Posts

Showing posts from August, 2020

প্রবন্ধ রচনা : একটি রাজপথের আত্মকাহিনী

আমি একটি রাজপথ। যেহেতু আমার অস্তিত্ব আছে, সেহেতু কাহিনী একটু তো থাকবেই। তাই তোমাদের শুনবার মত অবসর থাকলে শুনতে পারো।  বন-জঙ্গলে পূর্ণ একটি ছোট গ্রামে আমি তৈরি হই। গ্রাম বলতে-দু-চার ঘর লোকের বসতি মাত্র, আর বন, কেবল বন। গ্রামের পাশে একটি নদী ছিল। নদীর জোয়রের পানিতে ভরে উঠতে গ্রামটি, আর সেই পানি জঙ্গলের আনাচে-কানাচে, ডোবায়, নালায় গড়িয়ে পড়তো। ঘন জঙ্গলের জন্য সূর্যের আলো মাটিতে পৌঁছতে পারতো না। ডোবার পানিতে ঝরা পাতা পড়ে পচে উঠতো, আর সেই ঝরা পাতার পচা দুর্গন্ধ আমাকে সইতে হত। তার উপর চারিদিকের মাটি স্যাঁতসেঁতে, আধি-ব্যাধির অভাব ছিল না, বাঘ আর সাপের ছিল বাসস্থান। আর বাঘ অর্থে চিতা নয়, খাঁটি, ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’। এদের গোষ্ঠীগোত্র অবশ্য এখন সকলেই সুন্দরবনে আশ্রয় নিয়েছে।  তারপর আমি শহরের দিকে পা বাড়তে লাগলাম। শহরে এসে আমার রূপের ও আকৃতির পরিবর্তন ঘটল। শহরবাসীর যাতায়াতের জন্য আমাকে প্রসারিত (প্রশস্ত) করা হল। দু’পাশে ক্ষীণকায় নালা-নর্দমা পানি নিকাশের পথ। নালার ধার ঘেঁষে বসল খাড়া খাড়া ইট; তারই মাঝখানে খোয়া, সুরকি আর পানি ছড়িয়ে রোলার টেনে বসিয়ে দেয়া হল আমার বুকের উপর। যখন রোলার টান...

প্রবন্ধ রচনা : বাংলার মুক্তি আন্দোলনে ছাত্রসমাজ

বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলন তথা স্বাধীনতার সংগ্রামে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। এদেশের ছাত্রসমাজ বিভিন্ন সময়ে দেশ ও জাতির স্বার্থরক্ষার এবং বৃহৎ লক্ষ্য অর্জনে অকুতোভয় সংগ্রামী ভূমিকা পালন করে এসেছে। অপরিসীম দেশাত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে বুকের রক্ত দিয়ে তারা রচনা করেছে সাফল্য ও বিজয়ের এক অনন্য ইতিহাস। এদেশের ছাত্রসমাজের প্রত্যেকটি ছাত্র এক একজন সূর্য সন্তান। দেশমাতৃকার শক্তির প্রতীক। তাই শোষণ, বঞ্চনা এবং নৃশংস অত্যাচারের কবল থেকে দেশকে রক্ষার জন্য শুধুমাত্র অসীম আত্মবিশ্বাস আর দেশপ্রেমের দুরন্ত আবেগকে সম্বল করে নেমে এসেছে মুক্তি আন্দোলনে। সেনাবাহিনী ও জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে শত্রুর বিরুদ্ধে। দু’হাতে সব্যসাচীর মতো শত্রু নিধন করে গুলী খেয়ে লুটিয়ে পড়েছে অসংখ্য ছাত্র। ন’মাসের অমানুষিক পরিশ্রম আর অপরিসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছে চির আকাঙ্খিত স্বাধীনতার সূর্য। বাঙালি জাতি ছাত্রসমাজের এই অবদান চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।  এদেশের ছাত্রসমাজ চিরকালই নব শক্তিতে উদ্বোধিত এক সংগঠিত শক্তির প্রতীক। তাদের চোখে জ্ঞানের আলো, বুকে সত্যের অগ্নিমন্ত্র আর হৃদয়ে শান্তি, সুখ ও ...

প্রবন্ধ রচনা : হেমন্তকালীন একটি সন্ধ্যা

ভূমিকা : দিন আর রাত্রির মিলন কালটাকেই বলা হয় সন্ধ্যা। ধীরে ধীরে দিনের আলো লুপ্ত হয়ে যায়, অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। ঠিক কখন দিন শেষ হল আর কখন রাত্রি শুরু হল, তা নিশ্চয় বলা কঠিন; কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, সন্ধ্যা দিনও নয়, রাতও নয়। এ দুয়ের একটি তেকে আর একটিতে উত্তীর্ণ হবার ক্রান্তিকাল।  বর্ণনা : ঠিক স্পষ্ট করে চিহ্নিত করা যায় না বলেই বোধ হয় সন্ধ্যাা বড় রহস্যময় বলে মনে হয় আমাদের কাছে। আর সেজন্যই বোধ হয় এত আকর্ষণ সন্ধ্যায়। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষ হলে সন্ধ্যার আবির্ভাব, নাকি সন্ধ্যাাই কর্মবহুল দিনের যবনিকা টেনে দেয়, কে বলবে? ধীর পদক্ষেপে তখন ঘরের দিকে ফিরে কর্মবহুল মানুষ ও পাখির ঝাঁক। চারদিকটা দেখতে দেখতে রঙ বদলায়। গাছের মাথায় পরিপূর্ণ মহিমায় বিলিয়মান রবি-রশ্মি এক অপরূপ সৌন্দর্যালোক সৃষ্টি করে। তা দেখে মনের মধ্যে গুন্ গুন্ করে উঠে, মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায় পাখিরা, ওরা নিড়ে ফিরছে। সেই যে ‘স্বপ্ন’ কমিতায় রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,  “কুলায় প্রত্যায়নী সন্ধ্যার পাখার মতো”  সে উপমাটির সার্থকতা এই মুহূর্তেই বোঝা যায়। আমার চার পাশের মানুষজনের ব্যস্ততা দেখে সন্ধ্যার এই চমৎকার সময়টিকে উপভোগ...

Rules of Paragraph Writing

A paragraph is a group of sentences that discuss a single idea। অর্থাৎ Paragraph/অনুচ্ছেদ হচ্ছে সুসংবদ্ধ কয়েকটি বাক্যসমষ্টি যা একক কোন বিষয় নিয়ে আলোচিত হয়।  একটি মানসম্মত Paragraph লিখতে হলে নিচের বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে মেনে চলতে হবে-  Title : প্রথমে Paragraph-এর একটি উপযুক্ত Title বা শিরোনাম ঠিক করে নিতে হবে। Title-এ Article ও preposition ছাড়া অন্য সব Word-এর প্রথম letter-টি capital হবে। (যেমন- Natural Disaster in Bangladesh / Advantages of Rural Life / My Visit to a Book Fair ইত্যঅদি)। তবে, article ও prepositon প্রথমে বসলে অবশ্যই তা capital হবে। (যেমন - A Book Fair / The Locality I Live in ইত্যাদি)। মনে রাখা প্রয়োজন, Title-এর শেষে কখনো full stop [.] দেয়া যাবে না। Opening : সূচনা বাক্যটি (introductory sentence) লেখার পূর্বে Title হতে সামান্য space / জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। Developing : কোন প্রশ্ন বা সূত্র দেয়া থাকলে সে অনুযায়ী প্রতিটি প্রশ্ন বা clue'র জন্য ১টি করে sentence লিখতে হবে। আর যদি কোন সূত্র / প্রশ্ন দেয়া না থাকে তাহলে Title অনুযায়ী 4/5 টি বা...

Paragraph : A Caring Friend

A Caring Friend A caring friend is one who cares much of one’s feelings and shares one’s joys and sorrows. Rony is such a kind of caring friend to me. He is my friend in need indeed. He comes forward with a hand of aid and assistance in my need. Last year, I did very bad in the first terminal examination. Unfortunately, I got poor marks in English. Obviously, I was disappointed with my progress. My friend could realize my suffering. The whole day he had been with me. He tried to make me understand that I should be more serious about English. He also assured me that he would try his best to help me. He is really a caring friend I have ever had.

Paragraph : The Qualities of my Close Friend I Admire Most

The Qualities of my Close Friend I Admire Most I have found some extra-ordinary qualities in one of my close friends Jony. Modesty, smartness, sincerity, sense of humour, and altruism are the glaring aspects of his character. I like these virtues because of their tremendous power of influencing other people. If anyone lacks such qualities, he/she will never adjust himself/herself with the changing of the world. Of all the qualities, sincerity and altruism are the best which can adorn any life with distinguished marks. Most of the people we interact with in our daily life are selfish and greedy. But Jony is the man who does not work for getting any return, works simply for the betterment of friends, relatives and other people. I have developed (learnt) sincerity from him. As ‘sincerity’ brings good result in every walk of my life. Nevertheless, I am lacking some of the essential human qualities which stand on my way of developing personality. When something funny events happened, w...

Paragraph : The College I am Studying in

The College I am Studying in I study in Gazipur College. It is situated right near the Dhaka highway. The college covers an area of 4 acres. It has three buildings and a large field. The main building is an L-shaped one. This building houses the classrooms and the teachers' lounge. The college begins at 8:30 in the morning and runs till 3:30 in the afternoon with a break at 1:00 o’clock. There are nearly 700 students in 3 sections of 2 classes. The college is justly famous for its environment of studies. It provides a happy environment where students can grow up individually. Our college have adequate library and other facilities for the students studying here for doing good results in the public exams. The teachers are not only efficient and sincere but also friendly and supportive. The students can also develop their potential by participating in various extra-curricular activities. Studying in this college is a great experience. I feel really happy and proud of being a stud...

Paragraph : River Erosion

River Erosion Erosion is a process whereby the bank or coastline of a river or a sea is gradually broken and destroyed by the forceful current of water. In Bangladesh, erosion usually takes place by the side of some largest and forceful rivers like the Padma, the Jamuna, the Meghna, etc. Chandpur, Sirajganj, Brahmanbaria are the districts which usually fall into the greedy clutches of river erosion. The main cause of river erosion is the forceful flow of river water. In the rainy season, heavy rainfall also causes erosion by the riverbank. The result of erosion is indescribable. Erosion washes away a vast area of cultivable land, house and social, political, economical, cultural and educational institutions. It causes a great damage to road and rail communication. The people living near the erosion-affected areas have to leave their homes for some safer places. However, we should try to protect our people and land from erosion. Though this is not an easy task, we can protect our e...

প্রবন্ধ রচনা : শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক

ভূমিকা : শের শব্দের বাংলা অর্থ বাঘ। শের-ই-বাংলা বা শেরে বাংলা শব্দের মানে দাঁড়ায় বাংলার বাঘ। বাঘের মতই ছিল তাঁর শক্তি ও সাহস। যেমন ছিল তাঁর বিশাল সুগঠিত দেহ, তেমনি ছিল তাঁর জ্ঞান ও বুদ্ধি। বাংলার বুকে জন্ম নিয়ে আপামর বাঙালি জনগণের প্রাণ প্রিয় নেতা তিনি হতে পেরেছিলেন। তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য দিদেশি শাসকদের বিরুদ্ধে বীর বিক্রমে লড়াই করেছেন। শোষণ, বঞ্চনা, প্রতারণা অন্যায় ও শাসকদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন জাগ্রত প্রহরী। বাঘের হুঙ্কার ও শক্তি নিয়ে তিন ঝাঁপিয়ে পড়তেন চাষী-মজুর, ছাত্র-কর্মচারী, মেহনতী সকল মানুষের পক্ষে।  জন্ম : ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে অক্টোবর পিরোজপুর জেলার রাজাপুর থানায় সাতুরিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খ্যাতনামা উকিল ওয়াজেদ আলী থাকতেন বরিশাল জেলা শহরে। শেরে বাংলার আসল নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক সংক্ষেপে ডাকা হত এ. কে. ফজলুল হক। জনগণ ডাকত হক সাহেব।  শিক্ষা ও কর্ম জীবন : শেরে বাংলার প্রাথমিক শিক্ষা আরম্ভ হয় একটি মাদ্রাসায়। পরে তিনি বরিশাল জেলা স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশেস কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রান্‌স পাস করেন। প্রথম ব...

Paragraph : Bangladesh Cricket Team

Bangladesh Cricket Team I like Bangladesh Cricket Team as it has created coruscation all over the world. Bangladesh has advanced in playing cricket. At present cricket is parallel to football. The popularity of cricket has been in full progression in Bangladesh just after Bangladesh has won the ICC trophy in 1997. Since 1991 Bangladesh has been doing well in the field of cricket and 1997 she won the ICC prophy and got chance to play in World Cup Cricket tournament in Great Britain in 1999. Bangladesh also showed outstanding performance in the World Cup tournament by defeating the strongest teams like India, Pakistan, Australia, South Africa, West Indies and Zimbabwe. It has become so strong that it does not dare to face any other team like India, Sri Lanka, Australia, Pakistan, West Indies, South Africa, England, Newzeland, Zimbabwe. The cricket loves throughout the world have greatly been astonished at the marvelous achievement of Bangladesh Cricket Team. It is expected that Bang...

Paragraph : Roman Civilization

Roman Civilization Outstanding in the achievements of Roman civilization was the practical skill with which is united peoples of widely varying languages, customs, and religions into a political structure, which withstood many shocks for nearly a thousand years. In the first place, Rome recognized the value of granting citizenship to conquered peoples as a means of securing their interest and cooperation in the good government and prosperity of their province in the Empire. A Jew of Tarsus could take pride in being a Roman citizen without losing his pride in being a jew. Then, following the example of the Persian Empire, Rome recognized the importance of safe and easy communication between all parts of the Empire. The magnificent system of Roman roads and viaducts served a double purpose: they made possible the swift movement of troops to any part of the Empire where disturbance or danger threatened; they made commerce, postal traffic, and civilian travel sure, smooth, and swift; ...

প্রবন্ধ রচনা : কলেজে প্রথম দিন

পরীক্ষার ফলাফল বের হবার পর আমি প্রায়ই কলেজের প্রথম দিনটি কেমন হবে সে কথা ভবতাম। আমার কাছে কলেজ-জীবন ছিল শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও পূর্ণতার প্রতীক। এ যেন অপরিণত মানুষ থেকে পূর্ণাঙ্গ মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার পালা, আত্মশিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম পাঠ। তাই স্বাভাবিকভাবেই কালেজের প্রথম দিন আমার জন্যে ছিল জীবনের এক নতুন পথ চলা- পালাবদলের এক নতুন পর্বের সূচনা।  কলেজের প্রথম দিনের কথা আমার বেশ ভালোভাবেই মনে হচ্ছে। দিনটি ছিল ১৬ই আগস্ট ২০০৩। সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল আর প্রশান্তি ভরা সে এক আশ্চর্য দিন। মনের প্রশান্তিই যেন সেদিন ফুটে উঠেছিল প্রকৃতির মধ্যে। নিজের পছন্দমতো কলেজে ভর্তি হতে পারায় এবং নতুন অভিজ্ঞতা লাভের আশায় আমি উন্মুখ ছিলাম। সেই সঙ্গে ছিল এক নতুন অনাস্বাদিত শিহরণ।  খুব ছোট আয়োজন এবং আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে আমাদের স্বাগত জানানো হলো। সিনিয়র ভাইবোনেরা রজনীগন্ধা ফুল ও চকোলেট দিয়ে আমাদের বরণ করে নিলেন। মনোযোগ দিয়ে প্রধান অধ্যক্ষের মনোমুগ্ধকর ভাষণ শুনলাম। নতুন শতকে পা রেখে আমাদের কলেজ-জীবন শুরু করায় তিনি আমাদের অভিনন্দন জানালেন। তাঁর আবেগময় বক্তৃতায় আমরা আপ্লুত হলাম। তিনি স্...

প্রবন্ধ রচনা : নিরুদ্দেশ ভ্রমণ

ভ্রমণের নেশা সে তো দুর্দমনীয়। এই নেশা একবার যাকে পেয়ে বসেছে সেই জানে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কতটা কঠিন। সুপ্রাচীন কাল থেকেই মানুষ ভ্রমণ করে আসছে। ভ্রমণ সমৃদ্ধ করেছে আমাদের সাহিত্য ভাণ্ডার। সৃষ্টি হয়েছে প্রচুর কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ।  আমার নিজের সব সময় ইচ্ছে করে বেরিয়ে পড়তে। গৃহবন্দী মন খাঁচায় আটকে থাকা পাখির মতো ছটফট করে। মনের ভেতরে মন অনবরত বলে- বেরিয়ে পড়। একদিন তাই কিছু না ভেবেই ঠিক করে ফেললাম, বেরিয়ে পড়ব। কোথায় যাব? সেই মনটা আবার বলল, বেরিয়ে পড়। ঠিক করলাম, এবার একটি নিরুদ্দেশ ভ্রমণেই বের হব।  একা একা ভ্রমণে তো কোনো মজাই নেই। তাই বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করলাম। আমার পরিকল্পনার কথা জানাতেই চোখ বন্ধ করে দুপায়ে সবাই খাড়া। সবাই মিলে শুধু নিরুদ্দেশ ভ্রমণের একটা দিক ঠিক করলাম। সিদ্ধান্ত হলো, দক্ষিণ দিকেই বেরিয়ে পড়ব। পরদিন সকালে প্রত্যেকেই প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় আর টাকাকড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম নিরুদ্দেশ ভ্রমণে। ট্রেনে যাব না বাসে যাব ঠিক করি নি। টিকেটও কাটি নি। নিরুদ্দেশ ভ্রমণে কি আর আগে থেকে টিকেট কাটা যায়? যাত্রার দিন সকালে আমরা কলাবাগান বাস টার্মিনালে হাজির। টিকেট কেটে...

প্রবন্ধ রচনা : মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে একদিন

↬ আমার দেখা একটি জাদুঘর সকালে মাইকে মুক্তিযুদ্ধের গান বাজার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। আজ ষোলই ডিসেম্বর। তাড়াতাড়ি গোসল সেরে, কোনমতে নাশতা শেষ করলাম। গায়ে ইস্ত্রি করা কড়কড়ে পাঞ্জাবি চাপিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ঘর থেকে।  সারা ঢাকা শহর যেন উৎসবে মাতোয়ারা। সব দোকানে, বাড়ির ছাদে সবুজ আর লাল রঙা বাংলাদেশের পতাকা উড়ছে পতপত করে। তার উজ্জ্বলতা যেন আজ ছড়িয়ে পড়েছে সবার মনে। মনে মনে ভেবে নিলাম, কোথায় কোথায় যাব।  প্রথমে গেলাম বাংলা একাডেমীতে, তারপর টি এস সি-তে। পথ জুড়ে বিভিন্ন জিনিসের মেলা, আর মাঠ জুড়ে কবিতা ও গানের মেলা। কে বলে, স্যাটেলাইট নবপ্রজন্মকে সংস্কৃতিবিমুখ করে দিয়েছে? এত গান, এত আবৃত্তির ঢল নামছে তবে কীভাবে? বাহারি শাড়ি পরে, ফুলে ফুলে সেজে কিংবা গায়জামা-পাঞ্জাবি পরে দৃপ্ত কণ্ঠে কবিতা পাঠ কিংবা চারুকলার প্রদর্শনী তবে কারা করছে। সত্যিই তরুণরাই তো সব সময় বাংলার প্রাণভোমরা। ভালো লাগলো, নিজে সেই তরুণদের একজন হওয়ায়। মনে হলো, আমি তো মুক্তিযুদ্ধ দেখি নি। তবু মুক্তিযুদ্ধ আমাকে আলোড়িত করে, রক্তে জাগায় শিহরণ। বাবা-মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা শুনে, বইতে ৭১-এর বীরত্ব ও আত্মত্যাগের ঘটনা ...

প্রবন্ধ রচনা : কলেজ জীবনের স্মৃতি

↬ আমার কলেজ জীবন ↬ কলেজ জীবনের দিনগুলি যেদিন শিক্ষার্থী হিসেবে কলেজে প্রথম পা রাখলাম সেদিনই অনুভব করলাম আমার সোনালি কৈশোরের ইতি হলো আজ। স্কুল জীবনের গুণ্ডি পেরিয়ে কলেজের গুণ্ডি -এ যেন হঠাৎ বড় হয়ে যাওয়া।  দেশের নামজাদা বিশালায়তন বা বিপুল ছাত্র সমৃদ্ধ কোন কলেজে পড়ার সুযোগ আমার হয় নি। গৃহশিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল ছাত্র-ছাত্রী কলেজে অনিয়ন্ত্রিত হুল্লোড়ে সময় কাটাচ্ছে, রাজনীতির হাতছানি চোখের সামনে স্পষ্টতর হয়ে উঠছে-এই বিষয়গুলোর অীভজ্ঞতা থেকে আমি বঞ্চিত। চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে রাঙামাটির পথে বেশ কিছুদূর গেলে যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, তারই এক প্রান্তে আমাদের নাতিদীর্ঘ কলেজ-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। ছাত্র-শিক্ষক সংখ্যা যদি কৌলিন্যের একমাত্র মাপকাঠি হয়তবে আমরা পশ্চাৎপদ। প্রতি ব্যাচে অনধিক দেড়শ’ ছাত্র এবং প্রতি বিষয়ে এক বা দুজন শিক্ষক। তবে প্রকৃতি এখানে উদার হাতে ঢেলে দিয়েছে তার অফুরন্ত সৌন্দর্য। আর অন্য সব দিক দিয়ে কলেজটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। শহরের বাইরে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে যে কোন দুর্নীতির কলুষমুক্ত থেকে উন্নত শিক্ষা বিতরণ এর অনন্য বৈশিষ্ট্য।  কলেজের দালান নিয়ে গর্ব করার ...

প্রবন্ধ রচনা : একটি রেল স্টেশনে কয়েক ঘণ্টা

↬ একটি রেলওয়ে স্টেশন জীবন সে তো একটি নাটক। মানুষ সেই জীবন-নাটকের এক-একজন পাত্র-পাত্রী বা কুশীলব মাত্র। এই জীবন-নাটকের বাস্তব প্রতিচ্ছবি অসাধারণভাবে উদ্ভাসিত হয় কোনো রেল স্টেশনে গেলে। সেখানে বিচিত্র লোকের বিচিত্র কর্মকাণ্ডে এক-একটি নাটক মঞ্চস্থ হয় যেন। এমনিতেই রেল স্টেশন আমার খুব প্রিয়, তার ওপর কাঙ্ক্ষিত স্টেশন হলে তো কথাই নেই।  আমার পছন্দের সেই স্টেশনটি হচ্ছে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন। একসময় এটি বটতলি স্টেশন নামে পরিচিত ছিল। তবে বটতলির সেই ঐতিহ্য এখন আর নেই। তাছাড়া স্টেশনটিও বটতলি থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নিয়ে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। অপূর্ব দৃষ্টিনন্দন ভবনটি তৈরি হয়েছে গ্রিক স্থাপত্যরীতিতে। ইতিমধ্যেই এই নতুন স্টেশন ভবনটি সৌন্দর্যপিপাসুদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।  প্রতিদিন বেশ কটি ট্রেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে। স্টেশনটিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্ম। সারিবদ্ধ চেয়ার দিয়ে বসার সুব্যবস্থা রয়েছে। প্ল্যাটফর্মের পিলারগুলোর গোড়াতেও বসার জন্যে চমৎকারভাবে বেদি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি বাধ্য হয়ে কিছু সময় কাটাতে হয়েছিল আমাক...

প্রবন্ধ রচনা : একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

↬ সুন্দরবর ভ্রমণ ↬ নদীপথে ভ্রমণ সে এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। প্রকৃতির এত সৌন্দর্য যে এভাবে ছাড়িয়ে আছে তা না দেখলে কল্পনায় এর ধারে-কাছেও যেতে পারবে না কেউ। আর এই নয়নাভিরাম ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য দেখার সৌভাগ্য হলো আমার এই সেদিন। বলছিলাম সুন্দরবনের কথা। প্রকৃতি যেখানে নিজেকে উজাড় করে অকৃপণভাবে ঢেলে দিয়েছে তার বিচিত্র সৌন্দর্য। আর এই শোভা দর্শনের উদ্দেশ্যেই এক ভোরে বেরিয়ে পড়লাম আমরা চার বন্ধু- শেখর, জীতু, সুকান্ত এবং আমি। প্রায় আঠারো ঘণ্টা ভ্রমণ শেষে রাত বারোটায় আমরা উপস্থিত হলাম খুলনায়। অনেক ঘুরে অবশেষে একটা মাঝারি গোছের হোটেলে দুটো ঘর খালি পেয়ে গেলাম। সঙ্গে শুকনো খাবার ছিল, তা দিয়েই সেরে নিতে হলো রাতের ভোজ। দীর্ঘ ভ্রমণজনিত ক্লান্তি পেয়ে বসেছে সবাইকে। চোখ ভেঙে নেমে আসছে রাজ্যের ঘুম। অগত্য হোটেলের শুভ্র চাদর পাতা বিছানাই হলো আমাদের ঠিকানা। যখন ঘুম ভাঙল তখন সকাল ন’টা। এরপর সারাদিন ধরে সুন্দরবনে যাবার প্রস্তুতি, মংলা বন্দর বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা। নদীপথে যাত্রার সব অবলম্বন সংগ্রহ করে যখন আমরা লঞ্চ ‘এমভি যাত্রা’ য় চাপলাম তখন সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়েছে। চারিদিকে নরম ...

প্রবন্ধ রচনা : একটি গ্রামে কয়েকটি দিন

আমি একদিন কল্পনায় বাংলার গাঁয়ের প্রান্তরে প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছি। দেখেছি দিঘির স্বচ্ছ কালো জলে রাজহাঁস কেমন আনমনে খেলা করে, ডুমুরের সবচেয়ে বড় পাতাটির নিচে চুপচাপ বসে আছে দোয়েল, সাঝের বেলায় কলসি কাঁখে হালকা পায়ে বাড়ি ফিরছে গাঁয়ের বধূ, নিকোনো উঠোন, বাঁশঝাড়ের মাথায় মস্ত চাঁদ, লণ্ঠন হাতে বাড়ি ফিরছে হাটুটে, জেলে। কখনো দেখেছি সোনালি ধানের ওপর সোনালি রোদের খেলা, আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে চলে যাচ্ছে গরু গাড়ি, ঢেঁকির শব্দও শুনেছি। এভাবে প্রতিদিন আমি রঙিন সুতোর জাল বুনি। শৈশব পেরিয়েছি শহুরে যান্ত্রিকতায়। হতাশ হয়ে ভাবি আমার বুঝি-বা গ্রাম দেখা হলো না আর। জসীম উদ্দীনের মতো করে কেউ তো আমায় বলল না-  ‘তুমি যাবে ভাই, যাবে মোর সাথে  আমাদের ছোট গাঁয়,  গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়।’  একদিন সেই দুর্লভ সুযোগ পেয়ে গেলাম। জসিম মানে আমার বন্ধু হঠাৎ এসে বলল, তুই তো সবসময় ‘গ্রাম গ্রাম’ করিস, চল তোকে আমার গ্রাম ঘুরিয়ে আনি। আমি আনন্দে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। বললাম, ‘ব্যাপার কী! সব জসিমই কি গ্রামে যাবার আমন্ত্রণ জানায় নাকি! ইশ! শহরের তাবত লোকের নাম কেন যে ‘জমিস’ হলো না!’ দুজনই বেশ একচোট...

প্রবন্ধ রচনা : যখন সন্ধ্যা নামে

↬ নামে সন্ধ্যা তন্দ্রালসা ↬ যখন সূর্য অস্ত যায় সন্ধ্যা হলো সূর্যাস্তের ক্ষণ, গোধূলি-লগ্ন। দিনের শেষ আর রাতের শুরুর এক মায়াবী সন্ধিক্ষণ সন্ধ্যা। সন্ধ্যা জানান দেয়, জীবন-পরিক্রমায় একটি দিনের শেষ হলো, এল রাত্রি। তাই সন্ধ্যা দিন আর রাতের মাঝামাঝি সময়ের এক অপরূপ রূপ।  জগতকে আপনার ছায়ালোকে ঘিরে শান্ত সন্ধ্যা ধীর পায়ে নেমে আসে পৃথিবীর বুকে। কাননে বনে সন্ধ্যামালতীরা ফুটে ওঠে, পাখিরা আকুল স্বরে সম্ভাষণ জানায় সন্ধ্যাকে। স্বভাবের কোমলতায় স্নেহময়ী মায়ের মতো সন্ধ্যা এসে দাঁড়ায় প্রকৃতির দুয়ারে। জগত যেন এতক্ষণে হয়ে ওঠে পূর্ণ।  কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, ‘দিনের ক্লান্তির শেষে শিশিরের শব্দের মতো সন্ধ্যা নামে।’ নিঃশব্দ ছায়াময়ী সন্ধ্যার আবির্ভাবে প্রকৃতিকে মনে হয় ছায়াপুরী। চারপাশের রঙ পাল্টে যায়। মানুষের সারাদিন কাটে কর্মমুখরতায়। সন্ধ্যায় এর অবসান ঘটে। বিশ্রামের জন্যে ঘরে ফেরে মানুষ। প্রকৃতিতে তখন শুরু হয় আলোছায়ার এক অপূর্ব খেলা। গাছের মাথায়, পাহাড়ের চূড়ায় বিদায়ী সূর্যের রক্তিম আভা। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। পাখিরা দিনের বিচরণ সেরে ফিরে আসে আপন আপন নীড়ে। পাখায় তাদের সূর্যের স্বর...

প্রবন্ধ রচনা : বাদল দিনে

আজকের দিনটা একেবারে অন্যরকম। সকাল থেকেই সারা আকাশ কালো মেঘের কুণ্ডলীতে ঢাকা। ক্ষণে ক্ষণে কানে বাজছে গুরু গুরু ধ্বনি- যেন মেঘের মৃদঙ্গ। একটানা বৃষ্টি পড়ছে রিমঝিমিয়ে- যেন নূপুরের নিক্কণ। তারই ফাঁকে ফাঁকে কখনো বৃষ্টি নেমে আসছে মুষলধারে- ঝর ঝর অবিরল ধারায়। আর কখনো কখনো ঝড়ো বাতাসের ঝাপটা খেয়ে তেড়ে আসছে মাতাল বৃষ্টি- দরজা জানালার ফাঁক গলিয়ে ঢুকে পড়ছে ঘরের ভেতরে।  আজ আমার ঘুম ভেঙেছে বৃষ্টির শব্দে। বাইরে তাকিয়ে দেখি, আকাশের যেন আজ বাঁধ ভেঙেছে। জলের ছোঁয়ায় গাছের পাতায় পাতায় জেগেছে রুপোলি শিহরণ। বৃষ্টির ঝাপটায় চারপাশ যেন ঢেকে আছে কুয়াশার স্বচ্ছ চাদরে। মনের চোখে দেখতে পাচ্ছি, কদম আর কেয়া বনে আজ দারুণ হুটোপুটি। কে কার আগে অবগুণ্ঠন খুলে বেরিয়ে আসবে। এমনি এক ‘ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে’র জন্যে তারা যেন এতদিন অপেক্ষা করে ছিল। আজ এই বাদল দিনে প্রাণীরাজ্যে সবচেয়ে আনন্দে মেতেছে বুঝি ব্যাঙের দল। গোপন বাস থেকে বেরিয়ে এসেছে তারা। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের সঙ্গে তারা ঐকতান ধরেছে- গ্যাঙর গ্যাঙর গ্যাঙ।  বাইরে একটানা বৃষ্টি। তারই মধ্যে মাঝে মাঝে আকাশে ঝলসে উঠছে বিদ্যুতের চাবুক। তা ক্ষণিকের জন্যে যেন ...