদের হামলায়। অরক্ষিত ও সহজেই লক্ষ্যভূক্ত করা যায় এমন মানুষের ওপর জঙ্গি হামলা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বের কোনো জাতিই এ হামলা থেকে মুক্ত নয়। জঙ্গিবাদের নামে এ যুদ্ধ-বিগ্রহ, হত্যা-হানাহানি বা ধ্বংসাত্মক কর্মকণ্ড কখনোই বিশ্ব মানবতার জন্য কাম্য নয়। জঙ্গিবাদ এভাবে চলতে থাকলে তা একসময় গোটা বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলবে। তাই সকলকে এক হয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। জঙ্গির কালো থাবা থেকে দেশ ও বিশ্বকে বাঁচাতে হবে।  জঙ্গি কী বা করা? : জঙ্গ একটি ফার্সি শব্দ। উর্দু আর ফার্সিতে জঙ্গ লড়াই বা যুদ্ধ অর্থে ব্যবহার হয়। জঙ্গ অর্থ যুদ্ধ আর জঙ্গি মানে যোদ্ধা, লড়াকু। ফার্সি আর উর্দুকে জঙ্গি একটি সম্মাতি শব্দ। যারা অন্যায় অত্যাচার আর জুলুম নির্যাতনের বিপক্ষে এবং ন্যায়ের পক্ষে বঞ্চিতদের অধিকার আদায়ের জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম করে তাদের সম্মানের চোখে দেখা হয় এবং জঙ্গি বলে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমানে জঙ্গি শব্দের অপব্যবহার করছে কিছু বিপথগামী মানুষ। তারা ইসলামকে ব্যবহার করে শত শত নিরীহ মানুষের জীবন ধ্বংস করছে। এরা সভ্য জগতের...

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ভূমিকা : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শুরু হয়েছিল কিন্তু বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম যুগ-যুগ ধরে চলে এসেছিল। অবশেষে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত ও অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এর সমাপ্তি ঘটে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে। এ দিন পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একদিকে যেমন করুণ, শোকাবহ, লোমহর্ষক অন্যদিকে ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ও বীরত্বপূর্ণ।  মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক পটভূমি। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন এক ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ইংরেজদের নিকট পরাজিত হন। সেখান থেকেই বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। বাঙালি জাতি চলে আসে ইংরেজদের শাসনাধীন। দু’শ বছর তারা রাজত্ব চালায়। বিজাতীয় শাসন, শোষণ, বঞ্চনা আর নিপীড়নের যাঁতাকলে বাঙালি জাতি নিষ্পেষিত হয়েছে। মনের কোণে লালিত স্বাধীনতা স্পৃহা আর ধূলি-লুণ্ঠিত স্বপ্নসাধ থেকে বিভিন্ন সময়ে এদেশের মানুষের মনে জন্ম নিয়েছে বিক্ষোভ, ...