Posts

Showing posts from September, 2022

প্রবন্ধ রচনা : শিশুর অধিকার

ভূমিকা : শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। আজকের শিশুরা একদিন বড় হয়ে যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করবে তখন যাতে সে দায়িত্ব যোগ্যতার সাথে পালন করতে পারে সেজন্য শিশুকাল থেকে তার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু সে দায়িত্ব শিশুদের নয় -সে দায়িত্ব হবে শিশুর পিতা-মাতার, অভিভাবকের, আত্মীয়-স্বজনের, পাড়া-প্রতিবেশীর তথা সমগ্র জাতির। জাতি যদি তার সন্তানদের প্রতি সচেতন হয়ে ওঠে তাহলেই শিশুরা সঠিকভাবে গড়ে উঠবে -আগামী দিনের জন্য সুনাগরিক হতে পারবে। দায়িত্ব : শিশুদের প্রতি তাদের অভিভাবকেরা যথার্থ সচেতন না থাকার ফলে তারা ঠিকমত গড়ে উঠতে পারে না। বিশেষত দরিদ্র ও অশিক্ষিত সমাজে শিশুর প্রতি কর্তব্য পালনে অধিকাংশ লোকই সচেতন নয়। ফলে শিশুরা অবহেলিত থাকছে। তাদের যথার্থ মানুষ করে তোলা যাচ্ছে না। শিশুদের প্রতি এই অবহেলার ক্ষতিকর দিকটি বিবেচনা করে শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন বিশ্ব সমাজ তৎপর হয়ে উঠেছে। শিশুদের সঠিক পন্থায় গড়ে তোলার জন্য তাদের প্রতি কি ধরনের কর্তব্যপরায়ণ হতে হবে তা ঘোষিত হয়েছে জাতিসংঘের শিশু অধিকার সংক্রান্ত সনদে। শিশুর জীবন গঠনের সাথে যারা সম্পৃক্ত সবারই কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে এ ব্...

চোখ উঠার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার বা চিকিৎসা

Image
চোখ উঠা বা কনজাংটিভাইটিস কী? চোখ লাল হওয়ার কারণ: চোখ উঠা বা কনজাংটিভাইটিস হল স্বচ্ছ ঝিল্লির (কনজাংটিভা) একটি প্রদাহ বা সংক্রমণ যা আপনার চোখের পাতাকে লাইন করে এবং আপনার চোখের বলের সাদা অংশকে ঢেকে রাখে। চোখ লাল হওয়ার কারণ: যখন কনজেক্টিভায় ছোট রক্তনালীগুলি স্ফীত হয়, তখন সেগুলি আরও দৃশ্যমান হয়। এই কারণেই আপনার চোখের সাদা অংশ লাল বা গোলাপী দেখায়। চোখ উঠা সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাল সংক্রমণ, অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া, বা - শিশুদের মধ্যে - একটি অসম্পূর্ণভাবে খোলা টিয়ার নালী দ্বারা সৃষ্ট হয়। সতবে চিকিৎসার মাধ্যমে কনজাংটিভাইটিস এর চিকিৎসা করা সম্ভব। চোখ ওঠার লক্ষণ ও প্রতিকার কী? চোখ উঠার লক্ষণ / কনজাংটিভাইটিস এর লক্ষণ সবচেয়ে সাধারণ চোখ উঠার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে: এক বা উভয় চোখে লালভাব, এক বা উভয় চোখে চুলকানি, এক বা উভয় চোখে একটি তীক্ষ্ণ অনুভূতি, এক বা উভয় চোখে একটি স্রাব যা রাতে একটি ভূত্বক তৈরি করে যা সকালে আপনার চোখ বা চোখ খুলতে বাধা দিতে পারে, চোখ খোলার সময় চোখের পাপড়ি ছিঁড়ে যাওয়া। চোখ উঠার কারণ কি? চোখ উঠার কার...

প্রবন্ধ রচনা : বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা

ভূমিকা : দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিবহণ ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব বিদ্যমান। পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষিজাত দ্রব্যাদি, শিল্পের কাঁচামাল, শিল্পজাত পণ্যসামগ্রী ইত্যাদি সহজে ও স্বল্প ব্যয়ে স্থানান্তরের যে সুবিধা হয় তাতে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, শিল্প ও ব্যবসায়ের প্রসার ঘটে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়। এ কারণে পরিবহণ ব্যবস্থাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে পরিবহণ ব্যবস্থার প্রকারভেদ : বাংলাদেশের পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যে রেলপথ, সড়ক পথ, নৌপথ ও বিমানপথ এই চার ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। রেলপথ : বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যে রেলপথের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশের রাজধানী, বন্দর ও বড় শহরের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য রেলপথের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বাংলাদেশের আয়তন ও জনসংখ্যার তুলনায় রেলপথ যথেষ্ট নয়। দেশে বর্তমানে ২৮০০ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছ্ সড়ক পথ : বর্তমানে বাংলাদেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় সড়ক পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধ...

প্রবন্ধ রচনা : সবার জন্য খাদ্য

ভূমিকা : খাদ্য মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। খাদ্য না পেলে মানুষের জীবন নিঃশেষ হয়ে যায়। তাই সবার আগে চাই খাদ্য। প্রবাদে বলা হয়, পেটে খেলে পিঠে সয়। পেটে ভাত থাকলেই মাথায় বুদ্ধি আসে, দেহে শক্তি সঞ্চারিত হয়। তখন বাহুতে বল সঞ্চারিত হয়ে জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের রূপায়ণ সম্ভবপর হয়ে থাকে। সেজন্য মানুষ সবার আগে খাবারের চিন্তা করেছে। আহার্য সন্ধানের পথ ধরেই মানব সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে। তেমনি ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদে কেঁপে উঠেছে মানব সভ্যতার ভিত। তাই খাদ্য সমস্যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা। সে সমস্যা মিটিয়ে সবার জন্য খাদ্যের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বের মানুষের উদয়াস্ত শ্রমদানের সমাপ্তি নেই। খাদ্য লাভে সমস্যা : খাদ্য লাভের উপায় বিশ্বের সকল মানুষের জন্য সমানভাবে বিন্যস্ত হয়নি। বিশ্বের কোন দেশে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য উৎপাদিত হলেও বিশ্বের বহু দেশে খাদ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং সে ঘাটতি পূরণের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে অন্য দেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়। তবু সকল দেশের সামর্থ্য ও পরিস্থিতি অনুকূল থাকে না। পরিণতিতে দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে পড়ে অগণিত মানুষের জীবনাবসান ঘটে। খাদ্য ঘাটতি...

প্রবন্ধ রচনা : ডাকটিকিট সংগ্রহ

ভূমিকা : মানুষের জীবনকে উপভোগ্য ও আনন্দমুখর করে তোলার জন্য নানা রকম শখ থাকে। ডাকটিকিট সংগ্রহ একটি উত্তম শখ। ডাকটিকিটের মধ্যে আছে রং-বেরঙের সমাহার, আছে ইতিহাস ঐতিহ্য। ডাকটিকিটে ফুটে ওঠে কোন দেশের ভৌগোলিক পরিচয়। তাই বহুমুখী বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে মানুষ ডাকটিকিট সংগ্রহকে শখে রাজা হিসেবে বিবেচনা করে। বিশেষত শিশু-কিশোরদের কাছে ডাকটিকিট এক অফুরন্ত আনন্দের উৎস। অবসর সময়কে কাজে লাগানোর চমৎকার মাধ্যম এটি। ইতিহাস : ডাকটিকিটের প্রচলন হয়েছে ১৮৪০ সালে বিলাতে। আগাম ডাক মাসুল দেওয়ার জন্য ছোট ছোট কাগজ ছাপিয়ে চিঠির খামে ব্যবহার করার রীতি প্রবর্তন করেন রোলাল্ড হিল নামক এক ইংরেজ। মহারাণী ভিক্টোরিয়ার ছবি ছিল সেই ডাকটিকিটে। ডাকটিকিটের সুবিধা বিবেচনা করে অচিরেই পৃথিবীর বহুদেশ এর প্রচলন করে। আর এই সুবিধার জন্য বিশ্ব জুড়ে ডাকটিকিট সংগ্রহের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। ডাকটিকিটে থাকে নানা ছবি। প্রথমদিকে শুধু দেশের রাজা রাণী বা রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি থাকত। পরে দেশের সম্পদ, প্রাকৃতিক দৃশ্য, পশুপাখি, দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তি, জাতীয় ঘটনার ছবি ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে ডাকটিকিট প্রকাশিত হতে থাকে। প্রত্যেক দেশের আলাদা আলাদা টিকিট থ...

গণিত : লাভ-ক্ষতি সমস্যা সমাধান - ১

Image
গাণিতিক যুক্তি লাভ-ক্ষতি পার্ট - ১ পাটিগণিত > লাভ-ক্ষতি লাভ-ক্ষতি : প্রাথমিক আলোচনা লাভ-ক্ষতি সমস্যার সমাধান - ১ লাভ-ক্ষতি সমস্যার সমাধান - ২  ১.৭.১  একজন বিক্রেতা একটি পণ্য ৪৮০ টাকায় বিক্রি করে ২০% লাভ করল। পণ্যটির ক্রয়মূল্য কত টাকা? (ক) ২০ টাকা (খ) ৪০০ টাকা (গ) ৩৬০ টাকা (ঘ) ১৮০ টাকা সমাধান উত্তর : (খ) ৪০০ টাকা ক্রয়মূল্য = বিক্রয়মূল্য $\times$ ১০০ ⁄ ১০০ + শতকরা লাভ = $\frac{৪৮০ \times ১০০}{১০০ + ২০}$ = ৪০০ টাকা বিকল্প সমাধান: ১২০% = ৪৮০ টাকা ১% = $\frac{৪৮০}{১২০}$ ১০০% = $\frac{৪৮০ \times ১০০}{১২০}$ = ৪০০ Practice More একটি পুতুল ২৫% লাভে ৩৭৫ টাকায় বিক্রয় করা হলে পুতুলটির ক্রয়মূল্য কত ছিল? ৩০০ টাকা ৫০০ টাকায় বিক্রয় করায় ২৫% লাভ হয়, ক্রয়মূল্য কত? ৪০০ টাকা একটি জিনিস ৬০ টাকা বিক্রয় করায় ২০% লাভ হলো, এর ক্রয়মূল্য কত? ৫০ টাকা  ১.৭.২  একটি কলম ২৭০ টাকায় বিক্রি করাতে ১০% ক্ষতি হয়; কলমটির ক্রয়মূল্য কত? (ক) ২৫০ টাকা (খ) ৩০০ টাকা (গ) ৩১৫ টাকা ...

গণিত : ভগ্নাংশ সমস্যা সমাধান - ২

Image
গাণিতিক যুক্তি ভগ্নাংশ পার্ট - ২ পাটিগণিত > ভগ্নাংশ ভগ্নাংশ সমস্যার সমাধান - ১ ভগ্নাংশ সমস্যার সমাধান - ২  ১.৪.২৬  কোনো ভগ্নাংশের লবের সাথে 1 যোগ করলে $\frac12$ হয় এবং হরের সাথে 1 যোগ করলে তা $\frac13$ হয়, ভগ্নাংশটি কত? (ক) $\frac27$ (খ) $\frac18$ (গ) $\frac38$ (ঘ) $\frac35$ সমাধান উত্তর : (গ) $\frac38$ এই ধরনের Problem সমাধা করার সবচেয়ে সঠিক নিয়ম হচ্ছে, চারটি অপশনের প্রতিটিকে প্রশ্ন দিয়ে ধারাবাহিক ভাবে টেস্ট করা। যে অপশনের সাথে মিলে যাবে সেটিই উত্তর। এখানে (গ) অপশনে আছে $\frac38$। এখানে উপরে লব 3, প্রশ্নের প্রথম শর্ত অনুসারে যদি লবের সাথে 1 যোগ করি, তবে হয় 4, তখন ভগ্নাংশটি হবে $\frac48$=$\frac12$ অর্থাৎ প্রথম শর্ত পূরণ হলো। আবার অপশন (গ) এর হর আছে 8, যার সাথে 1 যোগ করলে হয় 9, তখন ভগ্নাংশটি হবে $\frac39$=$\frac13$, অর্থাৎ দ্বিতীয় শর্তও পূরণ করে। অন্য অপশনগুলো এই শর্তপূরণ করবে না, শুধু অপশন (গ)ই প্রশ্নের শর্ত দুইটি পূরণ করে। তাই সঠিক উত্তর হবে অপশন (গ) $\frac38$ বিকল্প সমাধান ধরি, লব...