Posts

Showing posts with the label ছড়া

ছড়া/কবিতা : রাখাল ছেলে – জসীম উদ্‌দীন

Image
রাখাল ছেলে – জসীম উদ্‌দীন “রাখাল ছেলে ! রাখাল ছেলে ! বারেক ফিরে চাও, বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?” ওই যে দেখ নীল-নোয়ান সবুজ ঘেরা গাঁ, কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা, সেথায় আছে ছোট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া, সাঁঝ-আকাশের ছড়িয়ে-পড়া আবীর রঙে নাওয়া, সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা- সেথায় যাব, ও ভাই এবার আমায় ছাড় না।” “রাখাল ছেলে ! রাখাল ছেলে ! আবার কোথা ধাও, পুব আকাশে ছাড়ল সবে রঙিন মেঘের নাও।” “ঘুম হতে আজ জেগেই দেখি শিশির-ঝরা ঘাসে, সারা রাতের স্বপন আমার মিঠেল রোদে হাসে। আমার সাথে করতো খেলা প্রভাত হাওয়া, ভাই, সরষে ফুলের পাঁপড়ি নাড়ি ডাকছে মোরে তাই। চলতে পথে মটরশুঁটি জড়িয়ে দুখান পা, বলছে ডেকে, ‘গাঁয়ের রাখাল একটু খেলে যা।’ সারা মাঠের ডাক এসেছে, খেলতে হবে ভাই। সাঁঝের বেলা কইব কথা এখন তবে যাই।’ “রাখাল ছেলে ! রাখাল ছেলে ! সারাটা দিন খেলা, এ যে বড় বাড়াবাড়ি, কাজ আছে যে মেলা।” কাজের কথা জানিনে ভাই, লাঙল দিয়ে খেলি নিড়িয়ে দেই ধানের ক্ষেতের সবুজ রঙের চেলী। রিষে বালা নুইয়ে গলা হলদে হওয়ার সুখে। টির বোনের ঘোমটা খুলে চুমু দিয়ে যায় মুখে। ঝাউয়ের ঝাড়ে বাজায় বাঁশী পউষ-পাগল বুড়ী, আমরা সেথা চষতে লাঙল...

ছড়া/কবিতা : আমাদের ছোট নদী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Image
আমাদের ছোট নদী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে। পার হয়ে যায় গোরু, পার হয় গাড়ি, দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি। চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা, একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা। কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক, রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক। আর-পারে আমবন তালবন চলে, গাঁয়ের বামুন পাড়া তারি ছায়াতলে। তীরে তীরে ছেলে মেয়ে নাইবার কালে, গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে। সকালে বিকালে কভু নাওয়া হলে পরে, আঁচল ছাঁকিয়া তারা ছোটো মাছ ধরে। বালি দিয়ে মাজে থালা, ঘটিগুলি মাজে, বধূরা কাপড় কেচে যায় গৃহকাজে। আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভর ভর, মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর। মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে, ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে। দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া, বরষার উৎসব জেগে ওঠে পাড়া।

ছড়া/কবিতা : জীবনের হিসাব – সুকুমার রায়

Image
জীবনের হিসাব – সুকুমার রায় বিদ্যেবোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে মাঝিরে কন, “বলতে পারিস সূর্য কেন ওঠে? চাঁদটা কেন বাড়ে কমে? জোয়ার কেন আসে?” বৃদ্ধ মাঝি অবাক হয়ে ফেলফেলিয়ে হাসে, বাবু বলেন, “সারা জীবন মরলিরে তুই খাটি, জ্ঞান বিনা তোর জীবনটা যে চারি আনাই মাটি!” খানিক বাদে কহেন বাবু, “বলত দেখি ভেবে নদীর ধারা কেমনে আসে পাহাড় হতে নেবে? বলত কেন লবণপোরা সাগর ভরা পানি?” মাঝি সে কয়, “আরে মশাই অত কি আর জানি?” বাবু বলেন, “এই বয়সে জানিসনেও তা কি? জীবনটা তোর নেহাত খেলো, অষ্ট আনাই ফাঁকি!” আবার ভেবে কহেন বাবু, “বলত ওরে বুড়ো, কেন এমন নীল দেখা যায় আকাশের ঐ চূড়ো? বলত দেখি সূর্য চাঁদে গ্রহন লাগে কেন?” বৃদ্ধ বলেন, “আমায় কেন লজ্জা দিছেন হেন?” বাবু বলেন, “বলব কি আর বলব তোরে কি, তা,- দেখছি এখন জীবনটা তোর বারো আনাই বৃথা।” খানিক বাদে ঝড় উঠেছে ঢেউ উঠেছে ফুলে, বাবু দেখেন নৌকাখানি ডুবল বুঝি দুলে। মাঝিরে কন, “একি আপদ ওরে ও ভাই মাঝি, ডুবল নাকি নৌকো এবার? মরব নাকি আজি?” মাঝি শুধায়, “সাতার জানো?” মাথা নারেন বাবু, মূর্খ মাঝি বলে, “মশাই এখন কেন কাবু? বাঁচলে শেষে আমার কথা হিসেব করো পিছে, তোমার দেখি জীবন খানা ষো...

ছড়া/কবিতা : শিক্ষাগুরুর মর্যাদা – কাজী কাদের নেওয়াজ

Image
শিক্ষাগুরুর মর্যাদা – কাজী কাদের নেওয়াজ        বাদশাহ আলমগীর- কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লীর।      একদা প্রভাতে গিয়া দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া      ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে      পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে, শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি। শিক্ষক মৌলভী ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি। দিল্লীপতির পুত্রের করে লইয়াছে পানি চরণের পরে, স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে! ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে।      হঠাৎ কি ভাবি উঠি কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,      শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার      দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার, ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল, বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।      যায় যাবে প্রাণ তাহে, প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।      তার পরদিন প্রাতে বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লা...

ছড়া/কবিতা : প্রভাতী – কাজী নজরুল ইসলাম

Image
প্রভাতী – কাজী নজরুল ইসলাম ভোর হলো দোর খোলো খুকুমণি ওঠ রে! ঐ ডাকে যুঁই-শাখে ফুল-খুকি ছোটরে! রবি মামা দেয় হামা গায়ে রাঙা জামা ঐ, দারোয়ান গায় গান শোন ঐ, রামা হৈ!’ ত্যাজি নীড় করে ভিড় ওড়ে পাখি আকাশে এন্তার গান তার ভাসে ভোর বাতাসে। চুলবুল বুলবুল শিস দেয় পুষ্পে, এইবার এইবার খুকুমণি উঠবে! খুলি হাল তুলি পাল ঐ তরী চললো, এইবার এইবার খুকু চোখ খুললো। আলসে নয় সে ওঠে রোজ সকালে রোজ তাই চাঁদা ভাই টিপ দেয় কপালে। উঠলো ছুটলো ওই খোকা খুকি সব, “উঠেছে আগে কে” ঐ শোনো কলরব। নাই রাত মুখ হাত ধোও, খুকু জাগো রে! জয়গানে ভগবানে তুষি' বর মাগো রে। আমাদের স্কুলগুলোতে এই কবিতাটিকে ছোট করে নীল রং করা অংশটুকুই শুধু শিশুদের শিখানো হয়। এখানে সম্পূর্ণ কবিতাটি দেওয়া হলো।

ছড়া/কবিতা : আমার পণ – মদনমোহন তর্কালঙ্কার

Image
আমার পণ – মদনমোহন তর্কালঙ্কার সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি। আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে, আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে। ভাইবোন সকলেরে যেন ভালবাসি, এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি। ভাল ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা, পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা। সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে, মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে। সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি, কিছুতে কাহারে যেন নাহি দেই ফাঁকি। ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে, সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে।

ছড়া/কবিতা : ছোটন ঘুমায় – সুফিয়া কামাল

Image
ছোটন ঘুমায় – সুফিয়া কামাল গোল কোরো না গোল কোরো না ছোটন ঘুমায় খাটে। এই ঘুমকে কিনতে হল নওয়াব বাড়ির হাটে। সোনা নয় রুপা নয় দিলাম মোতির মালা তাই তো ছোটন ঘুমিয়ে আছে ঘর করে উজালা।

ছড়া/কবিতা : স্বাধীনতার সুখ – রজনীকান্ত সেন

Image
স্বাধীনতার সুখ – রজনীকান্ত সেন বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই, “কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।” বাবুই হাসিয়া কহে, “সন্দেহ কি তাই ? কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়। পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা, নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”

ছড়া/কবিতা : আদর্শ ছেলে – কুসুমকুমারী দাশ

Image
আদর্শ ছেলে – কুসুমকুমারী দাশ আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ? মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন ‘মানুষ হইতে হবে’ — এই তার পণ, বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান, নাই কি শরীরে তব রক্ত মাংস প্রাণ ? হাত, পা সবারই আছে মিছে কেন ভয়, চেতনা রয়েছে যার সে কি পড়ে রয় ? সে ছেলে কে চায় বল কথায়-কথায়, আসে যার চোখে জল মাথা ঘুরে যায়। সাদা প্রাণে হাসি মুখে কর এই পণ — ‘মানুষ হইতে হবে মানুষ যখন’। কৃষকের শিশু কিংবা রাজার কুমার সবারি রয়েছে কাজ এ বিশ্ব মাঝার, হাতে প্রাণে খাট সবে শক্তি কর দান তোমরা মানুষ হলে দেশের কল্যাণ।

ছড়া/কবিতা : কাজলা দিদি – যতীন্দ্র মোহন বাগচী

Image
কাজলা দিদি – যতীন্দ্র মোহন বাগচী বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই মাগো, আমার শোলক-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে, নেবুর তলে থোকায় থোকায় জোনাই জ্বলে, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই; মাগো, আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই? সেদিন হতে দিদিকে আর কেনই-বা না ডাকো, দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো? খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে ডাকি, তখন ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো, আমি ডাকি, – তুমি কেন চুপটি করে থাকো? বল মা, দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে? কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল-বিয়ে হবে! দিদির মতন ফাঁকি দিয়ে আমিও যদি লুকোই গিয়ে- তুমি তখন একলা ঘরে কেমন করে রবে? আমিও নাই দিদিও নাই কেমন মজা হবে! ভুঁইচাঁপাতে ভরে গেছে শিউলি গাছের তল, মাড়াস নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল; ডালিম গাছের ডালের ফাঁকে বুলবুলিটি লুকিয়ে থাকে, দিস না তারে উড়িয়ে মা গো, ছিঁড়তে গিয়ে ফল; দিদি এসে শুনবে যখন, বলবে কী মা বল! বাঁশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই এমন সময়, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই? বেড়ার ধারে, পুকুর পাড়ে ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোঁপে-ঝাড়ে; নেবুর গন্ধে ঘুম আসে না- তাইতো জেগে রই; রাত হলো যে, মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?