Posts

Showing posts from September, 2020

অনুচ্ছেদ : রক্তদান

রক্তদান রক্ত হলো শরীরের পরিবহন মাধ্যম যা শরীরের বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অক্সিজেন প্রদান করে। যেসব রোগী রক্তশূন্যতা, ব্লাড ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদি রোগে ভোগে তাদের নিয়মিত রক্ত সঞ্চালিত করা দরকার। দুর্ঘটনা বা পোড়া রোগীদেরও জরুরি ভিত্তিতে রক্ত প্রয়োজন। ব্লাড ব্যাংক প্রয়োজনে দ্রুত প্রদানের জন্য রক্ত সংরক্ষণ সুবিধা বজায় রাখে। এসব ব্লাডব্যাংকে রক্ত মজুদ রাখার জন্য মানুষের স্বেচ্ছায় রক্ত দান করা উচিত। হাসপাতাল এবং সামাজিক সংস্থা প্রায়ই রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে, যেখানে সুস্থ লোকেরা রক্ত দান করে। রক্ত সংগ্রহের আগে রক্তদাতার রক্তের গ্রুপ এবং সঞ্চালনের জন্য উপযুক্ততা নির্ধারণ করা হয়। রক্তদানকারীর নিরাপত্তার জন্য এবং তার মঙ্গলের জন্য সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। অনেকে ভয় পায় যে রক্তদান তাদের ক্ষতি করবে। কিন্তু এ ভয়ের কোন ভিত্তি নেই। কারণ রক্তদানকারী যতটুকু রক্ত দান করে তা স্বাভাবিক খাবারে সহজেই পুষিয়ে যায়। সকল বর্ণ, গোত্র এবং ধর্মের সুস্থ লোককে জীবন রক্ষাকারী রক্ত দানে এগিয়ে আসা উচিত এবং তাদের স্বজাতিকে সাহায্য করা উচিত।

অনুচ্ছেদ : পরীক্ষার পূর্বরাত্র

পরীক্ষার পূর্বরাত্র আমাদের দেশের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীদের কাছে পরীক্ষার পূর্বরাত্র স্মরণীয় হয়ে থাকে। এই রাতটি তাদের নিকট শিহরণ জাগানো রাত। আমাদের দেশের অনেক ছাত্রছাত্রী সারাবছর নিয়মিত পড়ালেখা করে না। তাদের নিকট ছাত্রছাত্রী সারাবছর নিয়মিত পড়ালেখা করে না। তাদের নিকট পরীক্ষার আগের রাতটি খুবই ভয়ানক। তারা তখন বিচলিত হয়ে পড়ে। তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। কোনো বিকল্প না দেখে তারা না বুঝে মুখস্ত করা শুরু করে। হতাশা এবং উত্তেজনার চাপে তারা তখন পূর্বের শেখা বিষয়ও ভুলে যায়। এ পরিস্থিতিতে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় তারা আরো অধিক নিষ্প্রভ মেধার পরিচয় দেয়। অনেক সময় তারা ভয়ে ঘামতে শুরু করে। মধ্যরাত না হতেই তারা পড়া ও পর্যালোচনার মাধ্যমে পাসের আশা ছেড়ে দেয়। কিন্তু একজন পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান ছাত্রের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে পূর্বে প্রস্তুত করা পাঠ্যবিষয়গুলো পুনরায় পড়ে। সে নতুন করে কোনো প্রশ্ন মুখস্থ করে না। সে কেবল তার পূর্ব পাঠগুলো পর্যালোচনা করে। সে দ্রুতগতিতে পড়ে যায়। এজন্য তাকে পরীক্ষার পূর্ব দিন গভীর রাত পর্যন্ত জাগতে হয় না। এভাবে, তার নিকট পরীক্ষার পূর্বরাত্র অন্যান্য রাতের মতো স্বাভাবিক ম...

অনুচ্ছেদ : তথ্যপ্রযুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানের জ্ঞানকে যে পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন আবিষ্কার ও উৎপাদনে রূপ দেওয়া হয় তাকে বলে প্রযুক্তি। আর সেই প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য বিনিময় করে সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তার নাম তথ্যপ্রযুক্তি। তথ্যপ্রযুক্তি এখন মানুষের জীবনযাপনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করছে না। টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ই-মেইলের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিদেশের যেকোনো খবর মুহূর্তের মধ্যেই পৌঁছে দেওয়া যায় দূরদূরান্তে। ই-মেইলের মাধ্যমে চিঠিপত্র, দরকারি ফাইল প্রেরণ করা যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক তথ্য সংগ্রহ করা যায়। ব্যবসায়-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক লেনদেন, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা, শিক্ষার যেকোনো তথ্য বা বিষয় সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া মোবাইলে মেমোরি সেট ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির তথ্যচিত্র ও বিনোদন উপভোগ করা যায়। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশনা, জার্নাল, ফিচার ইত্যাদি আমাদের গবেষণা ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক। বিভিন্ন পরীক্ষার ফল প্রকাশ, টেক্‌স্ট বুক সফ্...

অনুচ্ছেদ : লোকসংগীত

লোকসংগীত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সংগীতের শাখাগুলোর মধ্যে লোকসংগীত হচ্ছে সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয়, প্রাচীন ও সাধারণ একটি ধরন। বাংলাদেশেও লোকসংগীতের খুবই কদর রয়েছে। লোকসংগীত বলতে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত প্রথানুগ সংগীতকে বুঝায়। এটি বহুকাল ধরেই আমাদের প্রজন্ম পরম্পরায় গাওয়া হয়ে আসছে। বিশ্বের সাধারণ মানুষের মুখে এ গান এখনও বেঁচে আছে। এটি সাধারণত মৌলিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বয়ে চলে। বিভিন্ন উপলক্ষে আমাদের দেশে বাউলেরা মর্মস্পর্শী আবেগ দিয়ে লোকসংগীত গেয়ে থাকে। প্রচলিত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেই এ সংগীত গাওয়া হয়। লোক সংগীতগুলো আধ্যাত্মিক, গ্রামীণ ও অপার্থিব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গাওয়া হয়। এটি গ্রাম্য জীবন রীতির এক বিস্ময়কর বর্ণনা। দেশপ্রেমের আবেগ বিজড়িত লোকসংগীতগুলো অতীতে দুঃখ বিজড়িত কাহিনি বর্ণনা করে শ্রোতার চোখে অশ্রু নিয়ে আসে। অবশ্য লোকসংগীতে আনন্দ ভরা বিষয়বস্তুও যুগপৎভাবে বর্তমান। এখন গ্রামের অনেক লোক সূর্যাস্তের পরে তাদের নিজেদের তৈরি বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বারান্দায় বসে স্থানীয় শ্রোতাদের কাছে লোকসংগীত পরিবেশন করে। আমাদের লোকসংগীতগুলো তাদের ভিন্নধর্মী নান্দনিক বৈশিষ্ট্যের জন্য আমাদের উল...

অনুচ্ছেদ : ডিজিটাল বাংলাদেশ

ডিজিটাল বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে সংক্ষেপে বোঝায় সারাদেশের যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে আধুনিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও ইন্টারটেন পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থাৎ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতিশীল, সুসংবদ্ধ, সুসংহত ও সর্বাধিক কার্যকর করা। ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার বহুল আলোচিত সুস্পষ্ট প্রত্যয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’র আগেই বর্তমান সরকার সারাদেশের সর্বস্তরে ডিজিটালের সুযোগ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বস্তরে কম্পিউটার শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়-বাণিজ্যের সর্বত্র ই-কমার্স কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ই-গভর্ন্যান্সে ইত্তরণ ঘটানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ দ্রুত এগিয়ে চলেছে, যাতে বাংলাদেশ ই-স্টেটে পরিণত হতে পারে। ইতোমধ্যে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, যোগাযোগ মাধ্যমের বেশকিছু ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি কার্যকর হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি পৌঁছে গেছে জেলা উপজেলা এমনকি অনেক ইউনিয়ন পর্যায়েও। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করে চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র নেওয়...

অনুচ্ছেদ : শৈশবস্মৃতি

শৈশবস্মৃতি শৈশবের ফেলে আসা নানা রঙের দিনগুলোর কথা মানুষ কখনই ভুলতে পারে না। শৈশবকাল হলো আনন্দ আর মজায় ভরপুর এক সোনালি সময়। সেই শৈশবকাল যখন অতীত হয়ে যায় তখন থেকেই অবসরে মনের আয়নায় ভেসে ওঠে শৈশবের সুখস্মৃতি। তখনকার ছোটখাটো দুঃখ-কষ্ট-বেদনাকেও মনে হয় স্মৃতিময় স্বর্ণখণ্ড। আর এসব কারণেই শৈশবের স্মৃতি নিয়ে রচিত হয় গল্প-উপন্যাস, কবিতা-নাটক। সিনেমার পর্দায় ভেসে ওঠে শৈশবের হীরকখণ্ড ঘটনাবলি। আমার মতো অনেকেরই শৈশব কাটে ফুলে-ফলে ভরা সবুজ পাতায় ঘেরা পাখি ডাকা গ্রামে। এক চিলতে রঙিন ফিতার মতো নদী বয়ে যায় গ্রামের পাশ দিয়ে। নৌকার মাঝির কণ্ঠে শোনা যায় ভাটিয়ারি গান। সেই ছোট্ট নদীতে দলবেঁধে গোসল করতে করতে গামছা দিয়ে মাছ ধরার কথা কোনো দিনই ভোলা যাবে না।

অনুচ্ছেদ : লোড-শেডিং / বিদ্যুৎবিভ্রাট

লোড-শেডিং / বিদ্যুৎবিভ্রাট লোড-শেডিং আমাদের এক পরিচিত শব্দ। শহর, বন্দর, নগর, গ্রাম যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্পর্শ ঘটেছে তারা প্রত্যেকেই লোড-শেডিং-এর সাথে পরিচিত। লোড-শেডিং হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ শক্তির সরবরাহে ঘাটতি বা বিঘ্ন ঘটা। অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও এর অপরিকল্পিত বণ্টন এবং এর অপচয় প্রথমত ‘লোড-শেডিং’ -এর জন্য দায়ী। মানুষ যখন বিদ্যুৎমুখী জীবন যাপনে অভ্যস্ত, তখন ‘লোড-শেডিং’ একটি বড় অভিশাপস্বরূপ। লোড-শেডিং-এর কারণে বড় বড় শহর এবং শিল্পাঞ্চলগুলো দুর্দশাগ্রস্ত। হঠাৎ করেই রাস্তাঘাটসমূহ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়; এখানে-সেখানে সামান্য প্রদীপ, চার্জ-লাইট এবং মোমবাতির স্বল্প আলোকে বড় দোকান এবং বাজারসমূহ সামান্য আলোকিত হয়। চোর এবং পকেটমারেরা রাস্তায় স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা করে। কল-কারখানাগুলোতে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। লোড-শেডিং-এর কারণে ছাত্রদের ভোগান্তি বর্ণনাতীত। লোড-শেডিং-এর অভিশাপ হাসপাতালগুলোকেও অব্যাহতি দেয় না। জরুরি অপারেশন করা অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীর অবস্থা কেমন হতে পারে, তা বর্ণনা করার চেয়ে কল্পনা করাই বোধহয় ভালো। গবেষণা দ্রব্যাদি এবং ওষুধপত্র যেগুলো নিয়ন্ত...

অনুচ্ছেদ : মহান একুশে ফেব্রুয়ারি / ২১শে ফেব্রুয়ারি / শহীদ দিবস / আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস - PDF

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি / ২১শে ফেব্রুয়ারি / শহীদ দিবস / আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি একটি স্বরণীয় অধ্যায়। একদিকে যেমন অর্জনের দিন, অন্যদিকে হারানোর বেদনার দিন। ব্রিটিশ দুঃশাসনের অবসানের মধ্যদিয়ে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগ হয়। কিন্তু রাজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত পশ্চিম পাকিস্তানিরা প্রথমেই আমাদের ভাষাকে নিয়ে চক্রান্ত শুরু করে। পাকিস্তানের গভর্নর মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বীর বাঙালি। তারা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। মিছিল মিটিং-এ চারিদিক উত্তাল করে তোলে। ভঙ্গ করে সরকারের দেয়া ১৪৪ ধারা। পাকিস্তানি শাসক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সেই গুলিতে রাজপথে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিকসহ অজ্ঞাতনামা অনেকে। কিন্তু দমননীতি দিয়ে বাঙালিকে দাবিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। জীবনের বিনিময়ে বাঙালি ভাষাকে রক্ষা করেছে। অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তার পর থেকে প্রত...

অনুচ্ছেদ : বই পড়ার আনন্দ

বই পড়ার আনন্দ বই জ্ঞানের ভাণ্ডার, মননশীলতার স্বপ্ন সিঁড়ি ও নিঃস্বার্থ বিশ্বস্ত বন্ধু। বই পাঠে জানা যায় বিপুল বিশ্ব, মানুষের সহস্র মনোভাবনা ও অনাবিল আনন্দ। পাঠের আনন্দ মানুষকে নিয়ে যায় জ্ঞানের রাজ্যে, বিচরণ করায় বিশ্বসাহিত্যের পাতায় পাতায়। মানুষের মনতুষ্টির জন্য প্রয়োজন বই পাঠ করা। মনের দাবি মেটানোর অবিকল্প মাধ্যম একমাত্র বই পাঠ। এ দাবি রক্ষা না করলে মানুষের আত্মা বাঁচে না। আর মানুষের আত্মা সজীব না রাখতে পারলে জাতির প্রাণ যথার্থ স্ফূতি লাভ করে না। ফলে সে জাতি হয়ে ওঠে নির্জীব, নিষ্প্রাণ। আমাদের উচিত বাধ্যগত হয়ে বই পাঠ না করে আনন্দের উপাদান হিসেবে বই পাঠ করা। কারণ বই পাঠে জ্ঞানের গহিন রাজ্যে বিচরণ করা যায়। অর্জন করা যায় বিজ্ঞান, দর্শন, অর্থনীতি, ধর্মনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি সম্বন্ধে অগাদ পাণ্ডিত্য। খুলে যায় মনের ভুবন ও স্বপ্নের আকাশ। যত জ্ঞানী-গুণী তাঁদের পদচারণায় পৃথিবীকে ধন্য করেছেন তাঁরা সকলেই ছিলেন বই পাঠে নিমগ্ন। বই পাঠের আনন্দে তাঁরা ছিলেন বিভোর। তাইতো তাঁদের অবস্থান জ্ঞান ও গরিমার চূড়ায়, মনুষ্যত্ব ও মানবিকতার স্বর্ণশিখরে। আমাদের উচিত পাঠের মাঝ আনন্দ খুঁজে নেওয়া, বই পাঠের আনন্দ ...

অনুচ্ছেদ : কুটির শিল্প

কুটির শিল্প দেশের আত্ম-কর্মসংস্থানে কুটির শিল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে আত্ম-কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলে দেয়। দেশের আর্থিক উন্নয়নের জন্য কুটির শিল্পের প্রতি নজর দেয়া উচিত। কুটির শিল্প স্থাপনের জন্য বড় ধরনের পুঁজি কিংবা দামি যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। মোগল আমলে ঢাকার মসলিন এদেশের মানুষের কাছে কুটির শিল্পের সবচেয়ে বড় অবদান। অতীতে বাংলাদেশের অনেক মানুষই কুটির শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই রমরমা কুটির শিল্পের দিন দিন অবনতি হচ্ছে। এখনও কামার, কুমার, তাঁতি, তাম্রকার, স্বর্ণকার, শঙ্খ ব্যবসায়ীসহ অনেকে ‘কুটির’ শিল্পের সাথে যুক্ত। তথাপি বাংলাদেশে বিরাজমান কুটির শিল্পগুলো তরুণদের কর্ম-সংস্থানের সমস্যা কিছুটা হলেও প্রশমিত করছে। অধিক জনসংখ্যা ভারাক্রান্ত বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে কুটির শিল্পের প্রয়োজনীয়তার দিকে জোর দিতে হবে। কুটির শিল্প আমাদের ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই শিল্পের সঙ্গে আমাদের জাতীয় উন্নতি ও অবনতি জড়িত। কুটির শিল্প গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ। কুটির শিল্পের মাধ্যমে বেকার সমস্যা প্রশমন ও দারিদ্র্য হ্রাস করা সম্ভব। এই ব্যাপ...

অনুচ্ছেদ : গণশিক্ষা

গণশিক্ষা গণশিক্ষা হচ্ছে অনানুষ্ঠানিক বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা। অজ্ঞতা অন্ধকারের শামিল। এ অন্ধকার দূরীকরণে শিক্ষা অতি গুরুত্বপূর্ণ। এ অন্ধকার দূর করার জন্য শিক্ষা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য না হয়ে সার্বজনীন হতে হবে। শিক্ষার সার্বজনীনতার জন্য যে বিষয়টি প্রথমে আসে তা হচ্ছে গণশিক্ষা। গণশিক্ষা বলতে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য শিক্ষাকেই বুঝায়। এটি সাধারণত সমাজের বয়ঃপ্রপ্ত শ্রেণিকে দেওয়া হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও নিরক্ষর। শিক্ষা না থাকার কারণে তারা সমাজের অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ কারণে আমাদের সরকার বিভিন্ন এনজিও এর সহযোগিতায় সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করার প্রয়াসে এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে গণকেন্দ্রগুলো কিছু সময়ব্যাপী এদেশের গ্রাম্য বয়স্ক নারী-পুরুষদের শিক্ষিত করছে। এ শিক্ষার পরিধি খুব ব্যাপক না হলেও তা খুবই বাস্তবসম্মত। এ শিক্ষার কার্যকারিতার ফলে সংসারজীবনের বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনা পূর্বের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। গণশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও উজ্জীবিত করার জন্য সরকারকে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য, সবার জন্য শিক্ষা, ইত্যাদি কর্মসূচির মতো বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রচার মাধ্যমগ...

অনুচ্ছেদ : শিক্ষাসফর

শিক্ষাসফর ছাত্রজীবনে শিক্ষাসফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল পাঠ্যভুক্ত জ্ঞানই আমাদের জ্ঞানের তৃষ্ণা মিটাতে যথেষ্ট নয়। কেননা বইভিত্তিক জ্ঞান সীমিত। এ কারণেই শিক্ষাসফরের বিষয়টি প্রায়ই আসে। পরীক্ষামূলক জ্ঞান যাকে অন্য কথায় বলে অভিজ্ঞতা, তা শিক্ষার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যকারিতা ও প্রভাব উপলব্ধি করার জন্য খুবই প্রয়োজন, পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই খুবই ফলপ্রসূ। এরূপ শিক্ষা অর্জনে শিক্ষা সফর বিজ্ঞ পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করে। সব দিক বিবেচনা করেই বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষাাসফরের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিবছরই এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানের অনেক ছাত্র-ছাত্রী এরূপ শিক্ষাসফরে যায়। শিক্ষাসফর অন্যান্য জাতির ভূগোল, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধি প্রশস্ত করে। একই সাথে শিক্ষাসফর হচ্ছে ভ্রমণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান আহরণ। শিক্ষাসফর থেকে আহরিত জ্ঞান বইকেন্দ্রিক জ্ঞান অপেক্ষা দীর্ঘস্থায়ী। ‘দেখাই বিশ্বাস’ এই কথাটার তাৎপর্য শিক্ষাসফরের মতো কার্যাবলির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। চাক্ষুস ও চিত্তাকর্ষক জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে শিক্ষাসফরের বিকল্প নেই। আরো দেখুন : রচনা...

অনুচ্ছেদ : স্বাস্থ্যই সম্পদ

স্বাস্থ্যই সম্পদ কথায় আছে, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল । স্বাস্থ্য একজন মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। একজন মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ নির্ভর করে স্বাস্থ্যের উপর। ভগ্ন স্বাস্থ্যের একজন মানুষের কাছে অর্থ, যশ, খ্যাতি, সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি সবকিছু অর্থহীন। যেহেতু স্বাস্থ্যের চেয়ে বড় কোনোা সম্পদ নেই, তাই স্বাস্থ্যর যত্ন নেয়া অবশ্য কর্তব্য। একজন স্বাস্থ্যহীন ধনবান ব্যক্তির চেয়ে ধনহীন স্বাস্থ্যবান লোক অধিকতর সুখী জীবন যাপন করে। সুন্দর স্বাস্থ্য শুধু শরীরের উপর নির্ভর করে না। যে ব্যক্তির শরীর ও মন দুই সুস্থ, সেই প্রকৃত স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি। শরীর বা মনের যেকোনো একটির অসুস্থতা স্বাভাবিক জীবন যাপনকে ব্যাহত করে। শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে নিয়মিত শরীর চর্চা করা উচিত, তাতে শরীর ও মন দুই প্রফুল্ল থাকে। ভাল স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত পরিমাণ মত সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। এবং যথেষ্ট পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যেতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হবে। বয়স অনুযায়ী খাবার ও পানীয় গ্রহণ ও ঘুমই সুন্দর স্বাস্থ্যের পাথেয়। সেই সাথে দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করা অবশ্যই জরুরি।...

অনুচ্ছেদ : জাতীয় পতাকা

জাতীয় পতাকা জাতীয় পতাকা যেকোনো দেশের স্বাধীনতা, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। আমাদের জাতীয় পতাকাও অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত। এ পতাকা স্বাধীনতা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আমাদের কাছে এ পতাকা অত্যন্ত প্রিয় ও পবিত্র। আমাদের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬। পতাকার মাঝখানের লাল বৃত্তটির পরিমাপ দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ। আমাদের জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং মাঝখানে লাল বৃত্ত। সবুজ হচ্ছে সজীবতা ও প্রাচুর্যের প্রতীক, আর উদীয়মান লাল সূর্য রক্তাক্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিবাহী। সবুজ অর্থ শস্যের প্রাচুর্য, জীবনের উচ্ছলতা ও তারুণ্যের অফুরন্ত আনন্দ। আর সূর্যের লাল রং শহীদদের বুকের তাজা রক্তের চিহ্ন। আমাদের পতাকা বহন করে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের মহাবাণী। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলেমিশে এ পতাকাতলে সমবেত হয়, দেশকে ভালোবাসার ব্রত গ্রহণ করে। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ সরকারের নির্দেশে যেকোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রত্যেক কর্মদিবসে সরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ক...

অনুচ্ছেদ : দেশপ্রেম

দেশপ্রেম দেশের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই হলো দেশপ্রেম। দেশের প্রতি আজন্ম আকর্ষণ থেকেই দেশপ্রেমের উৎপত্তি। দেশপ্রেম না থাকলে কখনো দেশের উন্নতি সাধন সম্ভব নয়। প্রত্যেকটি মানুষের মাঝে দেশপ্রেম থাকা উচিত। তাই আমাদের জাতীয় জীবনে দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। তবেই আমাদের দেশ উন্নতি লাভ করতে পারবে। স্বদেশপ্রেম হলো জননীর প্রতি ভালোবাসার শামিল। প্রকৃত দেশপ্রেমিক আমাদের দেশে বর্তমানে দরকার। দেশপ্রেম কেবল দেশের প্রতি ভালোবাসাই প্রকাশ করে না, দেশের মানুষকেও ভালোবাসতে শেখায়। আর মানুষকে ভালোবাসলে সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসা পাওয়া যাবে। সর্বোপরি দেশপ্রেম হলো বিশ্বপ্রেমের নামান্তর। যা বর্তমান বিশ্বে খুবই প্রয়োজন। দেশের প্রত্যেক মানুষের ভেতরে দেশপ্রেমের গুণটি থাকা অত্যাবশ্যকীয়। দেশপ্রেমিক না হলে খাঁটি নাগরিক হওয়া যায় না। পৃথিবীতে যুগে যুগে দেশপ্রেমিক মহামানব জন্ম লাভ করেছেন। যারা নিজেদের মেধা, কর্ম দিয়ে পৃথিবীকে সুন্দর করে সাজিয়েছেন। তাদের হাতেই সৃষ্টি হয়েছে আধুনিক সভ্যতা, সমাজ ও রাষ্ট্র। তাদের দেশপ্রেম বিশ্বপ্রেমে রূপ নিয়েছে। 

অনুচ্ছেদ : চরিত্র

চরিত্র চরিত্র মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ। চারিত্রিক গুণই মানুষকে সত্যিকারের মানুষ করে তোলে, বাঁচিয়ে রাখে, অমর করে রাখে। মানবজীবনের বিকাশ ও উন্নতির জন্য ভালো চরিত্রের অধিকারী হওয়া দরকার। চরিত্রহীন লোক নানা রকম অন্যায় ও অসত্যের পূজারি। চরিত্রবান ব্যক্তি সত্য ও ন্যায়ের অনুসারী। মানুষের মহিমা অমল চরিত্রের আলোকেই দ্যুতি পায়। টাকা-পয়সা, ধন-দৌলতের বিনাশ আছে কিন্তু সচ্চরিত্রের বিনাশ নেই। গাড়ি-বাড়ি, ধন-সম্পত্তি, শিক্ষাগত যোগ্যতা সবকিছুই মূল্যহীন হয়ে পড়ে যদি সে লোক চরিত্রহীন হয়। পক্ষান্তরে চরিত্রবলে বলীয়ান মানুষ সবার শ্রদ্ধা আদায় করতে পারে। কারণ চরিত্রবান মানুষ মানুষকে সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পথে বিচরণ করতে সাহয্য করে। একজন সচ্চরিত্রবান লোকের সংস্পর্শে এলে মানুষ সত্য, সুন্দর, আদর্শ পথের সন্ধান পায়। পক্ষান্তরে দুশ্চরিত্র ব্যক্তি সমাজ ও জাতির জন্য অকল্যাণকর। তারা মানুষে মানুষে বিভেদ, কাটাকাটি, হিংসা-দ্বেষ, লোভ-লালসার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশকে কলুষিত করে। চরিত্র মানুষের ব্যক্তিত্ব ও মনুষ্যত্বের পরিচয় বহন করে। যেসব গুণ মানুষকে মহত্ত্বের পরিচয় দান করে, সেগুলো মানুষকে মহত্ত্বের গৌরবতিলক পরিয়ে দেয়...

অনুচ্ছেদ : নিরক্ষরতা দূরীকরণ

নিরক্ষরতা দূরীকরণ শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। পৃথিবীতে শিক্ষা বা জ্ঞানই একমাত্র সম্পদ যা জীবনের মতো মূল্যবান। সুতরাং নিরক্ষরতা জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ। নিরক্ষর ব্যক্তি অন্ধের ন্যায়। অন্ধের মতো তাকে অগ্রসর হতে হয়। অন্যের গলগ্রহ হয়ে জীবন যাপন করতে হয়। তাই, কোনো জাতির কাছেই নিরক্ষরতা কাম্য নয়। বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (স.) শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। জ্ঞানার্জনের জন্য তিনি সুদূর চীনদেশে যাওয়ার কথা বলেছেন। অথচ আমাদের ঘোল কোটি জনসংখ্যার দেশে বাষট্টি ভাগ মাত্র তথাকথিত শিক্ষিত অর্থাৎ অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। নিরক্ষরতার জন্য আজ বাংলাদেশের অর্থনীতি অনগ্রসর ও পঙ্গু। নিরক্ষরতার জন্যেই জীবনের সুখের আস্বাদন থেকে মানুষ বঞ্চিত। নিরক্ষরতার অভিশাপ মাথায় নিয়ে কোনো জাতি উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। নিরক্ষরতা ব্যক্তিজীবনকে যেমন পঙ্গু করে, দেশ-জাতিকেও তেমনি নিমজ্জিত করে অবনতির অন্ধকারে। তাই আমাদের জাতীয় জীবন থেকে এ নির্মম অভিশাপ দূর করতে হবে। দেশকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হলে দেশের মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। আর এ লক্ষ্য নিয়েই চালু করা হয়েছে বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা। নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্...

অনুচ্ছেদ : বৈশাখী মেলা

বৈশাখী মেলা বৈশাখী মেলা নববর্ষের সর্বজনীন অনুষ্ঠানগুলোর অন্যতম। নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ, পহেলা বৈশাখ থেকে বাংলাদেশে ছোট-বড় অনেক মেলা শুরু হয়। স্থানীয় লোকেরাই এসব মেলার আয়োজন করে থাকে। মেলার স্থায়িত্বকাল সাধারণত এক থেকে সাত দিন। তবে কোথাও কোথাও এ মেলা সারা বৈশাখ মাস ধরে চলে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর জেলার নেকমর্দানে পহেলা বৈশাখে যে মেলা বসে, তা হচ্ছে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ মেলা। সাধারণত এ মেলা এক সপ্তাহ স্থায়ী হয়। উত্তরবঙ্গের এমন বস্তু নেই যা এ মেলায় পাওয়া যায় না। এ মেলাকে সর্বসাধারণের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। নাচ, গান, নাগরদোলা প্রভৃতি মেলার হাজার বছরের ঐতিহ্য বলে বিবেচিত। মেলার দিনগুলোতে ছেলে-বুড়ো সবার মাঝেই বিরাজ করে সাজ সাজ রব। বাংলাদেশের মেলাগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায় এদেশের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী, যা বাঙালির ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক বলে বিবেচিত। বৈশাখী মেলা বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের মিলনমেলা। এ মেলা সকলের প্রাণে এনে দেয় খুশির বন্যা, ধুয়ে মুছে দেয় সারা বছরের কর্মক্লান্তি ও মানসিক অশান্তি। আমরা নতুন করে বাঙালি ঐতিহ্য লালন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা লাভ করি...

অনুচ্ছেদ : শ্রমের মূল্য / শ্রমের মর্যাদা

শ্রমের মর্যাদা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই পরিশ্রমের মর্যাদা রয়েছে। সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে পরিশ্রমের মর্যাদাবোধ পরিশ্রমেরই যোগ্য পুরস্কার। কায়িক পরিশ্রম আত্মসম্মানের পক্ষে মোটেও হানিকর নয়, বরং শ্রমই মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ উপায়। জগতের সকল কাজই শ্রমসাপেক্ষ। কায়িক পরিশ্রমেই শিল্পী ও বিজ্ঞানী উদ্ভাবনীশক্তিকে বাস্তবে পরিণত করে তা মানবকল্যাণে নিয়োজিত করে। ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত বা জাতিগত সকল উন্নতির মূলে রয়েছে শ্রম ও অধ্যবসায়। পৃথিবীতে যে জাতি যত পরিশ্রমী সে জাতি তত উন্নয়নশীল। ব্যক্তিগত পরিশ্রম থেকে সমষ্টিগত পরিশ্রমই বর্তমান সভ্যতা সৃষ্টি করেছে। শ্রম যে শুধু ব্যক্তিজীবনকেই সার্থকতায় সমৃদ্ধ ও ঐশ্বর্যময় করে তোলে তা নয়, সমাজজীবনের ওপরও গভীর রেখাপাত করে। তাই পরিশ্রম মুধু সৌভাগ্যের নিয়ন্ত্রকই নয়, সভ্যতা বিকাশেরও হাতিয়ার। সুতরাং জীবনকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে বাঁচিয়ে রাখার জন্য শ্রম ব্যতীত অন্য কোনো সহজ পথ নেই। আর তাই শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ব্যক্তিগত তথা জাতিগতভাবে প্রয়োজন। কবি অক্ষয় কুমার বড়াল তাঁর ‘মানব বন্ধনা’ কবিতায় শ্রমশীল ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে তাই বন্দনা করেছেন-...

অনুচ্ছেদ : একুশে বইমেলা

একুশে বইমেলা বা, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ১৯৭১ সালে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে প্রতিবছর একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বাঙালি সত্তার মর্মমূলে গাঁথা মহান একুশে ফেব্রুয়ারি তথা ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতি বহনকারী একুশে বইমেলা বাঙালির সংগ্রামী চেতনা ও সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যেরই এক তাৎপর্যপূর্ণ অনুষঙ্গ। ‘ শহীদ দিবস ’ হিসেবে জাতীয় মর্যাদায় এ দিনটি নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। এ দেশের মানুষ ভাষা-শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এবং বইমেলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে। ১৯৯৯ সালে এ দিবসটি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। সেই সাথে একুশের বইমেলাও পেয়েছে আলাদা গৌরবদীপ্ত মাত্রা। পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে মাসব্যাপী একুশে বইমেলা বেশ জাঁকজমকভাবে চলতে থাকে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বইমেলার উদ্বোধন করেন। কয়েকশত প্রকাশক তাদের জন্য বরাদ্দকৃত নিজ নিজ স্টল সাজিয়ে বই প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। হাজার হাজার দর্শক, শ্রোতা, ক্রেতা আনন্দমুখর পরিবেশে নানা ধরনের সুদৃশ্য ও মূল্যবান বইয়ের স...

অনুচ্ছেদ : আমার প্রিয় শখ

আমার প্রিয় শখ শখ হচ্ছে প্রিয় কাজ যা মানুষ আনন্দের জন্য করে। এটা তার স্বাভাবিক কাজকর্ম নয়। প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু শখ থাকে। আমারও কিছু শখ আছে। শখগুলোর মধ্যে একটা আমার প্রিয়, আর সেটা হচ্ছে বাগান করা। আমি এটা এই জন্য করি যে, যদি আমি এখানে কাজ করি, তাতে আমার ব্যায়াম হয়। এতে আমার অক্সিজেনপ্রাপ্তি ঘটে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিষ্কাশন ঘটে। আর আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি। এতে আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষিত হয়। আমি আমার অবসর সময় বাগানে কাটাই। আমি দিনে দুইবার বাগানে যাই এবং চারাগুলোর যত্ন নিই। দরকার হলে, চারাগুলোতে পানি দিই। আমি এটাকে স্বাভাবিক হিসেবে নিই। আমার শখে কিছু সুবিধা রয়েছে। বাগান থেকে বিভিন্ন রকমের ফুল ও ফল পাই। এতে আমাদের পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়। আমার এলাকার অনেক লোক আমার বাগান দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়েছেন। তারা অনেকে বাগান করেছেন। এটা নিশ্চিত যে, এতে সময় কম লাগে। আমি আমার শখের জন্য কেবল আমার অবসরের সময় দেই। আমি জোরেসোরে আমার পড়াশুনার কাজ চালিয়ে যাই। কাজেই কেউ যদি বাগান করাকে শখ হিসেবে নিতে চায়, তাহলে আমি বলব কোনোকিছুর ক্ষতি না করেও তা করা যায়। রচনা...

অনুচ্ছেদ : আমার প্রিয় শিক্ষক

আমার প্রিয় শিক্ষক কালের যাত্রার ধ্বনি অনুরণিত হয়ে ওঠে শিক্ষকের কণ্ঠে। জীবনের প্রথম প্রভাতে ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ থেকে আজকের তারুণ্য দীপ্ত মুহূর্তে ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’ স্বদেশচেতনায় উদ্দীপ্ত এ মানসিকতা অর্জনের পেছনে অকৃপণ অবদান রেখেছেন আমার শিক্ষকবৃন্দ। তাঁরা বৈচিত্র্যে ভিন্নতর, কিন্তু আকর্ষণে অনন্য। তাঁদের মিছিল থেকে একজনকে প্রিয় বলে পৃথক করতে পারি, তিনি নারায়ণ মজুমদার, পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক। সেই ছোট্টবেলায় যখন হাঁটি হাঁটি পা পা করে বিদ্যালয়ে যেতাম তখন থেকে স্যারকে দেখে আসছি। তিনি ছিলেন গম্ভীর প্রকৃতির। দেখলে ভয় পেতাম। আর সে কারণে খুব একটা তাঁর সামনে পড়তাম না। যখন অষ্টম শ্রেণিতে উঠলাম আমরা তাঁকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেলাম। তিনি আমাদের সমস্ত ধারণা ভেঙে দিলেন, মিশে গেলেন আমাদের সাথে। জ্ঞানের উৎসের উন্মোচন ঘটালেন তিনি। সাহিত্য তাঁর আলোচনার বিষয়। রসহীন পাঠ্যবিষয়কে তিনি করে তুললেন রসমধুর। তিনি সমকালীন থেকে ছুটে গেলেন অতীতে, লোভনীয় করে তুললেন প্রাচীন সাহিত্য থেকে আধুনিকতম সাহিত্য সৃষ্টির নিদর্শনকে, রস উৎসারিত হয়ে উঠল পাঠ্যবইয়ের পাতায় পাতায়। নারায়ণ স্যারের অবদানের...

অনুচ্ছেদ : আমার প্রিয় লেখক

আমার প্রিয় লেখক আমার প্রিয় লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় । তিনি বাংলার একান্ত দরদি কথাশিল্পী, বাঙালির বেদনার বিশ্বস্ত রূপকার। তাঁর লেখনী স্পর্শে বাংলা কথাশিল্প অর্থাৎ উপন্যাস ও ছোটগল্প জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহণ করেছে। তাঁর লেখনীতেই বাংলার ব্যথিত মানুষের বাণীহারা বেদনা পেয়েছিল প্রকাশের প্রকৃত ভাষা। সাহিত্য দরবারে তিনি শোনালেন সমাজের চিরবঞ্চিত, চির অবহেলিতদের জীবন কাহিনি, মর্মস্পর্শী ভাষায় রচনা করলেন তাদের বেদনাময় অশ্রুনৈবেদ্য। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী কথাশিল্পী। বাংরার মাটি ও মানুষকে তিনি দেখেছেন সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে তাই সাধারণ মানুষ অসাধারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনিই সার্থকভাবে দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে কী অপার মনুষ্যত্বের মহিমা; অনুভব করেছেন বাঙালির সীমিত জীবনের অন্তরালেও চলেছৈ, কত বিচিত্র রূপের লীলাভিসার। এ অনুভবই তাঁর রচনায় পরিস্ফুট। তাই শরৎচন্দ্র আমার প্রিয় লেখক। তাঁর রচিত ‘মহেশ’ অনবদ্য ছোটগল্প। উপন্যাসগুলোর মধ্যে চরিত্রহীন, পল্লীসমাজ, পথের দাবী, শ্রীকান্ত, গৃহদাহ প্রভৃতি উৎকর্ষ ও শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। তিনি সমাজের সকল স্তরের মানু...

অনুচ্ছেদ : আমার প্রিয় ফুল

আমার প্রিয় ফুল ফুল মানুষের মনকে আকর্ষণ করে, বিশেষ ভাবাবেগ সৃষ্টিতে অনুকূল আবহ তৈরি করে। ফুল সবারই প্রিয়। ফুল ভালোবাসে না এমন লোক হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। একেক জনের কাছে একেক ফুল প্রিয়। আমার প্রিয় ফুল হলো হাস্নাহেনা। এটি একটি ছোট প্রজাতির ফুল। তবে গুচ্ছাকারে ফোটে। হাস্নাহেনা গাছের সমস্ত ডাল জুড়ে যখন ফুল ফোটে তখন তাকে মনে হয় স্বর্ণালঙ্কারে আচ্ছাদিত কোনো নববধূ। সন্ধ্যায় শুরু হয় ফুল ফোটা। রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে এর সুমিষ্ট মনমাতানো সুগন্ধ। একসময় মোহনীয় করে তোলে চারপাশ। রাতের অন্ধকার ভেদ করে জমে ওঠে ফুলের জলসা। আর যদি রাতটি হয় চাঁদের আলোয় আলোকিত তাহলে তো কথাই নেই। আমার জীবনে এমন একটি সময় ছিল যখন হাস্নাহেনার প্রেমে ছিলাম মগ্ন। অপেক্ষায় থাকতাম কখন রাত হবে, ঘুমিয়ে পড়বে চারপাশ, নিস্তব্ধ হবে পরিবেশ। আর আমি জেগে থাকবো হাস্নাহেনার সুমিষ্ট ঘ্রাণ নিয়ে। নিজেকে ভাবালুতার মাঝে আবিষ্ট করায় এ অমৃতে আমি ছিলাম তৃপ্ত, মগ্ন ও ধন্য। এ সময় হাতের কাছে খাতা কলম থাকলে মুহূর্তেই লিখে ফেলতাম কবিতা। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আমার রাত জাগার সাথি ছিল হাস্নাহেনা। এ ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এ ফুল দ...

অনুচ্ছেদ : বৃক্ষরোপণ অভিযান

বৃক্ষরোপণ অভিযান জীবনের জন্য, বেঁচে থাকার জন্য বৃক্ষ অনিবার্য। বৃক্ষ মানব জীবনের এমন এক বন্ধু, যার কোনো বিকল্প নেই। মানুষ বুঝে অথবা না বুঝে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বৃক্ষ নিধন করছে। বনের পর বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে পরিবেশ দূষণ ঘটছে। পরিবেশ হয়ে উঠেছে ভারসাম্যহীন। তাই ভারসাম্য রক্ষার্থে ব্যাপকভাবে বৃক্ষ রোপণ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের বন ভূমি খুবই কম। বাংলাদেশের মোট আয়তনের মাত্র ১৬ ভাগ বনভূমি- যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। তারপরও উপর্যুপরি জনসংখ্যাবৃদ্ধির ফলে কাঠের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, ফলে বনের পর বন উজাড় হচ্ছে। বনভূমির আয়তন ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে যা খুবই উদ্বেগের ব্যাপার। এই অভাব পূরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন, এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছেন। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। আরও বিস্তৃত আকারে এ পদক্ষেপ নেয়া আশু দরকার। মূলত পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনায়নের জন্য কার্যকর ভূমিকা আবশ্যক। যে দিন সকলে বুঝবে বৃক্ষ ছাড়া মানুষের একদিনও চলে না, প্রতিটি নিশ্বাসে...

অনুচ্ছেদ : অতিথি পাখি

অতিথি পাখি বা, পরিযায়ী পাখি হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে প্রতি বছর শীতকালে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে অতিথি পাখি এ দেশে আসে আশ্রয়ের সন্ধানে। এসব পাখি একদিকে যেমন আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধিত করে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাশ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা যেমন অতিথিদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করি, তেমনি এ পাখিগুলো আমাদের অতিথি বলে এদের সাথেও আমাদের সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করা উচিত। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু সাংসলোভী লোক এবং ব্যবসায়ী নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধির জন্য এসব পাখি শিকার করে খায় এবং বিক্রি করে। ভবতে অবাক লাগে যে, হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে যে পাখিরা আসে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য, তারাই তাদের অস্তিত্ব বিসর্জন দেয় হৃদয়হীন লোকদের খাবার টেবিলে। অথচ মানুষের কর্তব্য অতিথি পাখিদের অভ্যর্থনা জানানো। তাদের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি করা। তাদের আশ্রয়কালীন সময়টুকুকে নিরাপদ ও আনন্দময় করে তোলা। এজন্য মানুষকে তার লোভ ও রসনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিচিত্র ধরনের এসব পাখি যেন কারও লোভের শিকার হতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য মানুষের প্রয়োজন আরও ...

অনুচ্ছেদ : শিশু অধিকার

শিশু অধিকার বেঁচে থাকার অধিকার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক মানবিক অধিকার। বড়দের মতো মিশুদেরও রয়েছে মৌলিক অধিকার। তাদের রয়েছে স্বাস্থ্যকর ও শান্তিময় পরিবেশে বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠার অধিকার। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বরের অধিবেশনে গৃহীত হয় শিশু অধিকার সনদ। সনদটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি বা কনভেনশন। বাংলাদেশ ১৯৯০ সালের ৩ আগস্ট শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষর করে। জন্মসূত্রে একটি নাম ও একটি জাতীয়তার অধিকার রয়েছে প্রতিটি শিশুর। ১৯৫৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শিশু সংক্রান্ত অধিকার ঘোষণা করে। এ ঘোষণার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সেই সাথে শিশুদেরকে তাদের নিজ নিজ দেশের উন্নয়নের জন্য গড়ে তোলা। এই শিশু অধিকার সনদে বিশ্ব মানবসমাজ শিশুর জন্য যা কামনা করে তা সবচেয়ে স্পষ্ট ও পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশে শিশু সনদগুলো আইন হিসেবে গৃহীত হলেও এর প্রয়োগে তেমন কার্যকারিতা পরিলক্ষিত হয় না। এখানে শিশুশ্রমের অবাধ ও নিয়ন্ত্রিত অবস্থা বিরাজমান এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার তেমন সুনিশ্চিত নয়। এক কথায় বাংলাদেশ শিশু অধিকার বাস্তবায়নে এখনো অনেক পেছ...

অনুচ্ছেদ : সততা

সততা সততা পরম দুঃখ কষ্টে অর্জিত ধন। সততা একটি পরম গুণ। একমাত্র সততার দ্বারাই প্রতিষ্ঠা লাভ সম্ভব। এ পৃথিবীতে ভালো-মন্দ, সৎ-অসৎ, সত্য-মিথ্যা পাশাপাশি বিরাজমান। জীবনে প্রকৃত ও স্থায়ী সাফল্য লাভ করতে হলে সৎ পথে জীবন চালিত করাই উত্তম কাজ। এখানে সাধু ও সৎ পথের যাত্রী যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মিথ্যা ও অসৎ পথের যাত্রী। সজ্ঞানে ও সতর্কতার সঙ্গে অসৎ পথ পরিহার করতে হবে, কারণ সিদ্ধি লাভে সৎ পথের কোনো বিকল্প নেই। জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সততার মূল্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে। একজন সৎ লোকই সবার কাছে বিশ্বস্ত ও শ্রদ্ধাভাজন হতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় অনেকে অসৎ পথে চলেও বিরাট উন্নতি সাধন করেছে। কিন্তু মনে রাখা উচিত তার এ উন্নতি সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী; তাসের ঘরের মতো যেকোনো মুহূর্তে তা ভেঙে যেতে পারে। অসৎ পথে অর্জিত সাফল্য একদিন না একদিন ধ্বংস হবেই। অসৎ পথের যাত্রী টাকার জোরে সম্মান ও প্রতিপত্তি লাভ করলেও মানুষ মনে মনে তাকে ঘৃণা করে। অন্যদিকে সৎ পথের যাত্রী শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করুক না কেন, মানুষের কাছে সে শ্রদ্ধার পাত্র। ব্যবসায়-বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজনীতি ইত্যাদি যেকোনো ক্ষেত্রে একমাত্র সৎ পথের ব্যক্...

অনুচ্ছেদ : পথ শিশু

পথ শিশু পথশিশু বলতে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো, জীবনযাপনকারী শিশুদের বোঝায়। শহরের ছোট-বড় পথে আমরা যাদেরকে খেলতে দেখি, ছোটাছুটি করতে দেখি, মারামারি করতে দেখি এরাই পথশিশু। এরা নানা রকম কাজ করে। কেউ জোগালির কাজ বা ফাই-ফরমাশ করে, মুটেগিরি করে, ইট ভাঙে, ফুল, চকলেট বা টুকটাক কিছু বিক্রি করে, কাগজ কুড়ায় বা ভিক্ষা করে। এদের পথই ঘর, পথই আশ্রয়। এদের কারও বাবা আছে তো মা নেই, কারও বাবা নেই, আবার কারও বাবা-মা কেউ নেই। মানুষের কিল, ঘুষি, লাথি খেয়ে, হোটেলের উচ্ছিষ্ট চেটে এরা বড় হয়। খুব কম বয়স থেকেই চোর, গুণ্ডা, বগমাশ, বাটপাড়, ছিনতাইকারী, বোমাবাজ, খুনিদের দেখে দেখেই এরা বেড়ে ওঠে। ভালো মানুষরূপী দানবদের ভয়ংকর চেহারার সাথেও এদের পরিচয় হয়। আবার সত্যিকারের ভালো চরিত্রের মানুষদেরও সাক্ষাৎ পায় তারা, যারা তাদের বিপদ-আপদে আপনজনের মতো, সাহায্য-সহযোগিতা করে। এরা ব্যবসায়ীদের অপকর্ম, রাজনীতিবিদদের ছলচাতুরী, পুলিশের দুমুখো রূপের খবরও রাখে। হাল আমলের নায়ক-নায়িকা, গানের শিল্পীদের এরা খুব পছন্দ করে। তাদের চলন-বলন নকল করে আনন্দ পায়। খারাপ মানুষেরা এদের খারাপ পথে নিয়ে যায়। অবৈধ ব্যবসায়ীরা মাদকদ্রব্য বহন ও বিক্রি করাতে এ...

অনুচ্ছেদ : পণপ্রথা / যৌতুক প্রথা

পণপ্রথা / যৌতুক প্রথা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও এমন কিছু কুপ্রথা রয়েছে যা জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। এসব কুপ্রথার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো যৌতুকপ্রথা। এ প্রথা অনুযায়ী বিয়ের সময় কন্যাপক্ষ থেকে বরপক্ষকে মোটা অঙ্কের টাকা বা নানা ধরনের উপটৌকন দিতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে বিয়ের পরও কন্যাপক্ষকে এর জের টানতে হয়। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ এ প্রথার শিকার হলেও দরিদ্র পরিবারেই এর ক্ষতির প্রভাবটা বেশি দেখা যায়। কেননা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দরিদ্র মানুষের পক্ষে যথাযথভাবে এ যৌতুক দেওয়া সম্ভব হয় না। মূলত নিম্ন আয়ের কারণে তাদের সঞ্চয় কম থাকাতেই এমনটি হয়। তাই বিয়ের পরও যৌতুকপ্রথার কারণে নারীদের নানা ধরনের নির্যাতনের সংবাদ দেখতে পাই। অর্থনৈতিকভাবে নারীদের পরনির্ভরশীলতা ও তাদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এ প্রথার উদ্ভব হয়েছে। এ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে এ প্রথাটি টিকে আছে। নারীদের জন্য এটি যেমন অপমানজনক তেমনি মানবতার জন্যও অবমাননাকর। তাই এটি প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। এ সম্পর্কিত...

Email for thanking for sending nice gift

Imagine, you are Masud. You live at Bashundhara Residential Area, Block-G, House-12, Dhaka. Your birth anniversary was celebrated and many friends were present there. Your uncle living Italy sent you a camera as your birthday present. Now, send a thanks-giving email to your uncle for sending the presentation.  To : < adbulhakim @ myallgarbage.com > Cc : ......................................................... Bcc : < masud @ myallgarbage.com > Subject : Thanks a lot for sending nice present. Dear Uncle, I have become overjoyed for getting the camera from you as my birthday present. Thank you very much for the presentation. I would have become happier if you had come to join my birthday anniversary. Hope you are hale and hearty. We are well. Please convey my best regards to auntie and love for Nova. Wish you all the best. Your affectionate nephew. Masud Tell : 088-01000-000000 Email : < masud @ myallgarbage.com >

Email about aim in life

Imagine, you live in Auckland, New Zeland. One of your bosom friends named Ruma, who lives at 86, Sobani Ghat, Sylhet, is eager to know about your aim in life. Now, send an email to your friend about your aim in life. To : < ruma @ myallgarbage.com > Cc : ............................................... Bcc : <nitu @ myallgarbage.com > Subject : About aim in life. Dear Ruma, I have received your email just now, In your email, you have asked me about my aim in life. Well, I have decided to be a school teacher. Perhaps you will be surprised considering the miserable condition of teachers in our country. But believe me, I am quite serious and sincere about it. Teachers are ill-paid in Bangladesh. Despite this, they are the nation builders and they serve in a dignified section. The students may get the touch of civilization receiving education from teachers. They build up a pure heritage following the lofty idealism of teachers. None but teachers can eradicate...

Email about describing natural beauties on recent visiting

Imagine that you are Sabuj and one of your friend Minu live in Sydney, Australia. Recently, you visited a place of natural beauty or tourist spot. Now, send an email to your friend Minu describing various aspects of the place.  To : < minu @ myallgarbage.com > Cc : ........................................... Bcc : < sabuj @ myallgarbage.com > Subject : Describing various aspects including natural beauties of visiting Kuakata. Dear Minu, I have just received your email. In your email, you wanted to know my experience of visiting Kuakata. Here it is – You know we went to Kuakata on the 5th instant. We had heard much about the place from others but had not the opportunity to go there until that day. We all shared total expenditure equally among us. We reached there by evening and spent the night in the local rest house. We rose very early in the morning and went to the beach. Our plan was to see the sun in its rising. It gradually made its appearance as it w...

Email about advising for adjusting new place and food

Imagine that one of your school friends is in England for six months. He/She is having some troubles with the new place and the new food. Send an email advising him/her on how to adjust the new place and the new food.  To : < sima @ myallgarbage.com > Cc : .......................................... Bcc : < sultana @ myallgarbage.com > Subject : Advice on how to adjust to the new place and food. Dear Sima, I received your email yesterday. I feel really worried to know that you are having some troubles with your adjustment there in England. I am just writing to you a few words about them in this email.  You know England has its own culture, tastes, values, etc. It is quite natural that their food habits are different from us. When you will be used to such habits, you will find things easy and enjoyable. So far I know the foods, the English people take are rich in food value.  Then I feel unhappy that you are having troubles with the new pl...

Email for requesting for sending money

Imagine, you are promoted to a new class and you need money. Now, send an email to your father/mother requesting him/her to send you some money for buying new books and clothes.  To : < ayaz @ myallgarbage.com > Cc : ............................................. Bcc : < faisal @ myallgarbage.com > Subject : Request for sending money. Dear Father/Mother, At first take my salam. I hope you all are quite well by the grace of Almighty Allah. The results of my first your examination has just been out. You will be very glad to know that I have stood first obtaining 86% marks on an average. Herewith I am sending you my progressive report.  Our next classes will begin soon. Now, I shall have to buy new books and warm clothes. So, I am in need of taka 10,000/- in all. Please send me the said amount in my DBBL account as soon as possible.  I am well. My best regards to grandfather and love to sister.  Yours affectionate son, Faisal Tell...

Email about information on exam preparation

Suppose, you are Tamim. You are going to appear at the Higher Secondary Certificate (HSC) Examination this year. Now, send an email to your friend/brother/father/uncle about your preparation for the ensuing / up-coming examination. To : < afjal @ myallgarbage.com > Cc : ....................................... Bcc : < tamim @ myallgarbage.com > Subject : Information on my HSC exam-preparation. Dear Father, I received your mail yesterday. You wanted to know about my preparation for the ensuing HSC Examination. You will be glad to know that I have made fair progress in my preparation for the examination. I have thoroughly studied and revised all the subjects. You know I am little-bit weak in mathematics. So, I take special help from my math’s teacher. I hope, I shall bid fair in the examination.  Please let mother know about my preparation. I am quite hale and hearty. No more today. With best regards to mother and love for Maria.  Your loving son,...

অনুচ্ছেদ : ফেরিওয়ালা

ফেরিওয়ালা রাস্তার ফেরিওয়ালা বলতে আমরা একজন করুণাযোগ্য ব্যক্তিকে বুঝি যে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে জিনিসপত্র / পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে। একজন ফেরিওয়ালার জীবন খুবই বৈচিত্র্যময় / অদ্ভূত। সে সামান্য পুঁজি দ্বারা তার ব্যবসা পরিচালনা করে। সে সাধারণত গলার হার, কানের দুল, ফিতা, টুকিটাকি জিনিসপত্র, গৃহ-সরঞ্জাম, কুমারের তৈরি মাটির জিনিসপত্র ইত্যাদি বিক্রি করে থাকে। মাঝে মাঝে সে মিষ্টি জাতীয় খাবার বিক্রি করে। তাকে কাপড় বিক্রি করতেও দেখা যায়। কোনো কোনো ফেরিওয়ালা রাস্তা ও শহুরে গলির আশপাশে বসবাসকারী গৃহিণীদের আকৃষ্ট করতে তাদের সাথে বাঁশি রাখে। আবার অনেকে ক্রেতা আকর্ষণের জন্য উচ্চ স্বরে মুখ দিয়ে সুর করে। মাঝে মাঝে শহরের রাস্তা-ঘাটে তাদেরকে এক জায়গায় দাঁড়িয়েও পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে সরকার তাদের প্রায়ই উচ্ছেদ করে। বাধ্য হয়েই তারা তখন তাদের অপর্যাপ্ত পণ্য নিয়ে শহরের গলিতে গলিতে ঘুরে বেড়ায়। সব দিনই একজন ফেরিওয়ালার সমান বেচাকেনা হয় না। সে কখনও বেশি আবার কখনও খুব কম লাভ করে। তখন তার পথ চেয়ে বসে থাকা পরিবারের মুখগুলোর চিন্তায় তাকে বিষণ্ণ দেখায়। অন্যদিকে যখন সে ভালো লাভ করে, তখন তার চেহারা খুব হাস্...

অনুচ্ছেদ : বাংলাদেশের লোকশিল্প

বাংলাদেশের লোকশিল্প আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশে লোকশিল্পের চর্চা চলে আসছে। গ্রামীণ জীবনে সাধারণ মানুষ দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে সাধারণ যন্ত্রপাতি দিয়ে শিল্পসম্মতভাবে যেসব সামগ্রী তৈরি করে সেগুলোকে বলা হয় লোকশিল্প। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কুলা, ডালা, ঝাঁকা, মোড়া, ধামা, খালুই, টোপা, তালপাখা ইত্যাদি। বাঁশ দিয়ে তৈরি এসব জিনিস গ্রামের ঘরে ঘরে ব্যবহৃত হয়। এগুলো নানা ডিজাইনে বিভিন্ন রং ব্যবহার করে দৃষ্টিনন্দনভাবে তৈরি হলেই লোকশিল্প হয়ে যায়। বেত দিয়ে তৈরি শীতলপাটি, মোড়া, চেয়ার, টেবিল, খাট ইত্যাদি শহুরে মানুষের দৃষ্টি কাড়ে। এছাড়া নকশিকাঁথা, মাটি দিয়ে তৈরি নানা তৈজসপত্র, পুতুল, ঘোড়া, হাতি, চুড়ি, দুল, ফুলদানি ইত্যাদি খুবই আকর্ষণীয়ভাবে তৈরি হয়। এছাড়া শামুক ও ঝিনুকের তৈরি মালা, কানের দুল, বালা, চাবির রিং ইত্যাদি খুবই আকর্ষণীয়। এসব সামগ্রী বিদেশিদেরও মন কেড়েছে। এসব রপ্তানি করে আসছে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। এর বাইরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় তাঁতে তৈরি শাড়ি, চাদর, জামা বাং প্যান্টের কাপড়, লুঙ্গি, গেঞ্জি ইত্যাদির কদর রয়েছে। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, কুমিল্লার খাদি বা খদ্দর, নারায়ণগঞ্জের জামদানি ও গেঞ্...

অনুচ্ছেদ : স্বাধীনতা দিবস - PDF

Image
স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও পাকিস্তানের সামরিক সরকার তাঁর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয় তীব্র আন্দোলন। এ আন্দোলন এক পর্যায়ে স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামে রূপ নেয়। এরপর পাকিস্তান সরকার কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে ৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে এদেশের নিরীহ ছাত্র-জনতা ও পুলিশ-ইপিআরের উপর অতর্কিত হামলা শুরু করে। এতে অনেক মানুষ হতাহত হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুকেও গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতারের পূর্বে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ পরিস্থিতিতে এ দেশে অবস্থানরত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙালি সৈনিকরা সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন। তাদের এ বিদ্রোহের মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রাম সশস্ত্র যুদ্ধের রূপ নেয়। এরপর একটানা নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর...