Posts

Showing posts with the label অভিজ্ঞতা

হযরত (র.) শাহজালাল-এর মাজার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর

হযরত (র.) শাহজালাল-এর মাজার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। হযরত শাহজালাল (র.) ছিলেন উপমহাদেশের বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। সিলেট অঞ্চলে তিনিই প্রথম ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটান। তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনা ও শক্তি, নির্লোভ ও নিষ্কাম প্রকৃতি, মানুষের প্রতি অগাধ ভালোবাসার জন্যই সর্বস্তরের মানুষ আজও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি হ্রদর্শন করে। এমন একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ওলিকুল শিরোমণির মাজার পরিদর্শন অবশ্য কর্তব্য মনে করে সিলেট পৌঁছালাম। উঠলাম এক পরিচিতের বাড়িতে। তাঁদের অভ্যর্থনা ও আপ্যায়নে মুগ্ধ হলাম। পরদিন সকালে মাজার পরিদর্শনে তাঁরাই আমাদের সাথি ও গাইড হলেন। তারা জানালেন, অত্যাচারী রাজা গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করে ৩৬০ সফরসঙ্গীসহ হযরত শাহজালাল (র.) সিলেটে আগমন করেন। আর সিলেটের মাটির সঙ্গে আরবের মাটির মিল পাওয়ায় এখানেই বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচারে মনোনিবেশ করেন। দরগা মহল্লায় একটি ছোট্ট টিলার উপর আস্তানা স্থাপন করে এখানে বসেই তিনি এবাদত-বন্দেগি করতে থাকেন। আমরা গেট দিয়ে মাজার কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রবেশ করলাম। ডান পাশে ছোট্ট টিলা। এখানেই তাঁর মাজার। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে মাজার জিয়ারত ও মোনাজ...

বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর

বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। এক যুগেরও আগে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও একবারও যাওয়া হয়নি এবং ‘দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া’। অথচ ইতিবাচক বৈজ্ঞানিক ধ্যানধারণা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ থেকে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করাই এই অনানুষ্ঠানিক বিজ্ঞান শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্য। । ০২ এপ্রিল শনিবার ১০টায় পৌছে গেলাম বিজয় সরণির দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে। ই-টিকেট ক্রয় করা ছিল আগেই, তার এন্ট্রি স্লিপ সংগ্রহ করলাম। বাইরে থেকে নীল-সবুজের ঘন সমারোহে গম্বুজবিশিষ্ট স্থাপনাটি দেখতে খুবই আকর্ষণীয় । কাউন্টারে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ব্যাগ জমা দিয়ে রাইড সিমুলেটরে উঠলাম আমরা চারজন। নভোথিয়েটারে দুটো চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হলো। ‘এ জার্নি টু ইনফিনিটি’তে নক্ষত্রশালার গম্বুজে পৃথিবী ও নীল আকাশ ফুটিয়ে তোলা হলো। বিগ ব্যাং-এর মাধ্যমে কীভাবে নক্ষত্র ও গ্রহ সৃষ্টি হলো এবং আমাদের ছায়াপথে সূর্য ও গ্রহগুলোর অবস্থান ও প্রকৃতি এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হলো যে, মনে হলো আমরা নক্ষত্র-গ্রহগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এ এক অনাস্বাদিত, রোমাঞ্চকর ও বিস্ময...

নবীনবরণ অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর

নবীনবরণ অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। গতকাল ছিল আমার কলেজজীবনের বিশেষ একটি দিন। আমরা দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা মিলে শিক্ষকদের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় কলেজে নবীনদের বরণ করে নিতে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন অধ্যক্ষ মহোদয়। সকাল নয়টার আগেই আমি কলেজে উপস্থিত হই। নয়টা থেকেই নবীন শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে। আমরা কলেজ অডিটরিয়ামে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। একটি করে গোলাপ ও একগুচ্ছ রজনীগন্ধা দিয়ে নবাগত ভাই-বোনদের স্বাগত জানাই। তাদের চোখে-মুখে স্বপ্নমাখা দীপ্তি অবলোকন করে মনে পড়ে গত বছরও আমাদের এভাবেই এ বিদ্যাপীঠে বরণ করে নিয়েছিলেন আমাদের পূর্বসূরিরা। শুভেচ্ছা জানানোর পর শুরু হলো মূল অনুষ্ঠান। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর স্বাগত বক্তব্য রাখলেন অধ্যক্ষ মহোদয়। একে একে অন্যান্য শিক্ষক মহোদয় বক্তব্য রাখলেন। কলেজের বড় ভাই হিসেবে আমরাও তাদের উদ্দেশে কিছু নিয়মকানুন ও নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখলাম। নবাগত ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করার সুযোগ দেওয়া হলো। এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতি। বেলা তিনটায় পুনরায়...

ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন একটা রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর

ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন একটা রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। মামা দেশের বাইরে, মামি সন্তানসম্ভবা, এ অবস্থায় মা আমাকে নিয়ে রওয়ানা হলেন চাঁদপুরের উদ্দেশে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ ক্রমশ দুরন্ত কালো মেঘে ছেয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ঝড় উঠবে। লঞ্চ নদীর কিনার ধরে যাচ্ছে। অল্পক্ষণের মধ্যেই পৌছে গেলাম লঞ্চঘাটে। কাছেই মামাবাড়ি। বাড়িতে ঢুকতে ঢুকতেই শুরু হলো ঝড়। প্রবল বাতাসের সাথে প্রবল বৃষ্টি। মামি আর নানি খুব খুশি হলেন। তারা আশাই করেননি আমরা কেউ আসব । নানি লাঠিতে ভর করে আস্তে হাঁটছেন আর বলছেন চিন্তা এবং উৎকণ্ঠার কথাগুলো। মা তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। আমি মামির কাছে। মামি আমাকে জড়িয়ে ধরে আছেন। কাঁদছেন। এমন সময় বিদ্যুৎ চলে গেল। আমি বললাম, হারিকেন বা মোমবাতি কিছু আছে ঘরে? ম্যাচ, ম্যাচ কোথায়? মামি বললেন, “তুমি তো খুঁজে পাবে না বাবা, আমি দেখছি।” আমি মামিকে উঠতে মানা করলাম। ধাক্কা লাগলে বা পড়ে গেলে সর্বনাশ হবে। মোবাইলের কথা মনে পড়ল। আলো জ্বেলে খুঁজে পেলাম সবই। হারিকেনটাই জ্বালালাম। মা আর নানি কেঁদেই চলেছেন । অনেকদিন পর দেখা। ঝুপ ঝুপ শব্দে মামি চমকে উঠলেন, “মা নদীর পাড় ভাঙছে বোধ হয়।” নান...

একটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর

একটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে সামান্য দূরত্বে হজরত খানজাহান আলী (রহ)-এর মাজার, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খাঞ্জেলী দিঘি। ষাটগম্বুজ মসজিদ শুধু দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলারই নয়, এটি সুলতানি আমলে তৈরি বাংলার সবচেয়ে বড় মসজিদ। এ মসজিদের চূড়া বা গম্বুজ সংখ্যা ৭৭টি হলেও লোকমুখে সর্বসাধারণে এটি ষাটগম্বুজ মসজিদ নামে খ্যাত। আমরা মসজিদ, মিনার বা মাজারের গোলাকার শীর্ষদেশকে গম্বুজ বললেও ফারসি ভাষায় স্তম্ভ বা খুঁটিকেই গম্বুজ বলে। এ মসজিদের অভ্যন্তরে যে ৬০টি স্তম্ভ বা পিলার আছে, তা থেকেই ৬০ গম্বুজ নামের উৎপত্তি বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। মসজিদের বাইরে বিরাট এলাকাজুড়ে একটি প্রাচীন বেষ্টক দেওয়াল এবং পূর্বদিকে মসজিদে প্রবেশের একটি প্রধান প্রবেশ তোরণের চিহ্ন এখনও বর্তমান। তোরণের দুপাশে ছিল দুটি কক্ষ। মসজিদের খাদেম আমাদেরকে মসজিদের ভেতর ও চারপাশের নানা স্থাপনা ঘুরিয়ে দেখান। তার মাধ্যমে জানা যায়, বৃহত্তর যশোর অঞ্চল, যা বর্তমান মাগুরা থেকে বাগেরহাট হয়ে সাতক্ষীরা পর্যন্ত বিস্তৃত, হজরত উলুঘ খানজাহান আলী (রহ)-এর যুগে (১৪১৮-১৪৫৯ খ্রি.) খলিফতাবাদ নামে পরিচিত ছিল। মধ্যয...

তোমার কলেজ জীবনের কোনো তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার অভিজ্ঞতা

তোমার কলেজ জীবনের কোনো তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। আমার কলেজ জীবন ছিল বিচিত্র অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ। বিভিন্ন সময়ে আমি বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষকদের সাথে বৈচিত্র‍্যপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করেছি। এগুলোর মধ্যে সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো একুশে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন। প্রথমে আমরা ছাত্র ও শিক্ষক মিলে কীভাবে মাতৃভাষা দিবস পালন করব তা নিয়ে আলোচনা করি। অধ্যক্ষ স্যারের নির্দেশে আমাদের তিনটি ধাপে তিনটি কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমরা একজন একজন করে শিক্ষকের নেতৃত্বে দশজন ছাত্র মিলে একটি করে দল গঠন করি। একেক দল একেক নামে পরিচিত হয়। যেমন-শাপলা, দোয়েল, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ইলিশ ইত্যাদি। দুটি দলের দায়িত্ব ছিল কলেজ প্রাঙ্গের সাজসজ্জা। তারা বাংলাদেশের পতাকা, লাল-সবুজ কাগজ ও ভাষা-শহীদদের ছবি দিয়ে খুব সুন্দর করে কলেজ প্রাঙ্গন সাজায়। একুশে ফেব্রুয়ারির দিল সকাল বেলা ছাত্র শিক্ষক সকলে মিলে আমরা খালি পায়ে ' আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি ' গান গেয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করি। শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে অধ্যক্ষ স্যার একুশ...

কলেজে তোমার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা

কলেজে তোমার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। কলেজে আমার প্রথম দিন কেটেছিল আনন্দ উচ্ছলতায়। স্কুল জীবনের দশ বছর পার করে এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হওয়ায় পর থেকেই প্রথম দিনের ক্লাসে উপস্থিত থাকার অপেক্ষায় ছিলাম। সপ্তাহখানেক সময়ের ব্যবধানে বহু প্রতীক্ষিত সেই দিন উপস্থিত হলো। আমি আগেই জেনেছিলাম, ঐদিন অনানুষ্ঠানিক পরিচিতি অনুষ্ঠান হবে। সঙ্গে ক্লাস রুটিন, নবীন ছাত্রদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়ার ঘোষণা ছাড়া বিশেষ কোন ক্লাস হবে না। হয়েছিলও তাই। আমার স্পষ্ট মনে আছে, সেদিন সকাল থেকে কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। মনের আনন্দে ভালো জামা কাপড় পরে একটি নোটবুক নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বের হলাম। কলেজের কাছাকাছি আসতেও দু একজন পরিচিত মুখ দেখলাম। সবাই কলেজের প্রথম দিনে, প্রথম ক্লাসের অপেক্ষায় আছি। একটা বড় হলরুমে বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত। প্রথম ক্লাস হবে বাংলা। কমন ক্লাস, সবাই করবে। এটাই মূল উদ্দেশ্য নয়, মূল উদ্দেশ্য কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় আমাদের উদ্দেশ্য বিশেষ কিছু কথা বলবেন। অপেক্ষা করতে হলো না, অধ্যক্ষ সাহেব এলেন তাঁর সঙ্গে কয়েকজন নবীন প্রবীণ...

শীতের কোনো এক সকালের অভিজ্ঞতা

শীতের কোনো এক সকালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। গ্রামের ছেলে হলেও শহরে থেকে অনেকটা খোলস পাল্টে পুরোদস্তুর শহুরে বনে গেছি। কিন্তু মাটির টান, তাকে অস্বীকার করি কী করে! তাই মাঝে মাঝে ছুটে যাই সেই হিমালয়ের কোলঘেঁষা পঞ্চগড়ের রানীশংকৈলে। অনেক দিন পর এবার শীতের মাঝামাঝি হঠাৎ করেই বলতে গেলে খেয়ালবশতই গ্রামে যাই। বাড়ি ছেড়েছি সেউ উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর। কেমন যেন অচেনা হয়ে গেছে আপন গ্রামখানি সেদিন অভ্যাসমতো বেশ ভোরেই ঘুম ভাঙ্গে। তীব্র শীত সত্ত্বেও ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়লাম। ভোরের কুয়াশা তখনও সমগ্র প্রকৃতিতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে আছে। গ্রামের মেঠোপথে ধরে আস্তে আস্তে হাঁটছি। উত্তরা বাতাসে মনে হলো হিমালয়ের বরফপুঞ্জকে উড়িয়ে এনে বাংলার প্রকৃতির মজ্জায় কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছিল। আমিও সমানতলে কাঁপছিলাম। কিন্তু এক অনির্বচনীয় ভালো লাগে ও শিহরণ আমার সমস্ত সত্তায় প্রবাহিত হচ্ছিল। পাতা ঝরা শিশিরের টুপটাপ শব্দ এবং পাখির কূজন ছাড়া সমস্ত প্রকৃতিতে তখন ছিল আশ্চর্য নীরবতা। সময় যাচ্ছিল আর কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েই চলছিল। ৫০ হাত দূরের বস্তুও দেখা যাচ্ছিল না, এমন অবস্থা হঠাৎ গামছায় মুখ মাথা জড়িয়ে কে একজন এ...

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ভ্রমণে অর্জিত অভিজ্ঞতা

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ভ্রমণে অর্জিত অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রতি আমি কেমন যেন একটি অনিবার্য আকর্ষণ অনুভব করি। সে আকর্ষণেই একদিন গিয়ে হাজির হয়েছিলাম পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে, যা সোমপুর বিহার নামেও পরিচিত। এ বিহারটির অবস্থান বর্তমান নঁওগা জেলার বদলগাছি উপজেলা পাহাড়পুর গ্রামে। জয়পুর হাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে ৫কি.মি. পশ্চিম দিকে পাহাড়পুর গ্রামে যখন পৌঁছালাম তখন বেলা প্রায় ১১টা। স্থানীয় রেস্টুরেন্ট থেকে সকালের নাশতা সেরে আমরা মূল বিহারটি পরিদর্শনে মনোনিবেশ করলাম। পাহাড়পুর বা সোমপুর বৌদ্ধবিহারটি পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে কিংবা নবম শতকের প্রথম দিকে তৈরি করেন। এটি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ প্লাবন সমভূমিতে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন যুগের বরেন্দ্র নামক অনুচ্চ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। ১৮৭৯ সালে স্যার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। বৌদ্ধবিহারটিতে গিয়ে দেখা গেল এর ভূমি পরিকল্পনা চতুষ্কোনাকার। এর চার দিক চওড়া সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘেরা ছিল সী...

একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা

একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। বাস গোয়ালন্দ অতিক্রম করার পরই মনে হলো কেমন একটা স্বব্ধ পরিবেশ। আকাশে দু চারটা কালো মেঘ ছড়ানো। কাশিয়ানি ঢুকতেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলো। আমি একা। একটু একটু ভয় পাচ্ছিলাম। প্রথমবার যাচ্ছি গোপালগঞ্জ শহরে। মুষলধারা বৃষ্টি শুরু হলো কীভাবে যাব, বাড়ি খুঁজে পাব কিনা, কোথায় কী করব ইত্যাদি ভাবনা উঁকি দিচ্ছে মনে। একটা কাগজে লেখা ছিল ঠিকানা আর টেলিফোন নম্বর, সেটাও ফেলে এসেছি বাসায়। তবে ভদ্রলোকের নাম মনে আছে, আর কোথায় জিজ্ঞেস করতে হবে সেটাও মনে আছে। এটুকুই ভরসা। মনকে সাত্বনা দিলাম, একটা কিছু ব্যবস্থা হয়েই যাবে। পুলিশ লাইনের কাছাকাছি আসতেই মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হলো। গাড়ি থামল সামনেই। ঘন্টাখানেক পর বৃষ্টি কমে এলো। নামছে অনেকেই। কিন্তু পানি জমে গেছে। রাস্তার পাশে অনেক দোকান। দোকানের ভেতরেও পানি। আমি নেমে ভারী ব্যাগটা হাতে নিলাম উঁচু করে। একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে বসে রইলাম। পথে রিকশা, স্কুটার কিছু নেই। রাত প্রায় ৯টা বাজে। বেশ কিছুক্ষণ পর একটা রিকশা এলো ব্যাটারিচালিত। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি তখনও হচ্ছে। রিকশাটাকে থামিয়ে উঠে পড়লাম। গন্তব্...

জাতীয় স্মৃতিসৌধ দর্শনের অভিজ্ঞতা

জাতীয় স্মৃতিসৌধ দর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ৫০জন ছাত্রছাত্রী সাভার উপজেলার নবীনগরে যাচ্ছি। এটি ঢাকা থেকে ৩৫কি.মি. উত্তর পশ্চিমে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখানে গণকবর ও বধ্যভূমি আবিষ্কৃত হয়। এ কারণে স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান শহীদদের অসামান্য ত্যাগ ও শৌর্যের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য এখানে নির্মাণ করা হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স। ইতিহাসের হায়দার স্যার ব্রিফ করছেন, আমরা মনযোগ দিয়ে শুনছি। অধিগ্রহণকৃত ৮৪ একর জমিতে সমগ্র কমপ্লেক্স এবং প্রায় ২৫ একর জুড়ে রয়েছে সবুজ বনভূমি। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর প্রথম বিজয় দিবসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রথম পর্যায়ে ভূমি সংগ্রহ ও প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণ, দ্বিতীয় পর্যায়ে গণকবর, হেলিপ্যাড, পার্কিংয়ের জায়গা, পেভমেন্ট নির্মাণ তৃতীয় পর্যায়ে কৃত্রিম লেক, সবুজ বনভূমি, ক্যাফেটেরিয়াসহ মূলস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল কাঠামোর নকশা তৈরি করেছেন স্থপতি মঈনুল হোসেন। স্তম্ভটির সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি গণকবর ও একটি প্রতিফলন সৃষ্টিকারী জলাশ...

ঢাকার পহেলা বৈশাখের অভিজ্ঞতা

ঢাকার পহেলা বৈশাখের অভিজ্ঞতা লেখ। গ্রামে পহেলা বৈশাখে হালখাতা আর বৈশাখী মেলা ছাড়া আর কোনো আনন্দ নেই। অবশ্য সারাদিন বিশেষ খাবার খাওয়ার আলাদা তৃপ্তি এবং আনন্দ আছে। কিন্তু টিভি চ্যানেলগুলোতে ঢাকায় পহেলা বৈশাখের ছবি দেখে আর বর্ণনা শুনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবার পহেলা বৈশাখ ঢাকায় কাটাবো। ৩০ চৈত্র ঢাকায় চলে এলাম, উঠলাম ফুফুর বাসায়। আমাকে পেয়ে সবাই খুব খুশি। বিকেলে ভাইয়ার সঙ্গে বের হলাম পাঞ্জাবি পাজামা কিনতে। সন্ধ্যার পর পহেলা বৈশাখের সারাদিনের প্রোগ্রাম তৈরি হয়ে গেল। খুব ভোরে উঠে গোসল সেরে নিলাম। সবাই ভাইয়ার সঙ্গে বের হলাম হাঁটতে। অনেকেই হাঁটছে। মেয়েদের পরনে হলুদ লাল পেড়ে অথবা সাদা লালা পেড়ে শাড়ি, খোঁপায় ফুল আর ছেলেদের পাঞ্জাবি বা ধুতি। ছোটদের নানা রঙের ড্রেস। চমৎকার যেন এক ঝাঁক পরি নেমে এসেছে পার্কে। বটতলায় ছায়ানটের বেশ বড় মঞ্চ। সামনের মাঠে প্রায় ভরব গেছে। ফুরু পেপার বিছিয়ে বসতে বললেন। সমবেত কন্ঠে 'আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে' রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে শুরু হলো অনুষ্ঠান। এরপর থেকে আবৃত্তি, একক গান, বাঁশি, সেতার, বেহালার সুর, সমবেত সংগীত চলতে থাকল। খুব ভালো লাগল ছায়ানটের অ...

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। ঢাকার জন্মেছি, বড় হচ্ছি এখানেই। কলেজে পড়ছি। একুশে ফেব্রুয়ারিতে স্কুলে কলেজের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি। অথচ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কেমন তা আজও দেখা হয়নি। ব্যাপারটা সাংঘাতিক বেমানান ও লজ্জার। নিজেকে নিজের কাছে অপরাধী মনে হচ্ছে। আমার বাবা মাও কাছে থেকে দেখেননি শহীদ মিনার। সুতারাং স্থির হলো, এবারের ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনার যাবো আমরা। মধ্যরাতের আগেই রওয়ানা হলাম। যখন কাছাকাছি পৌঁছালাম, তখন শুনলাম মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভাষাশহীদদের উদ্দ্যেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন। প্রভাতফেরির মিছিলের বাইরেও অনেক লোক দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় দলীয় উধর্বতন নেতৃবৃন্দ। সামনের রাস্তাগুলোতে সুদৃশ্য আলপনা আঁকা। এরপর রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। মাইকে বাজছে- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি /আমি কি ভুলিতে পারি।’ আমরা উদীচীর ব্যানারে এসেছি। শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভের পেছনে লাল বৃত্তে আলো পড়ে চমৎকার দেখাচ্ছে। নিচে বেশ কিছুটা প্রশস...

যানজটের অভিজ্ঞতা

যানজটের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেখ। গুলিস্তান থেকে উত্তরা যাব। দীর্ঘ পথ। বাসে গেলেই ভালো হয়। কিন্তু আজকে লাইনে দাঁড়িয়েও সিট পাচ্ছি না। কয়েকটা বাস মিস করলাম। অথচ আমাকে বারোটার মধ্যে বন্ধুর অফিসে পৌঁছাতে হবে। সিএনজি ড্রাইভার যেতে ইচ্ছুক না হওয়ায় বললাম মিটারে যা ভাড়া উঠবে তার উপর পঞ্চাশ টাকা বেশি দেব। এখন নয়টা বাজে। কাজেই পৌঁছাতে অসুবিধা হবে না। মধ্যবয়সী ড্রাইভার মনে মনে রুট ঠিক করে নিল। তারপর গাড়ি চালু করল। জিপিওর মোড়ে এসেই যানজটে পড়ল। গাড়ি সব ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। নট নড়ন চড়ন। পেছনে ঘুরে অন্যদিকে যাওয়ারও সুযোগ নেই। কারণ পেছনেও জট। বিপদ কাকে বলে! প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিদের কথা মনে পড়ল, 'বিপদে ধৈর্যহারা হয়ো না।' তথাস্তু কোনো টেনশন করব না, যা হয় হোক। যার যার সাথে কথা বলা দরকার, এক এক করে ফোন করতে শুরু করলাম। মিনিট বিশেক পর গাড়ি একটু একটু করে এগুতে শুরু করল। পল্টন মোড়ে এসে আবার থেমে গেল, অনেকক্ষণ ধরে একই অবস্থা। যাদের বেশি ভাড়া তারা ট্রাফিকের উদ্দেশে কটুক্তি শুরু করে দিয়েছে। দু-তিন মিনিট পর আবার চলতে শুরু করল। বিজয়নগর মোড় থেকে দীর্ঘ জট। কতক্ষণ আটকে থাকতে হবে কে জানে? গাড়...

বরেন্দ্র জাদুঘরে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

বরেন্দ্র জাদুঘরে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। প্রাচীন বিষয়ের প্রতি আমার অজানা একটা দুর্বলতা রয়েছে। তাই পুরানো ইতিহাসের গন্ধসহ যেকোনো জিনিসই আমার মনকে আকর্ষণ করে। সেই দুর্নিবার আকর্ষণই আমাকে টেনে নিয়েছিল রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘরে। খুলনা থেকে ট্রেনে চেপে রাজশাহী যখন পৌঁছালাম তখন ভোরের সূর্যটা তার যাত্রা শুরু করেছে। স্টেশনের এক অখ্যাত রেস্টুরেন্ট থেকে সকালের নাশতা কোনো রকমে করে আমার লক্ষ্যস্থলের দিকেই রওয়ানা হলাম এবং ১০টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম রাজশাহীর বরেন্দ্র জাদুঘরে। বিশ শতকের প্রথম দশকে দিঘাপতিয়ার রাজপরিবারের সন্তান শরৎকুমার, সাহ্যিতিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় প্রমুখ প্রত্ন অনুরাগীরা 'বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি' গড়ে তোলেন। ১৯১৬ সালে তৎকালীন বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল বরেন্দ্র জাদুঘর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তারপর নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে ১৯৬৪ সালে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ত্তাধীন হয়। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে রয়েছে পাথর ও ধাতুনির্মিত ভাস্কর্য, খোদিত লিপি, মুদ্রা, মৃৎপাত্র ও পোড়ামাটির ফলক, অস্ত্রশস্ত্র, আরবি ফারসি দলিলপত্র, চিত্র, সংস্কৃত ও ব...

ময়নামতি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা

ময়নামতি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। কর্মচাঞ্চল্যের নাগপাশে আবদ্ধ জীবনটা কেমন যেন রোবটে পরিণত হতে চলেছে। আমার ভ্রমণ পাগল মনটা কিছুদিন ধরে বিদ্রোহ ঘোষণা করছে। তাই ত্বরিত সিদ্ধান্তে বেরিয়ে পড়লাম ময়নামতির উদ্দ্যেশে। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের মধ্যে কুমিল্লার ময়নামতি অন্যতম। গত শুক্রবার সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে যখন চড়ে বসলাম তখন সকাল ৮টা। দুঘন্টার মধ্যেই কুমিল্লা শহরে পৌঁছলাম। সেখান থেকে অটোরিকশায় চড়ে ময়নামতি যখন পৌঁছালাম তখন বেলা এগোরোটা। ময়নামতি একটি পাহাড়ি এলাকা। উত্তর দক্ষিণে এটি প্রায় ১১মাইল লম্বা এবং পূর্ব পশ্চিমে আধ থেকে দেড় মাইল পর্যন্ত চওড়া। গড়ে প্রায় ৫০ফুট এই পাহাড়শ্রেণীর কোনো কোনোটির উচ্চতা প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত দেখা যায়। পাহাড়শ্রেণী উত্তরভাগের নাম ময়নামতি এবং দক্ষিণভাগের নাম লালমাই। প্রথমে যাই শালবন বৌদ্ধবিহার দেখতে। মূল বিহারটি দেব বংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব আনুমানিক ৮ম শতাব্দীতে নির্মাণ করেন। পাতলা ইটের চুন সুরকিতে তৈরি বর্গাকার এ বিহারটির প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৫০০ ফুট। বিহারের কক্ষগুলোর সামনে রয়েছে আট ফুট বারান্...

একটি পূর্ণিমা রাতের অভিজ্ঞতা

একটি পূর্ণিমা রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। আমার এ ক্ষুদ্র জীবনে অনেক কিছুই দেখেছি, অনেক ঘটনারই মুখোমুখি হয়েছি। স্মৃতিপটে যেগুলো অম্লান হয়ে আছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো একটি পূর্ণিমা রাতের অসম্ভব সুন্দর দৃশ্য। পড়ালেখার জন্য ছোটবেলা থেকেই শহরে আছি। নয়ন আমার খুব কাছের বন্ধু। গ্রামের সহজ সরল প্রকৃতির একটি ছেলে। তার আমন্ত্রণে সেবার গেলাম তাদের গ্রামের বাড়ি নড়াইলে। মধুমতী নদীর কোলঘেঁষে তাদের বাড়িটি। সময়টা চৈত্রের শেষের দিকে। সারা প্রকৃতিকে সৌন্দর্য সম্পদে ভরিয়ে দিয়ে বসন্ত তার শ্রেষ্টত্ব ঘোষণা করছে। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মৌপুরা গ্রামটি। গ্রামের পূর্ব দিক দিয়ে প্রবাহিত মধুমতী নদী। বিকালের দিকে যখন নয়নের সঙ্গে গ্রাম ঘুরে দেখতে বের হয়েছিলাম তখনও জানতাম না রাতে কী বিস্ময় আমার জন্য অপেক্ষা করছে। এদিক সেদিক ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। আমরা নদীর পাড়ে গিয়ে বসলাম। দখিনা বাতাস আমার সমস্ত দেহ মনকে এলোমেলো করকম দিচ্ছিল। বুক ভরে শ্বাস নিচ্ছি আর ভাবছি, আমার এই বাংলাদেশের প্রকৃতি কত মনোমুগ্ধকর ও ঐশ্বর্যমন্ডিত। হঠাৎ করেই চোখ পড়ল পূর্ব দিগন্তে প্রকান্ড একটা চাঁদ উঠ...

বিজ্ঞান মেলা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা

বিজ্ঞান মেলা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেখ। আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ। নতুন নতুন উদ্ভাবনে দেশের সার্বিক উন্নতি ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। নতুন উদ্ভাবনে বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও অবদান রাখার জন্য সচেষ্ট। এই বড় ও খুদে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন আবিষ্কার নিয়ে গত সপ্তাহে কক্সবাজার কে.জি. স্কুলে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। মেলায় ঘুরে দেখা যায়, শহর ও আশেপাশের ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের আবিষ্কৃত ও উদ্ভাবিত বিভিন্ন তথ্য জানতে শিশু কিশোর ও অভিভাবকরা ভিড় করেছে মেলা প্রাঙ্গণে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল দশম শ্রেণির ছাত্রী রাহীনা আক্তার খুশির বিদ্যুৎবিহীন ফ্রিজ। খুশি জানায়, তিন ফুট উচ্চতার এ ফ্রিজ তৈরি করতে খরচ লাগবে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এটা তৈরিতে লাগবে ধাতব পাত্র, তুষ কিংবা কাঠে গুঁড়ি, প্লাস্টিক পাত্র, বরফ পানি ইত্যাদি। এছাড়া মেলায় এসেছে চোর ধরার যন্ত্র, সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর পদ্ধতি, স্বল্প খরচে শীতাতপ পানি নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ওয়াটার হিটার, তাপ নিরোধক জ্যাকেট, ইটের ভাটা থেকে উৎপন্ন তাপশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদব, তিন শত টাকায় আইপিএস, হাইড্রোলিক ...

আহসান মঞ্জিল ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা

আহসান মঞ্জিল ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেখ। অনেকদিন যাবৎ ঢাকায় আছি অথচ ঢাকার ঐতিহ্য আহসান মঞ্জিল দেখা হয়নি। লজ্জিত হওয়ার বিষয়ই বটে। একদিন সময় করে ঘুরতে গেলাম ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল। আহসান মঞ্জিল বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে কুমারটুলী এলাকার ঢাকার নওয়াবদের আবাসিক প্রাসাদ ও জমিদারির সদর কাছারি। বর্তমানে নিজের বাসভবনে পরিণত করেন। ১৮৩০ সালে খাজা আলীমুল্লাহ ফরাসিদের কাছ থেকে এ কুঠিবাড়ি কিনে নেন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করে এটি নিজের বাসভবনে পরিণত করেন। ১মিটার উঁচু বেদির উপর স্থাপিত দ্বিতল প্রাসাদ ভবনটির নিচতলার মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা ৫মিটার এবং দোতলায় ৫.৮ মিটার। প্রাসাদটির উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিকে একতলার সমান উঁচু করে গাড়িবারান্দা। দক্ষিণ দিকের গাড়িবারান্দার উপর দিয়ে দোতলার বারান্দা থেকে একটি সুবৃহৎ খোলা সিঁড়ি নদীর ধার পর্যন্ত নেমে গেছে। বারান্দা ও কক্ষগুলোর মেঝে মার্বেল পাথরে শোভিত। আহসান মঞ্জিলের অভ্যন্তর ভাগে দেখা যায় গম্বুজের দুপাশে ভবনটি দুটি সুসম অংশে বিভক্ত করা যায়। দোতলার পূর্ব দিকে রয়েছে ড্রইং রুম, উত্তরে লাইব্রেরি। পশ্চিম দিকে আছে বৃহৎ জলসাঘর। এর ...

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে লেখ। বাংলাদেশের ইতিহাসে গৌরবময় সাহসী এক অধ্যায় এদেশের মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিজয় ছিনিয়ে আনে। সেসব সংগ্রামের সাহসী কাহিনি, তথ্যচিত্র, আলোকচিত্র এবং ইতিহাসের নানান স্মারকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। আট জন ট্রাস্টির উদ্যোগে ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচার একটি বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের দ্বার উন্মুক্ত হয়। এই জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ আমার একদিন এসেছিল। আমরা ক'জন সকাল ৯টার মধ্যে জাদুঘরে পৌঁছলাম। জাদুঘর ভবনের প্রবেশ মুখে ছোট প্রাঙ্গণে দেখলাম শহীদ ড.মোহাম্মদ ফজলে রাব্বির ব্যবহৃত একটি গাড়ি। জাদুঘর ভবনটি তিনতলা। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় প্রদর্শনী চলে। নিচতলার প্রথম কক্ষে রয়েছে দুটি গ্যালারি। ১ম গ্যালারিতে রয়েছে প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য ও জনপদের বিভিন্ন শিল্পকর্মের নির্দশন। ২নং গ্যালারিতে রয়েছে ঔপনিবেশিক শাসন শোষণের বিভিন্ন তথ্য ও চিত্র। দ্বিতীয় কক্ষে রয়েছে পাকিস্তানের জন্ম ইতিহাসের ছবি। নিচতলায় তৃতীয় কক্ষে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কর্মকান্ড ও ইতিহ...