Posts

Showing posts with the label বাংলা-বানান

ব্যাকরণ : অশুদ্ধ বানান শুদ্ধকরণ

HSC বোর্ড পরীক্ষা সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রায় অশুদ্ধ বানানকে শুদ্ধ করে লিখার প্রশ্ন থাকে। অনেক সময় ‘শুদ্ধ বানান কোনটি?’ শিরোনামে নৈর্ব্যক্তিকও আসে। তাই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শব্দের শুদ্ধ বানান জেনে রাখা ভালো। অশুদ্ধ বানান শুদ্ধ বানান অধ্যায়ন অধ্যয়ন অতিথী অতিথি অত্যান্ত অত্যন্ত অধীনস্ত অধীন অন্তভুক্ত অন্তর্ভুক্ত অপরাহ্ন অপরাহ্ণ অহোরাত্রি অহোরাত্র আগমনি আগমনী আকাংখা আকাঙ্ক্ষা আকাঙ্খা আকাঙ্ক্ষা আদ্যান্ত আদ্যন্ত আশাঢ় আষাঢ় আইনজীবি আইনজীবী আত্বস্ত আত্মস্থ আলচ্যমান আলোচ্যমান আবিস্কার আবিষ্কার ইতিপূর্বে ইতঃপূর্বে ঐক্যতান ঐকতান উপযোগীতা উপযোগিতা উদীচি উদীচী উপরোক্ত উপর্যুক্ত / উপরিউক্ত উচ্ছাস উচ্ছ্বাস উচিৎ উচিত উজ্জল উজ্জ্বল ঔজ্জল্য ঔজ্জ্বল্য উত্তরায়ন উত্তরায়ণ উচ্ছ্বল উচ্ছল ঋন ঋণ ইতিমধ্যে ইতোমধ্যে ইংরেজী ইংরেজি কথোপোকোথন কথোপকথন কর্মজীবি কর্মজীবী কুজ্ঝটিকা কুজ্‌ঝটিকা কুপমণ্ডূক কূপমণ্ডূক কৌতুহল কৌতূহল কৃতি কৃতী কৃতিবাস কৃত্তিবাস কল্যান কল্যাণ কলংকিত কলঙ্কিত কার্য্যালয় কার্যালয় কন্টক কণ্টক গীতাঞ্জলী গীতাঞ্জলি গ্রামীন গ্রামীণ ঘুরাঘ...

ব্যাকরণ : বাংলা একাডেমি প্রণীত বাংলা বানানের নিয়ম - ৪

বাংলা একাডেমি প্রণীত বাংলা বানানের নিয়ম পর্ব — ৪ বিবিধ  ১. যুক্ত–ব্যঞ্জনবর্ণের যতদূর সম্ভব স্বচ্ছ করতে হবে অর্থাৎ পুরাতন রূপ বাদ দিয়ে এগুলোর স্পষ্ট রূপ দিতে হবে। তার জন্যে কতগুলো স্বরচিহ্নকে বর্ণের নিচে বসাতে হবে। যেমন— গু, রু, রূ, শু, ব্রু, ভ্রু, হৃ, ত্র, ভ্র। তবে ক্ষ–এর পরিচিত যুক্ত রূপ অপরিবর্তিত থাকবে। যেমন— অক্ষর, অক্ষয়, ক্ষতি, ক্ষমা, নক্ষত্র।  ২. সমাসবদ্ধ পদগুলো একসাথে লিখতে হবে, মাঝখানে ফাঁক রাখা চলবে না। যেমন— সংবাদপত্র, রবিবার, পূর্বপরিচিত, অদৃষ্টপূর্ব, সমস্যাপূর্ণ, সংযতবাক, নেশাগ্রস্ত। বিশেষ প্রয়োজনে সমাসবদ্ধ পদটিকে একটি, কখনও একটির বেশি হাইফেন (–) দিয়ে যুক্ত করা যায়। যেমন : মা–মেয়ে, ভবিষ্যৎ–তহবিল, বে–সামরিক, স্থল–জল–আকাশ–যুদ্ধ, কিছু–না–কিছু। ৩. বিশেষণ পদ সাধারণভাবে পরবর্তী পদের সঙ্গে যুক্ত হবে না। যেমন— স্নিগ্ধ বাতাস, সুন্দর ফুল, লাল গোলাপ, তিন হাজার, কত দূর, এক জন। কিন্তু যদি সমাসবদ্ধ পদ অন্য বিশেষ্যে বা ক্রিয়াপদের গুণ বর্ণনা করে তা হলে স্বভাবই সে যুক্তপদ একসঙ্গে লিখতে হবে। যেমন— কতদূর যাবে, একজন শিক্ষক, তিনহাজার টাকা।...

ব্যাকরণ : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম - ৩

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম পর্ব — ৩  ৯. ও বাংলায় অ–কারের উচ্চারণ বহুক্ষেত্রে ও–কার হয়। এ উচ্চারণকে লিখিত রূপ দেওয়ার জন্যে ক্রিয়াপদের বেশ কয়েকটি রূপের এবং কিছু বিশেষণ ও অব্যয় পদের শেষে, কখনও আদিতে অনেকে যথেচ্ছভাবে ও–কার ব্যবহার করেছেন। যেমন— ছিলো, করলো, বলতো, কোরছো, হোলে, যেনো, কেনো (কী জন্যে) ইত্যাদি ও–কার যুক্ত বানান লেখা হচ্ছে। বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়া অনুরূপ ও–কার ব্যবহার করা যাবে না।  বিশেষ ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে এমন অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদ এবং বিশেষণ ও অব্যয় পদ বা অন্য শব্দ যার শেষে ও–কার যুক্ত না করলে অর্থ অনুধাবনে ভ্রান্তি বা বিলম্ব ঘটতে পারে। যেমন— ধরো, চড়ো, চলো, বলো, বোলো, জেনো, কেনো (ক্রয় করো), করানো, খাওয়ানো, শেখানো, করাতো, মতো, ভালো, কালো, হলো। ১০. ং (অনুস্বার), ঙ  তৎসম শব্দে ং এবং ঙ যেখানে যেমন ব্যবহার্য ও ব্যাকরণসম্মত সেভাবে ব্যবহার করতে হবে।  তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দের বানানের ক্ষেত্রে এ নিয়মের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যয় ও বিভক্তিহীন শব্দের শেষে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে...

ব্যাকরণ : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম - ২

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম পর্ব — ২   ৪. শ, ষ, স  ক. তৎসম শব্দের বানানে শ, ষ, স–এর নিয়ম মানতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে ষত্ব বিধি প্রযোজ্য হবে না।  খ. বিদেশি মূল শব্দের শ, স–এর যে প্রতিসঙ্গী বর্ণ বা ধ্বনি রয়েছে বাংলা বানানে তা–ই ব্যবহার করতে হবে। যেমন : সাল (= বৎসর), সন, হিসাব, শহর, শরবত, শামিয়ানা, শখ, সৌখিন, মসলা, জিনিস, আপস, সাদা, পোশাক, বেহেশত, নাশতা, কিশমিশ, শরম, শয়তান, শার্ট।  তবে 'পুলিশ' শব্দটি ব্যতিক্রমরূপে শ দিয়ে লেখা হবে। গ. তৎসম শব্দে ট, ঠ বর্ণের পূর্বে যুক্তব্যঞ্জনে ষ হয়। যেমন : বৃষ্টি, দৃষ্ট, নিষ্ঠা, পৃষ্ঠা।  কিন্তু বিদেশি শব্দে এক্ষেত্রে স হবে। যেমন : স্টল, স্টোর, স্টাইল, স্টিমার, স্টুডিও, স্টেশন, স্ট্রিট, স্টার, মাস্টার।  তবে খ্রিষ্ট যেহেতু বাংলায় আত্তীকৃত শব্দ এবং এর উচ্চারণও তৎসম কৃষ্টি, তুষ্ট ইত্যাদি শব্দের মতো, তাই ষ্ট দিয়ে খ্রিষ্ট শব্দটি লেখা হবে।  ৫. আরবি - ফারসি শব্দে সে, সিন্, সোয়াদ, বর্ণগুলোর প্রতিবর্ণরূপে স এবং শিন্ –এর প্রতিশব্দরূপে শ ব্যবহৃত হবে। যেমন— সা...

ব্যাকরণ : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম - ১

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম পর্ব — ১  বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম বা সূত্রগুলো আলোচনা করো।  উত্তর : বাংলা একাডেমির "প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম" অনুসরণ করে বাংলা বানানের নিয়ম নিচে দেওয়া হলো—  তৎসম শব্দ  ১. তৎসম অর্থাৎ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অবিকৃত সংস্কৃত শব্দের বানান যথাযথ ও অপরিবর্তিত থাকবে। কারণ এসব শব্দের বানান ও ব্যাকরণগত প্রকরণ ও পদ্ধতি নির্দিষ্ট রয়েছে। তবে এ বানানরীতিতে যেসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম প্রস্তাবিত হয়েছে, তা অনুসৃত হবে।  ২. যেসব তৎসম শব্দের ই, ঈ বা উ, ঊ উভয় শুদ্ধ সেসব শব্দে কেবল ই বা উ এবং তার কারচিহ্ন (ি বা ু) ব্যবহৃত হবে। যেমন : কিংবদন্তি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, পদবি, ভঙ্গি, সরণি, সূচিপত্র, উর্ণা, উষা।  ৩. রেফ–এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন : অর্জন, অর্থ, অর্ধ, কর্তন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা, কার্তিক, সূর্য। ৪. ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) লেখা যাবে। যেমন : অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, সংকোচন, সংগতি, সংঘাত, সংকল্প, সংখ্যা। বিকল্পে...

ব্যাকরণ : বাংলা বানানের নিয়ম

বাংলা বানানের নিয়ম বানান : ব্যঞ্জন বর্ণে স্বরবর্ণ যোগ করাকে বানান বলে। দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনবর্ণ একত্র মিলিত হলে তাদের সংযুক্তবর্ণ বলে। এভাবে বানান নিষ্পন্ন হয়।  বাংলা বানানের নিয়ম প্রণীতের ইতিহাস : ১৯ শতকের গোড়া থেকে বাংলা গদ্য রচনা আরম্ভ হলে বাংলা বানানে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ব্যাপারটি অনুধাবন করে একটি বানান-রীতি প্রণয়নের জন্য ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ বিষয়টি সমর্থন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 'কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার সমিতি' গঠন করে এবং ১৯৩৬ খ্রিঃ ৮মে প্রথম বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করে। যুগের প্রয়োজনে পরে এই বানান নানা কারণে পরিবর্তন হয়েছে। অবশ্য, ১৯২৬ খ্রিঃ বিশ্বভারতী রবীন্দ্রনাথ অনুমোদিত একটি বানান রীতি 'প্রবাসী' পত্রিকায় প্রকাশ করে (১৯২৬ এর নভেম্বর - ডিসেম্বরে)।  বানান সূত্র : বানান অনেকভাবে মনে রাখা যায়। আবার এগুলো অনেকে ছন্দের সাহায্যে, অনেকে নিয়ম মুখস্থ করে বানানের শুদ্ধরূপ মনে রাখে। আমরা এখানে একটি স...